দেশের কোটি কোটি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর। কেন্দ্র সরকারের নতুন শ্রম আইন বা ‘নিউ লেবার কোড’ কার্যকর হওয়ার পর কর্মীদের বেতন কাঠামো, সামাজিক সুরক্ষা, গ্র্যাচুইটি এবং EPFO-র সুবিধার ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা এই চারটি নতুন শ্রম কোড কর্মচারীদের অধিকার আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি নিয়োগকর্তাদের জন্যও নিয়মকানুনকে সহজ করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন শ্রম কোড চালু হলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারেন EPFO-র আওতাভুক্ত কর্মীরা। কারণ বেতন নির্ধারণের নতুন পদ্ধতি, PF জমার হিসাব এবং গ্র্যাচুইটির নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
কী এই নতুন লেবার কোড?
ভারত সরকার দেশের ২৯টি পুরনো শ্রম আইনকে একত্রিত করে চারটি নতুন কোডে রূপান্তর করেছে। এগুলি হল—
১. কোড অন ওয়েজেস (Code on Wages)
২. ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস কোড (Industrial Relations Code)
৩. কোড অন সোশ্যাল সিকিউরিটি (Code on Social Security)
৪. অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড ওয়ার্কিং কন্ডিশনস কোড (OSH Code)
এই নতুন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হল শ্রমিকদের অধিক সুরক্ষা দেওয়া, ডিজিটাল কমপ্লায়েন্স বৃদ্ধি করা এবং কর্মক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
EPFO সদস্যদের জন্য কী কী সুবিধা?
নতুন শ্রম কোডের অন্যতম বড় আকর্ষণ হল সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ। কর্মীদের PF, পেনশন, বীমা এবং অন্যান্য সুবিধা আরও সংগঠিত ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকার জানিয়েছে যে সামাজিক সুরক্ষা কোডের মাধ্যমে কর্মীদের সুবিধা আরও শক্তিশালী করা হবে।
তবে শ্রম মন্ত্রক ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছে যে নতুন শ্রম কোড কার্যকর হলেও EPFO-র বিদ্যমান স্কিমে আপাতত বড় কোনও পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেই। অর্থাৎ EPF ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
বেতনের কাঠামোতে বড় পরিবর্তন
নতুন নিয়ম অনুযায়ী ‘ওয়েজ’ বা বেতনের সংজ্ঞা বদলাবে। মোট CTC-র অন্তত ৫০ শতাংশ অংশকে ‘ওয়েজ’ হিসেবে ধরা হতে পারে। এর ফলে বহু কর্মীর বেসিক স্যালারি বাড়বে এবং সেই সঙ্গে PF অবদানও বৃদ্ধি পেতে পারে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়বে—
* PF জমার পরিমাণে
* গ্র্যাচুইটির অঙ্কে
* অবসরকালীন সঞ্চয়ে
* দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সুরক্ষায়
যদিও হাতে পাওয়া মাসিক বেতন কিছু ক্ষেত্রে সামান্য কমতে পারে, কিন্তু ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা |
গ্র্যাচুইটি পাওয়া হবে আরও সহজ
নতুন শ্রম কোড অনুযায়ী ফিক্সড-টার্ম কর্মীরাও নির্দিষ্ট সময় কাজ করার পর গ্র্যাচুইটির সুবিধা পেতে পারেন। আগে শুধুমাত্র দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেই এই সুবিধা কার্যকর ছিল। নতুন ব্যবস্থায় বহু চুক্তিভিত্তিক কর্মীও এর আওতায় আসবেন।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার বাধ্যতামূলক
নতুন নিয়মে কর্মীদের জন্য লিখিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে চাকরির শর্ত, বেতন, সুযোগ-সুবিধা এবং দায়িত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। ফলে ভবিষ্যতে কর্মী ও সংস্থার মধ্যে বিরোধ কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ওভারটাইম ও কর্মঘণ্টা নিয়ে স্পষ্টতা
নতুন শ্রম কোডে কর্মঘণ্টা ও ওভারটাইম সংক্রান্ত নিয়মও আরও পরিষ্কার করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত কাজ করলে কর্মীরা আইনত ওভারটাইম পাওয়ার অধিকারী হবেন। এর ফলে কর্মক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অতিরিক্ত কাজের যথাযথ মূল্যায়ন হবে।
কর্মীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবর্তন?
নতুন শ্রম কোড কার্যকর হলে কর্মীদের জন্য ন্যূনতম মজুরি, সামাজিক সুরক্ষা, গ্র্যাচুইটি, PF সুবিধা এবং কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে শ্রম সংক্রান্ত নানা পরিষেবা আরও সহজ ও দ্রুত পাওয়া যাবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, নতুন লেবার কোড দেশের শ্রম ব্যবস্থায় এক বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে চলেছে। যদিও EPFO-র মূল কাঠামো আপাতত অপরিবর্তিত থাকছে, তবুও বেতন, গ্র্যাচুইটি এবং সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম কোটি কোটি কর্মীর ভবিষ্যৎকে আরও সুরক্ষিত করতে পারে।


