দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ঘটে যাওয়া বহুল চর্চিত ধর্ষণ ও খুনের মামলায় বড় মোড় এল। তদন্তের মাঝেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্তের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে তদন্তের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের সময় সে পালানোর চেষ্টা করে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলারও চেষ্টা করে। সেই পরিস্থিতিতেই আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বারুইপুরের ওই নৃশংস ধর্ষণ-খুন মামলার তদন্তে একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ঘটনাস্থল থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ এখনও উদ্ধার করা বাকি রয়েছে। সেই কারণেই অন্যতম অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় তদন্তকারী দল। অভিযোগ, সেখানে পৌঁছেই অভিযুক্ত আচমকা পুলিশের হাত থেকে ছুটে পালানোর চেষ্টা করে।
শুধু পালানোর চেষ্টাই নয়, তদন্তকারী আধিকারিকদের কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করে বলে দাবি পুলিশের। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে শুরু করলে প্রথমে অভিযুক্তকে সতর্ক করা হয়। কিন্তু তাতেও সে না থামায় শেষ পর্যন্ত আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয় বলে দাবি করেছে পুলিশ।
গুলিবিদ্ধ অভিযুক্তকে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার পর গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে বিশাল পুলিশ বাহিনী। কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে।
এই এনকাউন্টারের খবর সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধীদের একাংশ এই ঘটনায় প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। তাদের দাবি, গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং পুলিশের বয়ান খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, আইন মেনেই সমস্ত পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই বারুইপুরে এক তরুণীকে ধর্ষণের পর খুনের অভিযোগ সামনে আসে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় প্রবল ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানান। তদন্তে নেমে পুলিশ অল্প সময়ের মধ্যেই একাধিক সন্দেহভাজনকে আটক করে এবং পরে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
ফরেন্সিক রিপোর্ট, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগোতে থাকে। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও মিলেছে, যার ভিত্তিতে মামলার একাধিক দিক স্পষ্ট হয়েছে। যদিও তদন্ত এখনও সম্পূর্ণ শেষ হয়নি এবং বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিট তৈরির কাজ চলছে।
এদিকে নিহত অভিযুক্তের মৃত্যুর পর গোটা ঘটনাকে ঘিরে আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এনকাউন্টারের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রিয়াল তদন্ত, ব্যালিস্টিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। পাশাপাশি অভিযুক্তের ময়নাতদন্তের রিপোর্টও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশের এনকাউন্টার সংক্রান্ত প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রেই স্বচ্ছ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে একদিকে যেমন পুলিশের পদক্ষেপের যথার্থতা যাচাই হয়, তেমনই সাধারণ মানুষের আস্থাও বজায় থাকে। অন্যদিকে বারুইপুরের এই নৃশংস ধর্ষণ-খুন মামলায় দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তির দাবিও ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।
বর্তমানে গোটা ঘটনার উপর নজর রাখছে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। তদন্তের স্বার্থে বাকি অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদও চলছে। পুলিশের দাবি, মামলার সমস্ত তথ্য-প্রমাণ আদালতে পেশ করা হবে এবং আইন অনুযায়ী দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।


