Saturday, August 22, 2026

Creating liberating content

অন্নপূর্ণার টাকা নিয়ে বড়...

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে যখন উপভোক্তাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন এবং অপেক্ষা তৈরি হয়েছে,...

রোনাল্ডোর দেশ পর্তুগাল ক্রিকেটে...

ফুটবল বিশ্বে পর্তুগাল মানেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। কিন্তু এবার সেই দেশের নাম উঠে এল...

জিৎকে কটাক্ষ করে বিপাকে...

টলিউডের দুই জনপ্রিয় তারকা দেব এবং জিৎকে ঘিরে অনুরাগীদের মধ্যে তুলনা নতুন কিছু...

‘আজ থেকে আমি জেন...

# ‘আজ থেকে আমি জেন আলফা’, জেন জি বিতর্কে ফের কঙ্গনা জেনারেশন জেড বা...
Homeবাংলাবর্ধমানের শিক্ষকের অভিনব...

বর্ধমানের শিক্ষকের অভিনব উদ্যোগে জাতীয় পুরস্কার, বদলাল স্কুল

বর্ধমানের এক শিক্ষকের অভিনব উদ্যোগ এবং নিরলস পরিশ্রম এবার জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি পেল। স্কুলকে শুধুমাত্র পঠনপাঠনের জায়গা হিসেবে না দেখে কীভাবে সেটিকে ছাত্রছাত্রীদের শেখার একটি জীবন্ত পরিসরে পরিণত করা যায়, তারই উদাহরণ তৈরি করেছেন বর্ধমানের শিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত। স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে পড়ুয়াদের সৃজনশীলতা বিকাশ—একাধিক ক্ষেত্রে তাঁর উদ্যোগ নজর কেড়েছে। সেই কাজের স্বীকৃতিতেই জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের সম্মান পেয়েছেন তিনি। তাঁর কর্মস্থল বর্ধমান মিউনিসিপ্যালিটির কাঁকচাননগর ডি এন দাস হাই স্কুল। জাতীয় পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষকদের তালিকায় তাঁর নামও ছিল।

একজন শিক্ষকের কাজ শুধুমাত্র শ্রেণিকক্ষে পড়ানো নয়—এই ধারণাকেই যেন বাস্তবে প্রতিষ্ঠা করেছেন সুভাষচন্দ্র দত্ত। তাঁর উদ্যোগে স্কুলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের জন্য তৈরি হয়েছে এমন এক শিক্ষার পরিবেশ, যেখানে বইয়ের বাইরের জগত থেকেও শেখার সুযোগ রয়েছে। স্কুলের ভবন, খেলার মাঠ, জীববৈচিত্র্য, সৃজনশীল চিন্তাভাবনা—সবকিছুকেই তিনি শিক্ষার অংশ করে তুলেছেন।

## স্কুলকে বদলে দেওয়ার লক্ষ্য

একটি স্কুলকে আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে শুধু নতুন ভবন বা আধুনিক সরঞ্জামই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন শিক্ষক, পড়ুয়া, অভিভাবক এবং স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ। এই বিষয়টিই বুঝেছিলেন সুভাষচন্দ্র দত্ত।

তাঁর উদ্যোগে দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধান করা হয়। স্কুলের দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠ পুনরুদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি স্কুল ভবন এবং অন্যান্য পরিকাঠামোরও উন্নতি করা হয়। এই কাজগুলিতে স্থানীয় সম্প্রদায়ের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছিল। জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার সংক্রান্ত তথ্যেও উল্লেখ রয়েছে যে, তিনি স্থানীয় মানুষের সাহায্যে স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন।

এতে শুধু স্কুলের পরিবেশ বদলায়নি, পড়ুয়াদের জন্যও তৈরি হয়েছে আরও ভালো শিক্ষার পরিসর।

## খেলার মাঠের সমস্যার সমাধান

স্কুলের খেলার মাঠ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক বিকাশের জন্যও মাঠের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে মাঠ দখল হয়ে থাকলে পড়ুয়াদের খেলাধুলার সুযোগ কমে যায়।

সুভাষচন্দ্র দত্ত সেই সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে মাঠ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেন। দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের জন্য স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা নেওয়া হয়। তাঁর নেতৃত্বে শুধু সমস্যার সমাধানই হয়নি, স্কুলের পরিকাঠামোর উন্নয়নও সম্ভব হয়েছে। 

এই উদ্যোগ দেখিয়ে দিয়েছে, একটি স্কুলের উন্নয়নে শিক্ষক চাইলে কতটা বড় ভূমিকা নিতে পারেন।

## স্কুল ভবনকেও বানালেন শিক্ষার উপকরণ

সুভাষচন্দ্র দত্তের সবচেয়ে আকর্ষণীয় উদ্যোগগুলির মধ্যে রয়েছে স্কুল ভবনকে শিক্ষার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করার ধারণা।

সাধারণত স্কুলের দেওয়াল, করিডর বা ভবনের বিভিন্ন অংশকে আমরা শুধুমাত্র পরিকাঠামো হিসেবে দেখি। কিন্তু একজন সৃজনশীল শিক্ষক সেই একই জায়গাকে পড়ুয়াদের শেখার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এই চিন্তাভাবনা থেকেই স্কুল ভবনের বিভিন্ন অংশকে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

ফলে ছাত্রছাত্রীরা শুধু বইয়ের পাতায় কোনও বিষয় পড়ে থেমে থাকছে না। স্কুলের পরিবেশের মধ্যেই তারা বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে পারছে।

## প্রকৃতির সঙ্গে পড়ুয়াদের সম্পর্ক

সুভাষচন্দ্র দত্তের শিক্ষাদর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রকৃতি এবং জীববৈচিত্র্যকে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা।

স্কুলের বটগাছে পাখিদের বাসা তৈরির বিষয়টিকেও তিনি শিক্ষার অংশ হিসেবে দেখেছেন। পাশাপাশি তৈরি করা হয়েছে ‘Biodiversity Box’। এর মাধ্যমে পড়ুয়াদের পরিবেশ, পাখি, জীববৈচিত্র্য এবং প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হয়েছে। জাতীয় পুরস্কারের বিবরণেও তাঁর এই পরিবেশভিত্তিক উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলির উল্লেখ রয়েছে।

এ ধরনের উদ্যোগের ফলে পড়াশোনা আর শুধু বই এবং পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।

## ‘আইডিয়া বোর্ড’-এর অভিনব ভাবনা

সুভাষচন্দ্র দত্তের আর একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হল ‘Idea Board’। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে থাকা সৃজনশীল চিন্তাভাবনা এবং নতুন ধারণাকে সামনে নিয়ে আসাই ছিল এর উদ্দেশ্য।

অনেক সময় পড়ুয়ারা নিজেদের মনের মধ্যে নানা নতুন ভাবনা তৈরি করলেও তা প্রকাশ করার সুযোগ পায় না। আবার পরীক্ষার নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তাদের সৃজনশীলতার জায়গাটিও সীমিত হয়ে যায়।

‘Idea Board’-এর মতো উদ্যোগ সেই জায়গায় পরিবর্তন আনতে পারে। পড়ুয়ারা নিজেদের চিন্তা প্রকাশ করার সুযোগ পায় এবং অন্যরাও সেই ধারণা থেকে শিখতে পারে।

## শিক্ষক শুধু পড়ান না, তৈরি করেন পরিবেশ

একজন ভালো শিক্ষকের ভূমিকা শুধুমাত্র পাঠ্যবই শেষ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন শিক্ষক এমন পরিবেশ তৈরি করতে পারেন যেখানে পড়ুয়ারা প্রশ্ন করতে শেখে, নতুন কিছু ভাবতে শেখে এবং নিজের চারপাশের জগতকে পর্যবেক্ষণ করতে শেখে।

সুভাষচন্দ্র দত্তের উদ্যোগ সেই শিক্ষাদর্শনেরই উদাহরণ। স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশকে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা এবং পড়ুয়াদের সৃজনশীলতা বাড়ানোর মতো একাধিক কাজের মাধ্যমে তিনি শিক্ষাকে শ্রেণিকক্ষের বাইরে নিয়ে গিয়েছেন।

## জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের স্বীকৃতি

এই কাজেরই স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য পশ্চিমবঙ্গ থেকে সুভাষচন্দ্র দত্তের নাম নির্বাচিত হয়েছিল। তিনি বর্ধমানের কাঁকচাননগর ডি এন দাস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। 

সেই বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষকদের তাঁদের অসাধারণ এবং উদ্ভাবনী কাজের জন্য সম্মানিত করা হয়েছিল। শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবেশ সচেতনতা, কমিউনিটি অংশগ্রহণ এবং নতুন ধরনের শিক্ষণ পদ্ধতির মতো বিষয়গুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। 

সেই তালিকায় বর্ধমানের শিক্ষকের নাম থাকা নিঃসন্দেহে জেলার শিক্ষাক্ষেত্রের জন্যও গর্বের বিষয়।

## শুধু নিজের স্কুল নয়, অন্যদের কাছেও অনুপ্রেরণা

জাতীয় পুরস্কারের সবচেয়ে বড় গুরুত্ব এখানেই যে, একজন শিক্ষকের কাজ শুধু তাঁর নিজের স্কুলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তাঁর উদ্যোগ অন্য শিক্ষক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকেও অনুপ্রাণিত করতে পারে।

বর্ধমানের এই শিক্ষকের উদ্যোগ থেকে অন্য স্কুলও শিখতে পারে যে, সীমিত সম্পদের মধ্যেও স্থানীয় মানুষের সাহায্য নিয়ে শিক্ষার পরিবেশ বদলানো সম্ভব।

সবসময় বড় বাজেট বা অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োজন হয় না। কখনও একটি আইডিয়া বোর্ড, একটি পাখির বাসা বা স্কুলের একটি গাছও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হয়ে উঠতে পারে।

## স্থানীয় মানুষের সহযোগিতার গুরুত্ব

স্কুল উন্নয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি স্কুল শুধু শিক্ষক এবং পড়ুয়াদের প্রতিষ্ঠান নয়; সেটি সংশ্লিষ্ট এলাকার সামাজিক জীবনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সুভাষচন্দ্র দত্ত স্কুলের উন্নয়নে স্থানীয় মানুষের সাহায্য নিয়েছিলেন। জাতীয় পুরস্কারের বিবরণেও এই কমিউনিটি অংশগ্রহণের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

এতে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে স্কুলের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে। স্কুলের সমস্যা সমাধানে সাধারণ মানুষও নিজেদের দায়িত্বের অংশ হিসেবে এগিয়ে আসতে পেরেছেন।

## শিক্ষায় পরিবেশ সচেতনতার বার্তা

বর্তমান সময়ে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই বিষয়গুলি শুধু বইয়ে পড়ালেই ছাত্রছাত্রীরা পরিবেশ সচেতন হয়ে উঠবে না।

স্কুলের মধ্যেই যদি পাখির বাসা, গাছ, জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় পরিবেশ নিয়ে শেখানো যায়, তাহলে পড়ুয়াদের মধ্যে বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরি হয়।

সুভাষচন্দ্র দত্তের উদ্যোগে এই বাস্তব শিক্ষার দিকটিই গুরুত্ব পেয়েছে। বটগাছে পাখির বাসা এবং Biodiversity Box-এর মতো উদ্যোগ পড়ুয়াদের প্রকৃতিকে কাছ থেকে বুঝতে সাহায্য করেছে। 

## বইয়ের বাইরে শেখার সুযোগ

শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রশ্ন রয়েছে—শিক্ষা কি শুধুই পরীক্ষার ফলাফলের জন্য? নাকি শিক্ষার উদ্দেশ্য আরও বড়?

সুভাষচন্দ্র দত্তের উদ্যোগ দ্বিতীয় ধারণাটিকেই গুরুত্ব দেয়। তাঁর স্কুলে পড়ুয়ারা শুধু পরীক্ষার জন্য পড়বে না, বরং নিজেদের চারপাশের পৃথিবী সম্পর্কে জানতে পারবে।

স্কুলের ভবন, খেলার মাঠ, গাছপালা এবং স্থানীয় পরিবেশ—সবকিছুকেই শেখার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

এভাবে একটি সাধারণ স্কুলও হয়ে উঠতে পারে ‘জীবন্ত শ্রেণিকক্ষ’।

## জাতীয় পুরস্কার কেন গুরুত্বপূর্ণ?

জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার কোনও শিক্ষকের ব্যক্তিগত সম্মানের পাশাপাশি তাঁর কাজের সামাজিক স্বীকৃতিও। বিশেষ করে এমন শিক্ষকদের সামনে নিয়ে আসা হয়, যাঁরা প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতির বাইরে গিয়ে নতুন কিছু করার চেষ্টা করেন।

২০১৯ সালের জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের তালিকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষকরা ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষার উন্নতি করেছেন, কেউ পরিবেশের বিষয়ে কাজ করেছেন, আবার কেউ স্কুলের পরিকাঠামো এবং কমিউনিটি অংশগ্রহণে বড় ভূমিকা নিয়েছেন। 

সুভাষচন্দ্র দত্তের ক্ষেত্রেও স্কুলের পরিকাঠামো এবং উদ্ভাবনী শিক্ষাপদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।

## বর্ধমানের জন্য গর্বের মুহূর্ত

বর্ধমানের মতো ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাকেন্দ্র থেকে একজন শিক্ষক জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি পাওয়ায় জেলার শিক্ষামহলেও স্বাভাবিকভাবেই গর্বের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

একজন শিক্ষক যখন তাঁর স্কুলের সমস্যাকে নিজের সমস্যা হিসেবে গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে তার সমাধানে কাজ করেন, তখন সেই কাজের প্রভাব শুধু একটি প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীর ওপর পড়ে না।

স্কুলের উন্নত পরিবেশ ভবিষ্যতের পড়ুয়াদেরও উপকার করে।

## শিক্ষকের দায়িত্বের নতুন সংজ্ঞা

সুভাষচন্দ্র দত্তের কাজ শিক্ষকের দায়িত্ব সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। শিক্ষক শুধু ক্লাস নেবেন, পরীক্ষা নেবেন এবং ফলাফল তৈরি করবেন—এই পুরনো ধারণার বাইরে গিয়ে একজন শিক্ষক প্রতিষ্ঠান গড়ার কাজেও নেতৃত্ব দিতে পারেন।

তিনি দেখিয়েছেন, স্কুলের সমস্যা চিহ্নিত করে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা নেওয়া, পরিকাঠামো উন্নত করা এবং পড়ুয়াদের সৃজনশীলতা বাড়ানোর জন্য নতুন পদ্ধতি চালু করা সম্ভব।

এই ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার সামগ্রিক মান উন্নত করতে সাহায্য করে।

## পড়ুয়াদের সৃজনশীলতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

বর্তমান সময়ে শুধুমাত্র তথ্য মুখস্থ করার ক্ষমতা যথেষ্ট নয়। সমস্যা সমাধান, নতুন ধারণা তৈরি, পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণ—এই দক্ষতাগুলিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

‘Idea Board’-এর মতো উদ্যোগ ছাত্রছাত্রীদের সেই সৃজনশীলতার জায়গা তৈরি করে দেয়। 

একজন পড়ুয়া হয়তো পরীক্ষায় কোনও প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছে না, কিন্তু তার মাথায় এমন একটি নতুন ধারণা থাকতে পারে যা অন্যদের জন্যও মূল্যবান। শিক্ষাব্যবস্থার কাজ হল সেই ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া।

## স্কুলকে ‘মডেল’ করে তোলার পথ

একটি মডেল স্কুল তৈরি করার জন্য শুধু দৃষ্টিনন্দন ভবন বা স্মার্ট ক্লাসরুমের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন এমন একটি পরিবেশ যেখানে পড়ুয়ারা আনন্দের সঙ্গে শেখে এবং নিজেদের প্রতিভা প্রকাশ করার সুযোগ পায়।

বর্ধমানের এই স্কুলে সেই লক্ষ্যেই একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। স্কুলের পরিকাঠামো, খেলার মাঠ, পরিবেশ এবং সৃজনশীল শিক্ষার বিষয়গুলি একসঙ্গে গুরুত্ব পেয়েছে।

এই কারণে তাঁর কাজ জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি পাওয়ার মতো হয়ে উঠেছে।

## শিক্ষকদের জন্য অনুপ্রেরণা

এই ঘটনা রাজ্যের অন্যান্য শিক্ষকদের কাছেও অনুপ্রেরণার। বিশেষ করে যাঁরা মনে করেন যে সীমিত পরিকাঠামোর কারণে স্কুলের উন্নয়ন সম্ভব নয়, তাঁদের জন্য এই উদাহরণ গুরুত্বপূর্ণ।

সুভাষচন্দ্র দত্তের কাজ দেখিয়ে দিয়েছে, একটি সমস্যাকে সুযোগে পরিণত করা যায়। খেলার মাঠের সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি সেটিকে স্কুলের সামগ্রিক উন্নয়নের অংশ করা যায়। স্কুলের গাছপালা এবং পাখিদেরও শিক্ষার অংশ বানানো যায়।

সবচেয়ে বড় কথা, ছাত্রছাত্রীদের নতুন কিছু ভাবার সুযোগ দেওয়া যায়।

## ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষার নতুন দিশা

আজকের পড়ুয়ারাই আগামী দিনের সমাজ গড়বে। তাই তাঁদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দিলেই চলবে না। পরিবেশ, সমাজ, সৃজনশীলতা এবং দায়িত্ববোধের মতো বিষয়গুলিও শেখাতে হবে।

বর্ধমানের এই শিক্ষকের উদ্যোগ সেই বৃহত্তর শিক্ষার ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

স্কুল যদি পড়ুয়ার জীবনের বাস্তব জগতের সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে শিক্ষার প্রভাব আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়।

## শেষ কথা

বর্ধমানের শিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্তের জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার পাওয়া শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং উদ্ভাবনী শিক্ষাপদ্ধতিরও স্বীকৃতি। কাঁকচাননগর ডি এন দাস হাই স্কুলে দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান, খেলার মাঠ পুনরুদ্ধার, স্কুল ভবনকে শিক্ষার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার এবং স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় পরিকাঠামো উন্নয়নের মতো কাজ করেছেন তিনি। 

এর পাশাপাশি পড়ুয়াদের সৃজনশীলতা বাড়াতে ‘Idea Board’, স্কুলের বটগাছে পাখির বাসা এবং ‘Biodiversity Box’-এর মতো অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন। ফলে শিক্ষার্থীদের কাছে স্কুল হয়ে উঠেছে শুধুমাত্র বই পড়ার জায়গা নয়, বরং চারপাশের পৃথিবীকে জানার একটি জীবন্ত শিক্ষাক্ষেত্র। 

জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের মতো সম্মান এই ধরনের উদ্যোগকে আরও বড় পরিসরে সামনে নিয়ে আসে। একজন শিক্ষক কীভাবে নিজের দায়িত্বের সীমা ছাড়িয়ে একটি গোটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ বদলে দিতে পারেন, তারই উদাহরণ বর্ধমানের এই শিক্ষক।

আজকের দিনে যখন শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তি, পরীক্ষার ফল এবং প্রতিযোগিতাকে ঘিরে আলোচনা বেশি, তখন সুভাষচন্দ্র দত্তের কাজ মনে করিয়ে দেয়—শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য শুধু ভালো নম্বর নয়। পড়ুয়াদের প্রশ্ন করতে শেখানো, প্রকৃতিকে চিনতে শেখানো, নতুন ভাবনা তৈরি করতে উৎসাহ দেওয়া এবং সমাজের সঙ্গে যুক্ত করে তোলাও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বর্ধমানের এই শিক্ষক তাই শুধু একটি জাতীয় পুরস্কার পাননি; তাঁর কাজ রাজ্যের বহু শিক্ষক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য একটি অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

অন্নপূর্ণার টাকা নিয়ে বড় আশ্বাস রচনার, মহিলাদের পাশে সাংসদ

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে যখন উপভোক্তাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন এবং অপেক্ষা তৈরি হয়েছে, তখন মহিলাদের পাশে থাকার বার্তা দিলেন সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আশ্বাস, যাঁদের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে এবং যাঁদের নাম তালিকাভুক্ত রয়েছে, তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা অবশ্যই পাবেন।...

রোনাল্ডোর দেশ পর্তুগাল ক্রিকেটে বিশ্বকাপের পথে

ফুটবল বিশ্বে পর্তুগাল মানেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। কিন্তু এবার সেই দেশের নাম উঠে এল সম্পূর্ণ অন্য একটি খেলাকে কেন্দ্র করে। ক্রিকেটের ময়দানে বড় সাফল্য পেল পর্তুগাল। স্পেনকে হারিয়ে পুরুষদের **T20 World Cup qualifier**-এ জায়গা করে নিয়েছে রোনাল্ডোর দেশ। ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে...

জিৎকে কটাক্ষ করে বিপাকে ভক্তরা, কড়া বার্তা দেবের

টলিউডের দুই জনপ্রিয় তারকা দেব এবং জিৎকে ঘিরে অনুরাগীদের মধ্যে তুলনা নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরেই দুই তারকার ভক্তরা নিজেদের পছন্দের অভিনেতাকে সেরা প্রমাণ করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা যুক্তি, পরিসংখ্যান এবং বক্স অফিসের হিসাব তুলে ধরেন। তবে এবার সেই...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.