শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে গল টেস্টে দাপট দেখিয়ে জয়ের দোরগোড়ায় ভারত। তবে ম্যাচের চতুর্থ দিনেই একটি ক্যাচকে কেন্দ্র করে তৈরি হল বিতর্ক। ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটার ধ্রুব জুরেলের নেওয়া লাহিরু উদারার ক্যাচ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মাঠের আম্পায়ার এবং তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে আউট দেওয়া হলেও রিপ্লেতে বলটি মাটির স্পর্শ করেছিল কি না, তা নিয়ে ক্রিকেটমহলে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমেও এই ক্যাচ নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।
তবে বিতর্কের মধ্যেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতেই রয়েছে। প্রথম ইনিংসে ৪৬২ রান করার পর শ্রীলঙ্কাকে ২৮৪ রানে গুটিয়ে দেয় ভারত। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯৩ রানে অলআউট হওয়ার পর শ্রীলঙ্কার সামনে জয়ের জন্য ৩৭২ রানের লক্ষ্য রেখেছে ভারত। চতুর্থ দিনের শেষে চার উইকেট হারিয়ে চাপে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। ফলে পঞ্চম দিনে ভারতীয় বোলারদের সামনে ম্যাচ শেষ করার বড় সুযোগ রয়েছে।
## জুরেলের ক্যাচ নিয়েই যত বিতর্ক
শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংসের ২২তম ওভারে ঘটে বিতর্কিত ঘটনাটি। ভারতীয় স্পিনার মানব সুথারের বলে লাহিরু উদারা ব্যাট চালাতে গিয়ে বলের বাইরের দিকের প্রান্তে ব্যাট লাগান। বলটি দ্রুত গালির দিকে যায় এবং সেখানে থাকা ধ্রুব জুরেল নিচু হয়ে দুর্দান্তভাবে ক্যাচটি নেওয়ার চেষ্টা করেন।
জুরেল দাবি করেন, বলটি তিনি পরিষ্কারভাবেই তালুবন্দি করেছেন। মাঠের আম্পায়ারও আউটের সিদ্ধান্ত দেন। কিন্তু বিষয়টি তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে গেলে রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার ব্যাটারকে আউট ঘোষণা করা হয়।
কিন্তু রিপ্লের বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল দেখে অনেকের মনে হয়েছে, ক্যাচ নেওয়ার সময় বলের একটি অংশ হয়তো মাটির কাছাকাছি ছিল। সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ দাবি করেছেন, বলটি সম্ভবত মাটি ছুঁয়ে যাওয়ার পর জুরেল সেটি নিয়েছেন। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন জুরেল যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণের সঙ্গেই ক্যাচটি সম্পূর্ণ করেছেন।
## তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন
ক্রিকেটে low catch সবসময়ই অত্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্তের বিষয়। কারণ বল এবং মাটির মধ্যে সামান্য ফাঁকও অনেক সময় টেলিভিশন রিপ্লেতে স্পষ্ট বোঝা যায় না।
এই ঘটনাতেও তেমনটাই হয়েছে। বিভিন্ন রিপ্লেতে বলের অবস্থান নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তৃতীয় আম্পায়ার ভারতীয় দলের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেন।
শ্রীলঙ্কার ব্যাটার লাহিরু উদারা অবশ্য সিদ্ধান্তে খুশি ছিলেন না। আউট হওয়ার পর তাঁর প্রতিক্রিয়াতেও অসন্তোষ স্পষ্ট ছিল।
## সামাজিক মাধ্যমে দুই ভাগ ক্রিকেটবিশ্ব
জুরেলের ক্যাচের ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। একদল ক্রিকেটপ্রেমী মনে করছেন, ক্যাচটি পরিষ্কার ছিল এবং তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত সঠিক।
অন্যদিকে, আরেকদল দাবি করেছেন, বলের নিচের অংশ মাটির সঙ্গে ঘষা খেতে দেখা যাচ্ছে। তাঁদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে ব্যাটারকে আউট দেওয়া উচিত হয়নি।
এই বিভক্ত মতামতের কারণে ম্যাচের ক্রিকেটীয় লড়াইয়ের পাশাপাশি আম্পায়ারিং সিদ্ধান্তও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
## ভারতের জয়ের পথে আর কতটা দূর?
বিতর্ক যাই থাকুক, মাঠের ক্রিকেটে ভারত অত্যন্ত শক্তিশালী জায়গায় রয়েছে। প্রথম ইনিংসে ভারত ৪৬২ রান করে। এর মধ্যে দেবদূত পাড়িক্কাল অসাধারণ ১৬৭ রানের ইনিংস খেলেন। ধ্রুব জুরেলও করেন গুরুত্বপূর্ণ ৫১ রান। রিশভ পন্থের ব্যাট থেকে আসে ৩৯ রান এবং কেএল রাহুল করেন ৮২।
ভারতের বড় স্কোরের জবাবে শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংসে ২৮৪ রানে অলআউট হয়। ফলে ভারত ১৭৮ রানের বড় লিড পেয়ে যায়।
এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতীয় ব্যাটিং প্রত্যাশা অনুযায়ী বড় রান করতে না পারলেও শ্রীলঙ্কার সামনে ৩৭২ রানের কঠিন লক্ষ্য তুলে দেয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতের হয়ে রিশভ পন্থ ৬৬ রান করেন। মাত্র ৬৯ বলে তাঁর এই ইনিংস ছিল আগ্রাসী এবং ম্যাচের পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
## মানব সুথারের ঘূর্ণিতে বিপাকে শ্রীলঙ্কা
ভারতের জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বাড়িয়েছে ভারতীয় স্পিনারদের পারফরম্যান্স। চতুর্থ দিনে মানব সুথার শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
গল-এর উইকেট ম্যাচ যত এগিয়েছে, স্পিনারদের জন্য ততই কার্যকর হয়েছে। ফলে ভারতীয় স্পিনারদের সামনে শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে ম্যাচের শেষ পর্যায়ে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাটিং করার চাপ অত্যন্ত বেশি। শ্রীলঙ্কাকে তাই শুধু রান তুলতে হবে না, ভারতীয় স্পিনারদের আক্রমণও সামলাতে হবে।
## প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত পাড়িক্কাল
ভারতের প্রথম ইনিংসের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিলেন দেবদূত পাড়িক্কাল। তিনি ১৬৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন এবং নিজের প্রথম টেস্ট শতরানকে বড় রানে পরিণত করেন।
তাঁর ইনিংসে ছিল ১৫টি চার এবং একটি ছক্কা। তাঁর ব্যাটিং ভারতকে প্রথম ইনিংসে বড় স্কোর করার ভিত্তি তৈরি করে দেয়।
পাড়িক্কালের এই ইনিংসকে ঘিরে ভারতীয় ক্রিকেটমহলেও ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কার মতো স্পিন সহায়ক পরিবেশে তাঁর ব্যাটিং ছিল উল্লেখযোগ্য।
## জুরেলের ব্যাটিংও গুরুত্বপূর্ণ
শুধু বিতর্কিত ক্যাচের জন্য নয়, ম্যাচে ব্যাট হাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন ধ্রুব জুরেল।
প্রথম ইনিংসে তিনি ৫১ রান করেন। ভারত যখন দ্রুত রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করার মতো অবস্থানে যেতে চাইছিল, তখন তাঁর রান দলের স্কোরকে আরও শক্তিশালী করে।
ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর ক্যাচ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও সামগ্রিকভাবে জুরেলের পারফরম্যান্স ভারতের জন্য ইতিবাচক।
## সাত ইনিংস পর অর্ধশতরান
এই ম্যাচে জুরেলের ৫১ রান আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে গল টেস্টে অর্ধশতরান করার মাধ্যমে তিনি সাত ইনিংস পর টেস্ট ক্রিকেটে পঞ্চাশের গণ্ডি পেরিয়েছেন।
তাঁর জায়গা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা চলছিল। তাই এই ইনিংস তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষ করে ভারতীয় টেস্ট দলে উইকেটকিপার-ব্যাটারের জায়গা নিয়ে প্রতিযোগিতা থাকায় জুরেলের এই পারফরম্যান্স তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
## শ্রীলঙ্কার লড়াই কোথায়?
ভারতের ৩৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে শ্রীলঙ্কা শুরু থেকেই খুব একটা স্বস্তিতে ছিল না। চতুর্থ দিনের শেষে চারটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়েছে তারা।
প্রথম ইনিংসে শতরান করা সোনাল দিনুশা এখনও লড়াই করছেন। তাঁর উইকেট ভারতীয় দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
কারণ দিনুশা যদি দীর্ঘ সময় ক্রিজে থাকতে পারেন, তাহলে শ্রীলঙ্কা ম্যাচের শেষ দিন কিছুটা চাপ ভারতের দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
## ভারতের সামনে শেষ দিনের চ্যালেঞ্জ
ভারত ম্যাচ জয়ের খুব কাছাকাছি থাকলেও টেস্ট ক্রিকেটে কোনও পরিস্থিতিকেই নিশ্চিত বলা যায় না।
পঞ্চম দিনের শুরুতে ভারতের প্রথম লক্ষ্য হবে দ্রুত কয়েকটি উইকেট তুলে নেওয়া। শ্রীলঙ্কার বাকি ব্যাটারদের উপর চাপ বাড়াতে পারলে ম্যাচ দ্রুত শেষ করার সুযোগ থাকবে।
তবে গলের পিচে চতুর্থ ইনিংসে স্পিনের ভূমিকা এবং দিনের শুরুতে উইকেটের আচরণও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
## বৃষ্টিও বড় বিষয়
এই টেস্টে শুরু থেকেই বৃষ্টি ম্যাচের গতিপথে প্রভাব ফেলেছে। তৃতীয় দিনের শেষেও বৃষ্টির কারণে ভারত মাঠে নামতে পারেনি। ফলে ম্যাচের সময়সূচি কিছুটা পিছিয়ে যায়।
পঞ্চম দিনেও যদি বৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে ভারতের জয়ের পথে সেটিই সবচেয়ে বড় সমস্যা হতে পারে।
কারণ ভারত বর্তমানে যে অবস্থানে রয়েছে, সেখানে ম্যাচ জিততে প্রয়োজন পর্যাপ্ত ওভার।
## জুরেলের ক্যাচ কি ম্যাচের মোড় ঘোরাবে?
এই মুহূর্তে প্রশ্ন উঠছে, জুরেলের বিতর্কিত ক্যাচ ম্যাচের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে।
যদি লাহিরু উদারা ক্রিজে থেকে বড় জুটি তৈরি করতে পারতেন, তাহলে শ্রীলঙ্কার রান তাড়া করার সম্ভাবনা কিছুটা বাড়তে পারত।
কিন্তু তাঁর উইকেট চলে যাওয়ার ফলে ভারত আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এগিয়ে যায়।
এই কারণেই ক্যাচটির গুরুত্ব শুধুমাত্র একটি আম্পায়ারিং বিতর্কে সীমাবদ্ধ নয়। ম্যাচের ফলাফলেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
## ক্রিকেটে এমন বিতর্ক নতুন নয়
Low catch নিয়ে ক্রিকেটে বিতর্ক বহুবার হয়েছে। মাঠে থাকা আম্পায়ারের পক্ষে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বল মাটি ছুঁয়েছে কি না বোঝা কঠিন।
এই কারণেই বর্তমানে third umpire এবং বহু ক্যামেরা অ্যাঙ্গেলের সাহায্য নেওয়া হয়।
কিন্তু প্রযুক্তি থাকলেও সবসময় পরিষ্কার সিদ্ধান্ত পাওয়া যায় না। বলের অংশবিশেষ যদি হাত বা মাটির খুব কাছে থাকে, তাহলে বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলে ভিন্ন ছবি দেখা যেতে পারে।
জুরেলের ক্যাচও সেই ধরনের বিতর্ক তৈরি করেছে।
## প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ক্রিকেটে Decision Review System বা DRS চালু হওয়ার পর আম্পায়ারিংয়ের অনেক বিতর্ক কমেছে। কিন্তু catch-এর ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা এখনও রয়েছে।
ক্যামেরায় কোনও দৃশ্য পুরোপুরি পরিষ্কার না হলে তৃতীয় আম্পায়ারকে available evidence-এর ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
এই ম্যাচেও তেমন পরিস্থিতিই দেখা গেছে।
তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত ভারতকে সুবিধা দিলেও সামাজিক মাধ্যমের বিতর্ক দেখিয়ে দিচ্ছে যে অনেক দর্শক এখনও সিদ্ধান্তটি নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত নন।
## ভারতের স্পিন আক্রমণ
শ্রীলঙ্কার মাটিতে স্পিন বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচেও ভারত সেই শক্তিকে কাজে লাগিয়েছে।
মানব সুথারের পাশাপাশি ভারতের অন্যান্য স্পিনাররাও শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের উপর চাপ তৈরি করেছেন।
রবীন্দ্র জাদেজাও ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তৃতীয় দিনে তিনি টেস্ট ক্রিকেটে ৩৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন এবং চার হাজারের বেশি রান ও ৩৫০-এর বেশি উইকেট নেওয়া বিরল ক্রিকেটারদের তালিকায় জায়গা করে নেন।
## ভারতের জন্য ইতিবাচক দিক
এই ম্যাচে ভারতের বেশ কিছু ইতিবাচক দিক সামনে এসেছে।
প্রথমত, দেবদূত পাড়িক্কালের ১৬৭ রান।
দ্বিতীয়ত, ধ্রুব জুরেলের অর্ধশতরান।
তৃতীয়ত, রিশভ পন্থের দ্রুত ৬৬।
চতুর্থত, ভারতীয় স্পিনারদের কার্যকর পারফরম্যান্স।
এছাড়াও ৩৭২ রানের লক্ষ্য তৈরি করার পর শ্রীলঙ্কার চার উইকেট তুলে নেওয়া ভারতীয় বোলিংয়ের শক্তি দেখিয়েছে।
## শ্রীলঙ্কার সামনে কঠিন লড়াই
শ্রীলঙ্কার সামনে এখন শুধু বড় রান করা নয়, ম্যাচ বাঁচানোর চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
যদি তারা দ্রুত উইকেট হারায়, তাহলে ভারতের জয় কার্যত নিশ্চিত হয়ে যাবে।
অন্যদিকে, যদি দিনুশা এবং পরের ব্যাটাররা দীর্ঘ সময় ক্রিজে থেকে জুটি তৈরি করতে পারেন, তাহলে ম্যাচের উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতই স্পষ্টভাবে এগিয়ে।
## পাড়িক্কালের শতরানও আলোচনায়
এই ম্যাচে পাড়িক্কালের ১৬৭ রানের ইনিংস ভারতের ভবিষ্যৎ টেস্ট ব্যাটিং নিয়েও আশাবাদ তৈরি করেছে।
শ্রীলঙ্কার স্পিনাররা ভারতীয় ব্যাটারদের কিছুটা সমস্যায় ফেললেও পাড়িক্কাল দীর্ঘ সময় ধরে ক্রিজে থেকে নিজের ইনিংস গড়েছেন।
তাঁর এই ইনিংস ভারতকে বড় লিড নেওয়ার ভিত্তি তৈরি করে দেয়।
## ম্যাচের শেষ অধ্যায়
চতুর্থ দিনের শেষে ম্যাচ যে অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, তাতে ভারতের সামনে মূল লক্ষ্য দ্রুত বাকি উইকেটগুলি তুলে নেওয়া।
শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের জন্য কাজটা কঠিন। বিশেষ করে শেষ দিনে উইকেটের আচরণ যদি আরও স্পিন সহায়ক হয়, তাহলে ভারতীয় বোলারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সহজ হবে না।
তবে ক্রিকেটে শেষ বল পর্যন্ত কোনও কিছুই নিশ্চিত নয়।
## শেষ কথা
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে ভারত জয়ের খুব কাছে পৌঁছে গেলেও চতুর্থ দিনের অন্যতম বড় ঘটনা হয়ে থাকল ধ্রুব জুরেলের বিতর্কিত ক্যাচ। লাহিরু উদারাকে আউট করার সময় জুরেলের নেওয়া নিচু ক্যাচটি পরিষ্কার ছিল কি না, তা নিয়ে এখনও ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তৃতীয় আম্পায়ার শেষ পর্যন্ত ভারতীয় দলের পক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়ে উদারাকে আউট ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, ম্যাচের সামগ্রিক চিত্র ভারতের পক্ষেই রয়েছে। প্রথম ইনিংসে ৪৬২ রান করার পর শ্রীলঙ্কাকে ২৮৪ রানে অলআউট করে ভারত ১৭৮ রানের লিড নেয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯৩ রানে অলআউট হলেও ৩৭২ রানের লক্ষ্য তৈরি করতে সক্ষম হয় ভারত। এরপর শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ইনিংসে চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে।
দেবদূত পাড়িক্কালের ১৬৭ এবং ধ্রুব জুরেলের ৫১ রানের ইনিংস ভারতের ব্যাটিংয়ের মূল ভিত্তি তৈরি করে। অন্যদিকে মানব সুথারদের স্পিন আক্রমণ শ্রীলঙ্কার রান তাড়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এখন পঞ্চম দিনে বৃষ্টি কতটা বাধা দেয় এবং শ্রীলঙ্কার বাকি ব্যাটাররা কতটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেন, তার উপর ম্যাচের শেষ ফল নির্ভর করবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতীয় দলই জয়ের দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে।
জুরেলের ক্যাচ নিয়ে বিতর্ক যতই থাকুক, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আপাতত ভারতের হাতেই। পঞ্চম দিনে ভারত দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে টেস্ট জয়ের পাশাপাশি সিরিজে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।


