২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপ এখনও অনেকটা দূরে হলেও প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট। দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, তরুণ ক্রিকেটারদের গড়ে তোলা এবং অভিজ্ঞদের সঠিকভাবে ব্যবহার—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই এগোতে চাইছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। আর সেই পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে চলেছেন দুই অভিজ্ঞ তারকা ব্যাটার বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মা। ভারতীয় দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর আগামী বিশ্বকাপের আগে এই দুই সিনিয়র ক্রিকেটারের অভিজ্ঞতাকে বড় সম্পদ হিসেবেই দেখছেন বলে ক্রিকেট মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।গত কয়েক বছরে ভারতীয় ক্রিকেটে একাধিক তরুণ ক্রিকেটারের উত্থান হয়েছে। শুভমান গিল, যশস্বী জয়সওয়াল, রিঙ্কু সিং, তিলক ভার্মা, ঋতুরাজ গায়কোয়াড়ের মতো ক্রিকেটাররা নিজেদের প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন। তবে বড় মঞ্চে চাপ সামলানোর ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার বিকল্প নেই। সেই কারণেই কোহলি ও রোহিতের উপস্থিতি আগামী দিনের ভারতীয় দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।২০২৩ সালের একদিনের বিশ্বকাপে ভারত দুর্দান্ত ক্রিকেট খেললেও ফাইনালে শিরোপা হাতছাড়া হয়। এরপর থেকেই দলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গৌতম গম্ভীর বারবার ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠনের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, শুধুমাত্র তরুণদের উপর নির্ভর না করে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সমন্বয়ই বড় টুর্নামেন্টে সাফল্যের চাবিকাঠি হতে পারে।বিরাট কোহলি এখনও বিশ্বের অন্যতম ধারাবাহিক ব্যাটার হিসেবে পরিচিত। কঠিন পরিস্থিতিতে ইনিংস গড়া, লক্ষ্য তাড়া করা এবং বড় ম্যাচে পারফর্ম করার অসংখ্য নজির রয়েছে তাঁর। অন্যদিকে, রোহিত শর্মার নেতৃত্ব এবং বিস্ফোরক ব্যাটিং ভারতের জন্য বহুবার ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। বড় টুর্নামেন্টে দলের মানসিক দৃঢ়তা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও এই দুই তারকার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত কোহলি ও রোহিতকে শুধুমাত্র ব্যাটার হিসেবে নয়, দলের পরামর্শদাতা হিসেবেও ব্যবহার করা হতে পারে। তরুণ ক্রিকেটারদের ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝানো, চাপের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাস্তব অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের অবদান অমূল্য হতে পারে।এছাড়া গৌতম গম্ভীরের কোচিং দর্শনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল দলগত পারফরম্যান্স। তিনি ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলকে এগিয়ে রাখার পক্ষে। তাই সিনিয়র এবং জুনিয়র ক্রিকেটারদের মধ্যে সুস্থ সমন্বয় গড়ে তোলাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। এই প্রক্রিয়ায় কোহলি ও রোহিতের নেতৃত্বগুণ ভারতীয় দলের ড্রেসিংরুমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও আগামী কয়েক বছরে নিয়মিত একদিনের ম্যাচ খেলিয়ে বিশ্বকাপের জন্য একটি স্থিতিশীল দল গড়ে তুলতে চাইছে। সেই পরিকল্পনায় ওপেনিং জুটি, মিডল অর্ডার, অলরাউন্ডার এবং বোলিং বিভাগে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের উপস্থিতি এই পরিকল্পনাকে আরও কার্যকর করে তুলতে পারে।অন্যদিকে, ফিটনেস এবং কাজের চাপ নিয়ন্ত্রণও বড় বিষয় হয়ে উঠেছে। কোহলি এবং রোহিতের বয়স ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে তাঁদের ম্যাচ নির্বাচন এবং বিশ্রামের বিষয়েও আলাদা পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে। যাতে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ এবং বড় টুর্নামেন্টে সম্পূর্ণ ফিট অবস্থায় মাঠে নামতে পারেন।ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দুই বছরে ভারতীয় দলের জন্য প্রতিটি একদিনের সিরিজই বিশ্বকাপ প্রস্তুতির অংশ হবে। বিভিন্ন কম্বিনেশন পরীক্ষা করার পাশাপাশি দলের নেতৃত্ব, ব্যাটিং অর্ডার এবং বোলিং আক্রমণ নিয়েও একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা হতে পারে। তবে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের উপর আস্থা বজায় রাখাই এই পরিকল্পনার অন্যতম স্তম্ভ।বিশ্ব ক্রিকেটে এখন প্রতিযোগিতা আগের তুলনায় অনেক বেশি। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড এবং পাকিস্তানের মতো দলগুলিও নিজেদের শক্তি বাড়াচ্ছে। তাই ২০২৭ সালের বিশ্বকাপে সফল হতে গেলে ভারতকে শুধু প্রতিভাবান দল নয়, মানসিকভাবে দৃঢ় এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সমন্বয়ে গড়া একটি শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে তৈরি হতে হবে।সব মিলিয়ে, ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন পরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলছে। তরুণ প্রতিভাদের পাশাপাশি বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা তৈরি করতে চাইছেন প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। এই কৌশল সফল হলে আগামী বিশ্বকাপে ভারত আরও শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে মাঠে নামতে পারে বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।
২০২৭ বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় কোহলি-রোহিতের উপর গম্ভীরের ভরসা
Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.


