Wednesday, September 2, 2026

Creating liberating content

বন্যাবিধ্বস্ত নেপালে ত্রাণ নিয়ে...

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক বন্যার জেরে তৈরি হয়েছে গভীর মানবিক সংকট। একের...

‘কেউ সন্ত নন’ মন্তব্যে...

লাদাখের পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের একটি মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চায় এসেছে ককরোচ জনতা...

ডেঙ্গু রুখতে নভেম্বর পর্যন্ত...

বর্ষার মরসুমে রাজ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে আরও কড়া পদক্ষেপের পথে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।...

কলকাতা পুরভোটে ২০৯ ওয়ার্ডেই...

কলকাতা পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বড়সড় প্রস্তুতি শুরু করে দিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন...
Homeবাংলাহার্ট সুস্থ রাখতে...

হার্ট সুস্থ রাখতে পাতে রাখুন এই ১১ ফল, জানুন উপকারিতা

হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখা শুধু নিয়মিত শরীরচর্চা বা ওজন নিয়ন্ত্রণের উপর নির্ভর করে না। প্রতিদিনের খাবারের তালিকাতেও নজর দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অতিরিক্ত নুন, চিনি, স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়া হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। আর এই স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকায় ফলের গুরুত্বও কম নয়।

বিভিন্ন ধরনের ফলে থাকে ফাইবার, পটাশিয়াম, ভিটামিন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং নানা ধরনের উদ্ভিজ্জ উপাদান। এগুলি রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, প্রদাহ এবং রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে নিয়মিত ফল ও সবজি খাওয়ার উপর জোর দেয়। 

তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—শুধু একটি নির্দিষ্ট ফল খেলেই হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি দূর হয়ে যায় না। বরং বিভিন্ন ধরনের ফল পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তাহলে জেনে নেওয়া যাক, কোন ১১টি ফল আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় জায়গা পেতে পারে।

### ১. আম

আম বাঙালির অন্যতম প্রিয় ফল। স্বাদের পাশাপাশি এতে রয়েছে ভিটামিন C এবং বিভিন্ন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এই উপাদানগুলি শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করতে পারে। কিছু গবেষণায় আম খাওয়ার সঙ্গে কোলেস্টেরল এবং শরীরের অতিরিক্ত চর্বি নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য সম্পর্কের কথাও উঠে এসেছে।

তবে আমে প্রাকৃতিক চিনি তুলনামূলকভাবে বেশি। তাই বিশেষ করে যাঁরা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখছেন, তাঁদের পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

### ২. আপেল

‘An apple a day’ কথাটি শুধু প্রচলিত প্রবাদ নয়, আপেল সত্যিই পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি ফল। এতে রয়েছে ফাইবার এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। নিয়মিত আপেল খাওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ ও রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

সকালের জলখাবারে বিস্কুট বা অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিবর্তে একটি গোটা আপেল রাখা সহজ একটি বিকল্প।

### ৩. বেরিজাতীয় ফল

স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি এবং রাস্পবেরির মতো বেরিজাতীয় ফল অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ফাইবারে সমৃদ্ধ। এগুলিতে থাকা বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

দই, ওটস অথবা ঘরে তৈরি স্মুদির সঙ্গে বেরিজাতীয় ফল যোগ করা যেতে পারে।

### ৪. কলা

কলা সহজলভ্য এবং পুষ্টিকর ফলগুলির মধ্যে অন্যতম। এর গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান হল পটাশিয়াম। শরীরে সোডিয়ামের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাভাবিক রক্তচাপ বজায় রাখতে পটাশিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কলায় ফাইবার ও বিভিন্ন অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও রয়েছে। তবে যাঁদের কিডনির সমস্যা রয়েছে এবং পটাশিয়াম নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, তাঁরা নিয়মিত বেশি পরিমাণ কলা খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

### ৫. নাশপাতি

নাশপাতিতে রয়েছে ফাইবার এবং বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এটি রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় নাশপাতি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতেও সহায়ক হতে পারে। ফলে অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা কমাতেও এটি কাজে আসতে পারে।

### ৬. আঙুর

আঙুরে রয়েছে বিভিন্ন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং উদ্ভিজ্জ যৌগ। এগুলি রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। কিছু গবেষণায় আঙুর খাওয়ার সঙ্গে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য সম্পর্কও দেখা হয়েছে।

তবে আঙুরের ক্ষেত্রেও পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে প্রাকৃতিক শর্করা রয়েছে।

### ৭. বেদানা

বেদানা বা Pomegranate-এ প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং polyphenol রয়েছে। এই উপাদানগুলি অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ কমাতে এবং রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

বেদানার রস নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা হলেও বাজারচলতি চিনি মেশানো জুসের পরিবর্তে গোটা ফল খাওয়াই সাধারণত ভালো বিকল্প।

### ৮. পেঁপে

পেঁপেতে রয়েছে ভিটামিন C, ভিটামিন A, ফাইবার, পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম। ফলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকায় পেঁপে রাখা যেতে পারে।

এর ফাইবার হজমের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। পাশাপাশি পেঁপেতে থাকা বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

### ৯. আনারস

আনারসে রয়েছে ভিটামিন C এবং bromelain নামের একটি প্রাকৃতিক এনজাইম। Bromelain-এর প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমানোর সম্ভাব্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে।

তবে আনারসকে কোনও রোগের চিকিৎসা হিসেবে দেখার কারণ নেই। বরং অন্যান্য ফলের মতোই পরিমিত পরিমাণে স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে খাওয়া যেতে পারে।

### ১০. কিউই

কিউই ভিটামিন C, ভিটামিন E, পটাশিয়াম এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের ভালো উৎস। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় কিউই রাখার সঙ্গে রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য ইতিবাচক প্রভাবের ইঙ্গিত কিছু গবেষণায় পাওয়া গেছে।

টক-মিষ্টি স্বাদের এই ফলটি সরাসরি খাওয়ার পাশাপাশি ফলের বাটিতেও যোগ করা যায়।

### ১১. অ্যাভোকাডো

অ্যাভোকাডো অন্যান্য ফলের তুলনায় কিছুটা আলাদা। এতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, ফাইবার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং ফোলেট। স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের কারণে সুষম খাদ্যতালিকায় অ্যাভোকাডোর জায়গা রয়েছে।

কিছু গবেষণায় সপ্তাহে অন্তত দু’বার অ্যাভোকাডো খাওয়ার সঙ্গে করোনারি হৃদ্‌রোগের কম ঝুঁকির সম্পর্ক দেখা গেছে। তবে এটিও মনে রাখতে হবে যে এই ধরনের পর্যবেক্ষণ থেকে সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক প্রমাণ হয় না। 

### শুধু ফল খেলেই হবে না, বদলাতে হবে পুরো খাদ্যাভ্যাস

হার্ট সুস্থ রাখতে প্রতিদিন শুধু ফলের তালিকা মেনে চললেই হবে না। খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, গোটা শস্য, ডাল, বাদাম, বীজ এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন। একইসঙ্গে অতিরিক্ত নুন, চিনি, স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব কমানো জরুরি।

ফল খাওয়ার ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন একই ফল না খেয়ে মরশুমি ও বিভিন্ন রঙের ফল ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খাওয়া যেতে পারে। ফলের জুসের পরিবর্তে গোটা ফল খেলে সাধারণত ফাইবারও পাওয়া যায়।

আর কারও যদি আগে থেকেই হৃদ্‌রোগ, কিডনির সমস্যা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোনও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা থাকে, তাহলে খাদ্যতালিকায় বড় পরিবর্তন করার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

অর্থাৎ, হার্টের যত্নের জন্য কোনও ‘ম্যাজিক ফুড’-এর উপর নির্ভর না করে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা—সবকিছুকেই গুরুত্ব দিতে হবে। আর সেই সুষম খাদ্যতালিকায় এই ১১টি ফল অবশ্যই ভালো সংযোজন হতে পারে। 

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

বন্যাবিধ্বস্ত নেপালে ত্রাণ নিয়ে পৌঁছলেন সোনু সুদ

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক বন্যার জেরে তৈরি হয়েছে গভীর মানবিক সংকট। একের পর এক এলাকা প্লাবিত হওয়ায় বহু মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, অনেকে এখনও দুর্গম এলাকায় আটকে রয়েছেন। এই কঠিন পরিস্থিতিতে এবার সরাসরি দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে নেপালে পৌঁছলেন বলিউড...

‘কেউ সন্ত নন’ মন্তব্যে পালটা অভিজিৎ, সোনমকে দিলেন প্রশংসার কৃতিত্ব

লাদাখের পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের একটি মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চায় এসেছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে দাবি করেছেন, সোনম ওয়াংচুক তাঁদের সমালোচনা করেননি। বরং দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের একটি ছোট অংশ কেটে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে...

ডেঙ্গু রুখতে নভেম্বর পর্যন্ত নজরদারি, কড়া নির্দেশ শুভেন্দুর

বর্ষার মরসুমে রাজ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে আরও কড়া পদক্ষেপের পথে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মঙ্গলবার স্বাস্থ্যভবনে স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিক এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি আক্রান্তের তথ্য গোপন না করা,...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.