‘হোমমেকার’ বলতে শুধু এমন কোনও মানুষকে বোঝায় না, যিনি সারাদিন বাড়িতে থেকে ঘরের কাজ করেন। পরিবারের সদস্যদের দেখভাল, তাঁদের প্রয়োজন পূরণ এবং সংসারের জন্য নিজের সময় ও স্বার্থ ত্যাগ করাও ‘হোমমেকার’-এর পরিচয়ের অংশ। এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল কর্নাটক হাই কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ‘হোমমেকার’ শব্দটি লিঙ্গনিরপেক্ষ। অর্থাৎ নারী বা পুরুষ—উভয়েই হোমমেকার হতে পারেন। এমনকি কেউ বাইরে চাকরি করলেও পরিবারের দেখভাল করলে তাঁকে হোমমেকার হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে বিচারপতি চিল্লাকুর সুমলতা এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেন। মামলাটি করেছিলেন এক মহিলা, যিনি বায়োটেকনোলজিতে স্নাতকোত্তর এবং আগে কলেজে গেস্ট লেকচারার হিসেবেও কাজ করেছিলেন। দুর্ঘটনার পর তাঁর শারীরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ক্ষতিপূরণের হিসাব নিয়ে আইনি লড়াই শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত হাই কোর্ট তাঁর পারিবারিক ভূমিকা এবং গৃহস্থালির পরিষেবাকেও গুরুত্ব দিয়ে ক্ষতিপূরণ বাড়ানোর নির্দেশ দেয়।
## কী বলল কর্নাটক হাই কোর্ট?
কর্নাটক হাই কোর্টের বক্তব্য, একজন মানুষকে হোমমেকার হিসেবে বিবেচনা করার জন্য তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, চাকরি করেন কি না বা তিনি ২৪ ঘণ্টা বাড়িতে থাকেন কি না—এসব একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে না। পরিবারের সদস্যদের দেখভাল করা এবং তাঁদের জন্য নিজের সময় ও সুবিধা ত্যাগ করাও গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা।
আদালত আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে, ‘হোমমেকার’ কোনও নির্দিষ্ট লিঙ্গের সঙ্গে যুক্ত শব্দ নয়। একজন পুরুষ যেমন হোমমেকার হতে পারেন, তেমনই কোনও কর্মরত মহিলাও হোমমেকার হতে পারেন। অর্থাৎ বাইরে চাকরি করার সঙ্গে পরিবারের দায়িত্ব পালন—এই দুই ভূমিকা পরস্পরবিরোধী নয়।
## ২৪ ঘণ্টা বাড়িতে থাকাই কি হোমমেকার হওয়ার শর্ত?
আদালত বলেছে, একেবারেই নয়। কাউকে হোমমেকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য তাঁকে নিরক্ষর হতে হবে বা সারাক্ষণ বাড়িতে থাকতে হবে—এমন কোনও শর্ত নেই। শুধুমাত্র ঘরের কাজ করাই হোমমেকারের পরিচয়ের একমাত্র ভিত্তি নয়।
পরিবারের সদস্যদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে যে ব্যক্তি নিয়মিত সময় দেন, তাঁদের প্রয়োজনের কথা ভাবেন এবং নিজের সুবিধা-অসুবিধার ঊর্ধ্বে উঠে পরিবারের দায়িত্ব পালন করেন, তাঁর ভূমিকাও মূল্যবান। আদালতের পর্যবেক্ষণের মূল বক্তব্য হল—গৃহস্থালির শ্রমকে অদৃশ্য বা মূল্যহীন কাজ হিসেবে দেখা উচিত নয়।
## কোন মামলায় এই রায়?
এই পর্যবেক্ষণের পিছনে রয়েছে ২০১৩ সালের একটি পথ দুর্ঘটনা। ১৯ অক্টোবর ২০১৩ সালে পরিবারের সঙ্গে যাতায়াতের সময় একটি KSRTC বাসের দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন ওই মহিলা। তাঁর বয়স তখন ২৫ বছর। তিনি বায়োটেকনোলজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ছিলেন এবং এর আগে একটি কলেজে গেস্ট লেকচারার হিসেবেও কাজ করেছিলেন।
২০১২ সালের আগস্ট থেকে ২০১৩ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি শিক্ষকতা করে মাসে ৩৫ হাজার টাকা বেতন পেয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় তিনি আর ওই চাকরিতে ছিলেন না। এই বিষয়টিই পরবর্তীতে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
## KSRTC-র কী বক্তব্য ছিল?
ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত মামলায় কর্নাটক স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে ওই মহিলা যথেষ্ট শিক্ষিত। তাঁর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে এবং দুর্ঘটনার সময় তিনি চাকরিতে ছিলেন না। তাই তাঁকে শুধুমাত্র ‘হোমমেকার’ হিসেবে বিবেচনা করে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা উচিত নয়—এমন বক্তব্য রাখা হয়।
কিন্তু হাই কোর্ট এই যুক্তি গ্রহণ করেনি। আদালত মনে করেছে, উচ্চশিক্ষিত হওয়া বা অতীতে চাকরি করার কারণে একজন মানুষ পরিবারের জন্য যে গৃহস্থালির পরিষেবা দেন, তার মূল্য কমে যায় না।
## ২০১৮ সালে শুরু হয় হাই কোর্টের লড়াই
দুর্ঘটনার পর ক্ষতিপূরণ নিয়ে প্রথমে Motor Accident Claims Tribunal-এ আবেদন করা হয়েছিল। সেখানকার সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হয়ে ২০১৮ সালে হাই কোর্টে আবেদন করেন ওই মহিলা। তাঁর দাবি ছিল, দুর্ঘটনার ফলে শুধু তাঁর উপার্জনের সম্ভাবনাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, পরিবারের প্রতি তাঁর গৃহস্থালির দায়িত্ব পালন করার ক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর বিচারপতি চিল্লাকুর সুমলতা এই মামলায় হোমমেকার শব্দটির বিস্তৃত ব্যাখ্যা দেন এবং ক্ষতিপূরণের পরিমাণও বাড়িয়ে দেন।
## মাসে ৮ হাজার টাকা ধরে ক্ষতিপূরণ
আদালত ওই মহিলার হোমমেকার হিসেবে পরিষেবার একটি নোটional income বা অনুমিত মাসিক আয় ৮ হাজার টাকা ধরে নেয়। আদালতের মতে, দুর্ঘটনার পর তাঁকে অন্তত তিন মাস বিশ্রামে থাকতে হতে পারে। সেই তিন মাসের জন্য আর্থিক ক্ষতি দাঁড়ায় ২৪ হাজার টাকা।
বাংলা হান্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্থিক ক্ষতির জন্য ১ লক্ষ ৭২ হাজার ৮০০ টাকা এবং পরিবারের সদস্যরা তাঁর গৃহস্থালির পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় আরও ২৪ হাজার টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ক্ষতিপূরণের অতিরিক্ত হিসেবে মোট ১.৯৬ লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার উপর বার্ষিক ৬ শতাংশ হারে সুদও প্রযোজ্য হবে।
## গৃহস্থালির শ্রমের আর্থিক মূল্য কতটা?
হোমমেকারদের কাজের আর্থিক মূল্য নিয়ে ভারতের আদালতে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ এসেছে। ২০২৬ সালের জুনে সুপ্রিম কোর্টও একটি মোটর দুর্ঘটনা মামলায় গৃহস্থালির পরিষেবাকে পৃথকভাবে মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিল এবং ‘loss of domestic care’ নামে ক্ষতিপূরণের একটি পৃথক খাতের কথা উল্লেখ করেছিল।
সুপ্রিম কোর্ট ওই মামলায় গৃহস্থালির পরিষেবার জন্য মাসে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারণের কথা জানিয়েছিল, যা প্রতি তিন বছর অন্তর ১০ শতাংশ করে সংশোধন করার কথা বলা হয়।
এই বৃহত্তর আইনি প্রবণতার প্রেক্ষাপটে কর্নাটক হাই কোর্টের বর্তমান পর্যবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এখানে শুধু গৃহস্থালির কাজের আর্থিক মূল্য নয়, ‘হোমমেকার’ শব্দটির সংজ্ঞাকেও লিঙ্গ ও পেশার গণ্ডির বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
## কর্মজীবী মহিলাও হতে পারেন হোমমেকার
অনেকের ধারণা, কোনও মহিলা চাকরি করলে তিনি আর হোমমেকার নন। কর্নাটক হাই কোর্ট সেই ধারণাকে সরাসরি খারিজ করেছে। আদালত বলেছে, একজন কর্মরত মহিলাও পরিবারের দেখভাল করলে তাঁকে হোমমেকার হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
বাস্তবে বহু মানুষ একই সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন—একদিকে অফিস বা পেশাগত কাজ, অন্যদিকে সংসার ও পরিবারের দায়িত্ব। এই দ্বৈত ভূমিকার মধ্যে দ্বিতীয় অংশটি দীর্ঘদিন আর্থিক মূল্যায়নের বাইরে থেকেছে। আদালতের বর্তমান পর্যবেক্ষণ সেই ধারণাকে বদলানোর দিকে একটি পদক্ষেপ।
## শুধু মহিলাই নন, পুরুষও হোমমেকার
রায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ‘হোমমেকার’ শব্দটিকে gender-neutral বা লিঙ্গনিরপেক্ষ হিসেবে ব্যাখ্যা করা। আদালতের বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবারের দায়িত্ব পালনকারী একজন পুরুষও হোমমেকার হতে পারেন।
এই পর্যবেক্ষণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ প্রচলিত সামাজিক ধারণায় ‘হোমমেকার’ শব্দটি প্রায়শই মহিলাদের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। কিন্তু আদালত বলেছে, পরিবারের জন্য যে ব্যক্তি সময় দেন এবং গৃহস্থালির দায়িত্ব পালন করেন, তাঁর লিঙ্গ দিয়ে সেই পরিচয় নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়।
## শিক্ষাগত যোগ্যতা কি বাধা?
এই মামলায় ওই মহিলার উচ্চশিক্ষিত হওয়াই পরিবহণ সংস্থার যুক্তির অন্যতম ভিত্তি ছিল। তাঁর পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি থাকায় তাঁকে হোমমেকার হিসেবে গণ্য করা যাবে না—এমন দাবি করা হয়েছিল।
কিন্তু আদালত স্পষ্ট করে দেয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা কোনও ব্যক্তির পারিবারিক ভূমিকার মূল্য কমিয়ে দিতে পারে না। একজন উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি যেমন পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারেন, তেমনই একজন চাকরিজীবী মানুষও একই সঙ্গে সংসারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
অর্থাৎ শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ‘হোমমেকার’ পরিচয় পরস্পরবিরোধী নয়।
## নিজের স্বার্থ ত্যাগ করাও গুরুত্বপূর্ণ
আদালতের পর্যবেক্ষণে শুধু রান্না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা পরিবারের দৈনন্দিন কাজের কথাই উঠে আসেনি। পরিবারের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য নিজের সময়, সুবিধা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ ত্যাগ করার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে ‘হোমমেকার’ শব্দটির অর্থ আরও বিস্তৃত হয়েছে। সংসার পরিচালনা শুধু দৃশ্যমান কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবারের সদস্যদের দেখভাল, অসুস্থ ব্যক্তির যত্ন, শিশুদের প্রয়োজন মেটানো, দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং পরিবারের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার মতো কাজও এর অংশ।
## কেন এই রায় গুরুত্বপূর্ণ?
এই রায় গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি গৃহস্থালির কাজকে শুধুমাত্র ‘বিনা বেতনের কাজ’ হিসেবে দেখার বদলে তার সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার দিকে এগিয়েছে। দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তির গৃহস্থালির অবদান বিবেচনা করা হলে তাঁর পরিবারের উপর সেই অবদানের প্রকৃত গুরুত্বও সামনে আসে।
বিশেষ করে যে সমস্ত মানুষ পেশাগতভাবে উপার্জন না করেও পরিবারের পুরো ব্যবস্থাটি পরিচালনা করেন, তাঁদের শ্রমকে অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এই ধরনের বিচারিক পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
## সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক অবস্থানের সঙ্গেও মিল
কর্নাটক হাই কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ এমন একটি সময়ে এসেছে যখন দেশের শীর্ষ আদালতও হোমমেকারদের গৃহস্থালির শ্রমের আর্থিক মূল্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। জুন ২০২৬-এর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছিল, একজন হোমমেকারের domestic care বা গৃহস্থালির পরিষেবার ক্ষতি মোটর দুর্ঘটনা ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
ফলে আদালতের বিভিন্ন পর্যায়ের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—গৃহস্থালির শ্রমকে আর সম্পূর্ণ ‘অদৃশ্য’ কাজ হিসেবে দেখার প্রবণতা ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে।
## সংসার সামলানোও গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা
একটি পরিবারের দৈনন্দিন জীবন স্বাভাবিক রাখতে অসংখ্য কাজ করতে হয়। বাজার করা, রান্না, সন্তানদের দেখাশোনা, বয়স্কদের যত্ন, বাড়ির আর্থিক ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে জরুরি পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া—সবই পরিবারের কার্যক্রমের অংশ।
এই কাজগুলির অধিকাংশের জন্য কোনও নির্দিষ্ট মাসিক বেতন দেওয়া হয় না। ফলে অর্থনীতির প্রচলিত হিসাবের মধ্যে এই শ্রম অনেক সময় দৃশ্যমান হয় না। কিন্তু কোনও কারণে সেই ব্যক্তি এই দায়িত্ব পালন করতে না পারলে পরিবারের অন্য সদস্যদের উপর অতিরিক্ত সময়, শ্রম ও অর্থের চাপ তৈরি হয়।
কর্নাটক হাই কোর্টের রায় সেই বাস্তবতাকেই আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্ব দিয়েছে।
## হোমমেকার পরিচয় শুধু নারীদের জন্য নয়
এই রায়ের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হল, ‘হোমমেকার’ পরিচয়কে নারী-পুরুষের গণ্ডি থেকে বের করে আনা। আদালত বলেছে, পরিবারের দায়িত্ব পালনকারী পুরুষও এই পরিচয়ের অধিকারী হতে পারেন।
আজকের সমাজে পরিবার ও কর্মজীবনের ভূমিকা আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিবর্তিত হয়েছে। কোথাও পুরুষ সংসার সামলাচ্ছেন, আবার মহিলা উপার্জন করছেন। কোথাও দুজনেই চাকরি করছেন এবং দুজনেই গৃহস্থালির দায়িত্ব ভাগ করে নিচ্ছেন। তাই পুরনো লিঙ্গভিত্তিক সংজ্ঞার বদলে বাস্তব ভূমিকার ভিত্তিতে ‘হোমমেকার’কে দেখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
## শেষ কথা
কর্নাটক হাই কোর্টের এই রায় শুধু একটি দুর্ঘটনা মামলায় ক্ষতিপূরণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নয়, ‘হোমমেকার’ শব্দটির প্রচলিত ধারণা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট করেছে, পরিবারের জন্য সময় দেওয়া, সদস্যদের দেখভাল করা এবং নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে সংসার পরিচালনা করা একজন মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
একজন মানুষকে হোমমেকার হিসেবে বিবেচনা করার জন্য তাঁকে নিরক্ষর হতে হবে, ২৪ ঘণ্টা বাড়িতে থাকতে হবে অথবা শুধুমাত্র ঘরের কাজ করতে হবে—এমন কোনও শর্ত নেই। উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি, কর্মরত মানুষ কিংবা উপার্জনকারী ব্যক্তিও একই সঙ্গে হোমমেকার হতে পারেন। এমনকি পুরুষও এই পরিচয়ের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।
মামলার ক্ষেত্রে আদালত ওই মহিলার জন্য অতিরিক্ত ১.৯৬ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছে, যার সঙ্গে ৬ শতাংশ হারে সুদ প্রযোজ্য হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে সুপ্রিম কোর্টও হোমমেকারদের unpaid domestic labour-এর আর্থিক মূল্য স্বীকার করার দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। তাই কর্নাটক হাই কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ বৃহত্তর বিচারিক পরিবর্তনেরই অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, এই রায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হল—**সংসার সামলানো কোনও ‘কাজ নয়’ নয়। পরিবারের জন্য করা সেই শ্রম, দায়িত্ব এবং ত্যাগেরও সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূল্য রয়েছে।**


