Friday, November 6, 2026

Creating liberating content

यूईएम जयपुर ने मानवता...

जयपुर में आयोजित मानवता के लिए दौड़ के दसवें संस्करण में यूनिवर्सिटी ऑफ...

अक्टूबर 2026 में पड़ेंगी...

सनातन हिंदू धर्म में एकादशी तिथि का विशेष धार्मिक महत्व माना जाता है।...

इंफोसिस और विप्रो में...

देश की प्रमुख सूचना प्रौद्योगिकी सेवा कंपनियों में शामिल इंफोसिस और विप्रो के...

स्वर्ग में कर्ण को...

महाभारत के महान योद्धाओं में कर्ण का नाम केवल उनकी वीरता और संघर्ष...
Homeবাংলারোমের হোটেল বিতর্কে...

রোমের হোটেল বিতর্কে মুখ খুললেন জেমস, জানালেন আসল কথা

ইতালির রোমে কনসার্টকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক নিয়ে অবশেষে সরাসরি মুখ খুললেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও নগরবাউল ব্যান্ডের প্রধান ভোকালিস্ট জেমস। রোমে অনুষ্ঠান শেষে তাঁর সফরসঙ্গীদের থাকার একটি হোটেল কক্ষ অপরিষ্কার অবস্থায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ ঘিরে গত কয়েক দিন ধরেই সামাজিক মাধ্যমে নানা আলোচনা চলছিল। এর পাশাপাশি কনসার্টের অর্থ এবং আয়োজকদের সঙ্গে আর্থিক হিসাব সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগও সামনে আসে। এবার ভেনিসে এক সংবাদ সম্মেলনে সেই বিতর্কের জবাব দিয়েছেন জেমস নিজেই। তাঁর বক্তব্য, যে ঘরটি নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে, সেটি তাঁর ছিল না। বিষয়টিকে বড় করে দেখারও প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। 

জেমস বর্তমানে ইউরোপ সফরে রয়েছেন। আগামী ২৩ আগস্ট ভেনিসে তাঁর কনসার্ট হওয়ার কথা। সেই অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে ২০ আগস্ট ভেনিসের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানেই সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে রোমের হোটেল বিতর্ক প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন শিল্পী। 

## রোমের কনসার্টের পর কী ঘটেছিল?

গত ১৬ আগস্ট রোমে কনসার্ট করেন জেমস ও তাঁর দল। অনুষ্ঠান উপলক্ষে তাঁরা স্থানীয় একটি Best Western হোটেলের অ্যাপার্টমেন্টে ছিলেন। কনসার্ট শেষ হওয়ার পর ওই হোটেলের একটি কক্ষের বেশ কিছু ছবি এবং হোটেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় আয়োজকের মধ্যে কথোপকথনের স্ক্রিনশট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ছবিতে ঘরের মেঝেতে ব্যবহৃত পানির বোতল, বিভিন্ন আবর্জনা, টেবিলে ব্যবহৃত প্লেট ও খাবারের উচ্ছিষ্ট এবং রান্নাঘরের সিঙ্কে অপরিষ্কার বাসন দেখা যায়। এমনকি ভাঙা কাঁচা ডিমও পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

হোটেল কর্তৃপক্ষের তরফে ঘর পরিষ্কার করার জন্য অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়েছিল বলেও জানা যায়। সেই অঙ্ক ছিল অন্তত ২০০ ইউরো। পাশাপাশি বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করলে ভবিষ্যতে ওই হোটেলে ফের বুকিংয়ের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছিল। 

এই ছবি এবং অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। একই সঙ্গে জেমস ও তাঁর টিমের আচরণ নিয়েও নানা মন্তব্য দেখা যায়।

## যে ঘরটি নিয়ে অভিযোগ, সেখানে ছিলেন না জেমস

বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা এখানেই। জেমসের মুখপাত্র রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন প্রথমেই দাবি করেছিলেন, যে ঘরটি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, সেটি জেমসের ঘর নয়। ভেনিসের সংবাদ সম্মেলনে জেমসও সেই বক্তব্যই পুনরায় জানিয়েছেন। 

তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, জেমসের দলের জন্য মোট চারটি কক্ষ নেওয়া হয়েছিল। জেমস ছিলেন ৩৪৫ নম্বর কক্ষে এবং তাঁর মুখপাত্র রবিন ছিলেন ২৪৬ নম্বর কক্ষে। যে ৫৪৯ নম্বর কক্ষটির ছবি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেখানে দলের অন্য এক তরুণ গিটারিস্ট ছিলেন। 

ফলে জেমসের বক্তব্য, অন্য একজনের ঘরের অবস্থা নিয়ে তাঁকে সরাসরি দায়ী করা ঠিক নয়।

## ‘এটা কোনও বড় বিষয় নয়’, বললেন জেমস

ভেনিসের সংবাদ সম্মেলনে জেমস বিতর্কের বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাননি। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, হোটেলের ঘর পরিষ্কার রাখা বা পরিষ্কার না রাখার ঘটনা এমন কিছু নয়, যাকে বিশাল বিতর্কে পরিণত করা উচিত।

তিনি জানান, হোটেলের নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত ঘর পরিষ্কার করার ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু কোনও অতিথি যদি ঘর পরিষ্কার না করান, তাহলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাঁর মতে, এই ধরনের ঘটনা হোটেলে অস্বাভাবিক কিছু নয়। 

জেমস আরও বলেন, যদি হোটেল কর্তৃপক্ষ সত্যিই ২০০ ইউরো অতিরিক্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার খরচ দাবি করে থাকে, তাহলে সেটিও হোটেলের নিয়ম অনুযায়ী একটি সাধারণ বিষয় হতে পারে। বিভিন্ন দেশে হোটেলের নিয়ম আলাদা এবং নিয়ম ভাঙলে জরিমানার ব্যবস্থাও থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

## কেন এত বড় বিতর্ক তৈরি হল?

জেমসের বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি যতটা বড় করে দেখানো হচ্ছে, বাস্তবে তা ততটা গুরুতর নয়। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে ঘরের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি দ্রুত অন্য মাত্রা নেয়।

বর্তমান সময়ে কোনও ব্যক্তিকে ঘিরে একটি ছবি বা স্ক্রিনশট কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। ছবির সঙ্গে যুক্ত অভিযোগও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট জানার আগেই অনেকেই নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে শুরু করেন।

জেমসও সেই দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মানুষ নিজেদের মতো করে লিখতে এবং মন্তব্য করতে স্বাধীন। তবে সেই কারণে বিষয়টিকে বড় করে দেখার প্রয়োজন নেই। 

## হোটেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ কী ছিল?

প্রকাশ্যে আসা তথ্য অনুযায়ী, হোটেল কর্তৃপক্ষ ঘরটির অবস্থায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। মেঝেতে আবর্জনা এবং ব্যবহৃত বোতল পড়ে থাকা, টেবিলে ব্যবহৃত প্লেট ও খাবারের অবশিষ্টাংশ এবং রান্নাঘরে নোংরা বাসন থাকার ছবি পাঠানো হয়েছিল। 

হোটেলের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করার জন্য অতিরিক্ত ২০০ ইউরো পর্যন্ত খরচের কথা বলা হয়েছিল। এই ঘটনাই প্রথমে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

তবে হোটেলের অভিযোগে যে ঘরের কথা বলা হয়েছিল, সেখানে জেমস ছিলেন না—এই বক্তব্যই এখন তাঁর পক্ষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি।

## হোটেল ছাড়ার অভিযোগও অস্বীকার

শুধু ঘর অপরিষ্কার রাখার অভিযোগ নয়, জেমস ও তাঁর সফরসঙ্গীরা হোটেলের নিয়ম না মেনে কিংবা রিসেপশনকে না জানিয়ে হোটেল ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন—এমন অভিযোগও সামনে এসেছিল।

জেমসের মুখপাত্র রবিন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এতজন মানুষ এবং বাদ্যযন্ত্র নিয়ে কাউকে না জানিয়ে পালিয়ে যাওয়া বাস্তবসম্মত নয়। তিনি দাবি করেন, তাঁরা সবার সামনে দিয়েই হোটেল থেকে বেরিয়েছেন এবং পরবর্তীতে ভেনিসে গিয়েছেন। 

জেমসের পক্ষ থেকে এই ব্যাখ্যার পর হোটেল ছাড়ার ঘটনাটি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

## কনসার্টের টাকা নিয়েও বিতর্ক

রোমের হোটেল বিতর্কের পাশাপাশি কনসার্টের অর্থ নিয়ে আরও একটি আলাদা অভিযোগ সামনে এসেছে। ইতালির স্থানীয় আয়োজক হোসাইন আহমেদ জেমসের মুখপাত্র রবিনের বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, কনসার্টের অগ্রিম অর্থ এবং টিকিট বিক্রির অর্থের হিসাব নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। 

আয়োজকের অভিযোগ, অর্থের যথাযথ হিসাব তাঁকে দেওয়া হয়নি। এমনকি বিপুল পরিমাণ অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগও সামনে এসেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে কোনও প্রমাণিত সিদ্ধান্ত বা আদালতের রায় সামনে আসেনি। তাই এগুলিকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা উচিত। 

## জেমসের পক্ষ থেকে কী বলা হয়েছে?

জেমসের মুখপাত্র রবিন জানিয়েছেন, কনসার্ট আয়োজনের আগে দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তির কোনও শর্ত ভঙ্গ করা হয়ে থাকলে আয়োজক চাইলে আইনি পথে যেতে পারেন বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন | 

রবিনের বক্তব্য অনুযায়ী, জেমস এবং তাঁর দল ইতালি ছেড়ে পালিয়ে যায়নি। তাঁরা ভেনিসেই ছিলেন এবং পরবর্তী অনুষ্ঠান নিয়েও প্রস্তুতি চলছিল।

অর্থাৎ তাঁর দাবি, যদি সত্যিই চুক্তি ভঙ্গ বা আর্থিক অনিয়মের মতো ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

## একই সঙ্গে একাধিক অভিযোগ

এই ঘটনায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, একই সময়ে জেমসের দলকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে।

একদিকে হোটেলের ঘর অপরিষ্কার রাখার অভিযোগ, অন্যদিকে হোটেলের নিয়ম না মেনে চলে যাওয়ার অভিযোগ। আবার পৃথকভাবে কনসার্টের অর্থ নিয়ে আয়োজকের অভিযোগও সামনে এসেছে।

ফলে বিষয়টি শুধুমাত্র একটি হোটেল রুমের বিতর্কে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং রোমের কনসার্টের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

তবে জেমসের পক্ষ থেকে সরাসরি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি অস্বীকার করা হয়েছে এবং তাঁর মুখপাত্রও বেশ কয়েকটি অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

## জেমসের ইউরোপ সফর

এই বিতর্কের মধ্যেই জেমস তাঁর দীর্ঘ ইউরোপ সফরে রয়েছেন। সফরটি প্রায় দুই মাসের এবং ইউরোপের একাধিক শহরে তাঁর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। সফরের সূচি অনুযায়ী লন্ডন, পর্তুগাল, সাইপ্রাস, রোম, ভেনিস এবং সুইডেনে তাঁর কনসার্ট রয়েছে। 

রোমের অনুষ্ঠান হয়ে যাওয়ার পর এবার তাঁর পরবর্তী বড় অনুষ্ঠান ভেনিসে। ২৩ আগস্ট সেখানে কনসার্ট হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে রোমের বিতর্কের পর ভেনিসের অনুষ্ঠানকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে।

## ভেনিসের মঞ্চে এবার বাড়তি নজর

রোমের বিতর্কের পর স্বাভাবিকভাবেই ভেনিসের কনসার্টে জেমসের উপস্থিতি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তিনি নিজে প্রকাশ্যে বিষয়টির ব্যাখ্যা দেওয়ার পর তাঁর বক্তব্যও আলোচনার কেন্দ্র হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রক সংগীতের অন্যতম পরিচিত মুখ জেমস। দেশের পাশাপাশি প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যেও তাঁর জনপ্রিয়তা ব্যাপক। তাই ইউরোপ সফরের প্রতিটি অনুষ্ঠান নিয়েই ভক্তদের আগ্রহ থাকে। 

রোমের বিতর্কের পরও সেই আগ্রহ কমেনি। বরং নতুন করে আরও বেশি মানুষ ভেনিসের অনুষ্ঠানটির দিকে নজর রাখছেন।

## জেমস কেন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে চাইছেন না?

জেমসের বক্তব্যে স্পষ্ট যে তিনি এই ঘটনাকে তাঁর সফরের মূল বিষয় হিসেবে দেখতে চাইছেন না। তাঁর কাছে একটি হোটেল রুমের পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত অভিযোগ একটি সাধারণ ব্যবস্থাপনার বিষয়।

তিনি মনে করছেন, হোটেলে কোনও অতিথির ঘর অপরিষ্কার থাকলে সেটি পরিষ্কার করার জন্য অতিরিক্ত টাকা নেওয়া যেতে পারে। বিভিন্ন দেশে এই ধরনের নিয়ম রয়েছে। ফলে বিষয়টিকে কেন্দ্র করে শিল্পীর ভাবমূর্তি নিয়ে বড় বিতর্ক তৈরি করা উচিত নয় বলে তাঁর বক্তব্য। 

অন্যদিকে সামাজিক মাধ্যমে ঘটনাটি যেভাবে ছড়িয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে অবশ্য ভিন্ন প্রতিক্রিয়াও দেখা গিয়েছে।

## শিল্পীর ঘর নয়, অন্য সদস্যের ঘর

জেমসের পক্ষে সবচেয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যাটি হল—যে ঘরের ছবি ছড়িয়েছে, সেটি তাঁর থাকার ঘর ছিল না।

এই তথ্যটি তাঁর মুখপাত্র প্রথমে জানিয়েছিলেন এবং পরে জেমস নিজেও সংবাদ সম্মেলনে তা নিশ্চিত করেন। ৩৪৫ নম্বর কক্ষে জেমস এবং ২৪৬ নম্বর কক্ষে রবিন ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। ৫৪৯ নম্বর কক্ষটি ছিল দলের অন্য এক মিউজিশিয়ানের। 

তাই ওই ঘরের অবস্থা নিয়ে জেমসকে সরাসরি দায়ী করা উচিত নয়—এটাই তাঁর পক্ষের বক্তব্য।

## সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক

ঘটনাটির ছবি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ হোটেলের পক্ষ নিয়েছেন, কেউ আবার জেমসের দলের বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন।

তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের সবটাই যে যাচাই করা, তা নয়। বিশেষ করে কোনও ব্যক্তিকে নিয়ে অভিযোগের ক্ষেত্রে ছবি বা স্ক্রিনশট থাকলেই অভিযোগ প্রমাণিত হয় না।

এই ঘটনায়ও হোটেলের বক্তব্য, আয়োজকের অভিযোগ এবং জেমসের পক্ষের বক্তব্য—তিনটি আলাদা দিক রয়েছে। তাই সম্পূর্ণ সত্য জানতে হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির আনুষ্ঠানিক তথ্য এবং প্রয়োজনে আইনি প্রক্রিয়ার ফলের দিকে তাকানো প্রয়োজন।

## অর্থনৈতিক অভিযোগের বিষয়ে সতর্কতা জরুরি

রোমের কনসার্ট নিয়ে যে আর্থিক অভিযোগগুলি সামনে এসেছে, সেগুলিও এই মুহূর্তে অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে। আয়োজক পক্ষ অর্থের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং জেমসের প্রতিনিধিরা সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। 

এই ধরনের আর্থিক অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাই নিরপেক্ষ তদন্ত বা প্রমাণ ছাড়া কোনও পক্ষকেই দোষী বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

জেমসের মুখপাত্রও জানিয়েছেন, চুক্তি অনুযায়ী কোনও সমস্যা থাকলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

## জেমসের বক্তব্যে আত্মবিশ্বাস

বিতর্কের মাঝেও জেমসের বক্তব্যে আত্মবিশ্বাসের ছাপ দেখা গিয়েছে। তিনি বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে যাঁরা লিখতে বা মন্তব্য করতে চান, তাঁরা তা করতে পারেন। তবে তাঁর মতে, ঘটনাটিকে অযথা বড় করে দেখানোর কোনও কারণ নেই। 

একজন জনপ্রিয় শিল্পী হিসেবে তাঁর প্রতিটি বক্তব্যই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ভেনিসের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তাঁর মন্তব্যও ইতিমধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

## ইউরোপ সফরের বাকি অনুষ্ঠান

রোমের কনসার্ট ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে। এরপর ভেনিসে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। সফরের শেষ পর্যায়ে সুইডেনেও জেমসের কনসার্ট রয়েছে। 

অর্থাৎ বিতর্কের মধ্যেও সফর থেমে যাচ্ছে না। জেমসের মূল লক্ষ্য এখন পরবর্তী অনুষ্ঠানগুলিতে পারফর্ম করা এবং প্রবাসী বাঙালি দর্শকদের সামনে গান পরিবেশন করা।

## ভক্তদের আগ্রহ

জেমসের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ তাঁর দীর্ঘ সংগীতজীবন এবং মঞ্চে শক্তিশালী উপস্থিতি। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি এবং বাংলা ভাষাভাষী দর্শকদের মধ্যে তাঁর গান নিয়ে আলাদা আবেগ রয়েছে।

তাই রোমের বিতর্কের পরও ভেনিসের অনুষ্ঠানের জন্য ভক্তদের আগ্রহ কমেনি। বরং জেমস নিজে বিষয়টি নিয়ে কথা বলায় আগামী কনসার্টের প্রতি নজর আরও বেড়েছে।

## শেষ কথা

রোমের কনসার্টের পর জেমস ও তাঁর টিমকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে এবার সরাসরি নিজের অবস্থান জানালেন শিল্পী। ভেনিসের সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যে হোটেল রুমের ছবি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটি তাঁর থাকার ঘর ছিল না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই ঘরে দলের অন্য এক তরুণ গিটারিস্ট ছিলেন।

হোটেল কর্তৃপক্ষ ওই ঘর পরিষ্কারের জন্য অন্তত ২০০ ইউরো অতিরিক্ত খরচের কথা জানিয়েছিল। পাশাপাশি হোটেল ছাড়ার নিয়ম নিয়েও অভিযোগ উঠেছিল। জেমসের মুখপাত্র অবশ্য এই অভিযোগগুলির একাধিক দিক অস্বীকার করেছেন।

এর পাশাপাশি রোমের কনসার্টের অগ্রিম অর্থ এবং টিকিট বিক্রির টাকা নিয়ে স্থানীয় আয়োজকের পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। জেমসের প্রতিনিধিরা সেই অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং চুক্তি ভঙ্গ হয়ে থাকলে আইনি পথে যাওয়ার কথা বলেছেন। 

এই মুহূর্তে তাই ঘটনাটির দুই পক্ষের বক্তব্যই সামনে রয়েছে। হোটেলের অভিযোগ এবং আয়োজকের আর্থিক দাবিগুলি নিয়ে চূড়ান্ত কোনও আইনি সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগকে সত্য হিসেবে ধরে নেওয়ার বদলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্যের ভিত্তিতেই বিষয়টি দেখা উচিত।

সব বিতর্কের মধ্যেও জেমসের ইউরোপ সফর অব্যাহত রয়েছে। আগামী ২৩ আগস্ট ভেনিসে তাঁর কনসার্ট হওয়ার কথা। রোমের বিতর্কের পর এবার ভেনিসের মঞ্চে তাঁর পারফরম্যান্সের দিকেই নজর থাকবে তাঁর অসংখ্য অনুরাগীর। 

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

ঔরঙ্গজেবের আমলের ৩৩৪ বছরের বনেদি পুজোর অমলিন ঐতিহ্য

পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুজোর ইতিহাসে বনেদি পুজোর আলাদা মর্যাদা রয়েছে। সেই ঐতিহ্যের অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায় পূর্ব বর্ধমানের পানাগড়ের সোঁয়াই গ্রামের মুখোপাধ্যায় পরিবারের দুর্গাপুজো। এ বছর এই পুজো ৩৩৪ বছরে পা দিয়েছে। শুধু প্রাচীনত্ব নয়, এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে স্বপ্নাদেশ, বর্ধমানের...

বাংলায় পথচলা শুরু বিজয় থলপতির টিভিকের নতুন অধ্যায়

তামিলনাড়ুতে রাজনৈতিক সাফল্যের পর এবার পশ্চিমবঙ্গে সাংগঠনিক বিস্তার শুরু করল বিজয় থলপতি-র দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম (TVK)। পূর্ব বর্ধমান জেলার ফাগুপুরে দলের প্রথম কার্যালয় খোলার মাধ্যমে বাংলায় আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু হয়েছে। এই পদক্ষেপের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে...

সন্ত্রাসে শীর্ষে পাকিস্তান, হাক্কানির বিস্ফোরক আত্মসমালোচনা ভাইরাল

সন্ত্রাসবাদে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় পাকিস্তানের শীর্ষে উঠে আসার দাবি ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস (IEP)-এর প্রকাশিত Global Terrorism Index 2026-এর তথ্য সামনে আসার পর পাকিস্তানের প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত হুসেন হাক্কানি ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.