ভোটের কয়েক মাসের মধ্যেই বড় রাজনৈতিক বদল ঘটল আরাবুল ইসলামের ক্ষেত্রে। ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট বা ISF ছাড়ার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করলেন ভাঙড়ের প্রাক্তন বিধায়ক। দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একনায়কতন্ত্র এবং স্বৈরাচারী আচরণের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে ভাঙড়ে ISF-সমর্থিত কিছু দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার এবং অনাচারের অভিযোগও করেছেন আরাবুল। তাঁর এই ঘোষণার পরেই বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ISF-এ যোগ দিয়েছিলেন আরাবুল ইসলাম। ফুরফুরা শরিফে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নওশাদ সিদ্দিকীর দলের পতাকা হাতে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। পরে তাঁকে ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থীও করেছিল ISF। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল তাঁর পক্ষে যায়নি। ভোটের পর থেকেই দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছিল। এবার সরাসরি দলত্যাগের ঘোষণা সেই জল্পনাকেই কার্যত সত্যি করে দিল।
## ফেসবুক পোস্টে কী লিখলেন আরাবুল?
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া পোস্টে আরাবুল ইসলাম ISF নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, দলের মধ্যে স্বৈরাচারী এবং একনায়কতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সেই ব্যবস্থার বিরোধিতা করেই তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
আরাবুলের অভিযোগের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ভাঙড়ের পরিস্থিতি। তাঁর দাবি, ISF-এর সঙ্গে যুক্ত কিছু দুষ্কৃতীর হাতে এলাকার সাধারণ মানুষ অত্যাচার এবং অনাচারের শিকার হচ্ছেন। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানাতেই তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন।
তাঁর এই বক্তব্য স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ মাত্র কয়েক মাস আগেই তিনি ISF-কে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের নতুন মঞ্চ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।
## মাত্র পাঁচ মাসেই বদলে গেল সমীকরণ
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আরাবুলের দলবদল ছিল বাংলার রাজনীতিতে অন্যতম আলোচিত ঘটনা। দীর্ঘদিন তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর তিনি দল ছাড়েন। এরপর নওশাদ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন ISF-এ যোগ দেন।
ফুরফুরা শরিফে গিয়ে ISF-এর পতাকা হাতে নেওয়ার সময় তিনি নতুন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব মেনে চলার বার্তাও দিয়েছিলেন। নওশাদ সিদ্দিকীও সেই সময় জানিয়েছিলেন, আরাবুলকে মূলস্রোতে ফেরার জন্য একটি রাজনৈতিক মঞ্চ দেওয়া হচ্ছে।
কিন্তু নির্বাচনের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। আরাবুল ক্যানিং পূর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয় পাননি। এরপর ISF-এর সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়।
মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সেই সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
## আগে তৃণমূল, তারপর ISF—এবার কোথায়?
আরাবুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। বিশেষ করে ভাঙড়ের রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘদিনের প্রভাব রয়েছে। ২০০৬ সালে তিনি ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন।
পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নানা সময়ে ওঠানামা করেছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে শেষ পর্যন্ত তিনি দল ছেড়ে ISF-এ যোগ দেন।
এখন ISF ছাড়ার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—তাহলে কি তিনি আবার তৃণমূলে ফিরবেন?
এই মুহূর্তে অবশ্য আরাবুল ইসলামের পক্ষ থেকে তৃণমূলে ফেরার বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে এই সম্ভাবনাকে আপাতত রাজনৈতিক জল্পনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
## তৃণমূলে ফেরার জল্পনা কেন?
আরাবুলের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তবে সেই সম্পর্ক বরাবর মসৃণ ছিল না। দলীয় রাজনীতিতে তাঁর সঙ্গে একাধিকবার বিরোধ তৈরি হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময়ও দলীয় টিকিট না পাওয়ার পর তাঁর একটি ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তখন তিনি লিখেছিলেন যে দলের কাছে তাঁর প্রয়োজন ফুরিয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন।
২০২৬ সালে তৃণমূল ছাড়ার সময়ও তাঁর ক্ষোভের কেন্দ্রে ছিল দলীয় সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক গুরুত্বের প্রশ্ন। এরপর ISF-এ যোগ দিয়েছিলেন তিনি।
এখন ISF-এর বিরুদ্ধেও যখন প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, তখন তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
## ISF-এর পক্ষ থেকে এখনও কী প্রতিক্রিয়া?
আরাবুল ইসলাম প্রকাশ্যে দল ছাড়ার কথা জানালেও এই ঘটনায় ISF নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনও কোনও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে আরাবুলের অভিযোগের জবাবে দলের বক্তব্য কী, তা এখন দেখার বিষয়। তাঁর অভিযোগগুলি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় ISF নেতৃত্ব ভবিষ্যতে কোনও ব্যাখ্যা দেয় কি না, সেদিকেও নজর থাকবে।
বিশেষ করে ভাঙড়ে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচারের যে অভিযোগ তিনি তুলেছেন, সেই দাবির বিষয়ে দল কী অবস্থান নেয়, তা গুরুত্বপূর্ণ।
## ভাঙড়ের রাজনীতিতে এর প্রভাব কতটা?
ভাঙড় বহুদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এলাকা। তৃণমূল, ISF এবং বামেদের রাজনৈতিক উপস্থিতি সেখানে দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের সময়ও এই এলাকায় রাজনৈতিক সংঘাত এবং উত্তেজনার অভিযোগ সামনে এসেছে।
২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভাঙড়ে ISF এবং তৃণমূলের সংঘর্ষে উভয় পক্ষ মিলিয়ে সাতজনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছিল।
২০২৬ সালের নির্বাচনের সময়ও আরাবুলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনার বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি এখন ISF নেতৃত্বের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তোলায় ভাঙড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হতে পারে।
## বামেদের সঙ্গে আরাবুলের পুরনো বিরোধ
আরাবুল ইসলামের রাজনৈতিক অতীতে বামেদের সঙ্গে বিরোধও যথেষ্ট পুরনো। ২০১৩ সালে ভাঙড়ের কাঁটাতলায় তৎকালীন CPI(M) বিধায়ক রেজ্জাক মোল্লার উপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল আরাবুলের নেতৃত্বকে ঘিরে। সেই ঘটনার পর তাঁকে জেলেও যেতে হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
ফলে ২০২৬ সালের নির্বাচনের সময় তাঁকে ISF প্রার্থী করায় CPI(M)-এর নিচুতলার একাংশের মধ্যে আপত্তিও তৈরি হয়েছিল। তাঁদের বক্তব্য ছিল, দীর্ঘদিন যাঁর সঙ্গে বামেদের রাজনৈতিক সংঘাত রয়েছে, তাঁকে কীভাবে সমর্থন করা হবে, তা নিয়ে সমস্যা রয়েছে।
এই পুরনো রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেই এবার ISF-এর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে।
## নির্বাচনের সময় ISF-এর হয়ে সরব ছিলেন
২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে আরাবুল ISF-এর হয়ে ক্যানিং পূর্ব থেকে লড়াই করেছিলেন। প্রচারের সময় তিনি তৃণমূল এবং স্থানীয় নেতা শওকত মোল্লাকে নিশানা করে একাধিক বক্তব্য রেখেছিলেন।
এক পর্যায়ে ক্যানিং পূর্বে ISF-এর এজেন্ট বসতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ নিয়েও তিনি সরব হন এবং বুথে পৌঁছে যান।
এর আগে নির্বাচনী প্রচারে তিনি পুলিশ এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তুলেছিলেন। অর্থাৎ নির্বাচনের আগে ISF-এর প্রার্থী হিসেবে তিনি দলীয় অবস্থানেই সক্রিয় ছিলেন।
সেই ব্যক্তিই এখন দলের বিরুদ্ধে একনায়কতন্ত্রের অভিযোগ তুলে সরে দাঁড়ানোয় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, ঠিক কোন পরিস্থিতিতে তাঁর সঙ্গে দলের দূরত্ব এতটা বেড়ে গেল?
## নির্বাচনের ফলও গুরুত্বপূর্ণ
ISF-এর হয়ে ক্যানিং পূর্বে লড়াই করেছিলেন আরাবুল। কিন্তু নির্বাচনে তিনি জয়ী হতে পারেননি। এর পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়।
নির্বাচনের আগে ISF তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ একটি আসনে প্রার্থী করেছিল। দলের সঙ্গে তাঁর যোগদানও তখন যথেষ্ট আলোচিত হয়েছিল। কিন্তু ভোটের ফলের পর সেই রাজনৈতিক সমীকরণ আর একই জায়গায় থাকেনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর দলের অভ্যন্তরীণ সম্পর্কেও পরিবর্তন আসতে পারে। তবে আরাবুলের দলত্যাগের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তাঁর নিজের বক্তব্যই এখন পর্যন্ত প্রধান সূত্র।
## আরাবুলের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ কী?
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আরাবুল ইসলাম এরপর কী করবেন?
তাঁর সামনে একাধিক রাজনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি স্বাধীনভাবে রাজনীতি করতে পারেন, অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা পুরনো দল তৃণমূলে ফেরার চেষ্টা করতে পারেন।
তবে কোনও সম্ভাবনাই এখনও নিশ্চিত নয়।
বিশেষ করে তৃণমূলে তাঁর প্রত্যাবর্তনের জল্পনা জোরালো হলেও দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এমন কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। আরাবুলও প্রকাশ্যে এখনও বলেননি যে তিনি তৃণমূলে ফিরছেন। ফলে এই মুহূর্তে তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।
## ISF-এর জন্যও বড় ধাক্কা?
নির্বাচনের আগে একজন পরিচিত তৃণমূল নেতা ISF-এ যোগ দেওয়াকে দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হয়েছিল। আরাবুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং ভাঙড়ে তাঁর পরিচিতির কারণে তাঁর যোগদান যথেষ্ট আলোড়ন তৈরি করেছিল।
এখন সেই নেতাই দল ছাড়ায় ISF-এর জন্য এটি রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে একনায়কতন্ত্রের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। যদিও অভিযোগের বিষয়ে ISF-এর বিস্তারিত বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি।
## নওশাদ সিদ্দিকীর সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্ন
আরাবুলের ISF-এ যোগদানের সময় নওশাদ সিদ্দিকীর সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। নওশাদ তাঁকে দলে জায়গা দিয়েছিলেন এবং নির্বাচনে প্রার্থীও করেছিলেন।
কিন্তু এখন আরাবুল দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী আচরণের অভিযোগ তোলায় স্বাভাবিকভাবেই নওশাদ এবং ISF নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
আরাবুলের অভিযোগের মধ্যে সরাসরি দলীয় নেতৃত্বের সমালোচনা থাকায় ভবিষ্যতে দুই পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্য রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয় কি না, সেটিও নজরে থাকবে।
## আগের বিরোধও কি কারণ?
আরাবুলের ISF ছাড়ার সিদ্ধান্তের আগে দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। জুলাই মাসেই তাঁর বিরুদ্ধে ISF-এর পক্ষ থেকে অনাস্থা আনার উদ্যোগের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চে তৃণমূল ছেড়ে ISF-এ যোগ দেওয়ার মাত্র চার মাসের মধ্যেই সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
এই ঘটনাপ্রবাহ থেকে বোঝা যায়, বর্তমান দলত্যাগের আগে থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল।
তবে সেই অনাস্থা প্রক্রিয়া এবং আজকের পদত্যাগের মধ্যে সরাসরি কী সম্পর্ক রয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না যতক্ষণ না সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়।
## নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সম্ভাবনা
আরাবুলের দলত্যাগ দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে ভাঙড় এবং ক্যানিং পূর্ব—দুই এলাকাতেই তাঁর রাজনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে।
তিনি যদি নতুন কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু তাঁর নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের উপর নয়, স্থানীয় দলগুলির কৌশলের উপরও পড়তে পারে।
তবে বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, তিনি কোনও নতুন দলে যোগদানের ঘোষণা করেননি। তাই আপাতত তাঁর ISF ছাড়ার সিদ্ধান্তকেই কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আলোচনা চলছে।
## সাধারণ মানুষের অভিযোগের প্রসঙ্গ
আরাবুলের ফেসবুক পোস্টের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ হল সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচারের অভিযোগ। তিনি দাবি করেছেন, ISF-সমর্থিত কিছু দুষ্কৃতীর হাতে ভাঙড়ের মানুষ অত্যাচার-অনাচারের শিকার হচ্ছেন।
এই অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তবে অভিযোগটি আরাবুল ইসলামের বক্তব্য হিসেবে দেখা উচিত; এর সত্যতা নির্ধারণের জন্য স্বাধীন তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন।
রাজনীতিতে দলবদলের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসা নতুন ঘটনা নয়। কিন্তু কোনও দলের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ উঠলে প্রশাসনিকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।
## সামনে কী হতে পারে?
আরাবুল ইসলামের পদত্যাগের পর এখন তিনটি বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রথমত, ISF নেতৃত্ব তাঁর অভিযোগের জবাবে কী বলে।
দ্বিতীয়ত, আরাবুল ইসলাম কি নতুন কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
তৃতীয়ত, তিনি কি আবার তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এই তিন প্রশ্নের উত্তর মিললেই তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট হবে।
এদিকে, আরাবুলের মতো পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের দলত্যাগকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে যে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে, তা আগামী দিনগুলিতে আরও তীব্র হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে ISF-এ যোগ দেওয়া আরাবুল ইসলাম কয়েক মাসের মধ্যেই সেই দলও ছেড়ে দিলেন। ফেসবুক পোস্টে ISF নেতৃত্বের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী এবং একনায়কতান্ত্রিক আচরণের অভিযোগের পাশাপাশি ভাঙড়ে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
তাঁর এই পদত্যাগ শুধু একটি দলবদলের ঘটনা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভাঙড়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংঘাত, তৃণমূল-ISF সমীকরণ এবং আরাবুলের নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। নির্বাচনের আগে যে নেতা ISF-এর হয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন, তিনিই এখন দলটির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সরব। ফলে তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে গোটা বাংলার রাজনৈতিক মহলের।


