দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় আবারও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। গত কয়েকদিন ধরে কোথাও রোদের ঝলক, কোথাও আবার দফায় দফায় বৃষ্টির জেরে অস্বস্তিকর আবহাওয়া বিরাজ করছে। তবে শনিবার, ৪ জুলাই থেকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর ফলে গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি কিছুটা কমলেও বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টির কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের ওপর সক্রিয় নিম্নচাপ অক্ষরেখা এবং শক্তিশালী মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর জেরে কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উপকূলবর্তী এবং গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে।
কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ এবং ঝাড়গ্রামের মতো জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দিনের বিভিন্ন সময়ে মেঘলা আকাশ, দমকা হাওয়া এবং বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক জনজীবনে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ফলে বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কৃষিজমিতে কাজ করা কৃষক, নদী বা জলাশয়ের ধারে থাকা মানুষ এবং খোলা মাঠে অবস্থানকারীদের বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
বৃষ্টির জেরে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। গত কয়েকদিনের তুলনায় আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিও খানিকটা হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৃষ্টির বিরতিতে রোদ উঠলে আবারও ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে। অর্থাৎ আবহাওয়ার ওঠানামা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
এদিকে, ভারী বৃষ্টির কারণে কলকাতা ও শহরতলির নিচু এলাকায় জল জমার আশঙ্কা রয়েছে। অফিসযাত্রী, ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ মানুষকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে আবহাওয়ার সর্বশেষ আপডেট দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যানজট, ধীরগতির যান চলাচল এবং কিছু এলাকায় জল জমার কারণে যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।
মৎস্যজীবীদের জন্যও সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। সমুদ্র উত্তাল থাকার সম্ভাবনা থাকায় নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষদেরও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে চলতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি বায়ু এখন সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। ফলে আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলাতেই বিক্ষিপ্ত থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলতে পারে। কোথাও কোথাও স্বল্প সময়ের মধ্যে ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে কৃষিক্ষেত্র উপকৃত হলেও অতিবৃষ্টির ফলে জলনিকাশি সমস্যাও তৈরি হতে পারে।
কৃষকদের উদ্দেশ্যে বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে জমিতে অতিরিক্ত জল জমতে না দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে কাজ না করাই নিরাপদ। শহরাঞ্চলে পুরনো গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি বা দুর্বল কাঠামোর কাছেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, শনিবার দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় বৃষ্টির প্রভাব আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে একদিকে যেমন গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি মিলবে, অন্যদিকে বজ্রবিদ্যুৎ, দমকা হাওয়া এবং ভারী বৃষ্টির কারণে সাধারণ মানুষকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আবহাওয়া দফতরের পরবর্তী আপডেটের ওপর নজর রাখাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।


