Home বাংলা খড়্গপুর ডিভিশনে ২১ রেল ওভারব্রিজ, যাতায়াতে আসছে বড় পরিবর্তন

খড়্গপুর ডিভিশনে ২১ রেল ওভারব্রিজ, যাতায়াতে আসছে বড় পরিবর্তন

0
2

দেশের রেল পরিকাঠামোকে আরও আধুনিক ও নিরাপদ করে তুলতে একের পর এক উন্নয়নমূলক প্রকল্প হাতে নিচ্ছে ভারতীয় রেল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার দক্ষিণ-পূর্ব রেলের (South Eastern Railway) খড়্গপুর ডিভিশনে নির্মিত হতে চলেছে **২১টি নতুন রেল ওভারব্রিজ (Road Over Bridge বা ROB)**। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বহু ব্যস্ত লেভেল ক্রসিং থেকে যানজট কমবে, দুর্ঘটনার আশঙ্কা হ্রাস পাবে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত আরও দ্রুত ও নিরাপদ হবে।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, খড়্গপুর ডিভিশন দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অন্যতম ব্যস্ত রেলপথগুলির একটি। এই ডিভিশনের উপর দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করে। ফলে একাধিক লেভেল ক্রসিংয়ে যানবাহনকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। নতুন ২১টি ওভারব্রিজ নির্মাণের মাধ্যমে সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করার লক্ষ্য নিয়েছে ভারতীয় রেল।

বর্তমানে বহু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সরাসরি রেললাইনের উপর নির্ভরশীল। ট্রেন চলাচলের সময় গেট বন্ধ থাকায় প্রায়ই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে অফিসযাত্রী, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, অ্যাম্বুল্যান্স এবং জরুরি পরিষেবার গাড়িগুলিকে সমস্যায় পড়তে হয়। নতুন ওভারব্রিজ তৈরি হলে রেলগেট বন্ধ থাকলেও যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে।

রেল আধিকারিকদের মতে, এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হল নিরাপত্তা বৃদ্ধি। এখনও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লেভেল ক্রসিংয়ে অসাবধানতাবশত দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। ওভারব্রিজ নির্মাণ হলে রেললাইন ও সড়কপথ সম্পূর্ণ পৃথক হয়ে যাবে, ফলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এই উদ্যোগকে রেলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।খড়্গপুর ডিভিশন শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ নয়, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার সঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ রেল যোগাযোগ বজায় রাখে।

এই রুট দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ শিল্পপণ্য, খনিজ, কৃষিপণ্য এবং অন্যান্য মালামাল পরিবহণ হয়। ফলে সড়ক ও রেল—দুই পরিবহণ ব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নের জন্য এই ধরনের পরিকাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওভারব্রিজ নির্মাণের ফলে শুধু সময়ই বাঁচবে না, জ্বালানির অপচয়ও কমবে। দীর্ঘক্ষণ গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকার কারণে যে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হয়, তা অনেকটাই কমে যাবে। একই সঙ্গে যানজট হ্রাস পাওয়ায় পরিবেশ দূষণও কিছুটা কমতে পারে।ভারতীয় রেল গত কয়েক বছরে দেশজুড়ে রেল অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দিয়েছে।

নতুন রেললাইন, তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন নির্মাণ, স্টেশন আধুনিকীকরণ, সেতু পুনর্নির্মাণ, সিগন্যালিং ব্যবস্থার উন্নতি এবং নিরাপত্তা প্রযুক্তি ‘কবচ’-এর সম্প্রসারণের মতো একাধিক প্রকল্প ইতিমধ্যেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। খড়্গপুর ডিভিশনের এই ২১টি ওভারব্রিজও সেই বৃহত্তর উন্নয়ন কর্মসূচিরই অংশ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবিও ছিল ব্যস্ত রেলগেটগুলিতে ওভারব্রিজ নির্মাণের। বহু এলাকায় ট্রেন চলাচলের সময় রেলগেট দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকায় বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অফিসগামী মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা তৈরি হত। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা শিল্প, ব্যবসা এবং পর্যটনের বিকাশে সহায়ক হবে। দ্রুত পণ্য পরিবহণের ফলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও গতিশীল হতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রেল বিশেষজ্ঞদের মতে, ওভারব্রিজ নির্মাণ শুধু একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, এটি ভবিষ্যতের পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও নিরাপদ করে তোলার একটি বড় পদক্ষেপ। বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান ট্রেন চলাচলের চাপ সামাল দিতে এই ধরনের প্রকল্প অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

সব মিলিয়ে খড়্গপুর ডিভিশনে ২১টি নতুন রেল ওভারব্রিজ নির্মাণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন যাত্রী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং পরিবহণ বিশেষজ্ঞরা। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে পশ্চিমবঙ্গ-সহ পূর্ব ভারতের এই গুরুত্বপূর্ণ রেল করিডরে যাতায়াত আরও দ্রুত, নিরাপদ এবং আধুনিক হয়ে উঠবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here