ভারতের অর্থনীতির জন্য বড় স্বস্তির খবর সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগের গতি কিছুটা মন্থর হলেও বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (FDI) আকর্ষণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে ভারত। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পরিমাণ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় **৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে** পৌঁছেছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বৃদ্ধি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। অনেক দেশ যেখানে বিদেশি বিনিয়োগে ধাক্কা খেয়েছে, সেখানে ভারত বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থিতিশীল অর্থনৈতিক নীতি, দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়ন, বৃহৎ ভোক্তা বাজার, ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসার এবং সরকারের শিল্পবান্ধব উদ্যোগ বিদেশি সংস্থাগুলিকে ভারতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে।
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (UNCTAD)-এর বিশ্ব বিনিয়োগ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে ভারতের FDI ছিল প্রায় ২৭.১ বিলিয়ন ডলার। মাত্র এক বছরের মধ্যে তা বেড়ে ৩৮.৯ থেকে ৩৯ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা প্রায় ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। এই প্রবৃদ্ধি বৈশ্বিক গড় বৃদ্ধির তুলনায় অনেক বেশি।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, উৎপাদন-ভিত্তিক প্রণোদনা (PLI) প্রকল্প, ডিজিটাল ইন্ডিয়া কর্মসূচি এবং উৎপাদন খাতে বহুজাতিক সংস্থাগুলির আগ্রহ ভারতের প্রতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিক্স, নবায়নযোগ্য শক্তি, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং অবকাঠামো খাতেও বিদেশি মূলধনের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল বড় অর্থনীতি। বিশাল জনসংখ্যা, দক্ষ মানবসম্পদ, ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায়িক পরিবেশ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ভারতকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক সংস্থাগুলি এখন তাদের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে বৈচিত্র্যময় করতে চাইছে, যার ফলে ভারত বড় সুবিধা পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে নতুন শিল্প স্থাপন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এর পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্বের সুযোগ পেতে পারে।
যদিও এই সাফল্যের পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। জমি অধিগ্রহণ, প্রশাসনিক জটিলতা, দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন এবং দক্ষ কর্মী তৈরির মতো বিষয়গুলিতে আরও উন্নতি প্রয়োজন বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এই ক্ষেত্রগুলিতে সংস্কার অব্যাহত থাকলে আগামী বছরগুলিতেও বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ আরও বাড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারত যে ধারাবাহিকভাবে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করছে, তা দেশের অর্থনীতির প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থারই প্রতিফলন। আগামী দিনে উৎপাদন, প্রযুক্তি, সবুজ জ্বালানি এবং অবকাঠামো খাতে আরও বড় বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল বলে মনে করা হচ্ছে।


