# জাতগণনা নিয়ে প্রশ্ন, মোদিকে চিঠি খাড়গে-রাহুলের
ভারতে আসন্ন **Census 2027**-এ জাতগণনা কীভাবে করা হবে, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একাধিক প্রশ্ন তুলল কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে যৌথ চিঠি লিখে বর্তমান পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁদের অভিযোগ, জাতের তথ্য সংগ্রহের জন্য যে ‘open-ended’ বা উন্মুক্ত প্রশ্নের পদ্ধতি রাখা হয়েছে, তাতে একই জাতি বিভিন্ন নাম, উপ-জাতি বা বানানে নথিভুক্ত হয়ে যেতে পারে। এর ফলে গোটা জাতগণনার তথ্যই বিভ্রান্তিকর হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।
কংগ্রেসের দুই শীর্ষ নেতা তাঁদের চিঠিতে বর্তমান প্রশ্নমালা বাতিল করে নতুন পদ্ধতি তৈরির দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের প্রস্তাব, জাতের নাম নিজের মতো করে লেখার পরিবর্তে একটি যাচাই করা নির্দিষ্ট তালিকা থেকে জাত বেছে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। বিহার এবং তেলঙ্গানায় যে ধরনের জাতভিত্তিক সমীক্ষা হয়েছে, সেই মডেলকে জাতীয় স্তরে অনুসরণ করার পক্ষেও সওয়াল করেছেন তাঁরা।
## জাতগণনার পদ্ধতি নিয়েই মূল আপত্তি
স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো জাতীয় স্তরের জনগণনায় বিস্তারিতভাবে জাতের তথ্য সংগ্রহ করা হতে চলেছে। এতদিন জনগণনায় তফসিলি জাতি বা **SC** এবং তফসিলি উপজাতি বা **ST**-র তথ্য আলাদাভাবে নথিভুক্ত করা হলেও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী, বিশেষ করে **OBC** জনসংখ্যার পূর্ণাঙ্গ জাতভিত্তিক হিসাব নিয়মিত জনগণনায় আলাদাভাবে করা হয়নি। ফলে Census 2027-এ জাতগণনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে খাড়গে এবং রাহুল গান্ধীর আপত্তির কেন্দ্রে রয়েছে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি। তাঁদের মতে, কোনও ব্যক্তিকে নিজের জাতের নাম লিখতে দিলে একই সম্প্রদায়ের মানুষ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন নাম ব্যবহার করতে পারেন। কোথাও মূল জাতের নাম, কোথাও উপ-জাতির নাম, আবার কোথাও স্থানীয় উচ্চারণ বা আলাদা বানান ব্যবহার হতে পারে।
ফলে পরে তথ্য বিশ্লেষণের সময় একই সম্প্রদায়ের মানুষকে একাধিক আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে গণনা করার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
## একই জাতি, একাধিক নামে নথিভুক্ত হওয়ার আশঙ্কা
কংগ্রেস নেতাদের বক্তব্য, ভারতের সামাজিক কাঠামো অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। একই জাতি বা সম্প্রদায়ের একাধিক স্থানীয় নাম থাকতে পারে। কোনও একটি অঞ্চলে যে নামে একটি জাতি পরিচিত, অন্য রাজ্যে সেটি সম্পূর্ণ অন্য নামে পরিচিত হতে পারে।
তার সঙ্গে যুক্ত হয় উপ-জাতি এবং বানানের পার্থক্য। ফলে যদি জনগণনার প্রশ্নমালায় কোনও নির্দিষ্ট তালিকা না থাকে এবং প্রত্যেককে নিজের মতো করে জাতের নাম লিখতে দেওয়া হয়, তাহলে একই গোষ্ঠীর জন্য বিপুল সংখ্যক আলাদা এন্ট্রি তৈরি হতে পারে।
খাড়গে এবং রাহুলের আশঙ্কা, এমন পরিস্থিতিতে জাতগণনার চূড়ান্ত তথ্য বাস্তব সামাজিক চিত্র তুলে ধরতে ব্যর্থ হতে পারে। তাঁদের মতে, এর প্রভাব পড়বে ভবিষ্যতের সামাজিক নীতি এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের পরিকল্পনার উপরও।
## OBC জনসংখ্যা নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ
কংগ্রেসের চিঠিতে বিশেষভাবে **OBC** বা অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির জনসংখ্যা গণনার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, বর্তমান প্রশ্নমালায় ‘backward class’ বা অনগ্রসর শ্রেণি শব্দবন্ধটি যথাযথভাবে না থাকলে OBC জনসংখ্যার প্রকৃত চিত্র পাওয়া কঠিন হতে পারে।
ভারতের সামাজিক নীতি, সংরক্ষণ, শিক্ষা এবং সরকারি চাকরিতে সুযোগের ক্ষেত্রে OBC শ্রেণির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। তাই এই জনগোষ্ঠীর সঠিক জনসংখ্যা এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থার তথ্য পাওয়া নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কংগ্রেস।
দলটির যুক্তি, জাতগণনা শুধু সংখ্যা সংগ্রহের একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়। ভবিষ্যতে সেই তথ্যের ভিত্তিতেই বহু সামাজিক ও অর্থনৈতিক নীতি তৈরি হতে পারে। তাই শুরুতেই তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি যথাযথ হওয়া প্রয়োজন।
## কী প্রস্তাব দিয়েছেন খাড়গে-রাহুল?
কংগ্রেসের দুই নেতা বর্তমান ব্যবস্থার সমালোচনা করেই থেমে থাকেননি। তাঁরা একটি বিকল্প পদ্ধতির প্রস্তাবও দিয়েছেন।
তাঁদের দাবি, একটি **verified caste list** বা যাচাই করা জাতের তালিকা তৈরি করা হোক। জনগণনার সময় মানুষ যাতে নিজের মতো করে জাতের নাম লিখতে না পারেন, বরং নির্দিষ্ট তালিকা থেকে উপযুক্ত জাত নির্বাচন করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করার কথা বলেছেন তাঁরা।
এই তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে আগে থেকেই থাকা সরকারি নথি এবং তালিকা ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন কংগ্রেস নেতারা। তাঁদের চিঠিতে **Socially and Educationally Backward Classes**-এর তালিকা এবং **Anthropological Survey of India**-র তথ্য ব্যবহারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
## বিহার ও তেলঙ্গানার মডেলের কথা
জাতগণনা নিয়ে কংগ্রেসের প্রস্তাবে বিহার এবং তেলঙ্গানার সমীক্ষার উদাহরণ বিশেষভাবে উঠে এসেছে। দুই রাজ্যেই জাতভিত্তিক সমীক্ষার ক্ষেত্রে আগে থেকে প্রস্তুত তালিকা ব্যবহার করা হয়েছিল।
কংগ্রেসের বক্তব্য, সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতীয় জনগণনার ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে। দলটির মতে, একটি যাচাই করা তালিকা ব্যবহার করলে একই জাতি বিভিন্ন নামে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশও এই দাবিকে সমর্থন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিহারের জাতভিত্তিক সমীক্ষার ফল ২০২৩ সালের ২ অক্টোবর প্রকাশিত হয়েছিল এবং তেলঙ্গানার সমীক্ষার ফল প্রকাশিত হয় ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। এই দুই রাজ্যের অভিজ্ঞতা জাতীয় স্তরে কাজে লাগানোর দাবি জানানো হয়েছে।
## কেন এত গুরুত্বপূর্ণ Census 2027?
Census 2027 ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জনগণনা হতে চলেছে। কারণ দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানের পর দেশের জনসংখ্যার পাশাপাশি সামাজিক কাঠামো সম্পর্কিত আরও বিস্তৃত তথ্য সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
জাতভিত্তিক তথ্য সঠিকভাবে পাওয়া গেলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা, সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থান এবং সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের অবস্থান নিয়ে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য তৈরি হতে পারে।
কংগ্রেসের বক্তব্য, এই তথ্য ভবিষ্যতে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সরকারি পরিকল্পনা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের বিভিন্ন প্রকল্প তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তাই জাতগণনার তথ্য যদি শুরুতেই ভুলভাবে সংগৃহীত হয়, তাহলে পরবর্তী নীতিনির্ধারণেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
## শিক্ষা ও চাকরির নীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে
জাতভিত্তিক জনগণনার তথ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার হতে পারে সামাজিক নীতি নির্ধারণে। কোন সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা কত, তাদের আর্থিক ও শিক্ষাগত পরিস্থিতি কী—এই তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি পরিকল্পনা করা সম্ভব।
কংগ্রেস নেতাদের আশঙ্কা, যদি একই জাতির মানুষ আলাদা আলাদা নামে নথিভুক্ত হন, তাহলে কোনও সম্প্রদায়ের প্রকৃত জনসংখ্যা কম দেখাতে পারে। আবার কোনও ক্ষেত্রে একাধিক ছোট গোষ্ঠী তৈরি হয়ে যেতে পারে।
এর ফলে শিক্ষা ও চাকরিতে বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর জন্য নীতি তৈরির সময় সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হতে পারে। সামাজিক ন্যায়বিচার সংক্রান্ত সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
## রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়
ভারতে জাতের প্রশ্ন বরাবরই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। সংরক্ষণ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে নির্বাচনী রাজনীতি—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই জাতের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে।
তাই জাতীয় জনগণনায় জাতের তথ্য সংগ্রহের সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার উপর তথ্য কীভাবে সংগ্রহ করা হবে, সেই প্রশ্ন সামনে আসায় বিতর্ক আরও বাড়ছে।
কংগ্রেসের দাবি, জাতগণনা যেন শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে করা না হয়; বরং এমনভাবে করা হয় যাতে তার ফলাফল পরবর্তীতে নির্ভরযোগ্যভাবে ব্যবহার করা যায়।
## রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার দাবি
খাড়গে এবং রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীকে যে চিঠি দিয়েছেন, তাতে শুধু প্রশ্নমালা পরিবর্তনের দাবি নেই। তাঁরা নতুন প্রশ্নমালা তৈরির আগে রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা করার প্রস্তাবও দিয়েছেন।
তাঁদের মতে, এত বড় জাতীয় কর্মসূচির ক্ষেত্রে বিভিন্ন পক্ষের মতামত নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে জাতের নাম, উপ-জাতি, স্থানীয় পরিচয় এবং সরকারি তালিকার মধ্যে সমন্বয় না করলে ভবিষ্যতে তথ্য বিশ্লেষণে বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে।
তাই জনগণনা শুরু হওয়ার আগেই প্রশ্নমালা নিয়ে ঐকমত্য তৈরি করার পক্ষে তাঁরা সওয়াল করেছেন।
## বর্তমান প্রশ্নমালা বাতিলের দাবি
কংগ্রেসের দুই শীর্ষ নেতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি হল বর্তমান জাতগণনার প্রশ্নমালা বাতিল করা। তাঁদের মতে, উন্মুক্ত প্রশ্নের মাধ্যমে জাতের তথ্য সংগ্রহ করার পদ্ধতি সংশোধন করা প্রয়োজন।
তার বদলে আগে যাচাই করা জাতের তালিকা তৈরি করে সেই তালিকার ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।
অর্থাৎ কংগ্রেসের বক্তব্য, জাতগণনা হওয়া নিয়ে তাঁদের আপত্তি নেই; আপত্তি রয়েছে **কীভাবে জাতগণনা করা হবে**, সেই পদ্ধতি নিয়ে।
## জাতগণনা হলেই কি সমস্যা মিটবে?
কংগ্রেসের বক্তব্যে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট—শুধু জাতগণনা করা যথেষ্ট নয়। সেই তথ্য নির্ভুল হওয়াও জরুরি।
যদি কোনও জাতি একাধিক নামে নথিভুক্ত হয়, তাহলে মোট সংখ্যা নির্ধারণের সময় সমস্যা তৈরি হবে। একইভাবে স্থানীয় নাম এবং উপ-জাতির পরিচয় কীভাবে মূল জাতির সঙ্গে যুক্ত করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
এই কারণেই একটি কেন্দ্রীয় এবং যাচাই করা তালিকার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন খাড়গে ও রাহুল গান্ধী।
## কেন্দ্রের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ
কংগ্রেসের চিঠির পর কেন্দ্রীয় সরকারের সামনে এখন প্রশ্ন উঠেছে, জাতগণনার বর্তমান পদ্ধতিতে কোনও পরিবর্তন আনা হবে কি না।
সরকার যদি বর্তমান পদ্ধতিতেই এগোয়, তাহলে কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দল এই বিষয়টি আরও জোরালোভাবে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করতে পারে। আবার কেন্দ্র যদি প্রশ্নমালা নিয়ে আলোচনা করে কোনও সংশোধন আনে, তাহলে জাতগণনার পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরির সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।
এই মুহূর্তে সরকারের তরফে এই চিঠির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেটিই নজরে রয়েছে।
## কংগ্রেসের বক্তব্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব
খাড়গে এবং রাহুল গান্ধীর এই যৌথ চিঠি নিছক প্রশাসনিক পরামর্শ নয়। জাতগণনা নিয়ে কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই সরব। রাহুল গান্ধী বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যেও জাতভিত্তিক তথ্য প্রকাশ এবং সামাজিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন তুলেছেন।
ফলে Census 2027-এর পদ্ধতি নিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠানো সেই রাজনৈতিক অবস্থানেরই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার কীভাবে এই দাবির জবাব দেয়, তা আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
## শেষ কথা
Census 2027-এ জাতগণনার সিদ্ধান্তের পর এবার তার পদ্ধতি নিয়ে সরাসরি কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতে গেল কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে যৌথ চিঠি লিখে মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, উন্মুক্ত প্রশ্নের মাধ্যমে জাতের তথ্য সংগ্রহ করলে একই জাতি বিভিন্ন নাম, উপ-জাতি এবং বানানে নথিভুক্ত হয়ে যেতে পারে। এতে প্রকৃত জনসংখ্যার হিসাব বিকৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কংগ্রেসের প্রস্তাব, বর্তমান প্রশ্নমালা বাতিল করে একটি যাচাই করা নির্দিষ্ট জাতের তালিকা তৈরি করা হোক। বিহার এবং তেলঙ্গানার জাতভিত্তিক সমীক্ষায় ব্যবহৃত পদ্ধতির উদাহরণও তাঁরা দিয়েছেন। একইসঙ্গে রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন প্রশ্নমালা তৈরির দাবি জানানো হয়েছে।
কংগ্রেসের মতে, জাতগণনার উদ্দেশ্য শুধু বিভিন্ন জাতের সংখ্যা গোনা নয়। সেই তথ্য যাতে শিক্ষা, চাকরি, সরকারি পরিকল্পনা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের নীতি তৈরিতে নির্ভরযোগ্যভাবে ব্যবহার করা যায়, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই জাতগণনা **হওয়ার পাশাপাশি সঠিক পদ্ধতিতে হওয়াও জরুরি**—এই দাবিকেই সামনে রেখে এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে চিঠি দিলেন খাড়গে ও রাহুল গান্ধী।


