Tuesday, September 8, 2026

Creating liberating content

পুজোর আগে কলকাতায় খাদ্য...

দুর্গাপুজোর আগে কলকাতার রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান ও মিষ্টির প্রতিষ্ঠানে নজরদারি আরও কড়া করল...

শুক্রবার মোদি-পুতিন বৈঠক, নজরে...

আবারও মুখোমুখি হতে চলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।...

টিম ইন্ডিয়ার নতুন তিন...

ভারতীয় ক্রিকেটের বাণিজ্যিক দুনিয়ায় বড় ঘোষণা করল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা BCCI। টিম...

বালুচিস্তানে মার্কিন খনিজ প্রকল্পে...

পাকিস্তানের বালুচিস্তানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির প্রভাব এবার পড়ল মার্কিন সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রকল্পে।...
Homeবাংলামন্দির ভাঙল, তবু...

মন্দির ভাঙল, তবু সরল না হনুমান মূর্তি

রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ করতে গিয়ে মন্দিরের বড় অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। কিন্তু মন্দিরের ভিতরের হনুমান মূর্তি সরাতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হল প্রশাসন। মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নে এই ঘটনাকে ঘিরে এখন তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেও প্রাচীন **‘খড়ে হনুমান’** মূর্তিকে তার জায়গা থেকে সরানো সম্ভব হয়নি বলে স্থানীয় প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উজ্জয়নের সতী গেট এলাকার কাছে। ২০২৮ সালের সিংহস্থকে সামনে রেখে শহরের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা চওড়া করার কাজ চলছে। সেই প্রকল্পের অংশ হিসেবেই এই মন্দিরের অবস্থান নিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কিন্তু মন্দিরের কাঠামো সরিয়ে ফেলার পরও মূর্তি একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকায় পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়।

## প্রায় ১৭০ বছরের পুরনো মূর্তি

স্থানীয় সূত্র ও একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উজ্জয়নের এই খড়ে হনুমান মন্দিরটি প্রায় **১৭০ বছরের পুরনো** বলে মনে করা হয়। মন্দিরের দাঁড়ানো হনুমান মূর্তিটি স্থানীয় ভক্তদের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধার।

মূর্তিটিকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ভারী যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করেও সেটিকে সরানো যায়নি বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে মূর্তির নিরাপত্তা এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

## চারবার চেষ্টা, তবু মেলেনি সাফল্য

Times of India-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূর্তিটি সরানোর জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও সফলতা আসেনি। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেও মূর্তিকে জায়গা থেকে সরানো সম্ভব হয়নি।

প্রশাসনের সামনে তাই এখন দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—একদিকে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, অন্যদিকে মূর্তির কোনও ক্ষতি না করা।

এই কারণেই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়ার দিকে এগোচ্ছে প্রশাসন।

## প্রযুক্তি ব্যবহার করেও কেন সরানো গেল না?

মূর্তিটি ঠিক কী কারণে এতটা শক্তভাবে স্থির রয়েছে, তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের মধ্যে কেউ কেউ এটিকে অলৌকিক ঘটনা বলে মনে করছেন। তাঁদের বিশ্বাস, হনুমানজি নিজে না চাইলে তাঁকে তাঁর স্থান থেকে সরানো সম্ভব নয়।

তবে এই দাবির কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।

প্রশাসনও ঘটনাটিকে অলৌকিক বলে ঘোষণা করেনি। বরং মূর্তির গঠন, নীচের অংশ এবং মাটির সঙ্গে তার সংযোগ সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। Free Press Journal-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূর্তিটি সরানোর আগে বিশেষ স্ক্যান করার পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

## ভক্তদের মধ্যে বাড়ছে ‘চমৎকার’-এর বিশ্বাস

মূর্তি না সরায় স্বাভাবিকভাবেই ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। অনেকেই ঘটনাটিকে ঈশ্বরের ইচ্ছা বা অলৌকিক সংকেত হিসেবে দেখছেন।

মঙ্গলবার মন্দিরের জায়গায় ভক্তদের ভিড়ও দেখা যায়। স্থানীয়ভাবে ভজন ও কীর্তনের আয়োজন হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে।

তবে ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয়টি ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাখ্যার উপর নির্ভরশীল। মূর্তির না নড়ার কারণকে অলৌকিক বলে চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠা করার মতো কোনও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এখনও হয়নি।

## মন্দিরের বাকি অংশ ইতিমধ্যেই ভাঙা

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, মূর্তিটি যে কাঠামোর ভিতরে ছিল, তার বড় অংশ ইতিমধ্যেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে। অর্থাৎ মন্দিরের চারপাশের নির্মাণ ভেঙে ফেলা সম্ভব হলেও মূল মূর্তিটি সরানো যায়নি।

এই দৃশ্যই ঘটনাটিকে আরও আলোচিত করে তুলেছে। মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে মূর্তিটি দাঁড়িয়ে থাকার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ফলে ঘটনাটি শুধু উজ্জয়নের স্থানীয় মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, দেশজুড়ে নেটমাধ্যমেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

## রাস্তা চওড়া করার কাজই মূল কারণ

উজ্জয়নে ২০২৮ সালের সিংহস্থকে কেন্দ্র করে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। বিপুল সংখ্যক তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থীর আগমন সামলাতে রাস্তা ও যানবাহন ব্যবস্থার উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই কান্ঠাল থেকে ছত্রী চক পর্যন্ত রাস্তা চওড়া করার কাজ চলছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। খড়ে হনুমান মন্দিরের অবস্থান এই রাস্তা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত।

প্রশাসনের কাছে তাই বিষয়টি শুধু একটি মূর্তি সরানোর ঘটনা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বড় পরিকাঠামোগত প্রকল্পও।

## পুরাতাত্ত্বিক গুরুত্ব নিয়েও প্রশ্ন

মূর্তিটির বয়স নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন দাবি রয়েছে। কোথাও প্রায় ১৭০ বছরের পুরনো বলে উল্লেখ করা হয়েছে, আবার কিছু প্রতিবেদনে এর ইতিহাস আরও প্রাচীন হতে পারে বলে স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের মতামত উঠে এসেছে।

তবে মূর্তিটির প্রকৃত বয়স বা ঐতিহাসিক সময়কাল নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা প্রয়োজন। তাই কোনও একটি দাবিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

প্রত্নতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতামতও এই কারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—কারণ মূর্তিটি সরানোর সময় সামান্য ভুলেও প্রাচীন নিদর্শনের ক্ষতি হতে পারে।

## প্রশাসনের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ

একদিকে রয়েছে উন্নয়নমূলক প্রকল্প, অন্যদিকে রয়েছে ধর্মীয় আবেগ এবং সম্ভাব্য ঐতিহাসিক গুরুত্ব। ফলে প্রশাসনের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল।

মূর্তিটি জোর করে সরানোর পরিবর্তে কীভাবে নিরাপদে স্থানান্তর করা যায়, সেটিই এখন প্রধান প্রশ্ন। প্রয়োজন হলে প্রযুক্তিগত পরীক্ষা, স্ক্যান এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

কারণ মূর্তি সরাতে গিয়ে যদি কোনও ক্ষতি হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

## ৫০টি হনুমানের দল ঘিরে আরও চর্চা

ঘটনাটিকে ঘিরে আরও একটি কৌতূহলজনক ঘটনা সামনে এসেছে। Times of India জানিয়েছে, মূর্তি সরানোর চেষ্টা চলাকালীন প্রায় **৫০টি হনুমানের একটি দল** এলাকায় এসে উপস্থিত হয়। ঘটনাটিকে অনেক ভক্ত ধর্মীয় সংকেত হিসেবে দেখছেন।

তবে বানরের উপস্থিতি এবং মূর্তি না সরার মধ্যে কোনও কারণগত সম্পর্ক রয়েছে—এমন কোনও প্রমাণ নেই। এটি ঘটনাটিকে ঘিরে তৈরি হওয়া স্থানীয় বিশ্বাস ও কৌতূহলেরই অংশ।

## চমৎকার নাকি প্রযুক্তিগত জটিলতা?

এই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। ভক্তদের একাংশের কাছে এটি নিঃসন্দেহে বিশ্বাসের বিষয়। তাঁদের ধারণা, দেবতার ইচ্ছা ছাড়া মূর্তি স্থানান্তর সম্ভব নয়।

অন্যদিকে প্রশাসনের দৃষ্টিতে এটি একটি কাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত সমস্যা। মূর্তির ওজন, ভিত্তির গভীরতা, মাটির সঙ্গে সংযোগ এবং নির্মাণের ধরন পরীক্ষা করলেই হয়তো বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।

তাই বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে অলৌকিক বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।

## শেষ কথা

উজ্জয়নের খড়ে হনুমান মন্দিরের ঘটনা এখন ধর্মীয় বিশ্বাস, ইতিহাস এবং উন্নয়ন—তিনটি বিষয়কে একই জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে। রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য মন্দিরের কাঠামো ভেঙে ফেলা হলেও **প্রাচীন হনুমান মূর্তিকে এখনও সরানো সম্ভব হয়নি** বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ভক্তদের কাছে এটি হয়তো ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতীক। কিন্তু প্রশাসনের কাছে এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হল—মূর্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বৈজ্ঞানিক ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া।

শেষ পর্যন্ত মূর্তিটি অন্যত্র সরানো হবে, নাকি রাস্তা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাতেই পরিবর্তন আনতে হবে—সেই সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর সবার।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

পুজোর আগে কলকাতায় খাদ্য নিরাপত্তা অভিযান, ৪০ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সে কোপ

দুর্গাপুজোর আগে কলকাতার রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান ও মিষ্টির প্রতিষ্ঠানে নজরদারি আরও কড়া করল কলকাতা পুরসভা। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে সপ্তাহব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা অভিযানে একাধিক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। এই অভিযানের জেরে প্রায় ৪০টি রেস্তোরাঁ ও খাবারের প্রতিষ্ঠানের খাদ্য সংক্রান্ত...

শুক্রবার মোদি-পুতিন বৈঠক, নজরে একাধিক বড় চুক্তি

আবারও মুখোমুখি হতে চলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আগামী **১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার** নয়াদিল্লিতে BRICS শীর্ষ সম্মেলনের আগে দুই রাষ্ট্রনেতার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা। রুশ প্রেসিডেন্টের ভারত সফরের মূল কারণ ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত...

টিম ইন্ডিয়ার নতুন তিন স্পনসর, ১৩০ কোটির চুক্তি

ভারতীয় ক্রিকেটের বাণিজ্যিক দুনিয়ায় বড় ঘোষণা করল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা BCCI। টিম ইন্ডিয়ার ঘরের মাঠের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য নতুন তিন Associate Partner হিসেবে যুক্ত হল **Campa, SBI Life এবং ChatGPT**। মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর BCCI আনুষ্ঠানিকভাবে এই অংশীদারিত্বের ঘোষণা...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.