পশ্চিমবঙ্গের অশোকনগরে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ব্রিটিশ আমলের একটি পুরনো বিমানঘাঁটি। সময়ের সঙ্গে সেই ঐতিহাসিক Airfield আজ অনেকটাই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। একসময় যে জায়গা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সামরিক বিমান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল, বর্তমানে তার অস্তিত্ব এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বই যেন ধীরে ধীরে বিস্মৃতির পথে। এবার সেই ইতিহাসকে সংরক্ষণের দাবিতে সরব হলেন এলাকার পড়ুয়ারা। ঐতিহ্যবাহী এই বিমানঘাঁটির ইতিহাস যাতে হারিয়ে না যায়, সেই আবেদন জানিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে চিঠি লিখেছেন তাঁরা।
অশোকনগর-কল্যাণগড়ের ইতিহাসের সঙ্গে এই বিমানঘাঁটির সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই এলাকা ব্রিটিশ Royal Air Force-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ Airbase হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। ঐতিহাসিক সূত্রে জায়গাটি **Baigachi Airfield** নামে পরিচিত ছিল। যুদ্ধের সময় এখানে RAF-এর বিমান চলাচল এবং সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হত। পরবর্তী সময়ে বিমানঘাঁটিটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। আজও সেই সময়ের কিছু hangar-এর অস্তিত্ব রয়েছে, যা অতীতের সেই অধ্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
## ব্রিটিশ আমলের বিমানঘাঁটি আজ জরাজীর্ণ
অশোকনগরের এই পুরনো বিমানঘাঁটি শুধু একটি পরিত্যক্ত জায়গা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস এবং বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ক্রমশ জীর্ণ হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় ইতিহাসপ্রেমী এবং পড়ুয়াদের আশঙ্কা, সময়মতো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া না হলে একসময় এই নিদর্শনগুলির অস্তিত্বও মুছে যেতে পারে। সেই কারণেই তাঁরা বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
পড়ুয়াদের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল ঐতিহাসিক বিমানঘাঁটিটিকে শুধু একটি পরিত্যক্ত জমি হিসেবে না দেখে Heritage Site হিসেবে সংরক্ষণ করা।
## দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সঙ্গে গভীর যোগ
অশোকনগর-কল্যাণগড় এলাকার ইতিহাসের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি। ব্রিটিশ শাসনকালে এই অঞ্চলে Baigachi Airfield তৈরি হয়েছিল। যুদ্ধের সময় এই বিমানঘাঁটি Royal Air Force-এর কাজে ব্যবহৃত হয়।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, RAF-এর বিভিন্ন Squadron এই বিমানঘাঁটি ব্যবহার করেছিল। ১৯৪৩ সালে 176 Squadron-ও Dum Dum থেকে Baigachi Airfield-এ স্থানান্তরিত হয়েছিল বলে ঐতিহাসিক নথি ও স্থানীয় গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে।
ফলে এই বিমানঘাঁটি শুধু স্থানীয় ইতিহাসের অংশ নয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বৃহত্তর সামরিক ইতিহাসের সঙ্গেও যুক্ত।
## ইতিহাসের স্মৃতি ধরে রেখেছে কয়েকটি Hangar
সময় পেরিয়ে গেলেও বিমানঘাঁটির কিছু পুরনো স্থাপনা এখনও ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে। বিশেষ করে পুরনো hangar-গুলি সেই সময়কার বিমানঘাঁটির অস্তিত্বের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়। স্থানীয় ইতিহাস নিয়ে প্রকাশিত গবেষণাতেও উল্লেখ রয়েছে যে, যুদ্ধের সময়কার RAF airfield-এর চারটি hangar এখনও সেখানে টিকে আছে।
কিন্তু শুধু কোনও পুরনো স্থাপনা টিকে থাকলেই ইতিহাস সংরক্ষিত হয় না। তার সঙ্গে যুক্ত ইতিহাস, তথ্য, নথি এবং স্থাপত্যকেও যথাযথভাবে রক্ষা করতে হয়।
এই জায়গাতেই পড়ুয়াদের দাবি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
## কেন কেন্দ্রকে চিঠি?
ঐতিহাসিক বিমানঘাঁটিটির সংরক্ষণ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন পড়ুয়ারা। তাঁদের বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য হল, এই জায়গাটিকে সরকারি উদ্যোগে সংরক্ষণ করা এবং নতুন প্রজন্মের সামনে এর ইতিহাস তুলে ধরা।
একটি Heritage Site হিসেবে জায়গাটিকে চিহ্নিত করা গেলে সেখানে তথ্যফলক, ঐতিহাসিক নথি, পুরনো ছবি এবং বিমানঘাঁটির ইতিহাস নিয়ে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
এতে স্থানীয় মানুষ যেমন তাঁদের এলাকার ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবেন, তেমনই বাইরের পর্যটকরাও আকৃষ্ট হতে পারেন।
## পড়ুয়াদের উদ্যোগ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
সাধারণত ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের দাবি আসে ইতিহাসবিদ, গবেষক অথবা স্থানীয় প্রশাসনের তরফে। কিন্তু অশোকনগরের ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের উদ্যোগ বিষয়টিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।
যে প্রজন্ম ভবিষ্যতে এই ইতিহাসকে বহন করবে, সেই প্রজন্মের প্রতিনিধিরাই যখন একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষার দাবি তুলছেন, তখন তা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।
তাঁদের এই উদ্যোগ আরও একটি বিষয় সামনে এনেছে—স্থানীয় ইতিহাসকে শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
## অশোকনগরের নামের সঙ্গেও জড়িয়ে ইতিহাস
বর্তমান অশোকনগর-কল্যাণগড় একসময় এই বিমানঘাঁটির কারণে একটি ভিন্ন পরিচয় বহন করত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিমানঘাঁটিটি ব্যবহারের বাইরে চলে যায়। স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ডা. বিধানচন্দ্র রায় এই অঞ্চলে পরিকল্পিত শহর গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।
পরবর্তীতে এলাকা নতুনভাবে বিকশিত হলেও পুরনো বিমানঘাঁটির কিছু অংশ এবং hangar অতীতের সেই অধ্যায়ের স্মৃতি বহন করে চলেছে।
অর্থাৎ, বর্তমান শহরের বিকাশের ইতিহাসের সঙ্গেও পুরনো Airfield-এর যোগ রয়েছে।
## হারিয়ে যেতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস
ঐতিহাসিক স্থাপনা সময়ের সঙ্গে নষ্ট হওয়া নতুন ঘটনা নয়। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না হলে ভবন দুর্বল হয়ে পড়ে, গাছপালা ও আগাছায় এলাকা ঢেকে যায় এবং একসময় মূল স্থাপত্যের চিহ্নও হারিয়ে যেতে পারে।
অশোকনগরের পুরনো বিমানঘাঁটির ক্ষেত্রেও সেই আশঙ্কা রয়েছে।
একবার কোনও ঐতিহাসিক স্থাপনা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেলে সেটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা কার্যত অসম্ভব। তাই পড়ুয়ারা মনে করছেন, এখনই সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
## শুধু স্মৃতিস্তম্ভ নয়, হতে পারে Heritage Tourism-এর কেন্দ্র
সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে অশোকনগরের এই পুরনো Airfield ভবিষ্যতে একটি গুরুত্বপূর্ণ heritage tourism destination হয়ে উঠতে পারে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন স্থাপনা বিশ্বের বহু দেশে পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পুরনো বিমানঘাঁটি, সামরিক hangar, যুদ্ধকালীন bunkers এবং অন্যান্য স্থাপনা ঐতিহাসিক পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
অশোকনগরেও একই ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন ইতিহাসপ্রেমীরা।
## পর্যটনের সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতির সম্পর্ক
একটি ঐতিহাসিক স্থানকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুললে স্থানীয় অর্থনীতিও উপকৃত হতে পারে।
পর্যটক বাড়লে স্থানীয় transport, খাবারের দোকান, ছোট ব্যবসা, guide service এবং অন্যান্য পরিষেবার চাহিদা বাড়ে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও নিজেদের এলাকার ইতিহাস নিয়ে নতুন করে আগ্রহী হন।
তাই Heritage Conservation শুধুমাত্র অতীতকে বাঁচানোর বিষয় নয়, ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারে।
## নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া
ইতিহাসের বইয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ব্রিটিশ শাসন বা Royal Air Force-এর কথা পড়া এক বিষয়। আর সেই ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত একটি বাস্তব জায়গার সামনে দাঁড়ানো সম্পূর্ণ অন্য অভিজ্ঞতা।
অশোকনগরের পুরনো Airfield সংরক্ষণ করা গেলে স্কুল-কলেজের পড়ুয়ারা educational tour-এর মাধ্যমে সরাসরি ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন।
সেখানে যদি একটি ছোট museum বা interpretation centre তৈরি করা যায়, তাহলে জায়গাটির গুরুত্ব আরও বাড়বে।
## একটি Museum তৈরির সম্ভাবনা
এই ধরনের ঐতিহাসিক বিমানঘাঁটিকে সংরক্ষণের অন্যতম কার্যকর উপায় হতে পারে একটি aviation museum তৈরি করা।
সেখানে পুরনো ছবি, মানচিত্র, বিমানঘাঁটির layout, যুদ্ধকালীন নথি, RAF-এর ইতিহাস এবং অশোকনগরের সঙ্গে যুক্ত তথ্য প্রদর্শন করা যেতে পারে।
যদি পুরনো বিমান বা aircraft parts সংগ্রহ করা সম্ভব হয়, সেগুলিও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
এভাবে জায়গাটি শুধু একটি পুরনো স্থাপনা না থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ ইতিহাসচর্চার কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
## স্থানীয় ইতিহাসের গুরুত্ব
ভারতের ইতিহাস শুধু দিল্লি, কলকাতা বা বড় বড় শহরের স্মৃতিস্তম্ভে সীমাবদ্ধ নয়। প্রত্যন্ত বা ছোট শহরগুলিতেও বহু গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে।
অশোকনগরের Baigachi Airfield তারই একটি উদাহরণ।
স্থানীয় ইতিহাসের এই অধ্যায়গুলো সংরক্ষিত না হলে জাতীয় ইতিহাসেরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হারিয়ে যেতে পারে।
## ব্রিটিশ শাসনের স্মৃতি হলেও কেন সংরক্ষণ?
অনেকের প্রশ্ন হতে পারে, ব্রিটিশ শাসনের সময় তৈরি একটি সামরিক স্থাপনা সংরক্ষণ করার প্রয়োজন কেন?
এর উত্তর হল—সংরক্ষণ মানে অতীতের শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন করা নয়। বরং ইতিহাসকে তার বাস্তব রূপে ধরে রাখা।
ব্রিটিশ আমলের বহু স্থাপনা আজও ভারতের ইতিহাস বোঝার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সেগুলির মাধ্যমে স্বাধীনতার আগে দেশের সামাজিক, সামরিক এবং প্রশাসনিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা যায়।
তাই ইতিহাসের ভালো-মন্দ সব অধ্যায়ই নথিভুক্ত ও সংরক্ষিত হওয়া প্রয়োজন।
## দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভারতীয় প্রেক্ষাপট
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভারত সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রের কেন্দ্র না হলেও ব্রিটিশ ভারতের বহু অঞ্চল সামরিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হয়ে উঠেছিল।
বিমানঘাঁটি, সেনাছাউনি, supply route এবং communication network তৈরি হয়েছিল বিভিন্ন জায়গায়।
Baigachi Airfield সেই বৃহত্তর সামরিক অবকাঠামোরই একটি অংশ ছিল।
তাই এর ইতিহাস সংরক্ষণ করলে শুধু অশোকনগরের নয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার ভারতের সামরিক ইতিহাস সম্পর্কেও গবেষণার সুযোগ বাড়বে।
## ইতিহাসবিদদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ
একটি পুরনো বিমানঘাঁটি গবেষকদের কাছেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এর স্থাপত্য, বিমান চলাচলের তথ্য, যুদ্ধকালীন ব্যবহার, RAF-এর কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয় মানুষের জীবনে তার প্রভাব—সবকিছুই গবেষণার বিষয় হতে পারে।
যদি সরকারি ভাবে জায়গাটি সংরক্ষিত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে গবেষকদের জন্য archive তৈরির সুযোগও তৈরি হবে।
এমন উদ্যোগ স্থানীয় ইতিহাসচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে।
## সংরক্ষণে কী কী করা যেতে পারে?
অশোকনগরের ঐতিহাসিক Airfield সংরক্ষণ করতে কয়েকটি ধাপে কাজ করা সম্ভব।
প্রথমে জায়গাটির বিস্তারিত historical survey করা যেতে পারে। এরপর পুরনো স্থাপনার structural assessment করা দরকার। কোন অংশ সংরক্ষণযোগ্য এবং কোন অংশ সংস্কার প্রয়োজন, তা বিশেষজ্ঞরা নির্ধারণ করতে পারেন।
তারপর জায়গাটিকে একটি heritage zone হিসেবে চিহ্নিত করে নিরাপত্তা এবং নিয়মিত maintenance-এর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
## তথ্যফলক ও Heritage Walk
স্থানটির ইতিহাস সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে তথ্যফলক বসানো যেতে পারে।
একই সঙ্গে heritage walk-এর আয়োজন করা সম্ভব। স্থানীয় স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের নিয়ে নিয়মিত educational tour আয়োজন করা গেলে নতুন প্রজন্মও জায়গাটির গুরুত্ব বুঝতে পারবে।
এতে ইতিহাসকে জীবন্ত রাখার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যটনও বাড়তে পারে।
## পড়ুয়াদের চিঠি তাই বড় বার্তা
কেন্দ্রের কাছে পড়ুয়াদের চিঠি শুধুমাত্র একটি পুরনো ভবন রক্ষার আবেদন নয়। এর মধ্যে রয়েছে একটি বৃহত্তর বার্তা—স্থানীয় ইতিহাসকে অবহেলা করা উচিত নয়।
যে জায়গার সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ঘটনার যোগ রয়েছে, সেটিকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
সময় যত যাচ্ছে, এই উদ্যোগের গুরুত্ব তত বাড়ছে।
## প্রশাসনের সামনে এখন বড় দায়িত্ব
পড়ুয়াদের আবেদন কতটা গুরুত্ব পাবে, এখন সেটাই দেখার। কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য প্রশাসন চাইলে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে জায়গাটির ঐতিহাসিক ও প্রত্নমূল্য পরীক্ষা করতে পারে।
তারপর প্রয়োজন অনুযায়ী Archaeological বা heritage conservation-এর উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
## ইতিহাস বাঁচাতে জনসচেতনতা জরুরি
শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। স্থানীয় মানুষকেও ঐতিহাসিক স্থানটির গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা যদি জায়গাটিকে নিজেদের ঐতিহ্য হিসেবে দেখেন, তাহলে অবৈধ দখল, ক্ষয়ক্ষতি বা অবহেলার সম্ভাবনা কমে।
এই ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের উদ্যোগ স্থানীয় জনসচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
## অশোকনগরের পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকবে
বর্তমান অশোকনগর একটি আধুনিক শহর হলেও তার মাটির নিচে এবং পুরনো স্থাপনাগুলির মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে বহু পুরনো ইতিহাস।
Baigachi Airfield সেই ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাই শহরের আধুনিক উন্নয়নের পাশাপাশি অতীতের স্মৃতিও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
## ইতিহাসকে ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ
একটি ঐতিহাসিক বিমানঘাঁটি সংরক্ষণ মানে শুধু অতীতকে আঁকড়ে থাকা নয়। বরং অতীতকে ব্যবহার করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষিত করা।
যদি সেখানে museum, archive, research centre বা educational facility তৈরি হয়, তাহলে একই জায়গা ইতিহাসচর্চা, পর্যটন এবং শিক্ষার কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
## শেষ কথা
অশোকনগরের ব্রিটিশ আমলের পুরনো Airfield এখন সময়ের ভারে জরাজীর্ণ। কিন্তু তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব কোনওভাবেই কমেনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় Baigachi Airfield হিসেবে ব্যবহৃত এই জায়গার সঙ্গে Royal Air Force-এর যোগ ছিল। সেই সময়কার বিমানঘাঁটির কিছু পুরনো hangar এখনও অতীতের সাক্ষ্য বহন করছে।
সময় পেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই এবার এলাকার পড়ুয়ারাই উদ্যোগী হয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে চিঠি লিখে এই ইতিহাস সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।
তাঁদের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কারণ ইতিহাস কেবল বইয়ের পাতায় থাকে না; বিভিন্ন স্থাপনা, পুরনো ভবন, বিমানঘাঁটি, রাস্তা এবং মানুষের স্মৃতির মধ্যেও ইতিহাস বেঁচে থাকে।
অশোকনগরের এই Airfield-কে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এটি ভবিষ্যতে একটি গুরুত্বপূর্ণ Heritage Site এবং educational tourism centre হয়ে উঠতে পারে। সেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বিমানঘাঁটির ইতিহাস, RAF-এর ভূমিকা এবং অশোকনগরের বিবর্তনের গল্প তুলে ধরা সম্ভব।
একই সঙ্গে এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের মধ্যে স্থানীয় ইতিহাস নিয়ে আগ্রহ তৈরি করতে পারে। যে পড়ুয়ারা আজ ইতিহাস বাঁচানোর দাবি তুলেছেন, তাঁদের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের বৃহত্তর সংরক্ষণ আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করবে কি না, এখন সেটাই দেখার।


