Sunday, August 30, 2026

Creating liberating content

ইরানের হুমকির পর জনসমক্ষে...

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কনিষ্ঠ পুত্র ব্যারন ট্রাম্পকে ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে...

ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে অভিষেককে...

ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরে বিলবোর্ড খোলা ঘিরে...

ইরানের হুমকির পর জনসমক্ষে...

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কনিষ্ঠ পুত্র ব্যারন ট্রাম্পকে ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে...

ক্রীড়ায় ৪০০ কোটি, মেসি-কাণ্ডের...

জাতীয় ক্রীড়া দিবসের অনুষ্ঠানে বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্র নিয়ে একাধিক বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু...
Homeবাংলাবিরল লজ্জাবতী বানর...

বিরল লজ্জাবতী বানর এবার দেখা যাবে ঝাড়গ্রাম চিড়িয়াখানায়

জঙ্গলমহলের পর্যটকদের জন্য এল সুখবর। এবার ঝাড়গ্রামের জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্কে দেখা মিলবে অত্যন্ত বিরল লজ্জাবতী বানরের। দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গলের গভীরে থাকা এই নিশাচর প্রাণী সাধারণ মানুষের চোখে খুব সহজে ধরা দেয় না। তার উপর বনভূমি ধ্বংস, চোরাশিকার এবং বন্যপ্রাণী পাচারের মতো একাধিক কারণে এই প্রাণীর সংখ্যা ক্রমশ কমছে। এমন পরিস্থিতিতে উদ্ধার হওয়া বেশ কয়েকটি লজ্জাবতী বানরকে ঝাড়গ্রামের জুলজিক্যাল পার্কে নিয়ে আসা হয়েছে। আপাতত তাদের সুরক্ষিত এনক্লোজারে রেখে বনকর্মী এবং পশু চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে পরিচর্যা চলছে। 

লজ্জাবতী বানরকে ইংরেজিতে Slow Loris বলা হয়। সাধারণত রাতের অন্ধকারেই এদের চলাফেরা বেশি। দিনের বেলায় গাছের ডালে নিজেদের গুটিয়ে রাখে তারা। খুব ধীরে এবং অত্যন্ত সতর্কভাবে গাছের এক ডাল থেকে অন্য ডালে যায়। সেই ধীর গতির জন্যই এই প্রাণীর নাম হয়েছে Slow Loris। দেখতে শান্ত ও নিরীহ হলেও আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে এই প্রাণীর বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। এই কারণেই তাকে অনেক সময় জঙ্গলের ‘বিষাক্ত প্রহরী’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। 

উদ্ধার হওয়া লজ্জাবতী বানরগুলিকে আপাতত সরাসরি পর্যটকদের সামনে আনা হচ্ছে না। বন দপ্তরের পক্ষ থেকে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করা হচ্ছে। নতুন পরিবেশের সঙ্গে তারা কতটা মানিয়ে নিতে পারছে, খাবার গ্রহণের ধরন কেমন, শারীরিক অবস্থার কোনও সমস্যা রয়েছে কি না—এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রাণীগুলি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে নিশ্চিত হওয়ার পরই তাদের দর্শকদের সামনে আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। তবে ঠিক কবে থেকে পর্যটকরা তাদের দেখতে পাবেন, সে বিষয়ে এখনও বন দপ্তরের তরফে নির্দিষ্ট কোনও তারিখ জানানো হয়নি। 

লজ্জাবতী বানরের অন্যতম আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হল তাদের আত্মরক্ষার কৌশল। সাধারণভাবে বিষাক্ত প্রাণী বলতে সাপ বা কিছু নির্দিষ্ট পোকামাকড়ের কথা মনে আসে। কিন্তু লজ্জাবতী বানরকে বিশ্বের অত্যন্ত বিরল বিষধর স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে ধরা হয়। তাদের কনুইয়ের কাছে বিশেষ গ্রন্থি থেকে এক ধরনের তরল নিঃসৃত হয়। বিপদ অনুভব করলে সেই তরল তারা চেটে নেয় এবং লালার সঙ্গে মিশিয়ে নেয়। এরপর কামড়ের মাধ্যমে সেই মিশ্রণ প্রতিপক্ষের শরীরে প্রবেশ করাতে পারে। এই বিশেষ ক্ষমতার কারণেই তাদের কামড় বিপজ্জনক হতে পারে। 

বাহ্যিক গঠনেও লজ্জাবতী বানরের মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য। শরীর সাধারণত ধূসর, বাদামি বা হলুদাভ লোমে ঢাকা থাকে। চোখ বড় এবং মুখের গঠন বেশ আলাদা। লেজ অত্যন্ত ছোট হওয়ায় অনেক সময় দূর থেকে তাদের লেজ নেই বলেই মনে হতে পারে। গাছের ডালে আঁকড়ে থাকার জন্য তাদের হাত-পায়ের গঠনও বিশেষভাবে উপযোগী। দিনের বেলায় নিস্তব্ধভাবে বসে থাকা এবং রাত নামলে ধীরে ধীরে খাদ্যের সন্ধানে বেরিয়ে পড়া তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার অংশ।

এই প্রাণীদের খাদ্যাভ্যাসও বেশ বৈচিত্র্যময়। বিভিন্ন প্রজাতির Slow Loris সাধারণত ফল, ফুলের মধু, গাছের রস, পোকামাকড় এবং ছোট প্রাণী খেয়ে থাকে। বনভূমির পরিবেশে গাছপালা এবং অন্যান্য জীবের সঙ্গে তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তাই কোনও অঞ্চলে এই প্রাণীর সংখ্যা কমে যাওয়া শুধু একটি প্রজাতির ক্ষতি নয়, বরং সেই এলাকার সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জঙ্গলে Bengal Slow Loris-এর উপস্থিতি রয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশ, ভুটান, মায়ানমার এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলেও Slow Loris-এর বিভিন্ন প্রজাতির দেখা পাওয়া যায়। Bengal Slow Loris বর্তমানে বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে বিবেচিত। আবাসস্থল নষ্ট হওয়া, বনভূমির ক্রমাগত পরিবর্তন, অবৈধ বন্যপ্রাণী ব্যবসা এবং চোরাশিকার তাদের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

বিশেষ করে অবৈধ বন্যপ্রাণী পাচার এই প্রাণীদের জন্য বড় বিপদ। Slow Loris দেখতে ছোট ও আকর্ষণীয় হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে তাদের বেআইনিভাবে পোষ্য প্রাণী হিসেবে বিক্রি করার চেষ্টা করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এমন প্রাণীকে ‘পোষ্য’ হিসেবে দেখানোর প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্রাণীকে ঘরে রাখা শুধু বেআইনি হওয়ার সম্ভাবনাই তৈরি করে না, প্রাণীটির স্বাভাবিক জীবনযাপনও ব্যাহত করে। বন্যপ্রাণীকে তাদের নিজস্ব পরিবেশে রাখাই সংরক্ষণের মূল লক্ষ্য।

সাম্প্রতিক সময়েও পশ্চিমবঙ্গ এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বন্যপ্রাণী পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে CBI, Directorate of Revenue Intelligence এবং Wildlife Crime Control Bureau-র যৌথ অভিযানে বন্যপ্রাণী পাচারচক্রের সন্ধান পাওয়া যায়। সেই অভিযানে ১৫টি Slow Loris-সহ মোট ৫৩টি প্রাণী ও পাখি উদ্ধার করা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া প্রাণীদের মধ্যে Slow Loris-গুলিও পরে ঝাড়গ্রাম চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়। 

এই উদ্ধার অভিযান বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ উদ্ধার করা প্রাণীগুলিকে শুধু নিরাপদ জায়গায় নিয়ে এলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। তাদের শারীরিক চিকিৎসা, মানসিক চাপ কমানো, উপযুক্ত খাবার দেওয়া এবং স্বাভাবিক আচরণ বজায় রাখার মতো বিষয়গুলিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্কে আপাতত সেই কাজই চলছে বলে জানা গিয়েছে।

ঝাড়গ্রামের জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্কও এই ধরনের সংরক্ষণমূলক কাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ঝাড়গ্রামে অবস্থিত এই পার্কটি বর্তমানে পর্যটকদের কাছে একটি পরিচিত আকর্ষণ। বিভিন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি এবং সরীসৃপ এখানে রয়েছে। ফলে নতুন করে বিরল Slow Loris যুক্ত হলে পার্কটির আকর্ষণ আরও বাড়বে। 

তবে পর্যটকদের জন্য এই নতুন আকর্ষণের পাশাপাশি রয়েছে শিক্ষামূলক গুরুত্বও। অনেক মানুষ লজ্জাবতী বানর সম্পর্কে খুব বেশি জানেন না। তাদের জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস, আত্মরক্ষার ক্ষমতা এবং সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। চিড়িয়াখানায় প্রাণীটিকে দেখার সুযোগ সেই সচেতনতা বাড়ানোর একটি মাধ্যম হতে পারে।

বনভূমি ধ্বংসের সঙ্গে লজ্জাবতী বানরের অস্তিত্বের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। গাছ কাটা, বনভূমিকে কৃষিজমি বা বসতিতে পরিণত করা এবং রাস্তা নির্মাণের ফলে তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল ক্রমশ ছোট হয়ে যাচ্ছে। একটি নিশাচর ও বৃক্ষবাসী প্রাণী হিসেবে গাছের ধারাবাহিক ছাউনি তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বনভূমি খণ্ডিত হয়ে গেলে এক গাছ থেকে অন্য গাছে নিরাপদে চলাচল করাও তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু চিড়িয়াখানায় কয়েকটি প্রাণীকে রেখে দিলেই কোনও প্রজাতিকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলও সুরক্ষিত করতে হবে। পাশাপাশি পাচার বন্ধ করা, অবৈধ বন্যপ্রাণী ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্থানীয় মানুষকে সচেতন করার প্রয়োজন রয়েছে। উদ্ধার হওয়া প্রাণীদের ক্ষেত্রে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্কে আসা পর্যটকদের জন্য তাই লজ্জাবতী বানর শুধু নতুন কোনও প্রাণী দেখার সুযোগ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি বৃহত্তর সংরক্ষণ বার্তা। একটি ছোট, ধীরগতির এবং দেখতে শান্ত প্রাণীও যে প্রকৃতির ভারসাম্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে, তার উদাহরণ এই Slow Loris।

এখন অপেক্ষা শুধু তাদের সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠার। বন দপ্তরের পর্যবেক্ষণ ও পরিচর্যা পর্ব শেষ হলে পর্যটকদের জন্য এনক্লোজারটি খুলে দেওয়া হতে পারে। কবে থেকে সাধারণ দর্শক এই বিরল প্রাণী দেখতে পাবেন এবং মোট কতগুলি লজ্জাবতী বানর পার্কে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। তবে একবার তাদের দেখার সুযোগ মিললে ঝাড়গ্রামে আসা পর্যটকদের কাছে এই বিরল প্রাণী নিঃসন্দেহে অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠবে। 

সব মিলিয়ে, জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্কে লজ্জাবতী বানরের আগমন শুধু পর্যটনের দিক থেকে নয়, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। অবৈধ পাচারের হাত থেকে উদ্ধার হওয়া এই প্রাণীদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি তাদের সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা গেলে সংরক্ষণের উদ্দেশ্য আরও সফল হবে। জঙ্গলের অন্ধকারে সাধারণত আড়ালে থাকা এই ‘বিষাক্ত প্রহরী’ এবার হয়তো ঝাড়গ্রামের পার্কে মানুষের সামনে নিজের স্বতন্ত্র জীবনযাত্রার কিছুটা অংশ তুলে ধরবে।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

ইরানের হুমকির পর জনসমক্ষে আসা কমালেন ব্যারন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কনিষ্ঠ পুত্র ব্যারন ট্রাম্পকে ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরান-সম্পর্কিত একটি হুমকিমূলক ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর ২০ বছর বয়সি ব্যারন আরও গোপনীয় জীবনযাপন করছেন এবং প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি কমেছে বলে বিভিন্ন...

ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে অভিষেককে তলব, কালীঘাটে হাজির পুলিশ

ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরে বিলবোর্ড খোলা ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবার আরও জটিল আকার নিল। ঘটনার তদন্তে নেমে কলকাতা পুলিশ ইতিমধ্যেই একাধিক মামলা দায়ের করেছে। এবার সেই মামলার সূত্রেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য...

ইরানের হুমকির পর জনসমক্ষে আসা কমালেন ব্যারন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কনিষ্ঠ পুত্র ব্যারন ট্রাম্পকে ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরান-সম্পর্কিত একটি হুমকিমূলক ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর ২০ বছর বয়সি ব্যারন আরও গোপনীয় জীবনযাপন করছেন এবং প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি কমেছে বলে বিভিন্ন...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.