কলকাতা: ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট স্বাধীন হয় আমাদের দেশ। সেদিন ব্রিটিশ ইউনিয়ন জ্যাককে চিরতরে বিদায় জানিয়ে উত্তোলিত হয় বর্তমান তিরঙা জাতীয় পতাকা। তারপর ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর জাতীয় গণপরিষদে আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয় ভারতের সংবিধান। সেই সংবিধান গোটা দেশে কার্যকর হয় ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি। ইতিমধ্যে ওই বছরই ২৪ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘জন গণ মন’ ভারতের জাতীয় সঙ্গীত রূপে গণপরিষদ বা সংবিধানসভা দ্বারা গৃহীত হয়। অর্থাৎ, শুধু স্বাধীন হওয়া নয়, সেদিনের ভারত ধীরে ধীরে একের পর এক কাজের মধ্যে দিয়ে আজকের ভারতবর্ষ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: অনেকের অভিযোগ নাম নেই অন্নপূর্ণার তালিকায়, যদিও মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন ১৭ তারিখ থেকে মিলবে টাকা
ভারতের জাতীয় সম্মান (National Honour) -এর মধ্যে আসে দেশের জাতীয় পতাকা, সংবিধান ও জাতীয় সঙ্গীত। এই ৩ টে জিনিসের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিশেষ নিয়ম রয়েছে গোটা দেশে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে এই নিয়ম পালন না করলে হতে পারে কঠোর শাস্তি। এর জন্য ১৯৭১ সালের ২৩ ডিসেম্বর সংসদে পাস হয় জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন। সেই আইন ২০০৫ সালের ২০ ডিসেম্বর সংশোধনও করা হয়।
এই আইন বলছে কোনও ব্যক্তি প্রকাশ্যে বা জনসাধারণের সামনে ভারতের জাতীয় পতাকা বা সংবিধান বা এর কোনও অংশ পুড়িয়ে দেয়, টুকরো টুকরো করে, বিকৃত করে, অপবিত্র করে, নষ্ট করে, পা দিয়ে মাড়ায় বা অন্য কোনও ভাবে অর্থাৎ মৌখিক ভাবে, লিখিত ভাবে বা তার কাজের মাধ্যমে পতাকা বা সংবিধানের প্রতি অনাদর বা অবজ্ঞা প্রদর্শন করে তবে তাকে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা বা দুই দণ্ডেই দন্ডিত করা হবে।
তবে, এই আইনে এটাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে আইনি উপায়ে সংবিধান সংশোধন বা জাতীয় পতাকায় কোনও বদল করা হলে, সেই ক্ষেত্রে সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করা বা অসন্তোষ প্রকাশ করা কিন্তু অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে না। এ ছাড়াও বলা হয়েছে যে কোনও ভাবে জাতীয় পতাকা তৈরি করা হলে বা কোনও কিছুর উপর জাতীয় পতাকা আঁকা থাকলে বা কোনও ছবি থাকলে সেটাও জাতীয় পতাকা হিসাবেই গণ্য হবে।
কী কী হলে সেটা জাতীয় পতাকার অবমাননা হিসাবে গণ্য হবে?
ভারতের জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন বলছে যদি জাতীয় পতাকার প্রতি চরম অপমান বা অনাদর প্রদর্শন করা হয়, কোনও ব্যক্তি বা বস্তুকে অভিবাদন জানানোর জন্য জাতীয় পতাকাকে নোয়ানো হয়, কোনও কারণ ছাড়া জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বা সশস্ত্র বাহিনীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ব্যতীত অন্য কোনও উদ্দেশ্যে পরিধেয় বস্তু হিসাবে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করা হলে জাতীয় পতাকার অপমান করা হয়। এ ছাড়াও জাতীয় পতাকাকে কোমরের নীচের অংশের কোনও পোশাক বা আনুষঙ্গিক হিসাবে পরিধান করা বা কুশন, রুমাল, ন্যাপকিন, অন্তর্বাস বা অন্য কোনো পোশাকের উপাদানে সেলাই বা প্রিন্ট করে ব্যবহার করা বা জাতীয় পতাকার ওপর যে কোনও ধরনের লেখা বা লিপি খোদাই করা বা কোনও মূর্তি, স্মৃতিসৌধ, বক্তার ডেস্কে বা মঞ্চে ঢেকে দেওয়ার কাজে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করা হলেও জাতীয় পতাকার অবমাননা করা হয়। এ ছাড়াও ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় পতাকাকে মাটি, মেঝে বা জলের স্পর্শে আসতে দেওয়া বা কোনও যানবাহনের উপরের অংশ, পাশ বা পিছনের অংশ জাতীয় পতাকা দিয়ে ঢাকা হলে বা ইচ্ছাকৃত ভাবে সবুজ রংকে উপরে ও গেরুয়া রঙ নিচের দিকে রেখে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হলেও তা জাতীয় পতাকার জন্য অবমাননাকর।
জাতীয় সঙ্গীতের ক্ষেত্রে কী নিয়ম?
যদি কোনও ব্যক্তি জাতীয় সঙ্গীত গাইতে বাধা দেয় বা জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য অনেকে যদি সমবেত হন, সেখানে যদি কেউ গোলমাল করে তাহলে সে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা জরিমানা, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
Education Loan Information:
Calculate Education Loan EMI


