Monday, August 24, 2026

Creating liberating content

ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন...

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও অর্থনীতিতে ফের বড়সড় চাপ তৈরি হল।...

পুতিনের সঙ্গে জয়শঙ্করের বৈঠক,...

মস্কোয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।...

২০২৭-এ সেনার হাতে দেশীয়...

ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তৈরি হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের আমেঠিতে তৈরি হয়েছে...

ক্রীড়া দিবসে তরুণদের সঙ্গে...

জাতীয় ক্রীড়া দিবসকে সামনে রেখে দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং উঠতি ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে সরাসরি...
Homeবাংলাটয় ট্রেনে এবার...

টয় ট্রেনে এবার AI ক্লাস, নয়া উদ্যোগ দার্জিলিংয়ে

দার্জিলিংয়ের ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেন এবার শুধু পর্যটকদের পাহাড় দেখানোর মাধ্যম নয়, হয়ে উঠতে চলেছে প্রযুক্তি শিক্ষারও এক অভিনব প্ল্যাটফর্ম। পাহাড়ের তরুণ প্রজন্মকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোডিং এবং আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে। আগামী সেপ্টেম্বরে চালু হতে চলেছে বিশেষ ‘AI Coding Express’। ৫ সেপ্টেম্বর কার্শিয়াং-দার্জিলিং-কার্শিয়াং রুটে এই বিশেষ যাত্রার সূচনা হবে। চলন্ত টয় ট্রেনের কামরায় বসেই স্থানীয় পড়ুয়ারা কোডিং এবং কম্পিউটেশনাল স্কিলের ক্লাস করার সুযোগ পাবে। 

ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্বীকৃত দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের প্রায় শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন নিঃসন্দেহে অভিনব। পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে পড়ুয়ারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সফটওয়্যার লজিক, প্রোগ্রামিং এবং কোডিংয়ের প্রাথমিক ধারণা শিখবে। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের এই উদ্যোগকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রযুক্তির সঙ্গে আরও বেশি যুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

## ৫ সেপ্টেম্বর শুরু ‘AI Coding Express’

দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিং এবং পরে দার্জিলিং থেকে কার্শিয়াং রুটে চলবে বিশেষ ‘AI Coding Express’। সাধারণ টয় ট্রেন সফরের সঙ্গে এই যাত্রার মূল পার্থক্য হল, এখানে বিনোদনের পাশাপাশি শিক্ষাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ট্রেনের কামরাতেই স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কোডিং ক্লাসের আয়োজন করা হবে। পড়ুয়ারা হাতে-কলমে বিভিন্ন ডিজিটাল টুল ব্যবহার করে সফটওয়্যার লজিক এবং প্রোগ্রামিংয়ের সঙ্গে পরিচিত হবে। 

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু পড়ুয়াদের কোডিং শেখানো নয়। বরং পাহাড়ের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে প্রযুক্তি সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি করা এবং ভবিষ্যতের ডিজিটাল কর্মক্ষেত্রের জন্য তাঁদের প্রস্তুত করা।

## পাহাড়ের পড়ুয়াদের প্রযুক্তি শিক্ষায় জোর

দার্জিলিং এবং পাহাড়ি এলাকার বহু তরুণ-তরুণীর কাছে আধুনিক প্রযুক্তির শিক্ষার সুযোগ শহরের তুলনায় অনেক সময় সীমিত হতে পারে। সেই জায়গা থেকেই নতুন এই উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।

দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের পরিকল্পনা হল, ঐতিহ্যবাহী একটি পরিবহণ ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে পড়ুয়াদের কাছে আধুনিক প্রযুক্তির শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া। ফলে একই সঙ্গে ঐতিহ্য এবং ভবিষ্যৎ—দুইয়ের সংযোগ ঘটবে।

রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাহাড়ের শিক্ষার্থীদের হাতে আধুনিক প্রযুক্তির হাতিয়ার তুলে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। 

## ঐতিহ্যের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মেলবন্ধন

দার্জিলিং টয় ট্রেনের ইতিহাস একশো বছরেরও বেশি পুরনো। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই পাহাড়ি রেলপথ এখনও পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে ১৮৭৯ থেকে ১৮৮১ সালের মধ্যে নির্মিত হয় এবং এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৮ কিলোমিটার। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো এটিকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। 

সেই ঐতিহ্যবাহী ট্রেনেই এবার AI ও কোডিংয়ের ক্লাস—বিষয়টি নিঃসন্দেহে নজরকাড়া।

একদিকে পাহাড়ের ঐতিহ্য, অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ভবিষ্যৎমুখী প্রযুক্তি। এই দুই সম্পূর্ণ ভিন্ন সময়ের ধারণাকে একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে।

## কী শেখানো হবে ট্রেনে?

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, AI Coding Express-এ শিক্ষার্থীদের কোডিং এবং কম্পিউটেশনাল স্কিলের বিশেষ ক্লাস দেওয়া হবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সফটওয়্যার লজিক এবং প্রোগ্রামিংয়ের সঙ্গে তাঁদের পরিচয় করানো হবে। 

অর্থাৎ, শুধুমাত্র বই বা শ্রেণিকক্ষে বসে প্রযুক্তি শেখার বদলে এবার পাহাড়ি রেলপথের চলন্ত কামরাই হয়ে উঠবে শিক্ষার জায়গা।

এই ধরনের অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষার ফলে পড়ুয়াদের মধ্যে প্রযুক্তি নিয়ে কৌতূহল আরও বাড়তে পারে।

## চলন্ত ট্রেনেই হবে ক্লাস

এই উদ্যোগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হল, ক্লাস হবে চলন্ত টয় ট্রেনের কামরায়। সাধারণত টয় ট্রেন মানেই পাহাড়ের সৌন্দর্য, মেঘ, চা-বাগান এবং পাহাড়ি রেলপথের অভিজ্ঞতা।

এবার সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত হবে কোডিং এবং AI।

পড়ুয়ারা ট্রেনে বসে একদিকে পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করবে, অন্যদিকে ডিজিটাল প্রযুক্তির বিভিন্ন ধারণা সম্পর্কে জানবে। ফলে পুরো যাত্রাটিই হয়ে উঠবে এক ধরনের ভ্রাম্যমাণ শিক্ষাকেন্দ্র। 

## ‘স্টেশন মহোৎসব’-এর অংশ এই উদ্যোগ

AI Coding Express আসলে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ঐতিহ্যবাহী স্টেশনগুলির একশো বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘স্টেশন মহোৎসব’-এর একটি অংশ। অর্থাৎ শুধু প্রযুক্তি শিক্ষা নয়, এই উদ্যোগের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রেলের ইতিহাস ও সংস্কৃতিও। 

দার্জিলিং স্টেশনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত হতে চলেছে দু’দিনের বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেখানে স্থানীয় শিল্প, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হবে।

## দার্জিলিং স্টেশনে সাংস্কৃতিক উৎসব

AI Coding Express-এর পাশাপাশি দার্জিলিং স্টেশনে দু’দিন ধরে চলবে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক উৎসব। চিত্রাঙ্কন ও আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে লোকনৃত্য এবং সংগীতের অনুষ্ঠান—বিভিন্ন আয়োজন থাকছে।

এছাড়াও দার্জিলিং স্টেশনকে কেন্দ্র করে তৈরি স্বল্পদৈর্ঘ্যের একটি চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ারও হবে। স্থানীয় হস্তশিল্প এবং প্রত্নবস্তুর প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হবে। 

ফলে পুরো অনুষ্ঠানটি শুধু প্রযুক্তিকেন্দ্রিক নয়। পাহাড়ের সংস্কৃতি, ইতিহাস, শিল্প এবং আধুনিক প্রযুক্তিকে একসঙ্গে তুলে ধরার চেষ্টা রয়েছে।

## পর্যটনের সঙ্গে শিক্ষার নতুন সংযোগ

দার্জিলিংয়ের টয় ট্রেন মূলত পর্যটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ। সরকারি পর্যটন তথ্য অনুযায়ী, দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্য দিয়ে যাত্রীদের এক বিশেষ অভিজ্ঞতা দেয়। 

এবার সেই পর্যটন আকর্ষণকেই শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।

এর ফলে টয় ট্রেনের ব্যবহার শুধু পর্যটনকেন্দ্রিক না থেকে সামাজিক ও শিক্ষামূলক ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হতে পারে।

## AI শিক্ষার গুরুত্ব বাড়ছে

বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু প্রযুক্তি শিল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহণ, কৃষি, ব্যবসা এবং প্রশাসন—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই AI-এর ব্যবহার বাড়ছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের Skill India উদ্যোগেও AI-ভিত্তিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, AI ও Machine Learning-সংক্রান্ত একাধিক নতুন কোয়ালিফিকেশন, মাইক্রো-ক্রেডেনশিয়াল এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু হয়েছে। 

এই বৃহত্তর প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সময়েই দার্জিলিংয়ের স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের মধ্যে AI সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি করার উদ্যোগ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

## শুধু AI নয়, ভবিষ্যতের দক্ষতার প্রস্তুতি

AI Coding Express-এর মাধ্যমে পড়ুয়ারা শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নাম বা ধারণা জানবে—এমন নয়। কোডিং এবং কম্পিউটেশনাল চিন্তাভাবনা শেখার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের দক্ষতাও বাড়তে পারে।

কোডিং শেখার ক্ষেত্রে যুক্তি, ধাপে ধাপে চিন্তা করা এবং সমস্যাকে ছোট অংশে ভাগ করে সমাধান করার মতো দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতের বহু পেশায় এই দক্ষতাগুলির প্রয়োজন হবে।

তাই পাহাড়ি এলাকার তরুণ প্রজন্মকে ছোট বয়স থেকেই এই ধরনের প্রযুক্তিগত শিক্ষার সঙ্গে পরিচিত করানো গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

## পাহাড়ের পরিবেশে ভিন্ন ধরনের শ্রেণিকক্ষ

সাধারণ শ্রেণিকক্ষের বদলে চলন্ত টয় ট্রেন। জানলার বাইরে পাহাড়, মেঘ, সবুজ বন এবং পাহাড়ি রেললাইন। সেই পরিবেশের মধ্যেই কোডিংয়ের ক্লাস।

শিক্ষার এই পদ্ধতি নিঃসন্দেহে প্রচলিত ধারণার থেকে আলাদা। পড়ুয়াদের কাছে এটি একইসঙ্গে শিক্ষামূলক এবং স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে।

প্রযুক্তি শিক্ষাকে আনন্দদায়ক করে তোলার ক্ষেত্রে এই ধরনের উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে।

## রেলের ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা

দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে শুধু একটি রেল পরিষেবা নয়। এটি ভারতের পাহাড়ি রেল ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টয় ট্রেনটি ১৯৯৯ সাল থেকেই ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্বীকৃতির অংশ। 

তবে নতুন প্রজন্মের অনেকেই প্রযুক্তির প্রতি বেশি আগ্রহী। ফলে ঐতিহ্যবাহী রেল ব্যবস্থার সঙ্গে প্রযুক্তিকে যুক্ত করলে তরুণদের কাছে DHR-এর ইতিহাসও নতুনভাবে তুলে ধরা সম্ভব।

AI Coding Express সেই দিক থেকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

## স্টেশন মহোৎসবে স্থানীয় সংস্কৃতির গুরুত্ব

দার্জিলিংয়ের সংস্কৃতি বহুস্তরীয়। পাহাড়ি লোকনৃত্য, সংগীত, হস্তশিল্প এবং স্থানীয় শিল্পচর্চা এই অঞ্চলের পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

স্টেশন মহোৎসবে চিত্রাঙ্কন, ফটোগ্রাফি, লোকনৃত্য, সংগীত এবং হস্তশিল্পের প্রদর্শনীর আয়োজন সেই স্থানীয় ঐতিহ্যকেই সামনে আনবে। 

এর ফলে প্রযুক্তির পাশাপাশি পাহাড়ের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়ও অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।

## প্রযুক্তির সঙ্গে সংস্কৃতির সহাবস্থান

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের কারণে অনেক সময় স্থানীয় ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি পিছনে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু দার্জিলিংয়ের এই উদ্যোগে প্রযুক্তি ও সংস্কৃতিকে পাশাপাশি রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

একদিকে AI Coding Express, অন্যদিকে লোকনৃত্য, সংগীত, হস্তশিল্প এবং ঐতিহাসিক প্রদর্শনী।

এই ভারসাম্যই পুরো আয়োজনকে অন্যরকম করে তুলেছে।

## টয় ট্রেনের জনপ্রিয়তা আরও বাড়বে?

দার্জিলিং টয় ট্রেন পর্যটকদের কাছে বহুদিন ধরেই জনপ্রিয়। ২০২৬ সালের মে মাসে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে টয় ট্রেন থেকে রেকর্ড আয়ও করেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই মাসে আয় হয়েছিল প্রায় ৩৯৫.৬০ লক্ষ টাকা, যা আগের বছরের একই মাসের রেকর্ডকে ছাপিয়ে যায়। 

এই ধরনের নতুন উদ্যোগ টয় ট্রেনকে নতুন প্রজন্মের কাছেও আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।

## পড়ুয়াদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

পাহাড়ের কোনও ছাত্রছাত্রী হয়তো ভবিষ্যতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ডেটা সায়েন্টিস্ট, AI বিশেষজ্ঞ বা প্রযুক্তি উদ্যোক্তা হতে চাইতে পারে। কিন্তু সেই আগ্রহ তৈরির জন্য প্রথমে প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় হওয়া প্রয়োজন।

AI Coding Express সেই পরিচয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে স্থানীয় পড়ুয়াদের কাছে প্রযুক্তি শিক্ষাকে আনন্দদায়ক ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ এই প্রকল্পের অন্যতম ইতিবাচক দিক।

## সরকারি AI উদ্যোগের সঙ্গে বৃহত্তর প্রেক্ষাপট

দেশজুড়ে AI শিক্ষার ওপর জোর বাড়ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, PMKVY 4.0-এর অধীনে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত AI-সংক্রান্ত বিভিন্ন চাকরিমুখী প্রশিক্ষণে ৫৩,৪৪৯ জন প্রশিক্ষণ বা ওরিয়েন্টেশন পেয়েছেন এবং ২৫,৪৬৬ জন সার্টিফায়েড হয়েছেন। 

অর্থাৎ AI-ভিত্তিক দক্ষতা তৈরি এখন জাতীয় স্তরেও গুরুত্ব পাচ্ছে।

দার্জিলিংয়ের উদ্যোগ সেই বৃহত্তর পরিবর্তনের স্থানীয় একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।

## রেলপথকে শিক্ষার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার

রেল সাধারণত মানুষকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যায়। কিন্তু AI Coding Express সেই ধারণাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

এখানে ট্রেন শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, শিক্ষার মাধ্যমও।

একটি চলন্ত শ্রেণিকক্ষের ধারণা ভারতের অন্যান্য পর্যটন বা ঐতিহ্যবাহী রেলপথেও ভবিষ্যতে নতুন ধরনের শিক্ষামূলক প্রকল্পের অনুপ্রেরণা হতে পারে।

## দার্জিলিংয়ের তরুণদের ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে দেওয়া

পাহাড়ের তরুণ প্রজন্মের জন্য ভবিষ্যতে প্রযুক্তি-নির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়তে পারে। AI, সফটওয়্যার, ডেটা এবং ডিজিটাল পরিষেবা ইতিমধ্যেই চাকরির বাজারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

তাই স্কুলস্তর থেকেই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ তৈরি করা দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ।

AI Coding Express সেই সচেতনতা তৈরির একটি অভিনব প্রয়াস।

## ভবিষ্যতে আরও এমন উদ্যোগের সম্ভাবনা

যদি AI Coding Express সফল হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এই ধরনের শিক্ষামূলক যাত্রা আরও বিস্তৃত করা যেতে পারে। কোডিংয়ের পাশাপাশি রোবোটিক্স, ডেটা সায়েন্স, সাইবার সেফটি বা ডিজিটাল উদ্যোক্তা হওয়ার মতো বিষয়ও যুক্ত হতে পারে।

যদিও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি, তবে বর্তমান উদ্যোগ একটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।

## শেষ কথা

দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ‘AI Coding Express’ নিঃসন্দেহে একটি অভিনব উদ্যোগ। ৫ সেপ্টেম্বর কার্শিয়াং-দার্জিলিং-কার্শিয়াং রুটে এই বিশেষ টয় ট্রেন যাত্রা শুরু করবে। চলন্ত ট্রেনের কামরায় বসেই স্থানীয় শিক্ষার্থীরা কোডিং এবং কম্পিউটেশনাল স্কিল শেখার সুযোগ পাবে। 

একশো বছরেরও বেশি পুরনো ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেনের সঙ্গে AI ও কোডিংয়ের এই সংযোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়েকে নতুনভাবে তুলে ধরতে পারে। একদিকে পাহাড়ের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, অন্যদিকে আধুনিক প্রযুক্তির শিক্ষা—দুইয়ের মেলবন্ধনই এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য।

এর পাশাপাশি দার্জিলিং স্টেশনে দু’দিনের সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজনও হচ্ছে। সেখানে চিত্রাঙ্কন, ফটোগ্রাফি, লোকনৃত্য, সংগীত, স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র এবং স্থানীয় হস্তশিল্পের প্রদর্শনী থাকবে। 

অর্থাৎ, এই উদ্যোগ শুধুমাত্র AI শেখানোর কর্মসূচি নয়। এটি দার্জিলিংয়ের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, পর্যটন এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি শিক্ষাকে একই ছাতার নিচে আনার একটি প্রয়াস। পাহাড়ের তরুণ প্রজন্ম এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রযুক্তির নতুন দিগন্তের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে—আর সেই শিক্ষা যদি ভবিষ্যতে তাঁদের কর্মজীবনের পথ খুলে দেয়, তাহলে ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেনের এই নতুন যাত্রা আরও বেশি অর্থবহ হয়ে উঠবে।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করুন, বিশ্বকে কড়া বার্তা আমেরিকার

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও অর্থনীতিতে ফের বড়সড় চাপ তৈরি হল। তেহরানের বিরুদ্ধে এবার আরও কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপের পথে হাঁটছে আমেরিকা। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থাকে কার্যত সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে...

পুতিনের সঙ্গে জয়শঙ্করের বৈঠক, মোদির বার্তা পৌঁছল মস্কোয়

মস্কোয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সোমবার, ২৪ আগস্ট রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এই বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ব্যক্তিগত বার্তাও রুশ প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দেন জয়শঙ্কর।...

২০২৭-এ সেনার হাতে দেশীয় ‘শের’, বদলাবে অস্ত্রভাণ্ডার

ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তৈরি হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের আমেঠিতে তৈরি হয়েছে দেশের প্রথম সম্পূর্ণ দেশীয় **AK-203 ‘Sher’ assault rifle**। এই রাইফেলের প্রথম সম্পূর্ণ ভারতীয় উপাদানে তৈরি প্রোটোটাইপ সফলভাবে তৈরি ও পরীক্ষা করা হয়েছে। ফলে ছোট অস্ত্র উৎপাদনে...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.