Saturday, August 22, 2026

Creating liberating content

বর্ধমানের শিক্ষকের অভিনব উদ্যোগে...

বর্ধমানের এক শিক্ষকের অভিনব উদ্যোগ এবং নিরলস পরিশ্রম এবার জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি পেল।...

অন্নপূর্ণার টাকা নিয়ে বড়...

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে যখন উপভোক্তাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন এবং অপেক্ষা তৈরি হয়েছে,...

রোনাল্ডোর দেশ পর্তুগাল ক্রিকেটে...

ফুটবল বিশ্বে পর্তুগাল মানেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। কিন্তু এবার সেই দেশের নাম উঠে এল...

জিৎকে কটাক্ষ করে বিপাকে...

টলিউডের দুই জনপ্রিয় তারকা দেব এবং জিৎকে ঘিরে অনুরাগীদের মধ্যে তুলনা নতুন কিছু...
Homeবাংলাটেমসের তীরে এবার...

টেমসের তীরে এবার বারাণসীর গঙ্গা আরতির আবহ

ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে এবার নতুনভাবে জুড়তে চলেছে ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডন। বারাণসী, হরিদ্বার কিংবা ঋষিকেশের ঘাটে গঙ্গার তীরে যে পরিচিত দৃশ্য বহু বছর ধরে মানুষের মন ছুঁয়ে এসেছে, এবার সেই আবহ তৈরি হতে চলেছে লন্ডনের টেমস নদীর তীরে। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর লন্ডনের গ্রিনিচে ঐতিহাসিক **Old Royal Naval College**-এ আয়োজন করা হবে বিশেষ ‘গঙ্গা আরতি’। ভারতীয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এই অনুষ্ঠান এবার বিদেশের মাটিতে নতুন মাত্রা পেতে চলেছে। 

এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে **Chinmaya Mission UK**, সহযোগিতায় রয়েছে **Totally Thames**। আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে লন্ডনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদী টেমসের একটি প্রতীকী সাংস্কৃতিক সংযোগ তৈরি করাই এই অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্দেশ্য। ১৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টে থেকে শুরু হবে দিনভর অনুষ্ঠান। সন্ধ্যার মূল আকর্ষণ হবে টেমসের ধারে গঙ্গা আরতি, যা শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে। 

## লন্ডনে গঙ্গা আরতি, কোথায় হবে অনুষ্ঠান?

লন্ডনের গ্রিনিচ এলাকার **Old Royal Naval College**-এর Royal Steps-এ এই বিশেষ গঙ্গা আরতির আয়োজন করা হবে। টেমস নদীর একেবারে তীরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক স্থানে সূর্যাস্তের সময় প্রদীপ জ্বালিয়ে, মন্ত্রোচ্চারণ এবং সঙ্গীতের মাধ্যমে আরতির আয়োজন করা হবে। 

সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টেয় অনুষ্ঠানের সূচনা হবে। তবে মূল গঙ্গা আরতি শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে। অর্থাৎ দর্শকরা শুধুমাত্র আরতি দেখতেই নয়, তার আগে আয়োজিত একাধিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও অংশ নিতে পারবেন। 

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটি **সবার জন্য উন্মুক্ত এবং বিনামূল্যে**। তবে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আগে থেকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। 

## দিনভর কী কী থাকবে?

শুধু গঙ্গা আরতি নয়, এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে গোটা বিকেল জুড়েই ভারতীয় সংস্কৃতির নানা দিক তুলে ধরা হবে। থাকবে ভারতীয় খাবারের স্টল, গান, নাচ এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। শিশুদের জন্যও রাখা হবে নানা ধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা।

অর্থাৎ, এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, সঙ্গীত, খাবার এবং পারিবারিক বিনোদনকে একসঙ্গে যুক্ত করে একটি বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। 

আয়োজকদের সূচি অনুযায়ী, বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত থাকবে খাবার, সঙ্গীত ও নাচের আয়োজন। এরপর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত গঙ্গা আরতির আধ্যাত্মিক তাৎপর্য সম্পর্কে আলোচনা ও নির্দেশনা দেওয়া হবে। সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিট থেকে শুরু হবে মূল আরতি। 

## কীভাবে হবে টেমসের তীরে গঙ্গা আরতি?

ভারতের বিভিন্ন পবিত্র শহরে গঙ্গার ঘাটে সূর্যাস্তের সময় যে আরতি হয়, তার মূল ভাবধারাকেই লন্ডনে তুলে ধরা হবে। প্রদীপ, মন্ত্র, সঙ্গীত এবং প্রার্থনার মাধ্যমে নদীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।

তবে লন্ডনে এই অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে স্থানীয় পরিবেশ এবং নদীর সুরক্ষার বিষয়টিও বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। তাই ভারতের ঘাটগুলির মতো টেমসের জলে কোনও ফুল, মূর্তি বা পুজোর সামগ্রী ভাসানো যাবে না।

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ধর্মীয় ঐতিহ্য পালন করার পাশাপাশি নদী সংরক্ষণের বার্তাও দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, পরিবেশের ক্ষতি না করে কীভাবে একটি ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান আয়োজন করা যায়, তারও উদাহরণ তৈরি করতে চাইছেন আয়োজকরা।

## গঙ্গা ও টেমস—দুই নদীর সাংস্কৃতিক যোগসূত্র

গঙ্গা ভারতের সভ্যতা, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। হাজার হাজার বছর ধরে গঙ্গার তীরে মানুষের বসতি, ধর্মীয় আচার, উৎসব এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড গড়ে উঠেছে। অন্যদিকে টেমস নদীও ব্রিটেনের ইতিহাস ও সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এই দুই নদী ভিন্ন দেশের, ভিন্ন সংস্কৃতির হলেও নিজেদের নিজ নিজ অঞ্চলের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাই টেমসের তীরে গঙ্গা আরতির আয়োজনকে আয়োজকরা দুই প্রাচীন নদীর প্রতীকী মিলন হিসেবেই তুলে ধরছেন। 

Chinmaya Mission UK-এর বক্তব্য অনুযায়ী, গঙ্গার তীরে হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসা প্রার্থনা ও আলোর এই ঐতিহ্য এবার টেমসের তীরে পৌঁছে যাচ্ছে। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভারতীয় সংস্কৃতির একটি জীবন্ত ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হবে। 

## ভারতীয় সংস্কৃতির আন্তর্জাতিক মঞ্চ

বিদেশে ভারতীয় সংস্কৃতির নানা অনুষ্ঠান আয়োজন নতুন নয়। তবে গঙ্গা আরতির মতো একটি ঐতিহ্যবাহী আচারকে লন্ডনের অন্যতম ঐতিহাসিক নদীর তীরে আয়োজন করার মধ্যে বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।

লন্ডনে বসবাসকারী ভারতীয়দের কাছে এটি নিজের সংস্কৃতি ও শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করার একটি বিশেষ সুযোগ। একইসঙ্গে অন্যান্য দেশের বাসিন্দারাও ভারতীয় ঐতিহ্যকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাবেন।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এই অনুষ্ঠান কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সব বয়সের মানুষ এবং বিভিন্ন পটভূমির দর্শক এতে অংশ নিতে পারবেন। 

## ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বার্তা

গঙ্গা আরতি মূলত একটি আধ্যাত্মিক আচার। কিন্তু লন্ডনের এই আয়োজনকে আরও বৃহত্তর সাংস্কৃতিক পরিসরে দেখা হচ্ছে। ভারতীয় সঙ্গীত, নৃত্য, খাবার এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিটিশ ঐতিহাসিক স্থানকে যুক্ত করা হচ্ছে।

ফলে এই অনুষ্ঠান ভারতীয় প্রবাসীদের জন্য যেমন আবেগের বিষয়, তেমনই ব্রিটেনের সাধারণ মানুষের কাছেও একটি নতুন সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা হতে পারে।

বিশেষ করে যাঁরা ভারতে গিয়ে বারাণসী বা হরিদ্বারের গঙ্গা আরতি দেখেননি, তাঁদের কাছে লন্ডনের এই অনুষ্ঠান ভারতীয় ঐতিহ্যকে অন্যভাবে অনুভব করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

## কেন গ্রিনিচকে বেছে নেওয়া হয়েছে?

Old Royal Naval College গ্রিনিচের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা। টেমসের একেবারে তীরে অবস্থিত এই জায়গাটি Maritime Greenwich-এর UNESCO World Heritage Site-এর অংশ। ফলে এমন একটি ঐতিহাসিক নদীতীরবর্তী স্থান ভারতীয় ঐতিহ্যের অনুষ্ঠানের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। 

Royal Steps-এর সামনে টেমসের জল এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্যের পরিবেশে সূর্যাস্তের সময় গঙ্গা আরতি নিঃসন্দেহে একটি বিশেষ দৃশ্য তৈরি করতে চলেছে।

## পরিবেশের উপর বিশেষ নজর

গঙ্গা আরতির সঙ্গে সাধারণত ফুল, প্রদীপ বা বিভিন্ন পুজোর সামগ্রী নদীতে অর্পণের দৃশ্য দেখা যায়। কিন্তু টেমসের ক্ষেত্রে এই ধরনের কোনও সামগ্রী নদীতে ফেলার অনুমতি থাকছে না।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, ফুল, মূর্তি বা কোনও ধরনের পুজোর সামগ্রী টেমসের জলে রাখা যাবে না। এর লক্ষ্য হল অনুষ্ঠানের সময় নদীর পরিবেশ এবং জলজ বাস্তুতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখা। 

এটি অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। কারণ ঐতিহ্যকে বজায় রাখার পাশাপাশি যে নদীর তীরে অনুষ্ঠান হচ্ছে, সেই নদীকে সম্মান করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

## কবে এবং কখন অনুষ্ঠান?

লন্ডনের টেমসের তীরে গঙ্গা আরতি অনুষ্ঠিত হবে **১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬**, রবিবার।

পুরো অনুষ্ঠান চলবে বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। তবে মূল গঙ্গা আরতি শুরু হবে সন্ধ্যা **৭টা ১৫ মিনিটে**। 

**স্থান:** Old Royal Naval College, Greenwich, London SE10 9NN

**সময়:** বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা

**মূল গঙ্গা আরতি:** সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিট

**প্রবেশ:** বিনামূল্যে, তবে রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন। 

## কারা আয়োজন করছে?

এই বিশেষ অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক **Chinmaya Mission UK**। এটি চিন্ময় মিশনের আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের অংশ এবং ভারতীয় আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তুলে ধরার সঙ্গে যুক্ত।

এবার চিন্ময় মিশন ইউকের ৭৫ বছরের পথচলার উদযাপনের সঙ্গেও এই আয়োজনকে যুক্ত করা হয়েছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে আয়োজিত অন্যতম বড় গঙ্গা আরতি হিসেবে এটিকে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করছে **Totally Thames**, একটি সংগঠন যা শিল্প, ঐতিহ্য, পরিবেশ, শিক্ষা এবং বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে টেমস নদীকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠান আয়োজন করে। 

## শুধু ভারতীয়রাই নন, অংশ নিতে পারবেন সবাই

এই অনুষ্ঠানের আরও একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল এর উন্মুক্ত চরিত্র। আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রয়োজন নেই। প্রত্যেকেই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন।

ফলে লন্ডনে বসবাসকারী ভারতীয়দের পাশাপাশি ব্রিটিশ নাগরিক, পর্যটক এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষও গঙ্গা আরতির এই বিশেষ আয়োজন প্রত্যক্ষ করতে পারবেন। 

এমন একটি উন্মুক্ত আয়োজন ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে আন্তর্জাতিক দর্শকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

## প্রবাসী ভারতীয়দের কাছে বিশেষ আবেগের

বিদেশে বসবাসকারী বহু ভারতীয়ের কাছে গঙ্গা শুধুমাত্র একটি নদী নয়। এটি তাঁদের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাই হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে লন্ডনের টেমসের ধারে গঙ্গা আরতির আয়োজন প্রবাসী ভারতীয়দের কাছে আবেগের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে বসবাস করছেন, তাঁদের কাছে এই অনুষ্ঠান ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন করে সংযোগ তৈরি করার সুযোগ এনে দেবে।

## শিশুদের জন্যও থাকছে আয়োজন

অনুষ্ঠানে শিশুদের কথাও বিশেষভাবে মাথায় রাখা হয়েছে। আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, পরিবার নিয়ে আসা দর্শকদের জন্য নানা ধরনের কার্যক্রম থাকবে।

এর ফলে গঙ্গা আরতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি প্রবাসী পরিবারের ছোটরাও ভারতীয় সংস্কৃতি, সঙ্গীত এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে।

পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সংস্কৃতির ঐতিহ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এমন অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

## লন্ডনে তৈরি হবে বারাণসীর আবহ?

বারাণসীর দশাশ্বমেধ ঘাট কিংবা হরিদ্বারের হর কি পৌড়িতে সন্ধ্যার গঙ্গা আরতির যে দৃশ্য, তা ভারতীয় সংস্কৃতির অন্যতম পরিচিত ছবি। হাজার হাজার মানুষ নদীর তীরে দাঁড়িয়ে প্রদীপ, মন্ত্র এবং সঙ্গীতের মাধ্যমে আরতিতে অংশ নেন।

লন্ডনে সেই পরিবেশ হুবহু তৈরি করা সম্ভব নয়। কারণ নদী, পরিবেশ এবং সাংস্কৃতিক পরিপ্রেক্ষিত আলাদা। তবে গঙ্গা আরতির মূল আধ্যাত্মিক ভাবনা—আলো, প্রার্থনা, সঙ্গীত এবং নদীর প্রতি শ্রদ্ধা—এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হবে।

এই কারণেই টেমসের তীরে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি একটি সাংস্কৃতিক পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি নতুন অভিজ্ঞতাও হতে চলেছে।

## আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতীয় ঐতিহ্যের প্রচার

ভারতের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আচার এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিচিত হয়ে উঠছে। যোগ, আয়ুর্বেদ, ভারতীয় সঙ্গীত এবং নৃত্যের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবও আন্তর্জাতিক দর্শকদের আকর্ষণ করছে।

লন্ডনের মতো একটি আন্তর্জাতিক শহরে গঙ্গা আরতির আয়োজন সেই ধারাকেই আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

বিশেষ করে ভারতীয় প্রবাসীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের ঐতিহ্যকে বিদেশের মাটিতে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে এই অনুষ্ঠান।

## একটি প্রতীকী সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন

গঙ্গা এবং টেমস—দুই নদীই তাদের নিজ নিজ দেশের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভারতীয় সভ্যতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত, অন্যটি ব্রিটিশ ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

তাই দুই নদীর তীরে সংস্কৃতির এই মিলন নিছক একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়। বরং এটি ভারত ও ব্রিটেনের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগের একটি প্রতীক হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

আয়োজকদের বক্তব্যেও এই প্রতীকী দিকটি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। 

## শেষ কথা

বারাণসীর ঘাট থেকে লন্ডনের টেমস—গঙ্গা আরতির যাত্রা এবার ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে আরও দূরে পৌঁছতে চলেছে। আগামী **১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬** লন্ডনের গ্রিনিচে Old Royal Naval College-এর Royal Steps-এ অনুষ্ঠিত হবে এই বিশেষ অনুষ্ঠান। বিকেল ৪টে থেকে শুরু হবে দিনভর সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে সূর্যাস্তের আবহে অনুষ্ঠিত হবে মূল গঙ্গা আরতি। 

এই অনুষ্ঠানে ভারতীয় খাবার, গান, নাচ এবং শিশুদের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি গঙ্গা আরতির আধ্যাত্মিক তাৎপর্যও তুলে ধরা হবে। অনুষ্ঠানটি বিনামূল্যে এবং সবার জন্য উন্মুক্ত হলেও অংশগ্রহণের জন্য আগে থেকে রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন। 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, টেমস নদীর পরিবেশ রক্ষার জন্য কোনও ফুল, মূর্তি বা পুজোর সামগ্রী নদীর জলে ফেলার অনুমতি দেওয়া হবে না। অর্থাৎ ভারতীয় ঐতিহ্যকে বিদেশের মাটিতে তুলে ধরার পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশের প্রতিও সম্মান দেখানো হচ্ছে। 

চিন্ময় মিশন ইউকের ৭৫ বছরের পথচলার উদযাপনের সঙ্গেও এই অনুষ্ঠানকে যুক্ত করা হয়েছে। আয়োজকদের আশা, টেমসের তীরে এই বিশেষ সন্ধ্যা ভারতীয় প্রবাসীদের জন্য যেমন আবেগঘন হয়ে উঠবে, তেমনই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকদের কাছেও ভারতীয় সংস্কৃতির এক অনন্য পরিচয় তুলে ধরবে। 

অর্থাৎ, গঙ্গার তীরে জন্ম নেওয়া বহু শতাব্দীর একটি ঐতিহ্য এবার টেমসের তীরে নতুন পরিবেশে প্রকাশ পেতে চলেছে। দুই দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির দুই গুরুত্বপূর্ণ নদীকে কেন্দ্র করে তৈরি হতে চলা এই প্রতীকী সাংস্কৃতিক মুহূর্তের দিকে এখন নজর ভারতীয় এবং ব্রিটিশ—দুই দেশেরই।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

বর্ধমানের শিক্ষকের অভিনব উদ্যোগে জাতীয় পুরস্কার, বদলাল স্কুল

বর্ধমানের এক শিক্ষকের অভিনব উদ্যোগ এবং নিরলস পরিশ্রম এবার জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি পেল। স্কুলকে শুধুমাত্র পঠনপাঠনের জায়গা হিসেবে না দেখে কীভাবে সেটিকে ছাত্রছাত্রীদের শেখার একটি জীবন্ত পরিসরে পরিণত করা যায়, তারই উদাহরণ তৈরি করেছেন বর্ধমানের শিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত।...

অন্নপূর্ণার টাকা নিয়ে বড় আশ্বাস রচনার, মহিলাদের পাশে সাংসদ

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে যখন উপভোক্তাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন এবং অপেক্ষা তৈরি হয়েছে, তখন মহিলাদের পাশে থাকার বার্তা দিলেন সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আশ্বাস, যাঁদের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে এবং যাঁদের নাম তালিকাভুক্ত রয়েছে, তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা অবশ্যই পাবেন।...

রোনাল্ডোর দেশ পর্তুগাল ক্রিকেটে বিশ্বকাপের পথে

ফুটবল বিশ্বে পর্তুগাল মানেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। কিন্তু এবার সেই দেশের নাম উঠে এল সম্পূর্ণ অন্য একটি খেলাকে কেন্দ্র করে। ক্রিকেটের ময়দানে বড় সাফল্য পেল পর্তুগাল। স্পেনকে হারিয়ে পুরুষদের **T20 World Cup qualifier**-এ জায়গা করে নিয়েছে রোনাল্ডোর দেশ। ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.