ভারতীয় ক্রিকেট দলের নতুন টি-২০ অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন শ্রেয়স আইয়ার। ব্যাট হাতে একাধিক নজরকাড়া ইনিংস খেললেও অধিনায়ক হিসেবে শুরুটা মোটেও সুখকর হয়নি। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলতি টি-২০ সিরিজে টানা ব্যর্থতার জেরে এবার বিরাট কোহলির একটি অস্বস্তিকর রেকর্ড ভেঙে ফেললেন শ্রেয়স আইয়ার। ভারতীয় ক্রিকেটে এই পরিসংখ্যান নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় টি-২০ ম্যাচে ভারতকে ১২৫ রানের বড় ব্যবধানে হারতে হয়। ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড ২০২ রানের বড় স্কোর তোলে। জবাবে ভারতের ব্যাটিং সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে এবং মাত্র ৭৬ রানে অলআউট হয়ে যায়। টি-২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রানের ব্যবধানে এটি ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হার। এই ফলের পর শ্রেয়স আইয়ারের অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এই পরাজয়ের ফলে অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম চারটি টি-২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচেই জয়ের মুখ দেখতে পারেননি শ্রেয়স আইয়ার। এর আগে ভারতীয় অধিনায়কদের মধ্যে বিরাট কোহলির শুরুটিও প্রত্যাশামতো ছিল না। তবে শ্রেয়সের টানা ব্যর্থতা সেই রেকর্ডকেও ছাপিয়ে গিয়েছে বলে ক্রিকেট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন অধিনায়ক হিসেবে এমন সূচনা নিঃসন্দেহে তাঁর জন্য অস্বস্তিকর।
তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিক থেকে শ্রেয়স আইয়ার একেবারেই ব্যর্থ নন। সিরিজের প্রথম ম্যাচেই তিনি অধিনায়ক হিসেবে ইংল্যান্ডের মাটিতে টি-২০ আন্তর্জাতিকে অর্ধশতরান করা প্রথম ভারতীয় অধিনায়ক হন। তাঁর ৬৮ রানের ইনিংস বিরাট কোহলির একটি বিশেষ রেকর্ডও ভেঙে দেয়। অর্থাৎ ব্যাট হাতে ইতিহাস গড়লেও দলগত সাফল্যের অভাবে সেই কৃতিত্ব অনেকটাই ম্লান হয়ে গিয়েছে।
তৃতীয় টি-২০ ম্যাচের পর সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে শ্রেয়স আইয়ার নিজের হতাশা লুকিয়ে রাখেননি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দলের পারফরম্যান্স ছিল “অত্যন্ত খারাপ” এবং এই হারের কোনও অজুহাত হতে পারে না। তাঁর মতে, ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই ভারত প্রত্যাশার তুলনায় অনেক নিচে নেমে গিয়েছিল। অধিনায়ক হিসেবে তিনি দায়িত্বও স্বীকার করেন।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন অধিনায়কের ক্ষেত্রে শুরুতে এমন কঠিন সময় অস্বাভাবিক নয়। অতীতেও বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা কিংবা অন্য অনেক অধিনায়ক শুরুতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলেন। তবে বড় দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা এবং চাপ সামলানোর ক্ষমতাই শেষ পর্যন্ত একজন অধিনায়কের প্রকৃত পরিচয় তৈরি করে।
ভারতীয় দলের সামনে এখনও সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বাকি ম্যাচগুলোতে ভালো পারফরম্যান্স করলে শুধু সিরিজেই লড়াইয়ে ফেরা সম্ভব হবে না, শ্রেয়স আইয়ারও নিজের অধিনায়কত্ব নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাব দিতে পারবেন। ব্যাটিং বিভাগকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে এবং বোলারদেরও শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে প্রতিপক্ষকে।
ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকদের প্রত্যাশা, এই কঠিন সময় কাটিয়ে দল দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে। কারণ ইতিহাস বলছে, অনেক সফল অধিনায়কের ক্যারিয়ারও শুরু হয়েছিল ব্যর্থতা দিয়ে। তাই কয়েকটি ম্যাচের ফলাফল দিয়ে কোনও অধিনায়কের ভবিষ্যৎ বিচার করা ঠিক হবে না। তবে পরবর্তী ম্যাচগুলো যে শ্রেয়স আইয়ারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।


