রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলা এবং কর্মসংস্থানের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে একাধিক প্রকল্প ইতিমধ্যেই চালু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। যুবশ্রী (আগের যুবসাথী) প্রকল্পের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে নথিভুক্ত বেকারদের মাসিক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। এবার সেই উদ্যোগকে আরও সুসংগঠিত করতে **’যুবশক্তি ভরসা কার্ড’** নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে যোগ্য উপভোক্তাদের সরকারি পরিষেবা ও আর্থিক সহায়তার সুবিধা আরও সহজভাবে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি বেকার যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারি সূত্রের দাবি, ভবিষ্যতে ডিজিটাল পরিষেবাকে আরও সহজ করতে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের তথ্য একটি নির্দিষ্ট পরিচয়ভিত্তিক ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ নিয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের **যুবশ্রী প্রকল্প** (আগে যার নাম ছিল যুবসাথী) দীর্ঘদিন ধরেই কর্মসংস্থান দফতরে নথিভুক্ত যোগ্য বেকার যুবক-যুবতীদের মাসিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করে আসছে। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল চাকরির সন্ধানরত যুবকদের কিছুটা আর্থিক স্বস্তি দেওয়া এবং তাঁদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা। বর্তমানে প্রকল্পের আওতায় নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী আবেদনকারীরা মাসিক ভাতা পান এবং চাকরির সুযোগ সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিষেবার সুবিধাও গ্রহণ করতে পারেন।
যুবশক্তি ভরসা কার্ড নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তার অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে উপভোক্তাদের তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা এবং সরকারি পরিষেবায় দ্রুত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। এর ফলে আবেদনকারীদের বারবার নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন কমতে পারে এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা একত্রে পাওয়া সহজ হতে পারে। যদিও এই বিষয়ে সরকারিভাবে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সরকারি পরিষেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রদান করার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। ডিজিটাল পরিচয়পত্র বা স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থার ফলে পরিষেবার স্বচ্ছতা বাড়ে এবং ভুয়ো উপভোক্তা শনাক্ত করাও সহজ হয়। সেই দিক থেকে দেখলে ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর হলে প্রশাসনিক কাজ আরও সহজ হতে পারে।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, **যুবশক্তি ভরসা কার্ড নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যে সব তথ্য বা দাবি ছড়িয়ে পড়েছে, তার সবকটির সরকারি সত্যতা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।** তাই নতুন কোনও সুবিধা, ভাতার পরিমাণ বা আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্যের জন্য রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের বিজ্ঞপ্তি বা সরকারি ওয়েবসাইটের উপরই নির্ভর করা উচিত।
যুবশ্রী প্রকল্পে আবেদন করতে হলে সাধারণত আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হয় এবং কর্মসংস্থান ব্যুরোতে নাম নথিভুক্ত থাকতে হয়। পাশাপাশি নির্দিষ্ট বয়সসীমা ও অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করাও বাধ্যতামূলক। সময়ে সময়ে সরকার এই নিয়মে পরিবর্তন আনতে পারে, তাই আবেদন করার আগে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশিকা দেখে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
অনেক চাকরিপ্রার্থী মনে করছেন, যদি ভবিষ্যতে যুবশক্তি ভরসা কার্ড চালু হয় এবং সেটি বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, তাহলে একাধিক পরিষেবা একই প্ল্যাটফর্মে পাওয়া সম্ভব হবে। এতে সরকারি সহায়তা গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হতে পারে। যদিও এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা বাস্তবায়নের সময়সূচি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র আর্থিক ভাতা নয়, দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ এবং বেসরকারি শিল্পে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উপর সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের পদক্ষেপই বেকারত্ব কমাতে বেশি কার্যকর হতে পারে।
সব মিলিয়ে, যুবশ্রী প্রকল্প ইতিমধ্যেই বহু বেকার যুবক-যুবতীকে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। অন্যদিকে, যুবশক্তি ভরসা কার্ড নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তার বাস্তব রূপ কী হবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তাই নতুন কোনও ঘোষণা বা সুবিধা সম্পর্কে বিভ্রান্ত না হয়ে শুধুমাত্র সরকারি বিজ্ঞপ্তির উপর নির্ভর করাই সবচেয়ে নিরাপদ।


