মাসের শুরুতেই রেলযাত্রীদের জন্য এল গুরুত্বপূর্ণ আপডেট। **দক্ষিণ-পূর্ব রেল (South Eastern Railway)**-এর তরফে জানানো হয়েছে, ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণের (Track Maintenance) কাজের জন্য **১ ও ২ আগস্ট** একাধিক লোকাল ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। মূলত **ডানকুনি স্টেশন এলাকায়** প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলায় এই ট্রাফিক ব্লক নেওয়া হয়েছে। ফলে হাওড়া ডিভিশনের বিভিন্ন রুটে যাতায়াতকারী নিত্যযাত্রীদের কিছুটা সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, **১ আগস্ট রাত ১০টা থেকে ২ আগস্ট ভোর ৪টা পর্যন্ত মোট ৬ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক** কার্যকর থাকবে। এই সময় ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করা হবে। ভারতীয় রেল জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়মিতভাবে করা হয়।
এই ট্রাফিক ব্লকের জেরে **১ আগস্ট মোট ছয়টি** এবং **২ আগস্ট দুটি** লোকাল ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, **১ আগস্ট** বাতিল ট্রেনগুলি হল—
* হাওড়া থেকে ছাড়ার কথা ছিল **৩৭৮৪৯** ও **৩৬০৮৭** নম্বর লোকাল।
* বারুইপাড়া থেকে **৩২৪১৪** নম্বর ট্রেন।
* শিয়ালদহ থেকে **৩২৪১৩** নম্বর ট্রেন।
* মসাগ্রাম থেকে **৩৬০৮৮** নম্বর ট্রেন।
* বর্ধমান থেকে **৩৬৮৬০** নম্বর ট্রেন।
অন্যদিকে, **২ আগস্ট** বাতিল হয়েছে—
* হাওড়া থেকে **৩৬৮১১** নম্বর লোকাল।
* বর্ধমান থেকে **৩৬৮১২** নম্বর লোকাল।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে আগাম এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। যাঁরা এই সময়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছেন, তাঁদের বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে ট্রেনের সময়সূচি ও বর্তমান অবস্থান যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বিকল্প ট্রেন বা অন্য পরিবহণের ব্যবস্থা রাখারও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি হাওড়া ডিভিশনে **নন-ইন্টারলকিং**-এর কাজের জন্যও টানা কয়েকদিন বহু লোকাল ট্রেন বাতিল বা সংক্ষিপ্ত রুটে চালানো হয়েছিল। এবারও একইভাবে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সাময়িকভাবে পরিষেবায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ধরনের কাজ দীর্ঘমেয়াদে ট্রেন চলাচলকে আরও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য করে তোলে।
পরিবহণ বিশেষজ্ঞদের মতে, রেললাইনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই সাময়িক অসুবিধা হলেও যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে এই ধরনের ট্রাফিক ব্লক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে তাঁরা মনে করছেন, যাত্রীদের সুবিধার্থে আরও বেশি প্রচার ও আগাম বিজ্ঞপ্তি দিলে ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বিশেষ করে অফিসযাত্রী ও নিত্যযাত্রীদের জন্য এই পরিষেবা পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। তাই যাঁরা হাওড়া, শিয়ালদহ, বারুইপাড়া, মসাগ্রাম বা বর্ধমান রুটে যাতায়াত করেন, তাঁদের নির্ধারিত সময়ের আগে **NTES**, রেলওয়ের অফিসিয়াল অ্যাপ বা স্টেশনের ঘোষণার মাধ্যমে ট্রেনের সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, **ডানকুনি এলাকায় ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সপ্তাহান্তে একাধিক লোকাল ট্রেন বাতিল করেছে ভারতীয় রেল।** নিরাপত্তা ও অবকাঠামোর উন্নতির স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও নিত্যযাত্রীদের কিছুটা ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে। তাই যাত্রার আগে ট্রেনের সময়সূচি যাচাই করে তবেই স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।


