ভারতীয় ক্রিকেটের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের পরিবারে ফের উদ্বেগের পরিস্থিতি। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে সৌরভের মা নিরূপা গঙ্গোপাধ্যায়কে। ৭৭ বছর বয়সি নিরূপা দেবীকে কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েক দিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। প্রথমে শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয়। এর পাশাপাশি ত্বকে র্যাশও হয়েছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। বয়স এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কথা মাথায় রেখে চিকিৎসকেরা কোনও ঝুঁকি নিতে চাননি। তাই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
### প্রথমে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল নিরূপাকে
হাসপাতালে ভর্তি করার পর প্রাথমিক ভাবে নিরূপা গঙ্গোপাধ্যায়কে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষার পর জানা যায়, তিনি ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা মূত্রনালির সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন।
তবে বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। চিকিৎসায় সাড়া দেওয়ায় তাঁকে আইসিইউ থেকে জেনারেল বেডে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। পরিবারের তরফেও জানানো হয়েছে, আপাতত উদ্বেগ অনেকটাই কমেছে। চিকিৎসকেরা নিয়মিত তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন।
### চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন সৌরভের মা
নিরূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের চিকিৎসা চলছে পারিবারিক চিকিৎসক শুভাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে। পাশাপাশি হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ আফতাব খানও তাঁকে দেখছেন। বয়সজনিত বিষয় এবং আগের শারীরিক সমস্যার কথা মাথায় রেখে চিকিৎসকেরা একাধিক দিক খতিয়ে দেখছেন।
পরিবার সূত্রে খবর, বর্তমানে নিরূপা দেবী চিকিৎসায় ভালো সাড়া দিচ্ছেন। সৌরভের দাদা স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের স্ত্রী অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়ও জানিয়েছেন, তাঁর শাশুড়ির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। চিকিৎসকেরা আশা করছেন, দ্রুত সুস্থ হয়ে তিনি বাড়ি ফিরতে পারবেন।
### ১৩ মাসের ব্যবধানে ফের সংক্রমণ
নিরূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের এই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও মূত্রনালির সংক্রমণের কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। গত বছরের আগস্ট মাসে জ্বর, গলা ব্যথা এবং অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। তখনও পরীক্ষায় ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন ধরা পড়ে।
সেই সময় হাসপাতালে কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি। প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁকে আইভি-র মাধ্যমে অ্যান্টিবায়োটিকও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রায় ১৩ মাসের ব্যবধানে ফের একই ধরনের সংক্রমণের কারণে হাসপাতালে ভর্তি করতে হল তাঁকে।
### পরিবারে উদ্বেগ, তবে আপাতত স্বস্তি
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর মা নিরূপা দেবীর সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ফলে তাঁর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষ করে প্রথমে তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল জানতে পেরে অনেকেই তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
তবে বর্তমানে আইসিইউ থেকে জেনারেল বেডে স্থানান্তর এবং চিকিৎসায় সাড়া দেওয়ার খবর কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে পরিবার ও অনুরাগীদের। যদিও হাসপাতাল থেকে নিরূপা দেবীর সম্পূর্ণ মেডিক্যাল বুলেটিন প্রকাশ করা হয়নি, পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী আপাতত তাঁর অবস্থা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
### বয়সের কারণে বাড়তি সতর্কতা
চিকিৎসকদের মতে, প্রবীণদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ অনেক সময় দ্রুত জটিল আকার নিতে পারে। তার সঙ্গে যদি শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা থাকে, তাহলে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন আরও বেড়ে যায়। নিরূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও বয়স এবং পূর্ববর্তী অসুস্থতার কথা মাথায় রেখে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
মূত্রনালির সংক্রমণের সঙ্গে জ্বর, দুর্বলতা, প্রস্রাবে জ্বালা, শারীরিক অস্বস্তি বা কখনও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। তবে নিরূপা দেবীর ক্ষেত্রে কোন উপসর্গ কতটা গুরুতর ছিল, সে বিষয়ে চিকিৎসকদের তরফে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
### দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার আশা
বর্তমানে নিরূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসায় সাড়া দেওয়ায় তাঁকে আইসিইউ থেকে সাধারণ বেডে আনা হয়েছে। পরিবারও আশাবাদী, খুব দ্রুত তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও উন্নতি হবে এবং তিনি বাড়ি ফিরতে পারবেন।
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মা-র অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তাঁর অনুরাগীরা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন। এখন সকলের নজর তাঁর পরবর্তী শারীরিক আপডেটের দিকে। আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রেখে তাঁকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা।
সব মিলিয়ে, ১৩ মাসের ব্যবধানে ফের হাসপাতালে ভর্তি হলেও নিরূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের বর্তমান পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই স্থিতিশীল বলে পরিবার সূত্রে জানা যাচ্ছে। আইসিইউ থেকে জেনারেল বেডে স্থানান্তর এবং চিকিৎসায় সাড়া দেওয়ার খবরেই আপাতত স্বস্তি সৌরভের পরিবার ও অনুরাগীদের।


