বিয়ের মরশুম হোক কিংবা উৎসবের সময়, ভারতীয় বাজারে সোনার চাহিদা সবসময়ই থাকে তুঙ্গে। তবে সোনা কেনার আগে প্রতিদিনের বাজারদর জেনে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আন্তর্জাতিক বাজার, ডলারের দামের ওঠানামা, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির নীতি এবং দেশীয় চাহিদার ওপর নির্ভর করে প্রতিদিনই সোনার দামে পরিবর্তন দেখা যায়। তাই নতুন গয়না বা বিনিয়োগের জন্য সোনা কেনার পরিকল্পনা থাকলে আজকের সর্বশেষ দাম দেখে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ ২২ ক্যারেট এবং ২৪ ক্যারেট—উভয় ধরনের সোনার দামেই সামান্য পরিবর্তন হয়েছে। দেশের বিভিন্ন শহরে কর, পরিবহন খরচ এবং স্থানীয় বাজার পরিস্থিতির কারণে দামের কিছুটা পার্থক্য দেখা গেলেও সামগ্রিকভাবে সোনার বাজারে স্থিতিশীল প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
২৪ ক্যারেট সোনা সাধারণত বিশুদ্ধতার জন্য পরিচিত এবং এটি মূলত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে ২২ ক্যারেট সোনা গয়না তৈরির জন্য বেশি জনপ্রিয়, কারণ এতে সামান্য পরিমাণ অন্যান্য ধাতু মেশানো থাকে, যা অলঙ্কারকে আরও মজবুত করে। ফলে গয়না কেনার সময় ক্রেতারা সাধারণত ২২ ক্যারেট সোনাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের ওঠানামা ভারতের বাজারেও সরাসরি প্রভাব ফেলে। এছাড়া মার্কিন ডলারের বিনিময় হার, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তও সোনার মূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বাড়ার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী আবারও সোনার দিকে ঝুঁকছেন। ফলে দীর্ঘমেয়াদে সোনাকে এখনও একটি নিরাপদ সম্পদ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যদিও স্বল্পমেয়াদে দামের ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে।
গয়না কেনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র প্রতি গ্রামের দাম দেখলেই চলবে না। এর সঙ্গে যোগ হয় মেকিং চার্জ, জিএসটি এবং অন্যান্য পরিষেবা খরচ। ফলে দোকানে গিয়ে যে চূড়ান্ত মূল্য দিতে হয়, তা বাজারদরের তুলনায় অনেকটাই বেশি হতে পারে। তাই কেনাকাটার আগে একাধিক বিশ্বস্ত জুয়েলারি সংস্থার দাম তুলনা করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানাচ্ছেন, সোনা কেনার সময় অবশ্যই BIS হলমার্কযুক্ত গয়না কেনা উচিত। হলমার্ক থাকলে সোনার বিশুদ্ধতা নিয়ে কোনও সংশয় থাকে না এবং ভবিষ্যতে বিক্রি বা বিনিময়ের ক্ষেত্রেও সুবিধা পাওয়া যায়। পাশাপাশি ক্রয়ের সময় অবশ্যই বিল সংগ্রহ করে রাখা প্রয়োজন।
বর্তমানে অনেকেই ডিজিটাল গোল্ড, গোল্ড ETF এবং সার্বভৌম গোল্ড বন্ডের মতো বিকল্প বিনিয়োগের পথও বেছে নিচ্ছেন। এতে নিরাপদভাবে বিনিয়োগ করার সুযোগ যেমন থাকে, তেমনই সোনা সংরক্ষণের ঝুঁকিও থাকে না। তবে যাঁরা অলঙ্কার ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সোনা কিনছেন, তাঁদের জন্য বাস্তব সোনার চাহিদা এখনও সর্বাধিক।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহ আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সোনার দামে আরও ওঠানামা হতে পারে। তাই বড় অঙ্কের বিনিয়োগের আগে বাজারের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করা উচিত। প্রয়োজনে ধাপে ধাপে সোনা কেনার কৌশল গ্রহণ করলে দামের ঝুঁকি কিছুটা কমানো সম্ভব।
সব মিলিয়ে, সোনা কেনার আগে প্রতিদিনের বাজারদর, বিশুদ্ধতা, হলমার্ক, মেকিং চার্জ এবং অতিরিক্ত কর সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক তথ্য জেনে পরিকল্পিতভাবে কেনাকাটা করলে ভবিষ্যতে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে।


