ডেরা সচ্চা সৌদার প্রধান গুরমিত রাম রহিম সিংকে ফের জেল থেকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হল। এবার **২১ দিনের furlough**-এ জেল থেকে বেরিয়েছেন তিনি। ২০১৭ সালে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় সাজা পাওয়ার পর থেকে এই নিয়ে ১৭ বার জেল থেকে সাময়িকভাবে বাইরে এলেন তিনি। মাত্র তিন মাস আগে, মে মাসের শেষ সপ্তাহে ৩০ দিনের ছুটি পেয়েছিলেন রাম রহিম। তার পরেই ফের ২১ দিনের ছুটি মঞ্জুর হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে হরিয়ানার রোহতকের সুনারিয়া জেল থেকে বেরিয়ে সিরসার ডেরার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।
রাম রহিমের বারবার প্যারোল বা furlough পাওয়ার বিষয়টি বহুদিন ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রে। গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত একজন বন্দি কীভাবে এত ঘন ঘন সাময়িক মুক্তি পাচ্ছেন, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন রয়েছে। সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৭ সালে জেলে যাওয়ার পর গত ন’বছরে মোট ১৭ বার জেল থেকে ছুটি পেয়েছেন তিনি।
## আবারও ২১ দিনের সাময়িক মুক্তি
মঙ্গলবার সকালে রোহতকের সুনারিয়া জেল থেকে বেরিয়ে যান গুরমিত রাম রহিম সিং। নতুন করে তাঁকে ২১ দিনের furlough দেওয়া হয়েছে। এই সময় তিনি তাঁর ডেরার সঙ্গে যুক্ত স্থানে থাকবেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর এই সাময়িক মুক্তির খবর প্রকাশ্যে আসতেই ফের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রাম রহিমের ক্ষেত্রে প্যারোল এবং furlough—দুই ধরনের সাময়িক মুক্তিই অতীতে দেখা গিয়েছে। যদিও দুটির আইনি কাঠামো এক নয়, সাধারণ মানুষের কাছে দুটিই জেল থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাইরে থাকার সুযোগ হিসেবে পরিচিত।
এইবারের মুক্তির সময়কাল ২১ দিন। অর্থাৎ, তিন সপ্তাহের জন্য তিনি জেলের বাইরে থাকবেন।
## মে মাসেই পেয়েছিলেন ৩০ দিনের ছুটি
সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে সাম্প্রতিক সময়ের ব্যবধান নিয়ে। চলতি বছরের মে মাসের শেষ সপ্তাহে রাম রহিম ৩০ দিনের ছুটিতে জেল থেকে বেরিয়েছিলেন। সেই ছুটি শেষ হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যে ফের ২১ দিনের furlough মঞ্জুর হয়েছে।
ফলে তাঁর মুক্তির ধারাবাহিকতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একজন সাজাপ্রাপ্ত বন্দির ক্ষেত্রে এত ঘন ঘন সাময়িক মুক্তি কতটা স্বাভাবিক, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
রাম রহিম অবশ্য এর আগেও একাধিকবার একই ধরনের ছুটি পেয়েছেন। ২০২৬ সালেও জানুয়ারিতে ৪০ দিনের ছুটি এবং মে মাসে ৩০ দিনের ছুটি পাওয়ার পর এবার ফের ২১ দিনের মুক্তি পেলেন তিনি।
## ন’বছরে ১৭ বার জেলের বাইরে
রাম রহিম ২০১৭ সালে দোষী সাব্যস্ত হয়ে জেলে যাওয়ার পর থেকেই তাঁর সাময়িক মুক্তির সংখ্যা নজর কেড়েছে। সংবাদ প্রতিদিনের হিসাবে, ন’বছরের মধ্যে তিনি ১৭ বার জেল থেকে ছুটি পেয়েছেন।
এর মধ্যে কখনও কয়েক সপ্তাহ, কখনও এক মাস, আবার কখনও ৪০ দিন বা তারও বেশি সময়ের জন্য জেলের বাইরে থেকেছেন তিনি। অতীতে নির্বাচনের সময়ও তাঁর সাময়িক মুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এই কারণেই প্রতিবার তাঁর নতুন করে প্যারোল বা furlough মঞ্জুর হওয়ার খবর সামনে এলেই তা রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়।
## ২০২৫ সালেও একাধিকবার ছুটি
গত বছরও রাম রহিমের সাময়িক মুক্তির ঘটনা একাধিকবার সামনে এসেছিল। জানুয়ারি মাসে ২০ দিনের প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয় তাঁকে। এরপর এপ্রিল মাসে আরও ২১ দিনের প্যারোল এবং আগস্টে ৪০ দিনের প্যারোলে বাইরে আসেন তিনি।
এরপর মে মাসের শেষ সপ্তাহে আরও ৩০ দিনের ছুটি পান। অর্থাৎ, সাজা ভোগ করার সময়ের তুলনায় সাময়িক মুক্তির সংখ্যাও যথেষ্ট বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ধারাবাহিকতাই এবার নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—রাম রহিমের ক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন এতবার সাময়িক মুক্তির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে?
## ২০২০ থেকে ২০২৫: ৩২৬ দিন প্যারোলে
সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে মোট **৩২৬ দিন প্যারোলে** জেলের বাইরে ছিলেন রাম রহিম।
এই পরিসংখ্যানই তাঁর সাময়িক মুক্তি নিয়ে বিতর্কের অন্যতম বড় কারণ। কারণ কয়েক বছর ধরে নিয়মিত ব্যবধানে তিনি প্যারোল বা furlough পেয়েছেন।
ফলে এবার ২১ দিনের নতুন ছুটি ঘোষণার পর তাঁর অতীতের সাময়িক মুক্তির হিসাবও ফের সামনে এসেছে।
## ধর্ষণ ও খুনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত
গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং খুনের মতো গুরুতর অপরাধে মামলা রয়েছে। ২০১৭ সালে দুই শিষ্যাকে ধর্ষণের মামলায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে সেই সাজাই ভোগ করছেন তিনি।
এছাড়াও ডেরা সচ্চা সৌদার প্রাক্তন ম্যানেজার রণজিৎ সিং হত্যাকাণ্ডে তাঁর বিরুদ্ধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে। ফলে তাঁর অপরাধের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
এই কারণেই তাঁর ঘন ঘন সাময়িক মুক্তির বিষয়টি সাধারণ বন্দিদের সঙ্গে তুলনা করে দেখা হচ্ছে।
## ২০১৭ সালে জেলযাত্রা
২০১৭ সালটি রাম রহিমের জীবনে বড় পরিবর্তনের বছর। সেই বছর দুই মহিলা শিষ্যাকে ধর্ষণের মামলায় আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে। পরে তাঁকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সাজা ঘোষণার পর তাঁকে হরিয়ানার রোহতকের সুনারিয়া জেলে রাখা হয়। এরপর থেকেই তাঁর জেলজীবনের পাশাপাশি প্যারোল ও furlough-এর ঘটনাগুলিও বারবার সংবাদ শিরোনামে এসেছে।
প্রতিবার সাময়িক মুক্তির সময় তাঁর নিরাপত্তা এবং কোথায় থাকবেন, তা নিয়েও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
## নির্বাচন এলেই কেন বিতর্ক বাড়ে?
রাম রহিমের প্যারোলের সঙ্গে রাজনৈতিক সময়সূচির সম্পর্ক নিয়ে অতীতে একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে হরিয়ানা এবং পাঞ্জাবের মতো রাজ্যে তাঁর বিপুল সংখ্যক অনুসারী থাকায় রাজনৈতিক দলগুলির জন্য তাঁর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থানে তাঁর ডেরার বিপুল ভক্ত রয়েছেন। এই ভক্তদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলি বিবেচনা করে কি না, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এই ধরনের রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট দলের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো প্রমাণ এখানে উল্লেখ করা হয়নি।
## অতীতেও ভোটের সময় মুক্তি
রাম রহিমের সাময়িক মুক্তি নিয়ে বিতর্কের অন্যতম কারণ হল, অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনের আগে বা নির্বাচনী সময়কালে তাঁর প্যারোলের বিষয়টি সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনের আগেও তাঁর প্যারোল নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সে সময় তাঁর উপর একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।
এই ধরনের ঘটনার পর থেকেই তাঁর প্যারোলকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রভাবের প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
## এবার কোথায় যাবেন রাম রহিম?
মঙ্গলবার সুনারিয়া জেল থেকে বেরিয়ে রাম রহিম সিরসার ডেরার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
অতীতে অবশ্য তাঁকে উত্তরপ্রদেশের বাগপতের বারনাওয়া আশ্রমেও থাকতে দেখা গিয়েছে। সাময়িক মুক্তির শর্ত অনুযায়ী কোন জায়গায় থাকবেন, তা প্রশাসনের অনুমতির সঙ্গে যুক্ত থাকে।
এবারের ২১ দিনের ছুটিতে তাঁর অবস্থান ও চলাফেরার উপরও নির্দিষ্ট শর্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
## প্যারোল ও furlough নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
রাম রহিমের ঘটনা সামনে আসার পর প্যারোল এবং furlough নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই বন্দিকে সাময়িকভাবে জেলের বাইরে থাকার অনুমতি দেওয়া হলেও আইনি ভিত্তি ও উদ্দেশ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
Furlough সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্দিকে সাময়িকভাবে মুক্ত থাকার সুযোগ দেয় এবং কারা-আইনের নির্দিষ্ট নিয়মের অধীনে তা মঞ্জুর করা হয়। অন্যদিকে প্যারোল সাধারণত নির্দিষ্ট কারণ বা পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
তাই রাম রহিমের প্রতিটি সাময়িক মুক্তি কী নিয়মের অধীনে হয়েছে, সেই বিষয়টি প্রশাসনিক নথি ও সংশ্লিষ্ট আইনি বিধির ভিত্তিতেই বিচার করা উচিত।
## বারবার ছুটি নিয়ে প্রশ্ন
রাম রহিমের ক্ষেত্রে বিতর্কের মূল জায়গা শুধু এবারের ২১ দিনের furlough নয়। বরং গত কয়েক বছরে বারবার সাময়িক মুক্তির সুযোগ পাওয়ার বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন তুলেছে।
বহু বন্দি দীর্ঘদিন জেলে থাকার পরও প্যারোল বা furlough পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার মুখোমুখি হন। সেই তুলনায় একজন গুরুতর অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত বন্দি যদি বারবার জেলের বাইরে থাকার সুযোগ পান, তাহলে কারা প্রশাসনের নিয়মের প্রয়োগ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়।
এই বৈপরীত্যের কারণেই রাম রহিমের নতুন ছুটি নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে।
## সুপ্রিম কোর্টের নজরেও বিষয়টি
রাম রহিমের ঘন ঘন সাময়িক মুক্তির বিষয়টি আইনি মহলেও নজর কেড়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর নিয়মিত প্যারোলের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট সিবিআইয়ের কাছেও জবাব চেয়েছে।
এর ফলে বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; আইনি পর্যালোচনার বিষয়ও হয়ে উঠেছে।
তবে নতুন ২১ দিনের furlough-এর বৈধতা বা শর্ত নিয়ে আদালত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছে—এমন তথ্য এই প্রতিবেদনে নেই।
## ডেরা সচ্চা সৌদার ভক্তদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া
রাম রহিমের বিপুল সংখ্যক অনুসারী রয়েছে। তাঁর সাময়িক মুক্তির সময় ডেরা সচ্চা সৌদার ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যায়। অতীতেও জেল থেকে বেরিয়ে তিনি অনলাইন মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়েছেন।
তাঁর অনুসারীদের কাছে তিনি এখনও ধর্মীয় নেতা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার কারণে তাঁর প্রকাশ্য কার্যকলাপ নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে।
এই দ্বৈত পরিস্থিতির কারণেই তাঁর প্রতিটি মুক্তি সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
## সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন
রাম রহিমকে ২১ দিনের furlough দেওয়ার সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কারা কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের সময় এবং তাঁর আগের মুক্তির ইতিহাসের কারণে প্রশ্ন উঠছে।
মাত্র তিন মাস আগে ৩০ দিনের ছুটি পাওয়ার পর ফের ২১ দিনের ছুটি পাওয়ায় সমালোচকদের প্রশ্ন—একই বন্দিকে এত ঘন ঘন মুক্তির সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কী বিশেষ কারণ কাজ করছে?
এই প্রশ্নের উত্তর প্রশাসনের পক্ষ থেকেই স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
## এবার ২১ দিন কীভাবে কাটবে?
আগামী ২১ দিন রাম রহিম জেলের বাইরে থাকবেন। এই সময় তাঁর অবস্থান, যাতায়াত এবং প্রকাশ্য কার্যকলাপ প্রশাসনের নজরে থাকবে। অতীতে তাঁর প্যারোলের সময় একাধিক শর্ত আরোপ করা হয়েছিল।
সাময়িক মুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকে। তাই এবারও তাঁর ছুটির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ কার্যকর থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
## বিতর্ক কি থামবে?
রাম রহিমের সাময়িক মুক্তি নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০১৭ সালের পর থেকে প্রায় প্রতিবারই তাঁর প্যারোল বা furlough নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা হয়েছে।
এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। বরং মে মাসের ৩০ দিনের ছুটির পর মাত্র তিন মাসের মধ্যে নতুন করে ২১ দিনের ছুটি পাওয়ায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিতর্কের অবসান ঘটাতে হলে প্যারোল ও furlough সংক্রান্ত নিয়মগুলি কীভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে, তা স্বচ্ছভাবে সামনে আনা প্রয়োজন।
## শেষ কথা
গুরমিত রাম রহিম সিং ফের জেলের বাইরে। ২১ দিনের furlough মঞ্জুর হওয়ার পর মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে রোহতকের সুনারিয়া জেল থেকে বেরিয়ে যান তিনি। এই নিয়ে ২০১৭ সালে জেলে যাওয়ার পর তাঁর সাময়িক মুক্তির সংখ্যা ১৭-তে পৌঁছেছে বলে সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, মাত্র তিন মাস আগে মে মাসের শেষ সপ্তাহে তিনি ৩০ দিনের ছুটি পেয়েছিলেন। তার আগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেও ৪০ দিনের ছুটি পেয়েছিলেন। ফলে একই বছরে বারবার সাময়িক মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ধর্ষণ ও খুনের মতো গুরুতর অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত একজন বন্দির ক্ষেত্রে নিয়মিত প্যারোল ও furlough নিয়ে যে বিতর্ক রয়েছে, তা এবারও সামনে এসেছে। একইসঙ্গে তাঁর বিপুল ভক্তসমাজ এবং অতীতে নির্বাচনের সময় তাঁর মুক্তি পাওয়ার ঘটনাগুলিও রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে।
এখন দেখার, ২১ দিনের এই ছুটি শেষ হওয়ার পর তিনি নির্ধারিত সময়ে জেলে ফেরেন কি না এবং ভবিষ্যতে তাঁর সাময়িক মুক্তির ক্ষেত্রে প্রশাসন কী অবস্থান নেয়। এই মুহূর্তে তাঁর নতুন furlough ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই—**গুরুতর অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত রাম রহিমের ক্ষেত্রে বারবার সাময়িক মুক্তির এই ধারাবাহিকতা আর কতদিন চলবে?**


