Monday, August 24, 2026

Creating liberating content

ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন...

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও অর্থনীতিতে ফের বড়সড় চাপ তৈরি হল।...

২০২৭-এ সেনার হাতে দেশীয়...

ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তৈরি হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের আমেঠিতে তৈরি হয়েছে...

ক্রীড়া দিবসে তরুণদের সঙ্গে...

জাতীয় ক্রীড়া দিবসকে সামনে রেখে দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং উঠতি ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে সরাসরি...

চিনির দামবৃদ্ধিতে কড়া শুভেন্দু,...

রাজ্যে হু হু করে বাড়ছে চিনির দাম। কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে...
Homeবাংলাপুতিনের সঙ্গে জয়শঙ্করের...

পুতিনের সঙ্গে জয়শঙ্করের বৈঠক, মোদির বার্তা পৌঁছল মস্কোয়

মস্কোয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সোমবার, ২৪ আগস্ট রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এই বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ব্যক্তিগত বার্তাও রুশ প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দেন জয়শঙ্কর। পাশাপাশি ভারত-রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, অর্থনীতি, জ্বালানি, সার, পরমাণু শক্তি, উচ্চপ্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। 

জয়শঙ্করের এই রাশিয়া সফর এমন এক সময়ে হল, যখন নয়াদিল্লি ও মস্কো নিজেদের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানি এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল ভারত-রাশিয়া আন্তঃসরকারি কমিশনের ২৭তম অধিবেশন। সেখানে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও অন্যান্য সহযোগিতার অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। 

## পুতিনের হাতে মোদির ব্যক্তিগত বার্তা

ক্রেমলিনে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর জয়শঙ্কর জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা তিনি রুশ প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। শুধু শুভেচ্ছা নয়, মোদির একটি ব্যক্তিগত বার্তাও পুতিনের হাতে তুলে দেন তিনি। 

এই বার্তা হস্তান্তরকে কূটনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ নিয়মিত হলেও বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

জয়শঙ্কর জানান, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী শীঘ্রই পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় রয়েছেন। আসন্ন সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন বা SCO সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর ভারতে আয়োজিত BRICS শীর্ষ সম্মেলনেও তাঁদের সাক্ষাৎ হতে পারে। 

## অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে বড় আলোচনা

বৈঠকে ভারত-রাশিয়া অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। জয়শঙ্কর জানান, দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাঁর কথায়, বাণিজ্য, জ্বালানি, সার, পরমাণু শক্তি-সহ একাধিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা এগোচ্ছে। 

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টও ভারত-রাশিয়া বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কিছুটা পতনের পর চলতি বছরে দুই দেশের বাণিজ্য আবার বাড়ছে। তিনি এই সম্পর্কের উন্নতির ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত মনোযোগের কথাও উল্লেখ করেন।

এর ফলে বোঝা যাচ্ছে, দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি এখন অর্থনৈতিক সহযোগিতা।

## ২০২৫-এর পর ফের বাড়ছে বাণিজ্য

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বিশ্ব বাণিজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে ভারত-রাশিয়া বাণিজ্য নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পুতিনের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাণিজ্যে কিছুটা পতন হলেও ২০২৬ সালে আবার তা বৃদ্ধির পথে রয়েছে। তিনি ভারত-রাশিয়া অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। 

এই পরিস্থিতিতে জয়শঙ্করের মস্কো সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও সুসংহত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

## জ্বালানি সহযোগিতায় জোর

ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হল জ্বালানি। রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শক্তি সরবরাহকারী দেশগুলির মধ্যে অন্যতম।

জয়শঙ্কর ও পুতিনের আলোচনায় energy cooperation-ও উঠে এসেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সরবরাহ আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সরকারি বিবরণে জানানো হয়েছে। 

বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ ভারতের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গা থেকেই রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা নয়াদিল্লির কাছে কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে।

## সার সরবরাহ নিয়েও আলোচনা

ভারতের কৃষিক্ষেত্রের জন্য রাশিয়ার সার সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুতিন নিজেই বৈঠকে fertilizer supplies-এর বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, ভারতীয় কৃষকদের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে রাশিয়া সার সরবরাহ বাড়াচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য প্রস্তুত।

ভারতের কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে সারের সরবরাহ সরাসরি যুক্ত। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনও সমস্যা দেখা দিলে তার প্রভাব কৃষকদের উপর পড়তে পারে। রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা এই ক্ষেত্রে ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

## পরমাণু শক্তিতে সহযোগিতা

ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হল nuclear energy। দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরে পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে।

জয়শঙ্করের বৈঠকে পরমাণু শক্তি সহযোগিতার বিষয়টিও উঠে আসে। ভবিষ্যতে এই ক্ষেত্রে আরও কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলে দুই পক্ষের আলোচনায় ইঙ্গিত মিলেছে। 

ভারতের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা এবং পরিষ্কার শক্তির প্রয়োজনের কথা মাথায় রাখলে nuclear energy আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

## উচ্চপ্রযুক্তি ক্ষেত্রেও নজর

শুধু বাণিজ্য বা জ্বালানি নয়, high-tech sector নিয়েও ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

প্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও গবেষণার ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা দীর্ঘদিনের। নতুন প্রযুক্তির যুগে artificial intelligence, advanced manufacturing, space technology এবং অন্যান্য high-tech ক্ষেত্রে যৌথ কাজের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

দুই দেশের আন্তঃসরকারি কমিশনের আলোচনাতেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়েছে। 

## ২৭তম আন্তঃসরকারি কমিশনের বৈঠক

জয়শঙ্করের রাশিয়া সফরের মূল উদ্দেশ্যগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল **India-Russia Inter-Governmental Commission on Trade, Economic, Scientific, Technological and Cultural Cooperation** বা IRIGC-TEC-এর ২৭তম অধিবেশনে অংশ নেওয়া।

রাশিয়ার প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ডেনিস মান্তুরভের সঙ্গে জয়শঙ্কর এই বৈঠকের সহ-সভাপতিত্ব করেন। এই কমিশন দুই দেশের মধ্যে অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং সংস্কৃতি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা পর্যালোচনা ও এগিয়ে নেওয়ার অন্যতম প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা। 

এই বৈঠকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কী অগ্রগতি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কোন কোন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো সম্ভব, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

## ল্যাভরভের সঙ্গেও বৈঠক

রাশিয়া সফরে জয়শঙ্করের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে সাক্ষাৎ।

দুই দেশের বিদেশমন্ত্রী আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন। এর ফলে শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক বিষয়েও ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে যোগাযোগ বজায় রয়েছে বলে স্পষ্ট হয়েছে।

বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সংঘাত, বাণিজ্যনীতি এবং বৈশ্বিক কূটনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে এই ধরনের আলোচনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

## পুতিনের ভারত সফর নিয়েও জল্পনা

জয়শঙ্কর-পুতিন বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ভবিষ্যতে মোদি-পুতিন সাক্ষাতের সম্ভাবনা।

পুতিন জানিয়েছেন, তিনি SCO-র পার্শ্ববৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে দেখা করার আশা করছেন। একই সঙ্গে চলতি বছরের পরে আবারও দুই নেতার সাক্ষাৎ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। 

অন্যদিকে, ভারতে BRICS শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে পুতিনের ভারত সফর এবং মোদির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তৈরি করতে পারে।

## ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাস

ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক নতুন নয়। সোভিয়েত আমল থেকে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।

২০০০ সালে দুই দেশ **Declaration on the India-Russia Strategic Partnership** স্বাক্ষর করার পর সম্পর্ক আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। পরবর্তীকালে এই অংশীদারিত্ব রাজনৈতিক, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, সংস্কৃতি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে। 

আজকের পরিবর্তিত বিশ্ব রাজনীতিতেও এই সম্পর্ককে ভারত ও রাশিয়া উভয়েই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

## প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ

যদিও সাম্প্রতিক জয়শঙ্কর-পুতিন বৈঠকের আলোচনায় অর্থনৈতিক বিষয়গুলি বিশেষভাবে সামনে এসেছে, ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা।

ভারতের সামরিক সরঞ্জামের দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান উৎস রাশিয়া। বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধজাহাজ এবং বিভিন্ন সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা রয়েছে।

এই কারণে অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সম্পর্কও সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

## আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা

জয়শঙ্কর ও পুতিনের বৈঠকে আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। জয়শঙ্কর নিজেই জানিয়েছেন, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার পাশাপাশি regional and global issues of importance নিয়েও দুই পক্ষ মতবিনিময় করেছে। 

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে একাধিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন চলছে। বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত, বাণিজ্যিক উত্তেজনা এবং শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বজায় রাখা নয়াদিল্লির কূটনৈতিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

## ভারতীয় কৃষকদের জন্য রাশিয়ার ভূমিকা

সার সরবরাহের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ ভারতীয় কৃষি অর্থনীতি এখনও রাসায়নিক সারের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল।

রাশিয়া যদি নিয়মিত এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে সার সরবরাহ বজায় রাখতে পারে, তাহলে ভারতের কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় তার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

পুতিনের বক্তব্যে ভারতীয় কৃষকদের প্রয়োজনের বিষয়টি সরাসরি উঠে আসায় বোঝা যাচ্ছে, দুই দেশ এই সহযোগিতাকে কেবল বাণিজ্যিক সম্পর্ক হিসেবে দেখছে না। 

## অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তারের চেষ্টা

জয়শঙ্করের সফরের মূল বার্তা হল ভারত-রাশিয়া সম্পর্ককে শুধু ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নতুন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিস্তৃত করা।

বাণিজ্য, জ্বালানি, সার, পারমাণবিক শক্তি এবং প্রযুক্তি—এই ক্ষেত্রগুলিকে ভবিষ্যতের সহযোগিতার মূল ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতীয় শিল্প ও রুশ সংস্থাগুলির মধ্যে নতুন অংশীদারিত্ব তৈরি হলে দুই দেশের বাণিজ্য আরও বাড়তে পারে।

## কূটনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ

জয়শঙ্করের রাশিয়া সফর এমন এক সময়ে হয়েছে যখন বিশ্বের বিভিন্ন শক্তির মধ্যে সম্পর্ক দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।

ভারত ঐতিহ্যগতভাবে নিজের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের নীতি বজায় রেখে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি অন্যান্য শক্তির সঙ্গেও ভারতের সহযোগিতা রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে মস্কোয় জয়শঙ্করের সফর ভারতের independent foreign policy-এর ধারাবাহিকতাকেও তুলে ধরে।

## পুতিনের মোদির প্রশংসা

বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, মোদি ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের উন্নয়নের দিকে ব্যক্তিগতভাবে বিশেষ নজর দেন। 

এই মন্তব্যকে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের ব্যক্তিগত যোগাযোগ দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে।

## সামনে মোদি-পুতিন বৈঠক

জয়শঙ্কর-পুতিন সাক্ষাতের পর এখন নজর থাকবে মোদি-পুতিন বৈঠকের দিকে।

SCO সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার সাক্ষাৎ হতে পারে বলে পুতিন নিজেই জানিয়েছেন। এরপর BRICS শীর্ষ সম্মেলনেও তাঁদের দেখা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছ |

এই বৈঠক হলে বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, পরমাণু শক্তি এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আরও উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হতে পারে।

## শেষ কথা

মস্কোয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বৈঠক ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত বার্তা পুতিনের হাতে তুলে দেওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, জ্বালানি, সার, পরমাণু শক্তি এবং উচ্চপ্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

চলতি বছরে ভারত-রাশিয়া বাণিজ্য আবার বাড়ছে বলে জানিয়েছেন পুতিন। তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদির ব্যক্তিগত মনোযোগের কথাও উল্লেখ করেছেন। একইসঙ্গে ভারতীয় কৃষকদের কথা মাথায় রেখে রাশিয়া সার সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়ে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি। 

অন্যদিকে, জয়শঙ্কর জানিয়েছেন দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সামনে SCO এবং BRICS-এর মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে মোদি ও পুতিনের সাক্ষাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। 

সব মিলিয়ে, জয়শঙ্করের এই মস্কো সফর শুধু একটি কূটনৈতিক সাক্ষাৎ নয়। এর মাধ্যমে ভারত ও রাশিয়া নিজেদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে নতুন অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে। আগামী দিনে মোদি-পুতিন বৈঠক এবং BRICS সম্মেলনের আলোচনার মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করুন, বিশ্বকে কড়া বার্তা আমেরিকার

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও অর্থনীতিতে ফের বড়সড় চাপ তৈরি হল। তেহরানের বিরুদ্ধে এবার আরও কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপের পথে হাঁটছে আমেরিকা। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থাকে কার্যত সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে...

২০২৭-এ সেনার হাতে দেশীয় ‘শের’, বদলাবে অস্ত্রভাণ্ডার

ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তৈরি হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের আমেঠিতে তৈরি হয়েছে দেশের প্রথম সম্পূর্ণ দেশীয় **AK-203 ‘Sher’ assault rifle**। এই রাইফেলের প্রথম সম্পূর্ণ ভারতীয় উপাদানে তৈরি প্রোটোটাইপ সফলভাবে তৈরি ও পরীক্ষা করা হয়েছে। ফলে ছোট অস্ত্র উৎপাদনে...

ক্রীড়া দিবসে তরুণদের সঙ্গে মোদি, ‘খেলো ইন্ডিয়া’য় বড় বার্তা

জাতীয় ক্রীড়া দিবসকে সামনে রেখে দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং উঠতি ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র। আগামী ২৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশজুড়ে আয়োজিত হতে চলা বিশেষ কর্মসূচি **‘খেলো ইন্ডিয়া ডায়লগ—খেল কি বাত, প্রধানমন্ত্রী মোদি কে সাথ’**-এ তরুণ...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.