Monday, November 2, 2026

Creating liberating content

यूईएम जयपुर ने मानवता...

जयपुर में आयोजित मानवता के लिए दौड़ के दसवें संस्करण में यूनिवर्सिटी ऑफ...

अक्टूबर 2026 में पड़ेंगी...

सनातन हिंदू धर्म में एकादशी तिथि का विशेष धार्मिक महत्व माना जाता है।...

इंफोसिस और विप्रो में...

देश की प्रमुख सूचना प्रौद्योगिकी सेवा कंपनियों में शामिल इंफोसिस और विप्रो के...

स्वर्ग में कर्ण को...

महाभारत के महान योद्धाओं में कर्ण का नाम केवल उनकी वीरता और संघर्ष...
Homeবাংলাখেলাধুলাক্রীড়া দিবসে তরুণদের...

ক্রীড়া দিবসে তরুণদের সঙ্গে মোদি, ‘খেলো ইন্ডিয়া’য় বড় বার্তা

জাতীয় ক্রীড়া দিবসকে সামনে রেখে দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং উঠতি ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র। আগামী ২৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশজুড়ে আয়োজিত হতে চলা বিশেষ কর্মসূচি **‘খেলো ইন্ডিয়া ডায়লগ—খেল কি বাত, প্রধানমন্ত্রী মোদি কে সাথ’**-এ তরুণ ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের ক্রীড়া পরিকাঠামো, প্রতিভা অন্বেষণ, তরুণদের নেতৃত্ব এবং ভবিষ্যতের অলিম্পিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হবে। 

দেশের ১৫০০-রও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একইসঙ্গে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। IIT, IIM, NIT, AIIMS, বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় মেডিকেল কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় এই উদ্যোগে অংশ নেবে। প্রথমে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়াল মাধ্যমে তরুণদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন। এরপর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি এবং আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

জাতীয় ক্রীড়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের যুবসমাজকে ক্রীড়াক্ষেত্রে আরও বেশি যুক্ত করার পাশাপাশি আগামী দিনের ভারতের স্পোর্টস ইকোসিস্টেম নিয়ে তাঁদের মতামত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

## ২৭ আগস্ট দেশজুড়ে ‘খেলো ইন্ডিয়া ডায়লগ’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই বিশেষ কর্মসূচির নাম রাখা হয়েছে ‘খেলো ইন্ডিয়া ডায়লগ—খেল কি বাত, প্রধানমন্ত্রী মোদি কে সাথ’। ২৭ আগস্ট দেশজুড়ে ১৫০০-রও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। 

মূল উদ্দেশ্য শুধু প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনানো নয়। বরং তরুণ ক্রীড়াবিদ, পড়ুয়া, ক্রীড়া প্রশাসক এবং নীতিনির্ধারকদের এক জায়গায় এনে দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

তরুণদের নিজেদের অভিজ্ঞতা, সমস্যা এবং নতুন ভাবনা সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া হবে। এর ফলে ক্রীড়াক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণের সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ আরও বাড়তে পারে।

## চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর জোর

এই কর্মসূচিতে মূলত চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর জোর দেওয়া হবে। প্রথমত, দেশের তৃণমূল স্তরে ক্রীড়া পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করা। দ্বিতীয়ত, প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের চিহ্নিত করে তাঁদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া। তৃতীয়ত, যুবসমাজকে নেতৃত্ব এবং প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত করা। চতুর্থত, তরুণদের ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা। 

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ২০৩৬ সালের অলিম্পিককে কেন্দ্র করে ভারতের প্রস্তুতি।

## ২০৩৬ অলিম্পিককে সামনে রেখে প্রতিভা খোঁজার পরিকল্পনা

ভারত ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজন করতে চায়। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে এখন থেকেই দেশের নতুন প্রজন্মের প্রতিভা খুঁজে বের করার উপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র।

সম্প্রতি স্বাধীনতা দিবসের ভাষণেও প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, অলিম্পিকের বহু ইভেন্টে এখনও ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের উপস্থিতি নেই। সেই ঘাটতি পূরণ করতে ছোট বয়স থেকেই প্রতিভাবান ছেলে-মেয়েদের চিহ্নিত করে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। 

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে যাদের বয়স ৫ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে, তাঁদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের অলিম্পিক তারকা তৈরি হতে পারে। তাই স্কুল, গ্রাম এবং শহর—সব জায়গা থেকেই প্রতিভা খোঁজার পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

## ‘জেন আলফা’র উপর বিশেষ নজর

প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই ‘জেন আলফা’ প্রজন্মকে ২০৩৬ সালের অলিম্পিকের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সি শিশুদের মধ্যে প্রতিভা খুঁজে তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়ার উপর জোর দিয়েছেন তিনি। 

কারণ আন্তর্জাতিক স্তরের ক্রীড়াবিদ তৈরি করতে দীর্ঘ সময়ের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। একজন প্রতিভাবান শিশুকে চিহ্নিত করার পর তাঁকে শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক প্রস্তুতি, আধুনিক প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক মানের কোচিংয়ের মাধ্যমে তৈরি করতে হয়।

তাই ২০৩৬ সালের লক্ষ্য পূরণ করতে হলে এখন থেকেই পরিকল্পনা শুরু করা জরুরি।

## শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির বড় ভূমিকা

‘খেলো ইন্ডিয়া ডায়লগ’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল দেশের বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে এর সঙ্গে যুক্ত করা। IIT, IIM, NIT, AIIMS এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। 

এর ফলে ক্রীড়া এবং শিক্ষার মধ্যে আরও শক্তিশালী সম্পর্ক তৈরির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

শুধু পেশাদার ক্রীড়াবিদ নয়, ভবিষ্যতের ক্রীড়া প্রশাসক, স্পোর্টস ম্যানেজার, কোচ, চিকিৎসক এবং স্পোর্টস সায়েন্টিস্ট তৈরির ক্ষেত্রেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা রয়েছে।

## নামী ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে তরুণদের যোগাযোগ

এই কর্মসূচিতে ভারতের একাধিক খ্যাতনামা ক্রীড়াবিদও অংশ নেবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দীপা কর্মকার, সাইনা নেহওয়াল, গগন নারাং, শ্রীজেশ, মেরি কম, বাইচুং ভুটিয়া, পুল্লেলা গোপীচাঁদ, অঞ্জু ববি জর্জ, কর্ণম মল্লেশ্বরী, মীরাবাই চানু এবং পি টি ঊষার মতো তারকারা। 

তাঁরা তরুণ অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে নিজেদের ক্রীড়াজীবনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেবেন। কঠিন সময় কীভাবে সামলাতে হয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য পেতে কী ধরনের পরিশ্রম প্রয়োজন এবং ব্যর্থতার পর কীভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যায়—এসব নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

## খেলোয়াড়দের সমস্যার কথা শোনার সুযোগ

ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের অন্যতম সুবিধা হল মাঠের বাস্তব সমস্যাগুলি উঠে আসা। অনেক সময় নীতিনির্ধারণের স্তরে যে বিষয়গুলি নজরে আসে না, খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা থেকে সেই সমস্যাগুলি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

প্রশিক্ষণের সুযোগ, পরিকাঠামোর অভাব, কোচিং, পুষ্টি, চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির মতো বিষয়গুলি নিয়ে তরুণরা নিজেদের মতামত জানাতে পারবেন।

এই আলোচনা ভবিষ্যতে ক্রীড়া নীতিতে নতুন কিছু সংযোজনের পথও খুলে দিতে পারে।

## তৃণমূল স্তরে ক্রীড়া পরিকাঠামো

ভারতের মতো বিশাল দেশে প্রতিভার অভাব নেই। কিন্তু প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু প্রতিভাবান ছেলে-মেয়ে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো বা প্রশিক্ষণের সুযোগ পান না।

এই সমস্যার সমাধানের জন্য তৃণমূল স্তরে মাঠ, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কোচ এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। 

‘খেলো ইন্ডিয়া ডায়লগ’-এ এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জায়গা পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

## বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণের উপর জোর

আধুনিক ক্রীড়ায় শুধু প্রতিভা থাকলেই সাফল্য পাওয়া যায় না। প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ, পুষ্টি, ফিটনেস, স্পোর্টস মেডিসিন এবং মানসিক প্রস্তুতি।

২০৩৬ সালের অলিম্পিকের মতো বড় লক্ষ্য সামনে রেখে ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের ছোট বয়স থেকেই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তৈরি করার প্রয়োজন রয়েছে।

এই কারণেই প্রতিভা চিহ্নিত করার পাশাপাশি athlete development-এর উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। 

## তরুণদের নেতৃত্বে আনার পরিকল্পনা

ক্রীড়াক্ষেত্রে শুধু মাঠে খেলোয়াড় হিসেবে নয়, প্রশাসন এবং নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও তরুণদের ভূমিকা বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হবে।

তরুণদের মতামত নেওয়া, তাঁদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা এবং নেতৃত্বের দক্ষতা তৈরি করা—এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

কেন্দ্রের পরিকল্পনায় ক্রীড়ার সঙ্গে যুব নেতৃত্ব এবং nation-building-কে একই কাঠামোর মধ্যে দেখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

## ক্রীড়া থেকে জাতি গঠনের বার্তা

‘খেলো ইন্ডিয়া ডায়লগ’-এর মাধ্যমে ক্রীড়াকে শুধু প্রতিযোগিতা বা পদক জয়ের বিষয় হিসেবে দেখানো হচ্ছে না। এর সঙ্গে যুবসমাজের সামগ্রিক বিকাশ এবং জাতি গঠনের বিষয়টিকেও যুক্ত করা হচ্ছে।

খেলাধুলা শৃঙ্খলা, দলগত কাজ, নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করার মানসিকতা তৈরি করে। তাই ক্রীড়ায় যুবকদের অংশগ্রহণ বাড়ানো হলে তার সামাজিক প্রভাবও পড়তে পারে।

## ভবিষ্যৎ দক্ষতার উপরেও নজর

ক্রীড়াক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। Data analytics, sports science, artificial intelligence, wearable technology এবং performance tracking-এর মতো বিষয় এখন আন্তর্জাতিক খেলাধুলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তরুণদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে এই ধরনের দক্ষতার সঙ্গে তাঁদের পরিচিত করানোর প্রয়োজন রয়েছে। ‘খেলো ইন্ডিয়া ডায়লগ’-এ future-ready skills-এর উপর গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। 

## স্বেচ্ছাসেবার সুযোগ

ক্রীড়াক্ষেত্রে শুধু খেলোয়াড় নয়, বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবকও প্রয়োজন হয়। স্থানীয় প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্ট—সব জায়গাতেই volunteer network গুরুত্বপূর্ণ।

তরুণদের স্বেচ্ছাসেবার সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে তাঁদের সংগঠন পরিচালনা, দলগত কাজ এবং ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের বাস্তব অভিজ্ঞতা দেওয়া যেতে পারে।

## জাতীয় ক্রীড়া দিবসের বিশেষ তাৎপর্য

জাতীয় ক্রীড়া দিবস প্রতি বছর ২৯ আগস্ট পালিত হয়। হকি কিংবদন্তি মেজর ধ্যানচাঁদের জন্মদিনকে স্মরণ করে এই দিনটি পালন করা হয়।

তবে ২০২৬ সালের এই বিশেষ কর্মসূচি ২৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অর্থাৎ জাতীয় ক্রীড়া দিবসের ঠিক দুদিন আগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তরুণদের নিয়ে এই বৃহৎ ক্রীড়া সংলাপের আয়োজন করা হয়েছে। 

এর ফলে জাতীয় ক্রীড়া দিবসের আগে দেশজুড়ে ক্রীড়াকে ঘিরে বিশেষ আবহ তৈরি হবে।

## ১৫০০-র বেশি প্রতিষ্ঠানে একযোগে অনুষ্ঠান

এই কর্মসূচির ব্যাপকতা বোঝা যায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা থেকেই। ১৫০০-র বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। 

একটি কেন্দ্রীয় ভার্চুয়াল বক্তব্যের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্থানীয় আলোচনা এবং ক্রীড়া সংক্রান্ত কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

ফলে দিল্লি বা বড় শহরের মধ্যে এই উদ্যোগ সীমাবদ্ধ থাকবে না।

## রাজ্য ও কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, বিভিন্ন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী, সাংসদ এবং বিধায়করাও সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। 

এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্রীড়া নীতি এবং রাজ্যগুলির বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে সমন্বয় তৈরি করার সুযোগ থাকবে।

দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ক্রীড়া পরিকাঠামোর পরিস্থিতি এক নয়। কোথাও ক্রিকেট বা ফুটবলের পরিকাঠামো উন্নত, কোথাও আবার অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার কিংবা শুটিংয়ের মতো খেলায় সমস্যা রয়েছে। এই বৈচিত্র্যও আলোচনায় উঠে আসতে পারে।

## ভারতের ক্রীড়া ভবিষ্যতের বড় লক্ষ্য

ভারত সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াক্ষেত্রে একাধিক সাফল্য পেয়েছে। অলিম্পিক, কমনওয়েলথ গেমস, এশিয়ান গেমস এবং বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা ধারাবাহিকভাবে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন।

তবুও বহু অলিম্পিক ইভেন্টে ভারতের অংশগ্রহণ সীমিত। প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা দিবসের ভাষণেও এই ঘাটতির কথা তুলে ধরেছিলেন। 

তাই আগামী প্রজন্মের ক্রীড়াবিদদের আরও বেশি সংখ্যক খেলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে আসাই এখন বড় লক্ষ্য।

## শুধু পদক নয়, অংশগ্রহণ বাড়ানোও জরুরি

ভারতের ক্রীড়া ভবিষ্যৎ গড়তে শুধু অলিম্পিক পদকের দিকে তাকালে হবে না। আরও বেশি তরুণকে খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত করাও প্রয়োজন।

স্কুল পর্যায়ে খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানো, স্থানীয় প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং প্রতিভাবানদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের ক্রীড়া সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হতে পারে।

‘খেলো ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্যও তৃণমূল স্তর থেকে খেলোয়াড় তুলে আনা।

## ক্রীড়া ও শিক্ষার ভারসাম্য

অনেক অভিভাবক এখনও পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাকে দ্বিতীয় গুরুত্ব দেন। কিন্তু আধুনিক সময়ে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার সুযোগ অনেক বেড়েছে।

এই পরিবর্তিত মানসিকতা তৈরি করতেও এমন কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তরুণদের বোঝানো দরকার, খেলাধুলা শুধু শখ নয়—সঠিক প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা থাকলে এটি একটি সম্ভাবনাময় পেশাও হতে পারে।

## ২০৩৬-এর লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি

২০৩৬ সালের অলিম্পিক এখনও এক দশক দূরে। ফলে এখনকার ৫ থেকে ১৫ বছরের শিশুরাই ভবিষ্যতে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। এই কারণেই ছোট বয়স থেকে প্রতিভা খোঁজার পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ।

একজন খেলোয়াড়কে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছতে বছরের পর বছর প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। তাই ২০৩৬ সালের লক্ষ্য পূরণ করতে হলে প্রতিভা অন্বেষণ, প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করতে হবে।

## নতুন প্রজন্মের কণ্ঠস্বর

এই কর্মসূচির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল তরুণদের শুধু শ্রোতা হিসেবে না দেখে তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া। ক্রীড়া নীতি নিয়ে তাঁদের চিন্তাভাবনা, নতুন ধারণা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা শোনার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

এটি সফল হলে ভবিষ্যতে আরও অংশগ্রহণমূলক ক্রীড়া নীতি তৈরির পথ খুলতে পারে।

## সামনে কী?

আগামী ২৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যের দিকে তাই দেশের ক্রীড়া মহলের নজর থাকবে। বিশেষ করে ২০৩৬ সালের অলিম্পিক প্রস্তুতি, নতুন প্রতিভা খোঁজা, তৃণমূল স্তরের পরিকাঠামো এবং যুবকদের ক্রীড়াক্ষেত্রে আরও বেশি যুক্ত করার বিষয়ে তিনি কী বার্তা দেন, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একই দিনে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলিও তরুণ ক্রীড়াবিদদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করতে পারে।

## শেষ কথা

জাতীয় ক্রীড়া দিবসকে সামনে রেখে ২৭ আগস্ট ‘খেলো ইন্ডিয়া ডায়লগ—খেল কি বাত, প্রধানমন্ত্রী মোদি কে সাথ’ কর্মসূচিতে তরুণ ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১৫০০-রও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে এবং IIT, IIM, NIT, AIIMS-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নেবে। 

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল তৃণমূল স্তরে ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নত করা, প্রতিভা চিহ্নিত করা, বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে খেলোয়াড় তৈরি করা এবং ২০৩৬ সালের অলিম্পিককে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নেওয়া। একই সঙ্গে যুব নেতৃত্ব, স্বেচ্ছাসেবা এবং ভবিষ্যতের প্রয়োজনীয় দক্ষতার উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

দীপা কর্মকার, সাইনা নেহওয়াল, মেরি কম, গগন নারাং, পি টি ঊষা, বাইচুং ভুটিয়া, মীরাবাই চানু-সহ একাধিক বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদের উপস্থিতি এই কর্মসূচিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলবে। 

সবচেয়ে বড় লক্ষ্য অবশ্যই ২০৩৬ সালের অলিম্পিককে সামনে রেখে নতুন প্রজন্মের ক্রীড়া প্রতিভা তৈরি করা। এখনকার ছোট বয়সি খেলোয়াড়দের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে আগামী এক দশকে ভারতীয় ক্রীড়াক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। সেই লক্ষ্যেই ‘খেলো ইন্ডিয়া ডায়লগ’কে শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ ক্রীড়া পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

ঔরঙ্গজেবের আমলের ৩৩৪ বছরের বনেদি পুজোর অমলিন ঐতিহ্য

পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুজোর ইতিহাসে বনেদি পুজোর আলাদা মর্যাদা রয়েছে। সেই ঐতিহ্যের অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায় পূর্ব বর্ধমানের পানাগড়ের সোঁয়াই গ্রামের মুখোপাধ্যায় পরিবারের দুর্গাপুজো। এ বছর এই পুজো ৩৩৪ বছরে পা দিয়েছে। শুধু প্রাচীনত্ব নয়, এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে স্বপ্নাদেশ, বর্ধমানের...

বাংলায় পথচলা শুরু বিজয় থলপতির টিভিকের নতুন অধ্যায়

তামিলনাড়ুতে রাজনৈতিক সাফল্যের পর এবার পশ্চিমবঙ্গে সাংগঠনিক বিস্তার শুরু করল বিজয় থলপতি-র দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম (TVK)। পূর্ব বর্ধমান জেলার ফাগুপুরে দলের প্রথম কার্যালয় খোলার মাধ্যমে বাংলায় আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু হয়েছে। এই পদক্ষেপের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে...

সন্ত্রাসে শীর্ষে পাকিস্তান, হাক্কানির বিস্ফোরক আত্মসমালোচনা ভাইরাল

সন্ত্রাসবাদে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় পাকিস্তানের শীর্ষে উঠে আসার দাবি ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস (IEP)-এর প্রকাশিত Global Terrorism Index 2026-এর তথ্য সামনে আসার পর পাকিস্তানের প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত হুসেন হাক্কানি ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.