মুজাফফরপুর, বিহার: ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতি অঙ্ক পড়ুয়ার কাছেই দীর্ঘ ও কঠিন পথ। এর সঙ্গে যদি অর্থকষ্ট, একাধিক বার ব্যর্থ হওয়া ও আত্মবিশ্বাসের অভাব দোসর হয়, তাহলে সেই পথ আরও দুর্গম হয়ে ওঠে। বিহারের মহম্মদ ইমরান আলমের লড়াইটা সেই কারণেই একেবারেই সহজ ছিল না। তবে ধারাবাহিক প্রস্তুতি, পরিবারের পাশে থাকা ও নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকার কারণে চার বারের চেষ্টায় ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষায় সফল হয়েছেন তিনি।
বিহারের মুজাফফরপুরের মহম্মদ ইমরান আলম এবারের ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষায় ৬২৬ নম্বর পেয়েছেন। তাঁর All India Rank (AIR) ৪০৫৬। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণের পথে এই ফলাফল তাঁর দীর্ঘ প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলে মনে করছেন তিনি।
অর্থনৈতিক দিক থেকে অনেকটা পিছিয়ে পড়া জায়গা থেকে লড়াই শুরু করেছিলেন ইমরান। তাঁর পরিবারের আয় বছরে ১ লক্ষ টাকারও কম। অর্থাৎ, মাসে ৮ হাজার টাকার আশেপাশে। আর এই নিম্নবিত্ত পরিবারে ইমরানের বাবাই ছিলেন একমাত্র উপার্জনকারী। আর তারই মধ্যে ইমরানের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নকে সমর্থন করে গিয়েছেন তাঁর বাড়ির লোক।
আরও পড়ুন: স্বাধীনতা দিবসে রাজ্য জুড়ে বৃষ্টির সতর্কতা, বৃষ্টির সম্ভাবনা রবিবারও
সাফল্যের পর পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ইমরান বলেন, “বাবা, মা আর দাদাকে ধন্যবাদ। ওঁদের জন্যই আজ আমি এখানে।” তাঁর কথায় স্পষ্ট, দীর্ঘ প্রস্তুতির সময়ে পরিবারের উৎসাহই তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
প্রথম চেষ্টাতেই NEET-এ সাফল্য পাওয়া সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। ইমরানও প্রথমবার সাফল্য না পেয়ে হাল ছাড়েননি। চারবার পরীক্ষায় বসার পর অবশেষে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করেছেন তিনি। বারবারের চেষ্টার মধ্যেও প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়াই তাঁর সাফল্যের অন্যতম দিক।
ইমরানের মা-ও জানেন, আর্থিকভাবে মধ্যবিত্ত পরিবারের পড়ুয়াদের সামনে কী ধরনের সংশয় তৈরি হতে পারে। তাঁর ধারণা ছিল, মধ্যবিত্ত ছেলে মেয়েরা চিকিৎসক হতে পারে না। যদিও এই ধারণাকে নিজের ভবিষ্যতের সীমা হতে দেননি ইমরান। আর্থিক প্রতিকূলতা এবং একাধিক ব্যর্থতা সত্ত্বেও ধারাবাহিক পরিশ্রম ও দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে তিনি NEET-এ সাফল্য অর্জন করেছেন।
Education Loan Information:
Calculate Education Loan EMI


