সিবিএসই (CBSE)-র নবম শ্রেণিতে তৃতীয় ভাষা বাধ্যতামূলক করার নীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার শুনানির সময় শীর্ষ আদালত প্রশ্ন তোলে, বোর্ড পরীক্ষার আগে নবম শ্রেণিতে হঠাৎ একটি নতুন ভাষা পড়ার বাধ্যবাধকতা শিক্ষার্থীদের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে না তো? আদালত কেন্দ্র এবং সিবিএসই-কে এই বিষয়ে পুনর্বিবেচনার পরামর্শও দেয়।
মামলার শুনানিতে বিচারপতি বি. ভি. নাগরত্ন এবং বিচারপতি আর. মহাদেবনের বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে যে, ভাষা শেখার উপযুক্ত সময় সাধারণত ছোটবেলায়। নবম শ্রেণিতে এসে, যখন শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক স্তরের প্রস্তুতি শুরু করে, তখন একটি নতুন ভাষা যোগ করা তাদের জন্য অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। আদালত মৌখিকভাবে মন্তব্য করে যে, যদি তৃতীয় ভাষা চালু করতেই হয়, তাহলে তা প্রাথমিক বা নিম্ন শ্রেণি থেকেই শুরু করা বেশি যুক্তিযুক্ত হবে।
উল্লেখ্য, জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০-এর আলোকে সিবিএসই ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম শ্রেণিতে তিন-ভাষা নীতি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের অন্তত একটি ভারতীয় ভাষা অতিরিক্ত হিসেবে পড়তে হবে। তবে বর্তমানে নবম শ্রেণিতে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য এককালীন কিছু শিথিলতাও ঘোষণা করেছে সিবিএসই, যাতে নতুন নিয়মে রূপান্তর সহজ হয়।
এই নীতির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, পর্যাপ্ত ভাষা শিক্ষক, পাঠ্যপুস্তক এবং পরিকাঠামো ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর করলে শিক্ষার্থীদের সমস্যায় পড়তে হবে। আবেদনকারীদের দাবি, অনেক স্কুলে এখনও প্রয়োজনীয় ভাষা শিক্ষক নেই। ফলে নতুন ভাষা বাধ্যতামূলক করা হলে পড়াশোনার মান এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে সিবিএসই আদালতে জানিয়েছে, তাদের অধিভুক্ত বহু স্কুল ইতিমধ্যেই তিন-ভাষা কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বোর্ডের দাবি, প্রায় অর্ধেকেরও বেশি স্কুলে প্রয়োজনীয় ভারতীয় ভাষা পড়ানো হয় এবং এনসিইআরটি ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় পাঠ্যপুস্তক প্রস্তুত করছে। এছাড়া বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে নতুন নিয়মে অভিযোজন সহজ হয়।
শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট আরও স্পষ্ট করে জানায় যে, ভাষা শেখার বিরোধিতা আদালত করছে না। বরং আদালতের মূল উদ্বেগ হল, ঠিক কোন শ্রেণি থেকে এই নীতি কার্যকর করা হবে এবং তার ফলে শিক্ষার্থীদের উপর কী প্রভাব পড়বে। বিচারপতিরা বলেন, ভাষা শেখা অবশ্যই ইতিবাচক বিষয়, কিন্তু শিক্ষাব্যবস্থায় কোনও পরিবর্তন আনার সময় শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ ও বাস্তব পরিস্থিতির কথাও বিবেচনা করতে হবে।
এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে কেন্দ্র সরকার, সিবিএসই এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির বিস্তারিত বক্তব্য শোনা হবে। আদালত এখনও নীতির উপর কোনও চূড়ান্ত রায় দেয়নি এবং তাৎক্ষণিক স্থগিতাদেশও জারি করেনি। তবে আদালতের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, নবম শ্রেণি থেকে তৃতীয় ভাষা চালুর যৌক্তিকতা নিয়ে আরও বিশদ আলোচনা হতে পারে।
শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, ভাষা শিক্ষা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার বাস্তবায়নের সময় শিক্ষার্থীদের বয়স, পাঠ্যক্রমের চাপ, শিক্ষক-সংকট এবং অবকাঠামোগত প্রস্তুতির বিষয়গুলিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের পর এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


