Tuesday, September 1, 2026

Creating liberating content

গুরুতর অসুস্থ আন্না হাজারে,...

সমাজকর্মী আন্না হাজারের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সোমবার তাঁকে মহারাষ্ট্রের...

টিনটিন না অ্যাসটেরিক্স, কোন...

টিনটিন না অ্যাসটেরিক্স—এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যতটা সহজ, মীমাংসা করা ততটাই কঠিন। বিশেষ...

এক কাপ চায়ের বিরতিতেই...

ভাগ্যের এক ছোট্ট পরিবর্তন কখনও কখনও মানুষের জীবন-মৃত্যুর মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয়। নেপালের...

চুনকামের রাত পেরোতেই যাদবপুরের...

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াল লিখন ঘিরে বিতর্ক যেন কিছুতেই থামছে না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর...
Homeहिंदीমহাশক্তি নয়, সেবার...

মহাশক্তি নয়, সেবার মাধ্যমে বিশ্বগুরু ভারত: কানাডায় ভাগবত

ভারতকে ‘মহাশক্তি’ বা ‘সুপারপাওয়ার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই দেশের মূল লক্ষ্য নয়। বরং নিজের চরিত্র, মূল্যবোধ এবং মানবকল্যাণের মাধ্যমে বিশ্বের সামনে পথ দেখানোই ভারতের প্রকৃত ভূমিকা—কানাডার টরন্টোয় এমনই বার্তা দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল ভারতের সভ্যতাগত ঐতিহ্য, মানবতার প্রতি দায়বদ্ধতা এবং অন্যের কল্যাণে কাজ করার ধারণা। ভাগবতের কথায়, ভারত শক্তির প্রদর্শনের মাধ্যমে নয়, বরং মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এবং নিজের আচরণ ও চরিত্রের মাধ্যমে ‘বিশ্বগুরু’র মর্যাদা অর্জন করেছে। 

টরন্টোয় আয়োজিত ‘Hindu Vishwa Bandhu – Embrace the World in Friendship’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে RSS প্রধান ভারতের বিশ্বে অবস্থান নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল—কোনও দেশ কেবল অর্থনৈতিক, সামরিক অথবা রাজনৈতিক শক্তির নিরিখে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে, এমন ধারণা ভারতের ঐতিহ্যের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। ভারতের সভ্যতার ধারায় নেতৃত্বের অর্থ অন্যের উপর আধিপত্য বিস্তার করা নয়; বরং জ্ঞান, মানবিকতা, সহমর্মিতা এবং সেবার মাধ্যমে অন্যদের পাশে দাঁড়ানো। 

ভাগবত বলেন, কেউ চাইলে ভারতকে ‘সুপারপাওয়ার’ বলতে পারেন, কিন্তু ভারতের ঐতিহাসিক পরিচয় কেবল মহাশক্তি হিসেবে তৈরি হয়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত নিজের চরিত্র এবং বিশ্বের প্রতি সেবার মনোভাবের মাধ্যমে ‘বিশ্বগুরু’ হয়েছে। অর্থাৎ তাঁর ব্যাখ্যায় ‘বিশ্বগুরু’ শব্দটি কোনও সামরিক বা রাজনৈতিক আধিপত্যের প্রতীক নয়। বরং মানুষের জন্য কাজ করা এবং বিশ্বসমাজকে একটি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখানোর সঙ্গে এই ধারণা যুক্ত। 

এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে ভাগবত মূলত ভারতের প্রাচীন সভ্যতাগত ধারণার দিকে ইঙ্গিত করেন। তাঁর মতে, ভারতীয় সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল অন্যের জন্য জায়গা তৈরি করা। ইতিহাসে বিভিন্ন সময় অত্যাচার, যুদ্ধ বা নিপীড়নের কারণে যারা নিজেদের দেশ ছেড়ে আশ্রয়ের সন্ধানে অন্যত্র গিয়েছেন, তাঁদের জন্য ভারত আশ্রয়ের জায়গা হয়ে উঠেছিল—টরন্টোর অনুষ্ঠানে ভারতের এই ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও তিনি তুলে ধরেন। 

ভারতের এই ‘আশ্রয়দাতা’ পরিচয়কে সামনে রেখে ভাগবত বোঝাতে চেয়েছেন যে দেশের শক্তির মূল্যায়ন শুধুমাত্র সামরিক সক্ষমতা বা অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান দিয়ে করা যায় না। একটি দেশের আন্তর্জাতিক প্রভাব তার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের মাধ্যমেও তৈরি হতে পারে। ‘বিশ্বগুরু’ ধারণার সঙ্গে সেই নৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের সম্পর্ক রয়েছে বলেই তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ভারতকে বিশ্ব রাজনীতিতে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। অর্থনীতি, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারতের প্রভাব গত কয়েক দশকে বেড়েছে। ফলে ভারতকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে দেখার আলোচনা আন্তর্জাতিক স্তরেও রয়েছে। কিন্তু ভাগবতের বক্তব্য সেই আলোচনার থেকে কিছুটা আলাদা একটি দৃষ্টিকোণ সামনে আনে—তিনি শক্তির প্রতিযোগিতার পরিবর্তে মূল্যবোধ এবং সেবাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

‘সুপারপাওয়ার’ এবং ‘বিশ্বগুরু’—দুটি শব্দের মধ্যেও মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সুপারপাওয়ার বলতে সাধারণত এমন রাষ্ট্রকে বোঝানো হয় যার অর্থনীতি, সামরিক শক্তি, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক প্রভাব অত্যন্ত বিস্তৃত। অন্যদিকে ‘বিশ্বগুরু’ একটি সভ্যতাগত ও সাংস্কৃতিক ধারণা, যার অর্থ মোটামুটি ‘বিশ্বের শিক্ষক’ বা এমন একটি শক্তি, যার কাছ থেকে অন্যরা জ্ঞান ও মূল্যবোধের শিক্ষা নিতে পারে। ফলে ভাগবতের বক্তব্যে ভারতের জন্য দ্বিতীয় ধরনের ভূমিকার ওপরই বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।

এই ধারণাটি অবশ্য নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরে ভারতকে ‘বিশ্বগুরু’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার কথা রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় বারবার এসেছে। জাতীয় শিক্ষা, সংস্কৃতি, কূটনীতি এবং ভারতীয় সভ্যতার আন্তর্জাতিক প্রভাবের প্রসঙ্গেও ‘Vishwaguru’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ভাগবতের সাম্প্রতিক বক্তব্যে এর সঙ্গে ‘সেবা’ এবং ‘চরিত্র’-এর বিষয়টি বিশেষভাবে যুক্ত হয়েছে। 

ভাগবতের বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, তিনি ভারতের বিশ্বে ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আধিপত্যের বদলে বন্ধুত্বের কথা বলেছেন। টরন্টোর অনুষ্ঠানের নামই ছিল ‘Embrace the World in Friendship’। অর্থাৎ বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সংঘাত বা শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতার বদলে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সম্মান এবং মানবিক সম্পর্কের ধারণাকে সামনে আনা হয়েছে। 

RSS প্রধানের এই বিদেশ সফর সংগঠনের শতবর্ষ উদযাপনের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালে RSS-এর প্রতিষ্ঠার ১০০ বছর পূর্ণ হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে সংগঠনের প্রধানের আমেরিকা, কানাডা এবং অন্যান্য দেশে গিয়ে ভারতীয় সভ্যতা, হিন্দু দর্শন ও সংগঠনের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে RSS-এর যোগাযোগ বৃদ্ধির একটি অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সফরে ভাগবত উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখেছেন এবং ভারতীয় সমাজ ও সংস্কৃতি নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। 

এর আগে নিউইয়র্কে দেওয়া বক্তব্যেও ভাগবত হিন্দু দর্শনের অন্তর্ভুক্তিমূলক দিকের ওপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ভারতে মুসলিমদের থাকা উচিত নয়—এমন ধারণার সঙ্গে প্রকৃত হিন্দু ভাবনার মিল নেই। তাঁর বক্তব্যে ধর্মের পার্থক্যের ঊর্ধ্বে মানবতার কথা উঠে আসে। 

ফলে কানাডার বক্তব্যটিকেও তাঁর সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক বার্তার বৃহত্তর ধারার মধ্যে দেখা যায়। বিদেশের মাটিতে ভারতীয় সভ্যতা সম্পর্কে একটি ইতিবাচক এবং মানবিক ধারণা তুলে ধরার চেষ্টা তাঁর বক্তব্যগুলিতে লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশেষ করে ভারতের ‘বিশ্বগুরু’ হওয়ার ধারণাকে তিনি সামরিক বা রাজনৈতিক আধিপত্যের বদলে মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত করছেন।

তবে ‘বিশ্বগুরু’ ধারণাটি নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। সমালোচকদের একাংশ মনে করেন, কোনও দেশকে বিশ্বগুরু হিসেবে প্রতিষ্ঠার আগে দেশের অভ্যন্তরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সামাজিক সমতা এবং নাগরিক অধিকারসহ নানা ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতি প্রয়োজন। তাঁদের প্রশ্ন, আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের দাবি কতটা বাস্তবসম্মত, তা বিচার করতে হলে দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মানও বিবেচনা করা জরুরি।

অন্যদিকে, এই ধারণার সমর্থকদের বক্তব্য, বিশ্বগুরু হওয়ার অর্থ পৃথিবীর সব ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ হওয়া নয়। বরং কোনও সভ্যতা তার নিজস্ব অভিজ্ঞতা, জ্ঞান এবং মূল্যবোধের মাধ্যমে বিশ্বকে কিছু দিতে পারলে সেটিও এক ধরনের নেতৃত্ব। ভারতীয় দর্শন, যোগ, আয়ুর্বেদ, বৌদ্ধিক ঐতিহ্য, অহিংসা, যোগসূত্র এবং ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর মতো ধারণাকে তাঁরা এই সাংস্কৃতিক প্রভাবের উদাহরণ হিসেবে দেখেন।

এখানেই ভাগবতের বক্তব্যের মূল তাৎপর্য। তিনি ভারতের ভবিষ্যৎ পরিচয়কে কেবল শক্তিশালী রাষ্ট্র হওয়ার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেননি। তাঁর মতে, ভারতের আসল শক্তি নিহিত রয়েছে তার চরিত্রে। সেই চরিত্রের মধ্যে রয়েছে অন্যের প্রতি সহমর্মিতা, মানুষের সেবা এবং বিশ্বকে নিজের পরিবারের অংশ হিসেবে দেখার মানসিকতা। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই তিনি ‘মহাশক্তি’ এবং ‘বিশ্বগুরু’র মধ্যে পার্থক্য করেছেন।

ভারতের আন্তর্জাতিক অবস্থানের পরিবর্তনও এই আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা শক্তি এবং দ্রুত বিকাশমান প্রযুক্তি ও মহাকাশ শক্তি। আন্তর্জাতিক মঞ্চে G20, BRICS, Quad এবং বিভিন্ন বহুপাক্ষিক সংগঠনে ভারতের সক্রিয়তা বেড়েছে। ফলে ‘ভারত কি বিশ্বশক্তি হয়ে উঠছে?’—এই প্রশ্ন ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক আলোচনার অংশ। কিন্তু ভাগবতের বক্তব্য সেই প্রশ্নের উত্তর অন্যভাবে দিতে চায়।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রভাব বিস্তারের জন্য শুধু শক্তি অর্জন করাই যথেষ্ট নয়। একটি দেশ অন্যদের কাছে সম্মান পেতে পারে তার আচরণ, সংস্কৃতি এবং মানবিক ভূমিকার কারণেও। অর্থাৎ ‘hard power’-এর পাশাপাশি ‘soft power’-এর গুরুত্বও এখানে স্পষ্ট। ভারতীয় সংস্কৃতি এবং সভ্যতাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার মাধ্যমে সেই সফট পাওয়ার বাড়ানোর ধারণার সঙ্গে এই বক্তব্যের একটি যোগ রয়েছে।

কানাডার মতো একটি বহুসাংস্কৃতিক দেশে এই বার্তা দেওয়ারও আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। সেখানে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বড় একটি সম্প্রদায় রয়েছে। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি বৃহত্তর কানাডীয় সমাজের কাছেও ভারতের সভ্যতা ও RSS-এর ভাবনা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়। তাই টরন্টোর অনুষ্ঠানটি শুধু একটি সাংস্কৃতিক সভা নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতীয় পরিচয় ও মতাদর্শ নিয়ে আলোচনার একটি ক্ষেত্রও হয়ে উঠেছে।

তবে ভাগবতের বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের সম্ভাবনাও রয়েছে। RSS ভারতের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী একটি সংগঠন এবং BJP-র সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের আদর্শগত সম্পর্ক রয়েছে। বিদেশে RSS প্রধানের বক্তব্য তাই শুধু সাংস্কৃতিক বক্তব্য হিসেবে দেখা হয় না; এর রাজনৈতিক ও আদর্শগত প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়। সাম্প্রতিক বিদেশ সফরেও তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে সমর্থন ও সমালোচনা—দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। 

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর সফরকে ঘিরে কিছু মানবাধিকার সংগঠন এবং USCIRF-এর পক্ষ থেকে RSS-এর বিরুদ্ধে সমালোচনা করা হয়েছিল। RSS অবশ্য এই ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের একটি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন হিসেবে তুলে ধরে। ফলে ভাগবতের আন্তর্জাতিক সফর একইসঙ্গে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক বিতর্ক—দুই ক্ষেত্রেই আলোচনায় এসেছে।

এই প্রেক্ষাপটে কানাডায় তাঁর ‘বিশ্বগুরু’ মন্তব্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে ভারতীয় সভ্যতার ইতিবাচক দিক তুলে ধরা হচ্ছে, অন্যদিকে ভারতের বিশ্ব রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের সঙ্গে এই ধারণাকে যুক্ত করা হচ্ছে। তবে ‘বিশ্বগুরু’ হওয়ার অর্থ কী এবং সেই অবস্থান অর্জনের মাপকাঠি কী—এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে মতভেদ থাকতেই পারে।

শেষ পর্যন্ত মোহন ভাগবতের বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু হল, ভারতের ভবিষ্যৎ পরিচয়কে কেবল ‘মহাশক্তি’ হিসেবে না দেখে একটি নৈতিক ও সভ্যতাগত শক্তি হিসেবে ভাবা। তাঁর মতে, ভারত অন্য দেশকে শাসন বা নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে নয়, বরং মানুষের সেবা, সহমর্মিতা এবং নিজের মূল্যবোধের মাধ্যমে বিশ্বকে প্রভাবিত করতে পারে। টরন্টোর মঞ্চ থেকে সেই বার্তাই তিনি সামনে আনলেন।

অর্থাৎ, ভারতের সামনে তাঁর দেখানো পথটি শক্তির প্রতিযোগিতার চেয়ে আলাদা—‘বিশ্বকে জয়’ নয়, বরং ‘বিশ্বের পাশে দাঁড়ানো’। সেই কারণেই তাঁর বক্তব্যে ‘সুপারপাওয়ার’ শব্দটির তুলনায় ‘বিশ্বগুরু’ শব্দটি বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। ভারতের ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক পরিচয় শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোবে, তা সময়ই বলবে। তবে কানাডার মাটিতে ভাগবতের এই বক্তব্য ভারতকে নিয়ে চলতে থাকা ‘শক্তি বনাম মূল্যবোধ’-এর বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে | 

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

গুরুতর অসুস্থ আন্না হাজারে, মুম্বইয়ের ICU-তে চলছে চিকিৎসা

সমাজকর্মী আন্না হাজারের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সোমবার তাঁকে মহারাষ্ট্রের রালেগান সিদ্ধির কাছাকাছি একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুম্বইয়ে নিয়ে আসা হয়। পরে তাঁকে বোম্বে হাসপাতালের Intensive Care Unit বা ICU-তে ভর্তি করা হয়েছে। একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী,...

টিনটিন না অ্যাসটেরিক্স, কোন কমিকস বেশি আপন বাঙালির?

টিনটিন না অ্যাসটেরিক্স—এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যতটা সহজ, মীমাংসা করা ততটাই কঠিন। বিশেষ করে বাঙালির শৈশবের সঙ্গে ইউরোপীয় কমিকসের যে গভীর সম্পর্ক, সেখানে এই দুই চরিত্র যেন দুই ভিন্ন জগতের প্রতিনিধি। একজন পাঠককে নিয়ে যায় পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে...

এক কাপ চায়ের বিরতিতেই নেপালের হড়পা বান থেকে প্রাণরক্ষা

ভাগ্যের এক ছোট্ট পরিবর্তন কখনও কখনও মানুষের জীবন-মৃত্যুর মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয়। নেপালের ভয়াবহ হড়পা বান এবং আকস্মিক বন্যার মাঝে ঠিক তেমনই এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলেন পূর্ব বর্ধমানের দুই পর্যটক। মাত্র ১৫ মিনিটের একটি চা-বিরতিই তাঁদের প্রাণ বাঁচিয়ে...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.