দক্ষিণবঙ্গে ফের বৃষ্টির সম্ভাবনা। গত কয়েকদিনের বৃষ্টির পর কিছুটা স্বস্তি মিললেও বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ফের আবহাওয়ার পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা থাকছে। ফলে পুজোর আগে রাজ্যের আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে চিন্তা তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কম থাকলেও সম্পূর্ণভাবে বৃষ্টি থেকে মুক্তি মিলবে না। কলকাতা-সহ বেশ কিছু জেলায় দিনের বিভিন্ন সময়ে আকাশ মেঘলা থাকবে। দুপুরের পর বা বিকেলের দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
## কলকাতায় কেমন থাকবে আবহাওয়া
বুধবার সকাল থেকেই কলকাতার আকাশ আংশিক মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেঘের পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিকেলের দিকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। তবে আপাতত কলকাতায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়নি।
শহরের কয়েকটি জায়গায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হলেও সব এলাকায় সমানভাবে বৃষ্টিপাত হবে না। কোথাও অল্প সময়ের জন্য বৃষ্টি হতে পারে, আবার কোথাও দীর্ঘক্ষণ মেঘলা আকাশ থাকতে পারে। বৃষ্টির জেরে শহরের কিছু রাস্তায় জল জমার আশঙ্কা রয়েছে। অফিসযাত্রী, স্কুল-কলেজের পড়ুয়া এবং যানবাহন চালকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কলকাতায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও আপাতত বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা নেই। তবে বর্ষাকালে স্থানীয়ভাবে অল্প সময়ে বেশি বৃষ্টি হলে যানজট এবং জলমগ্নতার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে।
## দক্ষিণবঙ্গের কোন কোন জেলায় বৃষ্টি
দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বুধবার হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্বাভাসে দুই বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এই জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষ করে দুপুরের পর আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। সকালের দিকে আকাশ মেঘলা থাকলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক কম থাকতে পারে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় মেঘ সঞ্চার এবং বজ্রগর্ভ মেঘের প্রভাবে বৃষ্টি নামতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। তবে সর্বত্র ভারী বৃষ্টি হবে, এমন কোনও পূর্বাভাস নেই। আবহাওয়ার পরিস্থিতি জেলার ভৌগোলিক অবস্থান এবং স্থানীয় মেঘ সঞ্চারের উপর নির্ভর করবে।
## উপকূলীয় জেলাগুলিতে নজর
দক্ষিণবঙ্গের উপকূলীয় জেলাগুলির আবহাওয়ার উপরও নজর রাখছে আবহাওয়া দপ্তর। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছিল। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং ঝাড়গ্রামে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। কলকাতা ও হাওড়ার জন্যও হলুদ সতর্কতা ছিল। যদিও সেই পর্বের পর বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমেছে, তবুও বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়ার উপর নজর রাখা হচ্ছে।
উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্র উত্তাল হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে মৎস্যজীবীদের সতর্ক করা হতে পারে। পর্যটকদেরও সমুদ্রের কাছে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলতে হবে। বিশেষ করে দিঘা, মন্দারমণি, বকখালি এবং অন্যান্য সমুদ্রসৈকতে আবহাওয়ার আপডেট দেখে বেরনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
## উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা
দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের কিছু অংশে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টির ফলে ধস নামা, রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং নদী-ঝোরার জলস্তর বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের মতো পাহাড়ি জেলায় পর্যটকদের বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কোনও এলাকায় ধস বা রাস্তা বন্ধের খবর থাকলে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হবে।
জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের মতো সমতল এলাকায় অতিবৃষ্টির জেরে নিচু এলাকা জলমগ্ন হতে পারে। নদী ও ছোট জলধারার জলস্তর আচমকা বেড়ে গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সমস্যা তৈরি হতে পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।
## কেন ফের বৃষ্টির সম্ভাবনা
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্ষার শেষ পর্যায়ে বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় একাধিক নিম্নচাপ, ঘূর্ণাবর্ত এবং মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবে বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই ধরনের আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবে কখনও দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টি হয়, আবার কখনও বৃষ্টির তীব্রতা উত্তরবঙ্গের দিকে সরে যায়।
বর্তমানে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমলেও বাতাসে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি রয়েছে। তার সঙ্গে স্থানীয় মেঘ সঞ্চার হলে বিকেলের দিকে বৃষ্টি হতে পারে। তাই সকালে আকাশ পরিষ্কার থাকলেও দিনের দ্বিতীয়ার্ধে আবহাওয়া বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির ধরন একরকম হবে না। কোথাও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হবে, কোথাও আবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে জেলা অনুযায়ী পরিস্থিতি আলাদা করে নজরে রাখা প্রয়োজন।
## সাধারণ মানুষের জন্য সতর্কবার্তা
বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সাধারণ মানুষকে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
* বাইরে বেরনোর আগে আবহাওয়ার আপডেট দেখে নিন।
* বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হলে খোলা মাঠে বা গাছের নিচে দাঁড়াবেন না।
* অপ্রয়োজনে জলমগ্ন রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করবেন না।
* গাড়ি চালানোর সময় গতি নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
* পাহাড়ি এলাকায় ধসপ্রবণ রাস্তা এড়িয়ে চলুন।
* নদী, খাল বা ঝোরার কাছে সতর্ক থাকুন।
* সমুদ্রসৈকতে প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলুন।
* বিদ্যুৎ সংক্রান্ত তার বা খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে দূরে থাকুন।
শহরাঞ্চলে বৃষ্টির জেরে যানজট তৈরি হতে পারে। অফিসযাত্রীদের হাতে কিছুটা অতিরিক্ত সময় নিয়ে বেরনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী আগে থেকে নিরাপদ জায়গায় রাখার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
## পুজোর আগে আবহাওয়ার নজরদারি
দুর্গাপুজোর আগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কেনাকাটা, ভ্রমণ এবং প্যান্ডেল তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। এই সময় বৃষ্টির প্রভাব পড়লে প্যান্ডেল নির্মাণ, প্রতিমা পরিবহণ এবং বাজার ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে খোলা জায়গায় পুজোর প্রস্তুতি চললে বৃষ্টির কারণে কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে ১৬ সেপ্টেম্বরের পূর্বাভাস অনুযায়ী দক্ষিণবঙ্গে আপাতত সর্বত্র ভারী বৃষ্টির সতর্কতা নেই। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলাগুলিতে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টি হতে পারে। ফলে কোথাও স্বস্তি মিললেও কোথাও দুর্যোগের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে নতুন করে সতর্কতা জারি করা হতে পারে। তাই আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় আবহাওয়ার আপডেটের দিকে নজর রাখা জরুরি। বিশেষ করে যাঁরা দূরে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের স্থানীয় প্রশাসন এবং আবহাওয়া দপ্তরের নির্দেশ মেনে চলতে হবে।
সব মিলিয়ে, দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমলেও স্বস্তি পুরোপুরি ফিরছে না। কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় ফের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় সেখানকার বাসিন্দা ও পর্যটকদের সতর্ক থাকতে হবে। বর্ষার শেষ পর্যায়েও আবহাওয়ার এই ওঠানামা আরও কিছুদিন চলতে পারে বলেই মনে করছে আবহাওয়া দপ্তর।


