Saturday, August 22, 2026

Creating liberating content

বর্ধমানের শিক্ষকের অভিনব উদ্যোগে...

বর্ধমানের এক শিক্ষকের অভিনব উদ্যোগ এবং নিরলস পরিশ্রম এবার জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি পেল।...

অন্নপূর্ণার টাকা নিয়ে বড়...

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে যখন উপভোক্তাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন এবং অপেক্ষা তৈরি হয়েছে,...

রোনাল্ডোর দেশ পর্তুগাল ক্রিকেটে...

ফুটবল বিশ্বে পর্তুগাল মানেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। কিন্তু এবার সেই দেশের নাম উঠে এল...

জিৎকে কটাক্ষ করে বিপাকে...

টলিউডের দুই জনপ্রিয় তারকা দেব এবং জিৎকে ঘিরে অনুরাগীদের মধ্যে তুলনা নতুন কিছু...
Homeবাংলাযাদবপুর সংঘর্ষের পর...

যাদবপুর সংঘর্ষের পর জাতীয়তাবাদ নিয়ে কড়া শুভেন্দু

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)-এর মধ্যে সংঘর্ষের পর থেকেই পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। এই আবহেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কড়া মন্তব্য করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ভবানীপুরের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ও বাইরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করা হবে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ‘বন্দে মাতরম’, জাতীয় পতাকা, দেশপ্রেম এবং রাষ্ট্রবাদের প্রসঙ্গও।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ নতুন করে ছাত্র রাজনীতি, ক্যাম্পাসের পরিবেশ এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। গত কয়েকদিন ধরে ক্যাম্পাসে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং ABVP-র মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। সংঘর্ষের ঘটনায় একাধিক পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। 

## সংঘর্ষের পর আরও উত্তপ্ত যাদবপুর

সাম্প্রতিক ঘটনায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির অভিযোগ, ABVP সমর্থকদের নিয়ে বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে ঢুকে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ABVP-র পক্ষ থেকেও পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে উত্তেজনা তৈরির অভিযোগ তুলেছে।

ঘটনার পর শুধু বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরেই নয়, বাইরেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রতিবাদ, পাল্টা প্রতিবাদ এবং পুলিশের হস্তক্ষেপের জেরে যাদবপুর থানা ও বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এবং RAF-কে নামতে হয় বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। 

এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে থাকা ঐতিহাসিক এমব্লেম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই এমব্লেমের সঙ্গে শিল্পী নন্দলাল বসুর নাম জড়িয়ে থাকায় বিষয়টি সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বও পেয়েছে। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে এবং তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। 

## ভবানীপুরের অনুষ্ঠান থেকে কড়া বার্তা

এই পরিস্থিতিতেই শনিবার ভবানীপুরের একটি অনুষ্ঠানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে মুখ খোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্যে ছিল অত্যন্ত কড়া সুর। তিনি বলেন, যাদবপুরের ভিতরে এবং বাইরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, রাজ্যে থাকতে হলে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে এবং দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ ও রাষ্ট্রবাদের সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না। 

শুভেন্দুর বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাকে তিনি শুধুমাত্র ছাত্রদের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ হিসেবে দেখছেন না। বরং এর সঙ্গে বৃহত্তর রাজনৈতিক এবং মতাদর্শগত প্রশ্নও জুড়ে দিয়েছেন তিনি।

## ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে কী বললেন শুভেন্দু?

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, সেখানে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার পরিবেশ নেই এবং জাতীয় পতাকা ওড়ানো হয় না। পাশাপাশি শিক্ষাদপ্তরের প্রবেশ এবং CCTV ক্যামেরা বসানো নিয়েও তিনি অভিযোগ তোলেন। 

এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্র রাজনীতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের সহাবস্থানের জন্য পরিচিত।

ফলে ক্যাম্পাসে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য একদিকে যেমন তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছে, অন্যদিকে তেমনই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসন, ছাত্র রাজনীতি এবং মতাদর্শের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

## ‘আজাদি’ স্লোগান নিয়েও আক্রমণ

যাদবপুরের সাম্প্রতিক অশান্তির প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে ‘আজাদি’ স্লোগানের বিষয়টিও উঠে আসে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ছাত্র ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’-র মতো স্লোগান দিচ্ছে।

এই ধরনের স্লোগানকে তিনি কঠোরভাবে সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, জাতীয়তাবাদ এবং রাষ্ট্রবাদের প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। 

তবে ছাত্র রাজনীতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান এবং মতাদর্শ নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ও বহু বছর ধরে এই ধরনের রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

## ১০ লক্ষ কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’?

যাদবপুরকে ঘিরে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে শুভেন্দু জানান, বিজেপির সাংগঠনিক জেলার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাখির দিনে যাদবপুরে ১০ লক্ষ কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। 

এই ঘোষণার ফলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কর্মসূচির পরিধি আরও বাড়তে পারে। ইতিমধ্যেই ছাত্র সংঘর্ষের জেরে ক্যাম্পাস উত্তপ্ত। তার মধ্যে জাতীয়তাবাদ এবং ‘বন্দে মাতরম’-কে কেন্দ্র করে বড় কর্মসূচির ঘোষণা রাজনৈতিক আবহকে আরও সরগরম করতে পারে।

## ছাত্র সংঘর্ষের সূত্রপাত কোথায়?

সাম্প্রতিক সংঘর্ষের নেপথ্যে ছিল মূলত দুই ছাত্র রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা। বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং ABVP—দুই পক্ষের মধ্যেই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

বামপন্থী ছাত্রদের অভিযোগ, ABVP-র সঙ্গে যুক্ত বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে ঢুকে হামলা চালায়। অন্যদিকে ABVP-র অভিযোগ, একটি সভার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর তাদের উপর হামলা চালানো হয়। 

অর্থাৎ, সংঘর্ষের কারণ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা। ফলে প্রকৃত ঘটনা জানতে তদন্তের ফলাফলের দিকে নজর থাকবে।

## পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ

সংঘর্ষের পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংলগ্ন এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়। প্রতিবাদ মিছিল এবং পাল্টা বিক্ষোভের কারণে পরিস্থিতি একাধিকবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পুলিশ এবং RAF পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করে। ব্যারিকেড ভাঙা এবং পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তির ঘটনাও সামনে আসে। 

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে রাতে ক্যাম্পাসে কীভাবে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হল, বহিরাগতরা কীভাবে ঢুকল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোথায় ঘাটতি ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে।

## ঐতিহাসিক এমব্লেম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ক্ষোভ

যাদবপুরের সাম্প্রতিক অশান্তির মধ্যে আরও একটি ঘটনা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক এমব্লেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই এমব্লেমের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং শিল্পী নন্দলাল বসুর ঐতিহ্য জড়িত বলে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটিও তৈরি করা হয়েছে। 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি বা ঐতিহাসিক প্রতীক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

## যাদবপুরে রাজনৈতিক সংঘাত নতুন নয়

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্র রাজনীতির জন্য পরিচিত। বামপন্থী ছাত্র রাজনীতির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বহু বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানের একটি বিশেষ রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হয়েছে। ABVP-র মতো সংগঠনের সক্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির সঙ্গে সংঘাতও নতুন মাত্রা পেয়েছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাও সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রতিযোগিতারই অংশ কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

## ক্যাম্পাসে ‘জাতীয়তাবাদ’ প্রতিষ্ঠার বার্তা

শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে এবং বাইরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা।

রাজনৈতিকভাবে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে জাতীয়তাবাদ বনাম রাজনৈতিক মতাদর্শের বিতর্ক ইতিমধ্যেই তীব্র।

শুভেন্দুর বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, তাঁর সরকার যাদবপুরের মতো প্রতিষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী পরিবেশ তৈরির বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা নিতে চায়।

## শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কতটা রাজনৈতিক হবে?

এই ঘটনার পর আরও একটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে—একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক মতাদর্শের ভূমিকা কতটা থাকা উচিত?

একদিকে ছাত্রদের রাজনৈতিক মতপ্রকাশ গণতান্ত্রিক পরিবেশের অংশ। অন্যদিকে ক্যাম্পাসে হিংসা, ভাঙচুর এবং সংঘর্ষ কখনওই শিক্ষার পরিবেশের পক্ষে ইতিবাচক নয়।

যাদবপুরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তাই শুধু দুই ছাত্র সংগঠনের দ্বন্দ্ব নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বাধীনতা, নিরাপত্তা, ছাত্র রাজনীতি এবং মতপ্রকাশের অধিকারের মতো একাধিক বিষয়।

## বহিরাগত প্রবেশ নিয়ে প্রশ্ন

সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পর বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য সামনে এসেছে। ক্যাম্পাসে বাইরের রাজনৈতিক কর্মী বা সমর্থকদের প্রবেশের অভিযোগ নতুন নয়।

তবে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাইরের লোকজনের প্রবেশ যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে ছাত্রদের নিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তাই ভবিষ্যতে যাদবপুর কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হতে পারে।

## CCTV নিয়েও বিতর্ক

শুভেন্দু তাঁর বক্তব্যে যাদবপুরে CCTV বসানোর প্রসঙ্গও তোলেন। তাঁর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে CCTV বসাতে দেওয়া হয় না। 

নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে CCTV ক্যামেরা নিয়ে যুক্তি থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নজরদারির সীমা এবং ছাত্রদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন থাকতে পারে।

তাই নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অধিকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতির মধ্যে ভারসাম্য রাখা প্রয়োজন।

## রাজনৈতিক তরজা আরও বাড়ার সম্ভাবনা

শুভেন্দুর বক্তব্যের পর যাদবপুরের ঘটনা নিঃসন্দেহে আরও বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হতে পারে। ইতিমধ্যেই বিজেপি নেতারা ক্যাম্পাসে কথিত ‘দেশবিরোধী’ কার্যকলাপ নিয়ে সরব হয়েছেন।

অন্যদিকে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলিও নিজেদের অবস্থান থেকে প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে আগামী দিনে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে আরও কর্মসূচি এবং রাজনৈতিক চাপানউতোরের সম্ভাবনা রয়েছে।

## পড়াশোনার পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ

যে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হল পড়াশোনা এবং গবেষণার পরিবেশ তৈরি করা। কিন্তু বারবার সংঘর্ষ হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে ছাত্রছাত্রীদের উপর।

ক্লাস, পরীক্ষা, গবেষণা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম যাতে রাজনৈতিক সংঘর্ষের কারণে ব্যাহত না হয়, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

যাদবপুরের সাম্প্রতিক ঘটনাও সেই প্রশ্নটিই নতুন করে সামনে এনেছে।

## প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং রাজ্য প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হল শান্তি বজায় রাখা। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আটকানো জরুরি।

একইসঙ্গে রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে যাতে ছাত্রদের মধ্যে হিংসা ছড়িয়ে না পড়ে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

## তদন্তের ফলাফলের দিকে নজর

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সাম্প্রতিক সংঘর্ষ এবং এমব্লেম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনার তদন্ত। বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যেই তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। পুলিশের কাছেও অভিযোগ দায়ের হয়েছে। 

তদন্তে কী উঠে আসে, কোন পক্ষের অভিযোগ কতটা সত্যি এবং ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশের বিষয়ে কী তথ্য সামনে আসে—এসবই পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে।

## শেষ কথা

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ছাত্র সংঘর্ষ ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং ABVP-র মধ্যে সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা এবং বহিরাগতদের উপস্থিতির অভিযোগ তুলেছে। সংঘর্ষে একাধিক পড়ুয়া আহত হওয়ার খবরও সামনে এসেছে। 

এর মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক এমব্লেম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তোলে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছে এবং ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফলে সংঘর্ষের পাশাপাশি ঐতিহাসিক প্রতীক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টিও এখন তদন্তের আওতায়। 

এই পরিস্থিতিতে শনিবার ভবানীপুরের অনুষ্ঠানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, যাদবপুরের ভিতরে ও বাইরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করা হবে। ‘বন্দে মাতরম’, জাতীয় পতাকা, দেশপ্রেম এবং রাষ্ট্রবাদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, এই বিষয়গুলিতে কোনও আপস করা হবে না। একইসঙ্গে ‘আজাদি’ স্লোগান নিয়েও তিনি তীব্র আপত্তি জানান। 

শুভেন্দু আরও জানান, বিজেপির সাংগঠনিক জেলার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাখির দিনে যাদবপুরে ১০ লক্ষ কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণার ফলে যাদবপুরকে ঘিরে রাজনৈতিক কর্মসূচির পরিধি আরও বাড়তে পারে। 

তবে এই পুরো ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তা যেন সংঘর্ষ, ভাঙচুর বা হিংসার রূপ না নেয়—সেটিই এখন বড় প্রত্যাশা। যাদবপুরের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা, গবেষণা এবং মতপ্রকাশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

আগামী দিনে তদন্তের ফলাফল, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক দলগুলির কর্মসূচির উপরই নির্ভর করবে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়। তবে শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই এখন আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

বর্ধমানের শিক্ষকের অভিনব উদ্যোগে জাতীয় পুরস্কার, বদলাল স্কুল

বর্ধমানের এক শিক্ষকের অভিনব উদ্যোগ এবং নিরলস পরিশ্রম এবার জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি পেল। স্কুলকে শুধুমাত্র পঠনপাঠনের জায়গা হিসেবে না দেখে কীভাবে সেটিকে ছাত্রছাত্রীদের শেখার একটি জীবন্ত পরিসরে পরিণত করা যায়, তারই উদাহরণ তৈরি করেছেন বর্ধমানের শিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত।...

অন্নপূর্ণার টাকা নিয়ে বড় আশ্বাস রচনার, মহিলাদের পাশে সাংসদ

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে যখন উপভোক্তাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন এবং অপেক্ষা তৈরি হয়েছে, তখন মহিলাদের পাশে থাকার বার্তা দিলেন সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আশ্বাস, যাঁদের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে এবং যাঁদের নাম তালিকাভুক্ত রয়েছে, তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা অবশ্যই পাবেন।...

রোনাল্ডোর দেশ পর্তুগাল ক্রিকেটে বিশ্বকাপের পথে

ফুটবল বিশ্বে পর্তুগাল মানেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। কিন্তু এবার সেই দেশের নাম উঠে এল সম্পূর্ণ অন্য একটি খেলাকে কেন্দ্র করে। ক্রিকেটের ময়দানে বড় সাফল্য পেল পর্তুগাল। স্পেনকে হারিয়ে পুরুষদের **T20 World Cup qualifier**-এ জায়গা করে নিয়েছে রোনাল্ডোর দেশ। ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.