Thursday, September 17, 2026

Creating liberating content

আইসিসি টি-২০ র‍্যাঙ্কিংয়ে ভারতীয়...

আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটে ভারতীয় ব্যাটারদের দাপট অব্যাহত। আইসিসির সদ্য প্রকাশিত টি-২০ আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ে...

শেয়ার বাজার পড়লে কী...

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করেন? তাহলে বাজারের ওঠানামা নিয়ে চিন্তা হওয়া স্বাভাবিক। কখনও সূচক...

অরিজিতের জন্যই ‘কিং’-এর গান...

শাহরুখ খান এবং অরিজিৎ সিং—বলিউডের দুই জনপ্রিয় তারকার যুগলবন্দি নিয়ে বরাবরই আগ্রহ থাকে...

আইটিসির সিগারেটের দাম বাড়ল,...

ফের বাড়ল আইটিসির একাধিক জনপ্রিয় সিগারেটের দাম। বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ প্রকাশিত রিপোর্ট...
HomeUncategorizedভূমিকম্পে প্রাণ বাঁচাবে...

ভূমিকম্পে প্রাণ বাঁচাবে ক্যাপসুল, পেটেন্ট পেলেন দুর্গাপুরের কর্মী

ভূমিকম্পের মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধসে পড়া বাড়ি বা বহুতলের নিচে আটকে পড়া মানুষের প্রাণ বাঁচাতে অভিনব একটি নিরাপত্তা-ক্যাপসুল তৈরি করেছেন দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের কর্মী অভিজিৎকুমার চন্দ। তাঁর তৈরি **‘Seismic Protection Unit’** বা সিসমিক প্রোটেকশন ইউনিট ইতিমধ্যেই পেয়েছে ভারত সরকারের পেটেন্ট। গত ৬ আগস্ট ২০২৬ এই উদ্ভাবনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে পেটেন্ট মঞ্জুর হয়। সম্প্রতি দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের ডিআইসি কনফারেন্স হলে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ডিআইসি সুরজিত মিশ্র তাঁর হাতে পেটেন্টের শংসাপত্র তুলে দেন। 

দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের সিন্টার প্ল্যান্টে কর্মরত অভিজিৎকুমার চন্দের এই আবিষ্কার শুধুমাত্র একটি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়, বরং দীর্ঘদিনের চিন্তা ও ব্যক্তিগত অনুপ্রেরণার ফল। ২০০১ সালের ভয়াবহ গুজরাত ভূমিকম্প তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। সেই বিপর্যয়ে বিপুল প্রাণহানির ঘটনা তাঁকে ভাবতে বাধ্য করে, ভূমিকম্পের সময় যদি বাড়ি বা বহুতন ধসে পড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার কোনও কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করা যায় কি না। সেই ভাবনা থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নেয় এই সিসমিক প্রোটেকশন ইউনিটের ধারণা। 

## কী এই সিসমিক প্রোটেকশন ইউনিট?

অভিজিৎ চন্দের পরিকল্পিত এই বিশেষ ক্যাপসুল মূলত একটি সুরক্ষিত জরুরি আশ্রয়স্থল। ক্যাপসুলটি কার্বন ফাইবার অথবা স্টিল দিয়ে তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ভিতরে থাকবে ফোমের একটি সুরক্ষা স্তর, যা ভূমিকম্পের সময় বাইরের ধাক্কা বা কম্পনের প্রভাব কিছুটা কমাতে সাহায্য করবে।

এই ক্যাপসুলে জরুরি পরিস্থিতির জন্য কয়েকদিনের শুকনো খাবার, জল এবং টর্চ রাখার ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি ভিতরে যাতে অক্সিজেন পৌঁছতে পারে, সেই ব্যবস্থাও থাকবে। ফলে কোনও বাড়ি বা বহুতল ধসে পড়লেও ক্যাপসুলের ভিতরে আশ্রয় নেওয়া মানুষ কিছু সময় নিরাপদে থাকতে পারবেন এবং উদ্ধারকারী দল তাঁদের কাছে পৌঁছনোর সুযোগ পাবে। 

## বাড়ির বাইরে রাখা হবে ক্যাপসুল

এই উদ্ভাবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল ক্যাপসুলটি বাড়ি বা ফ্ল্যাটের বাইরে রাখার পরিকল্পনা। অর্থাৎ ভূমিকম্প শুরু হলে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ওই ক্যাপসুলের ভিতরে আশ্রয় নিতে পারবেন।

ধসের সময় সবচেয়ে বড় বিপদ হয় বাড়ির ছাদ, দেওয়াল, কংক্রিটের অংশ কিংবা আসবাবপত্র ভেঙে পড়া। সাধারণ ঘরের ভিতরে থাকলে মানুষ সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়তে পারেন। কিন্তু আলাদা করে শক্তিশালী কাঠামোর মধ্যে আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ থাকলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হতে পারে।

অভিজিৎবাবুর পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাড়ি বা আবাসন ধসে পড়লেও ক্যাপসুলটি স্প্রিংয়ের সাহায্যে ঝুলে থাকবে। ফলে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে পুরোপুরি চাপা পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমবে। ক্যাপসুলটির রং লাল রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে উদ্ধারকারীদের নজরে সহজে আসে। 

## সাতদিনের জরুরি সরঞ্জামের ব্যবস্থা

ভূমিকম্পের পরে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছতে অনেক সময় লেগে যেতে পারে। বিশেষ করে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে রাস্তা, সেতু এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার করতে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

এই বাস্তব পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই ক্যাপসুলের ভিতরে সাতদিনের শুকনো খাবার, জল এবং টর্চ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। অর্থাৎ ক্যাপসুলটি শুধুমাত্র কয়েক মিনিটের জন্য নিরাপত্তা দেওয়ার জায়গা নয়, বরং দীর্ঘ সময় আটকে পড়লেও মানুষের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হচ্ছে।

## ২০০১ সালের ভূমিকম্প থেকেই অনুপ্রেরণা

অভিজিৎ চন্দের এই উদ্ভাবনের পিছনে রয়েছে ২০০১ সালের ২৬ জানুয়ারির গুজরাত ভূমিকম্পের স্মৃতি। সেই ভয়াবহ ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংস এবং প্রাণহানি তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।

সাধারণ মানুষের জন্য এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করার ভাবনা তাঁর মাথায় আসে, যেখানে ভূমিকম্পের সময় বাড়ি ভেঙে পড়লেও মানুষ একটি শক্তিশালী সুরক্ষিত কাঠামোর মধ্যে আশ্রয় নিতে পারবেন।

এরপর বছরের পর বছর ধরে তিনি নিজের ধারণাটি বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যান। বিভিন্ন সংস্থা এবং ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অনেকেই তাঁর পরিকল্পনার প্রশংসা করলেও বাস্তবে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার সুযোগ সহজে আসেনি।

## সহজে থামেননি অভিজিৎ

কোনও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ধারণা তৈরি করা যতটা কঠিন, সেটিকে আইনি স্বীকৃতি দিয়ে বাস্তব প্রয়োগের দিকে নিয়ে যাওয়া আরও কঠিন। অভিজিৎ চন্দের ক্ষেত্রেও সেই দীর্ঘ পথ পেরোতে হয়েছে।

বিভিন্ন জায়গায় তাঁর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হলেও দীর্ঘদিন পর্যন্ত বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়নি। কিন্তু তিনি নিজের ধারণা থেকে সরে আসেননি। শেষ পর্যন্ত উদ্ভাবনটির মেধাস্বত্ব সুরক্ষিত করতে পেটেন্টের জন্য আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেন।

দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার পর অবশেষে ৬ আগস্ট ২০২৬ ভারত সরকারের কাছ থেকে তাঁর উদ্ভাবনের পেটেন্ট অনুমোদিত হয়। 

## দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টে সম্মান

পেটেন্ট পাওয়ার পর দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টেও এই সাফল্য নিয়ে গর্বের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ডিআইসি কনফারেন্স হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ডিআইসি সুরজিত মিশ্র অভিজিৎকুমার চন্দের হাতে পেটেন্টের শংসাপত্র তুলে দেন।

এই আবিষ্কারকে মানবকল্যাণের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। SAIL-এর দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের এক কর্মীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে এমন একটি প্রযুক্তির পেটেন্ট পাওয়া শিল্প সংস্থার জন্যও উল্লেখযোগ্য ঘটনা। 

## মেয়ের অবদানও স্মরণ করলেন

নিজের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে অভিজিৎ চন্দ বিশেষভাবে তাঁর মেয়ে অঙ্কিতার কথা উল্লেখ করেছেন। পেটেন্ট পাওয়ার জন্য যে সরকারি এবং প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয়েছে, সেখানে অঙ্কিতা তাঁকে গুরুত্বপূর্ণভাবে সহযোগিতা করেছেন।

অভিজিৎবাবুর বক্তব্য অনুযায়ী, এই দীর্ঘ যাত্রায় পরিবারের সমর্থন তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। ফলে পেটেন্ট পাওয়ার সাফল্যকে তিনি শুধু নিজের অর্জন হিসেবে দেখছেন না; পরিবারের সহযোগিতাকেও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে মনে করছেন। 

## শুধু পেটেন্টেই থামতে চান না

পেটেন্ট পাওয়া নিঃসন্দেহে বড় সাফল্য। কিন্তু অভিজিৎ চন্দের লক্ষ্য আরও বড়। তাঁর তৈরি সিসমিক প্রোটেকশন ইউনিটকে শুধু নকশা বা ধারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না তিনি।

এখন তাঁর লক্ষ্য হল আবিষ্কারটিকে পরীক্ষামূলক পর্যায় থেকে বাস্তব ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা। সেই জন্য বিভিন্ন সংস্থা এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনাও খুঁজছেন। 

## বড় প্রশ্ন—বাস্তবে কতটা কার্যকর?

যে কোনও দুর্যোগ-সুরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নকশার পাশাপাশি বাস্তব পরীক্ষাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভূমিকম্পের সময় শুধু কম্পন নয়, বাড়ি ভেঙে পড়া, ভারী কংক্রিটের ধাক্কা, আগুন, ধুলো এবং বাতাসের ঘাটতির মতো একাধিক বিপদ তৈরি হয়।

তাই এই ক্যাপসুল বাস্তবে কতটা চাপ, আঘাত এবং ধসের ধকল সামলাতে পারবে, তা পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ভিতরে থাকা মানুষের জন্য বায়ু চলাচল, তাপমাত্রা, জরুরি যোগাযোগ এবং উদ্ধার ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বর্তমানে উদ্ভাবনটির পেটেন্ট পাওয়া গেলেও সেটিকে বৃহৎ পরিসরে ব্যবহারের আগে আরও প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এবং উন্নয়ন প্রয়োজন। এটি পেটেন্টের অর্থ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যও মনে করিয়ে দেয়—পেটেন্ট মঞ্জুরি কোনও পণ্যের কার্যকারিতা বা ব্যাপক বাজারে ব্যবহারের সরকারি নিশ্চয়তা নয়।

## ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ

ভারতসহ বিশ্বের বহু অঞ্চল ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। পাহাড়ি এলাকা থেকে শুরু করে ঘনবসতিপূর্ণ শহর—বিভিন্ন জায়গায় ভূমিকম্প হলে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষ করে বহুতল বাড়ির ক্ষেত্রে বিপদ আরও বেশি। একটি ভবন ধসে পড়লে ভিতরে থাকা মানুষদের দ্রুত উদ্ধার করা কঠিন হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে আগাম প্রস্তুতি এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষার ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই দিক থেকে সিসমিক প্রোটেকশন ইউনিটের মতো ধারণা ভবিষ্যতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নতুন চিন্তার জায়গা তৈরি করতে পারে।

## কেন এমন ক্যাপসুলের প্রয়োজন?

ভূমিকম্পের অন্যতম সমস্যা হল এটি অনেক ক্ষেত্রেই খুব অল্প সময়ের মধ্যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করে। মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে নিরাপদ জায়গায় যাওয়ার সুযোগ নাও পেতে পারেন।

অনেক সময় আতঙ্কের কারণে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। আবার ভবন ধসে পড়লে বাইরে যাওয়ার পথও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই বাড়ির কাছে একটি নির্দিষ্ট নিরাপদ আশ্রয়স্থল থাকলে জরুরি মুহূর্তে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হতে পারে।

অভিজিৎ চন্দের পরিকল্পনার মূল ভাবনাটিও এখানেই—দুর্যোগের মুহূর্তে পালানোর পরিবর্তে একটি সুরক্ষিত কাঠামোর মধ্যে আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা।

## লাল রঙের বিশেষত্ব

ক্যাপসুলটির লাল রঙ রাখার পরিকল্পনাও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে উদ্ধারকারীদের জন্য কোনও নির্দিষ্ট সুরক্ষা ইউনিট দ্রুত শনাক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

লাল রং দূর থেকেই তুলনামূলকভাবে সহজে চোখে পড়ে। ফলে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ক্যাপসুলটি দৃশ্যমান থাকলে উদ্ধারকারী দল দ্রুত সেটিকে চিহ্নিত করতে পারে—এমনটাই পরিকল্পনার অংশ।

অবশ্য বাস্তব ব্যবহারের আগে এই ধরনের দৃশ্যমানতা ও উদ্ধার-সহায়ক বৈশিষ্ট্যগুলিও পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

## শুধু প্রযুক্তি নয়, সচেতনতাও জরুরি

ভূমিকম্পের সময় কোনও প্রযুক্তিই একা মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারে না। ভূমিকম্প-সহনশীল বাড়ি, সঠিক নির্মাণ পদ্ধতি, জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতা সমান গুরুত্বপূর্ণ।

একই সঙ্গে ভূমিকম্পের সময় কী করতে হবে এবং কী করা উচিত নয়, সেই বিষয়ে প্রশিক্ষণও প্রয়োজন। সিসমিক প্রোটেকশন ইউনিটের মতো কোনও প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলেও মানুষকে সেটি কখন এবং কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, তা জানা দরকার।

## ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক উৎপাদনের লক্ষ্য

অভিজিৎ চন্দের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল তাঁর উদ্ভাবনকে বাস্তব পণ্যে পরিণত করা। একটি প্রোটোটাইপ তৈরি, সেটির নিরাপত্তা পরীক্ষা, উৎপাদন খরচ কমানো এবং সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে দাম রাখা—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ।

যদি ভবিষ্যতে প্রযুক্তিগত পরীক্ষায় এটি সফল হয়, তাহলে আবাসিক ভবন, স্কুল, হাসপাতাল, অফিস এবং ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় এই ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

তবে সেই পর্যায়ে পৌঁছতে গবেষণা, প্রকৌশল পরীক্ষা এবং শিল্প সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।

## দুর্গাপুরের কর্মীর উদ্ভাবনে নতুন আশা

একজন স্টিল প্ল্যান্ট কর্মীর দীর্ঘদিনের চিন্তা থেকে তৈরি হওয়া এই উদ্ভাবন এখন কেন্দ্রীয় সরকারের পেটেন্ট পেয়েছে। ফলে দুর্গাপুরের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও এটি একটি অনুপ্রেরণামূলক ঘটনা।

সাধারণত বড় প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের সঙ্গে গবেষণাগার, বিশ্ববিদ্যালয় বা বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের নাম বেশি জড়িত থাকে। সেখানে কর্মক্ষেত্রের পাশাপাশি নিজের উদ্যোগে এমন একটি জীবনরক্ষাকারী ধারণা নিয়ে কাজ করে পেটেন্ট অর্জন নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য।

## শেষ কথা

দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের সিন্টার প্ল্যান্টের কর্মী অভিজিৎকুমার চন্দের **‘Seismic Protection Unit’** এখন পেয়েছে ভারত সরকারের পেটেন্ট। ২০০১ সালের গুজরাত ভূমিকম্পের ভয়াবহতা তাঁকে যে ভাবনার দিকে ঠেলে দিয়েছিল, দীর্ঘ বছরের প্রচেষ্টার পর সেই ধারণাই এখন সরকারি স্বীকৃতি পেয়েছে। 

কার্বন ফাইবার বা স্টিলের তৈরি এই বিশেষ ক্যাপসুলে ফোমের সুরক্ষা স্তর, জরুরি খাবার, জল এবং টর্চ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। বাড়ি বা ফ্ল্যাটের বাইরে রাখা এই ইউনিট ভূমিকম্পের সময় পরিবারের সদস্যদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য তৈরি করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবন ধসে পড়লেও স্প্রিংয়ের সাহায্যে ক্যাপসুলটি ঝুলে থাকতে পারে এবং লাল রঙের কারণে উদ্ধারকারীদের নজরেও সহজে আসতে পারে। 

তবে পেটেন্ট পাওয়ার পরের ধাপ আরও গুরুত্বপূর্ণ। এই উদ্ভাবনকে বাস্তব ব্যবহারের উপযোগী করতে প্রয়োজন প্রযুক্তিগত পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই, প্রোটোটাইপ উন্নয়ন এবং বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের প্রস্তুতি। অভিজিৎবাবুও এখন সেই লক্ষ্যেই এগোতে চাইছেন। তাঁর এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে ভূমিকম্পের মতো ভয়াবহ দুর্যোগে মানুষের জীবনরক্ষার ক্ষেত্রে নতুন একটি সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। 

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

আইসিসি টি-২০ র‍্যাঙ্কিংয়ে ভারতীয় দুই তারকার দাপট অব্যাহত

আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটে ভারতীয় ব্যাটারদের দাপট অব্যাহত। আইসিসির সদ্য প্রকাশিত টি-২০ আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ে ব্যাটারদের তালিকায় শীর্ষ দুই স্থানেই জায়গা করে নিয়েছেন দুই ভারতীয় তারকা। এক নম্বরে রয়েছেন ঈশান কিষান। দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন অভিষেক শর্মা। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক টি-২০...

শেয়ার বাজার পড়লে কী করবেন, বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করেন? তাহলে বাজারের ওঠানামা নিয়ে চিন্তা হওয়া স্বাভাবিক। কখনও সূচক দ্রুত উপরে ওঠে, আবার কখনও একটানা কয়েকদিন পতন দেখা যায়। বাজার পড়লেই অনেক বিনিয়োগকারীর মনে প্রশ্ন জাগে, এখন কি বিনিয়োগ বন্ধ করে দেওয়া উচিত? নাকি আরও...

অরিজিতের জন্যই ‘কিং’-এর গান আটকে, বড় খবর দিলেন শাহরুখ

শাহরুখ খান এবং অরিজিৎ সিং—বলিউডের দুই জনপ্রিয় তারকার যুগলবন্দি নিয়ে বরাবরই আগ্রহ থাকে অনুরাগীদের। বিশেষ করে শাহরুখের রোম্যান্টিক উপস্থিতির সঙ্গে অরিজিতের মায়াবী কণ্ঠ মিশে গেলে তৈরি হয়েছে একাধিক জনপ্রিয় গান। এবার সেই জুটির নতুন চমক আসতে চলেছে ‘কিং’ ছবিতে।...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.