বছর কয়েক ধরে বলিউডে চর্চার কেন্দ্রে থাকা সুকেশ চন্দ্রশেখর, নোরা ফতেহি এবং জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজের সম্পর্কিত বিতর্ক ফের নতুন করে সামনে এসেছে। সম্প্রতি জেলবন্দি সুকেশের নামে একটি হাতে লেখা চিঠি সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেই চিঠিতে নোরা ফতেহিকে নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক দাবি করেছেন বলে জানা যাচ্ছে সুকেশ। তাঁর অভিযোগ, জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে নোরা নাকি ঈর্ষান্বিত ছিলেন এবং বারবার তাঁকে ফোন করে জ্যাকলিনের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করার জন্য চাপ দিতেন। এমনকি দিনে প্রায় ১০ বার পর্যন্ত ফোন করারও অভিযোগ করেছেন সুকেশ। তবে ভাইরাল হওয়া চিঠিটি নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে এবং সেখানে করা অভিযোগগুলির স্বাধীন সত্যতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
সুকেশের দাবি অনুযায়ী, জ্যাকলিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিষয়টি নোরার পছন্দ ছিল না। তিনি অভিযোগ করেছেন, নোরা তাঁকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করতেন যাতে তিনি জ্যাকলিনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। সুকেশের বক্তব্য, নোরা তাঁকে নিজের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর জন্যও প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন। এই দাবিকে ঘিরেই নতুন করে সোশাল মিডিয়া এবং বিনোদন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভাইরাল চিঠিতে সুকেশ আরও দাবি করেছেন, নোরা নিয়মিত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করতেন। ফোন না ধরলে একাধিকবার ফোন করার অভিযোগও তিনি তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নোরার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। আর্থিক সাহায্য এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন নিয়েও নাকি তাঁদের মধ্যে কথাবার্তা হয়েছিল বলে সুকেশ দাবি করেছেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুকেশ তাঁর চিঠিতে নোরার জন্য বিভিন্ন দামি সামগ্রী এবং আর্থিক সহায়তার কথাও উল্লেখ করেছেন।
এর মধ্যে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবিগুলির একটি হল মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় একটি বাড়ি কেনার প্রসঙ্গ। সুকেশের অভিযোগ, নোরার জন্য ওই বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে তিনি কয়েক কোটি টাকা দিয়েছিলেন। পাশাপাশি দামি প্রসাধনী, বিদেশি ব্র্যান্ডের ব্যাগ এবং বিলাসবহুল গাড়ির মতো উপহার দেওয়ার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। এই সমস্ত দাবিই অবশ্য সুকেশের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশ্যে এসেছে এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলির স্বাধীন প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।
চিঠিতে নাকি তাঁদের কথোপকথনের বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন সুকেশ। তাঁর দাবি, নোরার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে তাঁদের যোগাযোগ হয়েছিল এবং সেই কথোপকথনের কিছু তথ্য তাঁর কাছে রয়েছে। প্রয়োজনে সেই কথোপকথন প্রকাশ্যে আনার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। সুকেশের বক্তব্য, তাঁর কাছে এমন কিছু প্রমাণ রয়েছে যা প্রকাশ্যে এলে পুরো ঘটনার অন্য একটি দিক সামনে আসতে পারে।
তবে এই গোটা ঘটনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ভাইরাল হওয়া চিঠির সত্যতা নিয়ে প্রথমদিকে প্রশ্ন উঠেছিল। সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিঠিটি সুকেশের লেখা বলে যাচাই করা হয়েছে, কিন্তু চিঠিতে নোরা ফতেহিকে নিয়ে যে অভিযোগগুলি করা হয়েছে, সেগুলি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে অভিযোগ এবং প্রমাণিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি।
সুকেশ-নোরা বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০২৩ সালেও সুকেশ দাবি করেছিলেন যে নোরা তাঁকে দিনে প্রায় ১০ বার ফোন করতেন এবং জ্যাকলিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করতেন। সেই সময়ও সুকেশের বক্তব্য ছিল, নোরা জ্যাকলিনকে নিয়ে ঈর্ষান্বিত ছিলেন এবং তাঁকে জ্যাকলিনের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করে নোরার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর জন্য প্রভাবিত করছিলেন। এই পুরনো অভিযোগই এবার নতুন চিঠিকে কেন্দ্র করে ফের আলোচনায় এসেছে।
অন্যদিকে, নোরা ফতেহি অতীতে সুকেশকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের বিষয়ে নিজের বক্তব্যও জানিয়েছেন। ২০২৩ সালে একটি মানহানির মামলায় আদালতে দেওয়া বক্তব্যে নোরা জানিয়েছিলেন, তাঁকে ‘গোল্ড ডিগার’ বলা হয়েছিল এবং সুকেশের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেছিলেন, এই ধরনের বক্তব্য তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। সেই সময় নোরা জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ এবং কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছিলেন।
সুকেশের সঙ্গে নোরা ও জ্যাকলিনের নাম জড়িয়ে যাওয়ার মূল সূত্র অবশ্য ২০০ কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা ও অর্থপাচার সংক্রান্ত মামলা। এই মামলাকে কেন্দ্র করে একাধিকবার বলিউডের বিভিন্ন তারকার নাম সামনে এসেছে। জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজকেও এই মামলায় তদন্তের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ফলে সুকেশের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং আর্থিক লেনদেন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সংবাদমাধ্যমে আলোচনা রয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে নোরা ফতেহি নিজেও সুকেশ-পর্বের মানসিক প্রভাব নিয়ে কথা বলেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ওই সময়টি তাঁর জীবনের অত্যন্ত কঠিন অধ্যায় ছিল। প্রকাশ্য বিতর্ক এবং নানা ধরনের অভিযোগের কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বোধ করেছিলেন বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই বিতর্কের কারণে তিনি কাজের ক্ষেত্রেও ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন এবং অনেক সুযোগ হাতছাড়া হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে সুকেশের নতুন চিঠি প্রকাশ্যে আসায় পুরনো বিতর্ক ফের উসকে উঠেছে। একদিকে রয়েছে জ্যাকলিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে সুকেশের দাবি, অন্যদিকে নোরার বিরুদ্ধে করা একাধিক অভিযোগ। চিঠিতে আর্থিক লেনদেন, দামি উপহার এবং ব্যক্তিগত কথোপকথনের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে নোরার পক্ষ থেকে এই নতুন দাবিগুলির বিষয়ে কোনও পালটা বক্তব্য প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা নিয়ে এখনও স্পষ্টতা নেই।
সব মিলিয়ে, সুকেশ চন্দ্রশেখরের নতুন চিঠিকে ঘিরে বলিউডে ফের চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। দিনে ১০ বার ফোন করা, জ্যাকলিনের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার জন্য চাপ দেওয়া, আর্থিক সাহায্য এবং দামি উপহারের মতো একাধিক দাবি সামনে এসেছে। তবে এগুলি বর্তমানে সুকেশের অভিযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আইনি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ সামনে না আসা পর্যন্ত এই দাবিগুলিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ফলে আগামী দিনে এই বিতর্কে আরও কোনও তথ্য, নথি বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।


