Tuesday, August 25, 2026

Creating liberating content

ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন...

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও অর্থনীতিতে ফের বড়সড় চাপ তৈরি হল।...

পুতিনের সঙ্গে জয়শঙ্করের বৈঠক,...

মস্কোয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।...

২০২৭-এ সেনার হাতে দেশীয়...

ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তৈরি হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের আমেঠিতে তৈরি হয়েছে...

ক্রীড়া দিবসে তরুণদের সঙ্গে...

জাতীয় ক্রীড়া দিবসকে সামনে রেখে দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং উঠতি ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে সরাসরি...
Homeবাংলাচিনির দামবৃদ্ধিতে কড়া...

চিনির দামবৃদ্ধিতে কড়া শুভেন্দু, মজুতদারদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনের হুঁশিয়ারি

রাজ্যে হু হু করে বাড়ছে চিনির দাম। কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে চিনির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বিশেষ করে উৎসবের মরশুম সামনে থাকায় এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব আরও বেশি পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এবার কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, চিনির দাম বৃদ্ধির নেপথ্যে সরবরাহ ব্যবস্থার কোথায় সমস্যা বা ‘লিকেজ’ হচ্ছে, তা প্রশাসন চিহ্নিত করেছে। বেআইনিভাবে চিনি ও চাল মজুত করে রাখলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। 

নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে চিনির দাম ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, কোথায় ‘লিকেজ’ হচ্ছে তা প্রশাসনের নজরে এসেছে এবং শক্ত হাতে সেই সমস্যা মোকাবিলা করা হবে। 

## গত কয়েকদিনে চিনির দামে বড়সড় বৃদ্ধি

চিনির দাম বৃদ্ধির বিষয়টি হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বাজারে দাম ঊর্ধ্বমুখী। কলকাতার খুচরো বাজারে চিনির দাম প্রায় ৭০ টাকা কেজির কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত এক মাসে দাম প্রায় ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে এবং সাম্প্রতিক চার-পাঁচ দিনে আরও দ্রুত মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। 

এর ফলে সাধারণ পরিবারের মাসিক বাজারের খরচে অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। চা, মিষ্টি, পায়েস কিংবা বাড়িতে তৈরি বিভিন্ন খাবারে চিনির ব্যবহার থাকায় এর দাম বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি ভোক্তার উপর পড়ে।

শুধু সাধারণ ক্রেতাই নন, মিষ্টির দোকান ও খাদ্য ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরাও চিনির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন।

## মিষ্টির ব্যবসাতেও পড়তে পারে প্রভাব

বাংলার উৎসব সংস্কৃতির সঙ্গে মিষ্টির সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। দুর্গাপুজো থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং পারিবারিক উৎসবে মিষ্টির চাহিদা বাড়ে। ফলে উৎসবের আগে চিনির দাম বেড়ে গেলে মিষ্টি তৈরির খরচও বাড়তে পারে।

চিনির পাশাপাশি গুড়, বাতাসা এবং নকুলদানার মতো মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত অন্যান্য উপকরণের দামও বেড়েছে বলে সাম্প্রতিক বাজার রিপোর্টে উঠে এসেছে। 

ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, কাঁচামালের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে শেষ পর্যন্ত মিষ্টি ও অন্যান্য চিনিনির্ভর পণ্যের দামও বাড়তে পারে।

## ‘লিকেজ’ খুঁজে পাওয়ার দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পদক্ষেপের বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, সরবরাহ ব্যবস্থায় কোথায় সমস্যা হচ্ছে তা চিহ্নিত করা হয়েছে।

অর্থাৎ শুধু বাজারে দাম বাড়ছে বলে পরিস্থিতিকে দেখছে না সরকার। উৎপাদক থেকে পাইকারি বাজার এবং সেখান থেকে খুচরো বাজার পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থার কোন পর্যায়ে অস্বাভাবিকতা তৈরি হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, সেই ‘লিকেজ’ বন্ধ করার জন্যই এবার প্রশাসন সক্রিয় হচ্ছে। 

## বেআইনি মজুতের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা

চিনির দাম বৃদ্ধির অন্যতম সম্ভাব্য কারণ হিসেবে মজুতদারি ও কালোবাজারির অভিযোগও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে বেআইনিভাবে চিনি বা চাল মজুত করে রাখলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী বা মজুতদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা হলে তা আটকানোর সুযোগ তৈরি হবে।

সরকারের মূল লক্ষ্য হল বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখা এবং অযথা মজুতের মাধ্যমে কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো।

## ১ সেপ্টেম্বর থেকে বিশেষ অভিযান

চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণে শুধু তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নয়, দীর্ঘ সময় ধরে নজরদারি চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বিশেষ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উৎসবের মরশুমে চিনি মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে কেন্দ্রের সঙ্গেও যৌথভাবে অভিযান চালানোর কথা জানানো হয়েছে। 

এই সময়কালটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আগস্টের শেষ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক বড় উৎসব রয়েছে। ফলে চিনির চাহিদাও স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে।

## সক্রিয় করা হয়েছে টাস্ক ফোর্স

বাজার নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকার নতুন করে টাস্ক ফোর্সকে সক্রিয় করেছে। ৭২টি সাব-ডিভিশন স্তরে এবং ৩৫টি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি স্তরে এই টাস্ক ফোর্স কাজ করবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। 

সাব-ডিভিশন স্তরে মহকুমাশাসক এবং পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় সংশ্লিষ্ট ডিসিকে টাস্ক ফোর্সের দায়িত্ব দেওয়া হবে। তাঁদের সঙ্গে আরও সরকারি আধিকারিক থাকবেন।

এর ফলে শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বাজারের উপর নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

## খাদ্য দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক

চিনির দাম এবং খাদ্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সোমবার ফুড ইন্সপেক্টরদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।

ভেজাল রোধ এবং বাজারে খাদ্যপণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। 

অর্থাৎ সরকারের নজর শুধু চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বাজারে খাদ্যপণ্যের গুণমান এবং বেআইনি কার্যকলাপ নিয়েও নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।

## কেন এত বাড়ল চিনির দাম?

চিনির দাম বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। সাম্প্রতিক জাতীয় বাজারের রিপোর্টে সরবরাহ পরিস্থিতি, উৎসবের আগে বাড়তে থাকা চাহিদা, আবহাওয়ার প্রভাব এবং মজুতদারির মতো বিষয় উঠে এসেছে। একই সঙ্গে দেশীয় উৎপাদন প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ার আশঙ্কাও বাজারে চাপ তৈরি করেছে। 

তবে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, ইথানল উৎপাদনের জন্য চিনি সরিয়ে নেওয়াই বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির একমাত্র কারণ নয়। বাজারের একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করছে বলে সরকারের তরফে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

## উৎসবের মরশুমে বাড়ছে চাহিদা

আগামী কয়েক মাসে দেশে একাধিক উৎসব রয়েছে। গণেশ চতুর্থী, দুর্গাপুজো, দশেরা এবং দীপাবলির মতো উৎসবকে কেন্দ্র করে মিষ্টি ও বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়।

ফলে চিনির চাহিদাও স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। এই সময় বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকলে দাম আরও বাড়তে পারে। এই কারণেই কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় স্তরে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। 

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে দুর্গাপুজো সামনে থাকায় পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বেশি।

## কেন্দ্রেরও পদক্ষেপ

শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, চিনির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারও একাধিক পদক্ষেপ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্র বাল্ক ক্রেতাদের জন্য চিনির মজুতের সীমা আরও কড়া করেছে।

১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মাসে ১০ টনের বেশি চিনি ব্যবহারকারী বাল্ক ক্রেতারা সর্বোচ্চ ১৫ দিনের প্রয়োজনের সমান চিনি মজুত রাখতে পারবেন। এর আগে এই সীমা ছিল ৩০ দিনের। 

এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হল বড় ক্রেতা বা ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত চিনি মজুত করে বাজারে কৃত্রিম চাপ তৈরি করতে না পারেন।

## চিনি আমদানির সম্ভাবনাও সামনে

দেশীয় বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্র সীমিত পরিমাণে শুল্কমুক্ত চিনি আমদানির বিষয়টিও বিবেচনা করছে। এর মাধ্যমে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করে দাম কমানোর চেষ্টা হতে পারে। 

প্রায় এক দশক পর ভারতীয় বাজারে বিদেশ থেকে চিনি আনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় নীতিতে এমন পরিবর্তন আসতে পারে বলে সাম্প্রতিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে আমদানির সিদ্ধান্ত বাস্তবে বাজারে কত দ্রুত প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে আমদানির পরিমাণ, সময় এবং বাজারে সরবরাহের গতির উপর।

## পাইকারি বাজারেও চাপ

চিনির দাম বৃদ্ধির প্রভাব প্রথমে পাইকারি বাজারে পড়ে এবং পরে খুচরো বাজারে তার প্রতিফলন দেখা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি বাজারগুলিতে চিনির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে রিপোর্টে উঠে এসেছে। 

পাইকারি দামে বৃদ্ধি হলে খুচরো ব্যবসায়ীদেরও বেশি দামে পণ্য কিনতে হয়। শেষ পর্যন্ত সেই বাড়তি খরচ ক্রেতাদের কাছ থেকে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।

তাই শুধুমাত্র খুচরো বাজারে অভিযান চালিয়ে সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান করা সম্ভব নয়। উৎপাদন, পাইকারি এবং খুচরো—সব স্তরেই নজরদারি প্রয়োজন।

## সাধারণ মানুষের উপর বাড়ছে চাপ

চিনির দাম বাড়ার ফলে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের উপর। দৈনন্দিন বাজারের একাধিক পণ্যের দাম ইতিমধ্যেই বাড়তি থাকলে চিনির মতো প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়া মাসিক বাজেটে প্রভাব ফেলে।

একদিকে রান্নার অন্যান্য উপকরণের দাম, অন্যদিকে উৎসবের বাড়তি খরচ—এই দুইয়ের মধ্যে চিনির মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ পরিবারের জন্য নতুন চাপ তৈরি করছে।

## মিষ্টি ব্যবসায়ীদেরও উদ্বেগ

বাংলার মিষ্টি শিল্প চিনির দামের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ছানা, দুধ এবং অন্যান্য উপকরণের পাশাপাশি চিনি মিষ্টি তৈরির অন্যতম প্রধান উপাদান।

চিনির দাম বাড়লে মিষ্টি ব্যবসায়ীদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। তাঁরা যদি সেই খরচ ক্রেতার উপর চাপিয়ে দেন, তাহলে মিষ্টির দামও বাড়তে পারে।

ফলে উৎসবের আগে চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণে না এলে তার প্রভাব মিষ্টির দোকানগুলিতেও পড়তে পারে।

## কালোবাজারি ঠেকানোই বড় চ্যালেঞ্জ

সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলির একটি হল কালোবাজারি এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি বন্ধ করা। বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য থাকার পরেও যদি কোনও চক্র ইচ্ছাকৃতভাবে পণ্য আটকে রাখে, তাহলে দাম বেড়ে যেতে পারে।

তাই শুধু বাজারে পণ্য পাঠানো নয়, কোথায় কত পণ্য রয়েছে এবং কোন দামে বিক্রি হচ্ছে, তার উপর নজর রাখা প্রয়োজন।

এই কারণেই টাস্ক ফোর্সের মাধ্যমে বিভিন্ন স্তরে নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

## ১ সেপ্টেম্বর থেকে ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে রাজ্যে ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ পালন করা হবে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে। 

এর মাধ্যমে সাধারণ ক্রেতাদের অধিকার, বাজারে ভেজাল রোধ এবং অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি সংক্রান্ত বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ক্রেতাদেরও বাজারদর সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং অস্বাভাবিক দামের ক্ষেত্রে প্রশাসনকে জানানো গুরুত্বপূর্ণ।

## আগামী কয়েক দিন গুরুত্বপূর্ণ

চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ বাস্তবে কতটা সফল হয়, তা আগামী কয়েক দিনের বাজারদরেই কিছুটা বোঝা যাবে। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা হচ্ছে। 

যদি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয় এবং মজুতদারির বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান চালানো যায়, তাহলে খুচরো বাজারে দাম কমতে পারে।

তবে উৎসবের চাহিদা বাড়তে থাকায় বাজারের উপর চাপও থাকবে।

## প্রশাসনের সামনে দ্বৈত চ্যালেঞ্জ

একদিকে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য দাম কমানো, অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা—দুই দিক সামলানোই প্রশাসনের চ্যালেঞ্জ।

অতিরিক্ত কড়াকড়ি করলে বৈধ ব্যবসায়ীদের সমস্যায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকলে মজুতদারি ও কালোবাজারি বাড়তে পারে।

তাই প্রশাসনকে তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালাতে হবে এবং প্রকৃত মজুতদার ও বৈধ ব্যবসার মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখতে হবে।

## শেষ কথা

রাজ্যে চিনির দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কলকাতার বাজারে দাম প্রায় ৭০ টাকা কেজির কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং গত এক মাসে প্রায় ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধির খবর সামনে এসেছে। 

এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাজারে কোথায় ‘লিকেজ’ হচ্ছে তা প্রশাসন চিহ্নিত করেছে। বেআইনিভাবে চিনি ও চাল মজুত করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে ৭২টি সাব-ডিভিশন এবং ৩৫টি পুলিশ কমিশনারেট স্তরে টাস্ক ফোর্স সক্রিয় করা হয়েছে। 

কেন্দ্রও ইতিমধ্যে বাল্ক ক্রেতাদের মজুতের সীমা কমিয়েছে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে আরও পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।

এখন নজর থাকবে রাজ্য সরকারের বিশেষ অভিযানের দিকে। বিশেষ করে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে মজুতদারি, কালোবাজারি এবং বেআইনি সরবরাহের বিরুদ্ধে অভিযান কতটা কার্যকর হয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। উৎসবের মরশুমের আগে যদি বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায়, তাহলে সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন। আর যদি চাহিদার সঙ্গে সরবরাহের ভারসাম্য না ফেরে, তাহলে চিনির দাম আরও কিছুদিন সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কারণ হয়ে থাকতে পারে।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করুন, বিশ্বকে কড়া বার্তা আমেরিকার

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও অর্থনীতিতে ফের বড়সড় চাপ তৈরি হল। তেহরানের বিরুদ্ধে এবার আরও কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপের পথে হাঁটছে আমেরিকা। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থাকে কার্যত সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে...

পুতিনের সঙ্গে জয়শঙ্করের বৈঠক, মোদির বার্তা পৌঁছল মস্কোয়

মস্কোয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সোমবার, ২৪ আগস্ট রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এই বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ব্যক্তিগত বার্তাও রুশ প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দেন জয়শঙ্কর।...

২০২৭-এ সেনার হাতে দেশীয় ‘শের’, বদলাবে অস্ত্রভাণ্ডার

ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তৈরি হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের আমেঠিতে তৈরি হয়েছে দেশের প্রথম সম্পূর্ণ দেশীয় **AK-203 ‘Sher’ assault rifle**। এই রাইফেলের প্রথম সম্পূর্ণ ভারতীয় উপাদানে তৈরি প্রোটোটাইপ সফলভাবে তৈরি ও পরীক্ষা করা হয়েছে। ফলে ছোট অস্ত্র উৎপাদনে...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.