নয়াদিল্লি: বিদেশনীতি নিয়ে সেমিনার। উপস্থিত তাবড় কর্তাব্যক্তি। অথচ সেখানেই মস্ত বড় ভুল। জম্মু ও কাশ্মীরের পাকিস্তানের অংশ বলে দেখানো হল মানচিত্রে। কোনও রকম দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছাড়াই সঙ্গে সঙ্গে সরব হন পূজা কুমারী ঝা। আর তাতেই খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন ২৯ বছর বয়সি তরুণী। ভারতীয় ফরেন সার্ভিস অফিসার পূজার শিক্ষাগত যোগ্যতা, পরিবার সম্পর্কে খুঁটিনাটি তথ্য উঠে এল। (IFS Officer Pooja Kumari Jha)
২০২২ ব্যাচের ইন্টিয়ান ফরেন সার্ভিস অফিসার পূজা। ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনে সেকেন্ড সেক্রেটারি (রাজনীতি এবং তথ্য) হিসেবে মোতায়েন তিনি। সম্প্রতি ঢাকায় আয়োজিত বিদেশনীত সেমিনারে যোগ দেন তিনি। সেখানে একটি মানচিত্র তুলে ধরা হয়, যেখানে জম্মু ও কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে দেখানো হয়। ওই ভুল মানচিত্র দেখে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করেন পূজা। জানিয়ে দেন, জম্মু এবং কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। (Who is Pooj Kumari Jha)
পূজা প্রতিবাদ জানাতে কার্যত থতমত খেয়ে যান বাংলাদেশের আধিকারিকরা। তাঁদের তরফে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন কূটনীতিক তারিক এ করিম। জানান, ‘প্রকৃত সীমান্ত তুলে ধরতে’ নয়, প্রতীকী অর্থেই মানচিত্রটি দেখানো হয়েছিল। গোটা ঘটনায় বাংলাদেশের ভূমিকা যেমন প্রশ্নের মুখে পড়েছে, তেমনই প্রশংসা কুড়িয়েছেন পূজা। সাধারণ পরিবার থেকে নিজেকে যে জায়গায় নিয়ে গিয়েছেন তিনি, তাতে তাঁকে কুর্নিশ জানিয়েছেন সকলে।
🇮🇳 Indian Diplomat Shuts Down Wrong Kashmir Map in Bangladesh
BIISS seminar in Dhaka,Bharat’s 2nd Secretary at the Indian High Commission in Dhaka, Pooja Jha raised an immediate objection calling the map factually incorrect & reaffirming J&K as an integral part of Bharat. pic.twitter.com/SEJMXcUveR
— शून्य 🚩 (@Dave_Gaur) July 10, 2026
সাধারণ পরিবারের মেয়ে পূজা দিল্লিতে বেড়ে ওঠেন। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা দমিয়ে রাখতে পারেনি তাঁর মেধাকে। ২০২১ সালে প্রথম বার UPSC দিয়েই দেশের মধ্যে ৮২তম স্থান অধিকার করেন পূজা। মাত্র ২৫ বছর বয়সে ওই সাফল্য পান তিনি। সেই সময় একটি সাক্ষাৎকারে পূজা বলেন, “আমি যে জায়গা থেকে উঠে এসেছি, সেখানে এমন সম্মানজনক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া অনেক বড় ব্যাপার।” তবে স্বপ্নপূরণে গোড়া থেকে বাবাকে পাশে পেয়েছিলেন বলে জানান পূজা। কী ভাবে বাবা তাঁকে উৎসাহ জোগাতেন, তাও জানান। বাবাকে উদ্ধৃত করে বলেন, “(বাবা বলতেন) যা ইচ্ছে হতে পারো তুমি, বলিউডে অভিনয় করতে পারো, জ্যোতির্বিজ্ঞানী হতে পারো, IAS অফিসার হতে পারো।”
ছয় ভাই-বোনের মধ্যে পূজা পঞ্চম। তিনি বলেন, “আমি পঞ্চম কন্যা। ছোট ভাই আছে আমার। ওর জন্মের মধ্যে দিয়ে পুত্রসন্তানের স্বপ্ন পূরণ হয় আমার পরিবারের। গুরুগ্রামে একটি বেসরকারি সংস্থার অফিসে ৪০ বছর ধরে সহায়কের কাজ করেন আমার বাবা। মা গৃহবধূ।” ছোট থেকে অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতার সাক্ষী হতে হয়েছে যেমন, তেমন সামাজের বেঁধে দেওয়া মাপকাঠিতে এঁটে উঠতে গিয়ে কী অভিজ্ঞতা হয়, তাও তুলে ধরেন তিনি।
বিশেষ করে নিজের পরিবারে, চারপাশে লিঙ্গবৈষম্যের প্রভাব কতটা ছিল, তাঁর নিজের কী অভিজ্ঞতা হয়, তা নিয়েও অকপট ছিলেন পূজা। তাঁর কথায়, “আমি যে সমাজে বেড়ে উঠেছি, পুত্রসন্তানের মূল্য অনেক। এত দৃঢ় ভাবে ওই ধারণা গেঁথে গিয়েছিল যে মনের পরিবর্তন ঘটাতে বহু বছর লড়াই করতে হয়েছে আমাকে।”
ওই সমাজে বেড়ে উঠতে গিয়েই মন শক্ত হয়ে যায় এবং নিজেকে শিক্ষিত করে, নিজের পৃথক পরিচয় গড়ে তোলার জেদ বাড়ে বলে জানান পূজা। তিনি জানান, সন্তানদের মধ্যে ভেদাভেদ যাতে না হয়, সেই চেষ্টাই করতেন তাঁর মা-বাবা। কিন্তু সমাজ-সংসার ছেলেদের প্রতি চিরকালই নরম। পুত্রসন্তানের জন্মে যে উচ্ছ্বাস, উদযাপন চোখে পড়ত, মেয়ে জন্মালে ততটাই নীরবতা চোখে পড়ত চারপাশে, যা তাঁর এবং তাঁর দিদিদের মনে বড় প্রভাব ফেলে। তাই শিক্ষাকেই বেশি করে আঁকড়ে ধরেন তাঁরা। পূজা বলেন, “আমরা বোনেরা এই বৈষম্য নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা করতাম। তখনই বুঝতে পারি, পরিবর্তন ঘটা দরকার।”
স্কুলজীবনে ভাল ফল করলে পরিবারের কাছ থেকে যে উৎসাহ পেতেন, তা এগিয়ে যেতে সাহায্য় করে পূজাকে। তাঁর কথায়, “সেই সময় ভাইয়ের থেকেও বেশি ভালবাসা, স্নেহ পেতাম। তাই আরও উৎসাহ পেতাম আমি।” সামর্থ্য অনুযায়ী ছেলেমেয়েদের কাউকে সরকারি স্কুলে, কাউকে কর্পোরেশন স্কুলে ভর্তি করেছিলেন তাঁর বাবা। কিন্তু তাতে লক্ষ্যচ্যুত হননি তিনি। বরং নিজেকে প্রমাণ করার তাগিদ আরও বেড়ে গিয়েছিল। পূজা জানিয়েছেন, অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় নিজেই নিজেকে স্পোকেন ইংলিশ শেখাতে শুরু করেন তিনি, যাতে সরকারি স্কুলে পড়ার দরুণ ইংরেজি প্রতিবন্ধকতা না হয়ে ওঠে। মেধার জোরেই পরবর্তীতে অলাভজনক সংস্থা Avanti Fellows-এ পড়ার সুযোগ পান তিনি। সেখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু হয় তাঁর।
পূজার যা যোগ্যতা ছিল, তাতে তিনি IAS অফিসার হতেই পারতেন। কিন্তু তিনি কূটনীতিতে যুক্ত হতে চেয়েছিলেন। ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে চেয়েছিলেন আন্তর্জাতিক স্তরে। ঢাকায় এই মুহূর্তে রাজনৈতিক ঘটনাক্রমের উপর নজর রাখা, দুই দেশের মধ্যেকার সম্পর্ককে মজবুত করা, কৌশলগত যোগাযোগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং ভারতের কূটনৈতিক লক্ষ্যপূরণের দায়িত্ব রয়েছে পূজার কাছছে। এত অল্প বয়সে পূজা যে জায়গায় পৌঁছেছেন, তা অন্য ছেলেমেয়েদেরও অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।
Education Loan Information:
Calculate Education Loan EMI


