Saturday, August 22, 2026

Creating liberating content

বর্ধমানের শিক্ষকের অভিনব উদ্যোগে...

বর্ধমানের এক শিক্ষকের অভিনব উদ্যোগ এবং নিরলস পরিশ্রম এবার জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি পেল।...

অন্নপূর্ণার টাকা নিয়ে বড়...

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে যখন উপভোক্তাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন এবং অপেক্ষা তৈরি হয়েছে,...

রোনাল্ডোর দেশ পর্তুগাল ক্রিকেটে...

ফুটবল বিশ্বে পর্তুগাল মানেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। কিন্তু এবার সেই দেশের নাম উঠে এল...

জিৎকে কটাক্ষ করে বিপাকে...

টলিউডের দুই জনপ্রিয় তারকা দেব এবং জিৎকে ঘিরে অনুরাগীদের মধ্যে তুলনা নতুন কিছু...
Homeবাংলা৫০০ বছরের নরখাদক...

৫০০ বছরের নরখাদক কাহিনির ছায়া ‘Wrong Turn’-এ

# ‘Wrong Turn’-এর নেপথ্যে কি ৫০০ বছরের পুরনো নরখাদক কাহিনি?

ভৌতিক সিনেমা দেখতে ভালোবাসেন? তাহলে **‘Wrong Turn’** নামটি নিশ্চয়ই অজানা নয়। জঙ্গলের মধ্যে ভুল পথে চলে গিয়ে একদল তরুণ-তরুণীর ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়া, চারপাশে অচেনা পরিবেশ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত নরখাদক মানুষের মুখোমুখি হওয়া—এই গল্পই বহু দর্শককে শিউরে উঠতে বাধ্য করেছে। সিনেমাটির জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ ছিল এর ভয় দেখানোর ধরন। এখানে অতিপ্রাকৃত ভূত বা আত্মার বদলে মানুষের মধ্যেই লুকিয়ে থাকা ভয়ঙ্কর এক বিপদের সামনে পড়তে হয় চরিত্রদের। 

‘Wrong Turn’ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রশ্ন ঘোরাফেরা করে—এই ভয়াবহ গল্প কি শুধুই সিনেমার চিত্রনাট্যকারের কল্পনা? নাকি এর পিছনে রয়েছে কোনও পুরনো কিংবদন্তি? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে পৌঁছে যেতে হয় কয়েকশো বছর আগের স্কটল্যান্ডে। সেখানে প্রচলিত রয়েছে **Sawney Bean** নামে এক কথিত নরখাদক পরিবারের গল্প। এই কাহিনি এতটাই ভয়ঙ্কর যে, আজও তা হরর-সংস্কৃতিতে আলোচিত। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, Sawney Bean পরিবারের গল্পকে ইতিহাসের প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে দেখার মতো শক্ত প্রমাণ নেই। বরং এর সত্যতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। 

## ‘Wrong Turn’-এর গল্প এতটা ভয়ঙ্কর কেন?

‘Wrong Turn’ সিরিজের মূল ভয় তৈরি হয় একটি আপাত সাধারণ পরিস্থিতি থেকে। কয়েকজন মানুষ যাত্রাপথে ভুল পথে চলে যায়। তারপর তারা এমন একটি জায়গায় আটকে পড়ে, যেখানে স্বাভাবিক সভ্যতার কোনও চিহ্ন নেই। মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই, সাহায্য পাওয়ার সুযোগ নেই, চারপাশে ঘন জঙ্গল এবং অচেনা পরিবেশ।

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হল, বিপদটি কোনও ভূত বা অতিপ্রাকৃত শক্তি নয়। বিপদ আসে মানুষের কাছ থেকেই। সিনেমার গল্পে নরখাদক একদল মানুষ তাদের শিকারদের তাড়া করে এবং ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এই বাস্তবধর্মী আতঙ্কই ‘Wrong Turn’-কে অন্য অনেক হরর ছবির থেকে আলাদা করে দিয়েছে। 

এই ফ্র্যাঞ্চাইজির জনপ্রিয়তা এতটাই বেড়েছিল যে পরবর্তী সময়ে একাধিক সিক্যুয়েল তৈরি হয়। সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এযাবৎ সিরিজটির সাতটি ছবি তৈরি হয়েছে। 

## নেপথ্যে Sawney Bean-এর কিংবদন্তি

‘Wrong Turn’-এর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যে পুরনো কাহিনির মিল খুঁজে পাওয়া যায়, সেটি হল স্কটল্যান্ডের Sawney Bean পরিবারের কিংবদন্তি।

প্রচলিত গল্প অনুযায়ী, ষোড়শ শতাব্দীতে Alexander ‘Sawney’ Bean নামে এক ব্যক্তি স্কটল্যান্ডে বসবাস করতেন। তাঁর সঙ্গে Agnes Douglas নামে এক মহিলার সম্পর্ক তৈরি হয়। দু’জনেই সমাজের প্রচলিত জীবনযাত্রা থেকে দূরে সরে গিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম স্কটল্যান্ডের একটি গুহায় বসবাস শুরু করেন বলে কিংবদন্তিতে বলা হয়। 

এই গল্পের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অংশ হল পরিবারের কথিত জীবনযাপন। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, Sawney Bean এবং তাঁর স্ত্রীকে ঘিরে একটি বড় পরিবার তৈরি হয় এবং পরবর্তী প্রজন্মও সেই গুহাকেন্দ্রিক জীবনযাপন করত।

কিংবদন্তিতে দাবি করা হয়, এই পরিবার পথচারীদের আক্রমণ করত, হত্যা করত এবং তাদের দেহের মাংস খেত। বহু বছর ধরে তারা এই কাজ চালিয়ে গিয়েছিল বলেও গল্প রয়েছে।

## এক হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যার দাবি

Sawney Bean-এর গল্পের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি হল, এই পরিবার নাকি প্রায় ২৫ বছর ধরে এক হাজারেরও বেশি মানুষকে বন্দি করে হত্যা ও ভক্ষণ করেছিল।

অবশ্য এই সংখ্যার কোনও নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। এটি মূলত প্রচলিত কিংবদন্তির অংশ। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গল্পটি মুখে মুখে ছড়িয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে।

তাই এই সংখ্যাকে ইতিহাসের নিশ্চিত তথ্য হিসেবে না দেখে একটি পুরনো লোককথার দাবি হিসেবেই দেখা উচিত। সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনেও Sawney Bean পরিবারের অস্তিত্ব এবং তাদের কথিত অপরাধের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। 

## পরিবারটি কি সত্যিই ছিল?

এখানেই গল্পটি আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে।

Sawney Bean পরিবারের কাহিনি যতটা জনপ্রিয়, তার ঐতিহাসিক প্রমাণ ততটাই দুর্বল। এই পরিবারের অস্তিত্বের পক্ষে শক্তিশালী নথি পাওয়া যায়নি। এমনকি তাদের কথিত হত্যাকাণ্ডেরও নির্ভরযোগ্য সমসাময়িক রেকর্ড নেই।

ফলে ইতিহাসবিদ এবং গবেষকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে—Sawney Bean সত্যিই ছিলেন, নাকি তিনি সম্পূর্ণ একটি কিংবদন্তির চরিত্র?

এই প্রশ্নের কোনও চূড়ান্ত উত্তর এখনও নেই। বরং রহস্যটাই গল্পটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

## স্কটল্যান্ডবিরোধী প্রচারের তত্ত্ব

Sawney Bean-এর গল্প নিয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব রয়েছে। অনেকের ধারণা, এই নরখাদক পরিবারের কাহিনি হয়তো কোনও রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রচারের অংশ হিসেবে তৈরি হয়েছিল।

বিশেষ করে Jacobite বিদ্রোহের সময় স্কটল্যান্ডের মানুষকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করার উদ্দেশ্যে এমন একটি ভয়াবহ গল্প ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

অর্থাৎ, একটি নির্দিষ্ট পরিবার সত্যিই নরখাদক ছিল—এমন প্রমাণের বদলে এটি হয়তো স্কটিশ সমাজকে বর্বর হিসেবে দেখানোর জন্য তৈরি একটি কাহিনি হতে পারে। 

## তাহলে ‘Wrong Turn’-এর সঙ্গে যোগসূত্র কোথায়?

এখানেই সিনেমা এবং কিংবদন্তির মধ্যে মিলটি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে।

‘Wrong Turn’-এ যেমন কয়েকজন মানুষ অজানা জঙ্গলে গিয়ে আটকে পড়ে এবং সেখানে বিকৃত মানসিকতার নরখাদকদের মুখোমুখি হয়, Sawney Bean-এর কিংবদন্তিতেও রয়েছে দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী একটি বিচ্ছিন্ন পরিবারের কথা।

দুই গল্পেই রয়েছে—

* সভ্যতা থেকে বিচ্ছিন্ন পরিবেশ

* জঙ্গলের মধ্যে বিপদের আশঙ্কা

* পথ হারিয়ে ফেলা বা অজানা জায়গায় পৌঁছে যাওয়া

* মানুষের দ্বারা মানুষের শিকার হওয়া

* নরখাদকতার ভয়ঙ্কর ধারণা

* বাইরের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন একটি গোষ্ঠী

এই মিলগুলির কারণেই ‘Wrong Turn’-এর সঙ্গে Sawney Bean-এর কিংবদন্তির তুলনা করা হয়। 

## তবে ‘Wrong Turn’ সরাসরি Sawney Bean-এর জীবনী নয়

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। ‘Wrong Turn’কে Sawney Bean-এর সরাসরি জীবনী বা ঐতিহাসিক পুনর্নির্মাণ বলা ঠিক হবে না।

সিনেমার গল্প নিজস্ব চরিত্র, পরিবেশ এবং ঘটনাপ্রবাহের উপর তৈরি। Sawney Bean-এর কিংবদন্তির সঙ্গে সিনেমার কিছু ধারণাগত মিল থাকলেও দু’টি গল্প এক নয়।

বরং বলা যায়, বহু পুরনো নরখাদক-সংক্রান্ত কিংবদন্তির সঙ্গে সিনেমার গল্পের একটি thematic similarity রয়েছে। তাই ‘সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি’ বলার আগে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

## আরও কিছু সিনেমার ক্ষেত্রেও বাস্তব ঘটনার প্রভাব রয়েছে

হরর সিনেমার ক্ষেত্রে বাস্তব অপরাধ বা পুরনো কিংবদন্তি থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার ঘটনা নতুন নয়।

‘Psycho’ ছবির ক্ষেত্রে serial killer Ed Gein-এর ঘটনা প্রভাব ফেলেছিল বলে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। একইভাবে ‘Henry: Portrait of a Serial Killer’-এর ক্ষেত্রেও বাস্তব অপরাধী Henry Lee Lucas-এর প্রভাবের কথা উল্লেখ করা হয়।

তবে কোনও সিনেমার গল্পে বাস্তব ঘটনা থেকে অনুপ্রেরণা থাকা আর সেই সিনেমা সরাসরি সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি হওয়া—এই দু’টির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

## Sawney Bean-এর স্ত্রী Agnes Douglas-কে ঘিরেও রহস্য

কিংবদন্তিতে Sawney Bean-এর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী Agnes Douglas-এর কথাও বলা হয়। প্রচলিত গল্প অনুযায়ী, তাঁরা সমাজ থেকে দূরে সরে গিয়ে একসঙ্গে বসবাস শুরু করেছিলেন।

পরবর্তীতে তাঁদের পরিবার বড় হতে থাকে। গল্পে আট ছেলে এবং ছয় মেয়ের উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তী প্রজন্মে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পর্কের মাধ্যমে আরও বহু সন্তানের জন্ম হয়েছিল বলেও কিংবদন্তিতে দাবি করা হয়। 

এই অংশটি গল্পটিকে আরও অস্বস্তিকর করে তুলেছে। তবে এখানেও ঐতিহাসিক প্রমাণের ঘাটতি রয়েছে।

## কথিত গুহাই ছিল পরিবারের আস্তানা

Sawney Bean-এর গল্পে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান হল একটি গুহা।

প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, পরিবারটি দক্ষিণ-পশ্চিম স্কটল্যান্ডের Ballantrae অঞ্চলের কাছাকাছি একটি গুহায় বাস করত। গুহাটি ছিল এমন একটি জায়গা, যেখানে বাইরের মানুষের পক্ষে তাদের সন্ধান পাওয়া কঠিন ছিল।

এই বিচ্ছিন্ন পরিবেশের ধারণাটিই ‘Wrong Turn’-এর মতো সিনেমার সঙ্গে দর্শকদের মনে সহজেই যোগ তৈরি করে। জঙ্গল, দুর্গম এলাকা এবং বাইরের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন মানুষ—হরর গল্পের জন্য এমন পরিবেশ বরাবরই কার্যকর। 

## শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিল পরিবারটির?

কিংবদন্তি অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত Sawney Bean পরিবার ধরা পড়ে। এরপর স্কটল্যান্ডের রাজা James VI-এর নির্দেশে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল বলে গল্পে উল্লেখ রয়েছে।

তবে আবারও মনে রাখা জরুরি, এই ঘটনাগুলিরও শক্তিশালী ঐতিহাসিক নথি নেই। ফলে পুরো ঘটনাটিকে নিশ্চিত ইতিহাস হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। 

## আরেক রহস্যময় চরিত্র Christie Cleek

Sawney Bean-এর গল্পের পাশাপাশি স্কটল্যান্ডে আরও একটি পুরনো নরখাদক বা খুনির কিংবদন্তির কথা বলা হয়—Christie Cleek।

প্রচলিত গল্প অনুযায়ী, তিনি চতুর্দশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের একজন কসাই, যিনি পরে ডাকাত ও খুনি হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর হাতে থাকা দীর্ঘ দণ্ডের মাথায় ধারালো হুক থাকত এবং সেটি দিয়েই তিনি শিকারদের আক্রমণ করতেন বলে গল্প রয়েছে।

কিছু কিংবদন্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে মানুষ হত্যার পাশাপাশি মানুষের মাংস খাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, Christie Cleek-এর অস্তিত্ব নিয়েও নিশ্চিত প্রমাণ নেই। 

## তাহলে Sawney Bean নাকি Christie Cleek?

এই প্রশ্নের উত্তরও নিশ্চিত নয়।

কারও মতে Sawney Bean-এর গল্পের পিছনে Christie Cleek-এর মতো কোনও বাস্তব অপরাধীর ঘটনা থাকতে পারে। আবার কেউ মনে করেন, দুই গল্পই পরবর্তী সময়ে তৈরি বা পরিবর্তিত হয়েছে।

অর্থাৎ, একাধিক পুরনো গল্প, অপরাধের স্মৃতি এবং রাজনৈতিক প্রচার একসঙ্গে মিশে হয়তো Sawney Bean-এর কিংবদন্তি তৈরি করেছে।

এই অনিশ্চয়তাই গল্পটিকে আরও রহস্যময় করে রেখেছে।

## পাঁচশো বছর পরেও কেন এত জনপ্রিয়?

একটি প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠতে পারে—যে গল্পের সত্যতা নিয়ে এত প্রশ্ন, সেটি পাঁচশো বছর পরেও কেন এত জনপ্রিয়?

এর অন্যতম কারণ মানুষের ভয় পাওয়ার প্রবণতা। অন্ধকার, জঙ্গল, অজানা মানুষ এবং কোথাও আটকে পড়ার ভয়—এসব বিষয় মানুষের প্রাথমিক আতঙ্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

তার সঙ্গে যদি যোগ হয় নরখাদকতার মতো ভয়ঙ্কর ধারণা, তাহলে গল্পটি আরও সহজেই মানুষের কল্পনায় জায়গা করে নেয়।

‘Wrong Turn’-এর মতো সিনেমা সেই প্রাচীন ভয়কেই আধুনিক দর্শকের সামনে নতুনভাবে হাজির করেছে। 

## জঙ্গল কেন হরর সিনেমার আদর্শ জায়গা?

‘Wrong Turn’-এর মতো সিনেমায় জঙ্গল শুধু background নয়। বরং সেটিই গল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।

ঘন গাছপালা, অন্ধকার, রাস্তা হারিয়ে যাওয়া, GPS বা মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকা এবং চারপাশে কোনও পরিচিত মানুষ না থাকা—সবকিছু মিলিয়ে দর্শকের মধ্যে অসহায়ত্বের অনুভূতি তৈরি হয়।

এই কারণেই বহু horror-thriller সিনেমায় শহরের বদলে জঙ্গল বা দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলকে বেছে নেওয়া হয়।

‘Wrong Turn’-এও একই কৌশল কাজ করেছে।

## ভূতের বদলে মানুষই যখন ভয়

‘Wrong Turn’-এর অন্যতম আকর্ষণ হল এখানে ভয়টা অনেকটাই মানবিক।

ভূতের অস্তিত্ব নিয়ে দর্শক যুক্তি করতে পারেন। কিন্তু একজন মানুষ যদি অন্য মানুষকে শিকার হিসেবে দেখে, তাহলে সেই ভয় অনেক বেশি বাস্তব বলে মনে হয়।

সিনেমার নরখাদক চরিত্রগুলো তাই অতিপ্রাকৃত শক্তির তুলনায় অন্য ধরনের আতঙ্ক তৈরি করে। তারা মানুষের মতোই দেখতে, কিন্তু তাদের আচরণ সম্পূর্ণ অমানবিক।

এই contrast-ই সিনেমার ভয়কে আরও তীব্র করে।

## বাস্তবতা নিয়ে বিতর্কই গল্পের শক্তি

Sawney Bean পরিবারের গল্পের ক্ষেত্রে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় সম্ভবত এর সত্যতা নিয়ে বিতর্ক।

যদি এটি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে কয়েকশো বছর আগে স্কটল্যান্ডে ঘটে যাওয়া একটি ভয়ঙ্কর অপরাধের গল্প আমাদের সামনে আসে।

আর যদি এটি মিথ হয়, তাহলেও প্রশ্ন থেকে যায়—কেন এমন ভয়ঙ্কর গল্প তৈরি হয়েছিল? কোন সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি মানুষকে এমন একটি কিংবদন্তি তৈরি করতে প্রভাবিত করেছিল?

দুই ক্ষেত্রেই গল্পটি গবেষণা এবং আলোচনার বিষয় হয়ে থাকে। 

## ‘Wrong Turn’ কি সেই পুরনো ভয়কে ফিরিয়ে এনেছে?

অনেকটাই বলা যায়।

সিনেমার নির্মাতারা যে পুরনো Sawney Bean কিংবদন্তির সরাসরি চলচ্চিত্রায়ণ করেছেন, এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই। তবে নরখাদক মানুষ, দুর্গম জঙ্গল, পথ হারানো এবং সভ্যতা থেকে বিচ্ছিন্ন একটি গোষ্ঠী—এই উপাদানগুলি পুরনো কিংবদন্তির সঙ্গে দর্শকদের সহজেই সংযোগ তৈরি করে।

ফলে ‘Wrong Turn’ দেখার সময় যদি কারও মনে হয়, এই গল্প যেন বহু পুরনো কোনও ভয়ঙ্কর লোককথার আধুনিক সংস্করণ, তাহলে সেই অনুভূতি একেবারে অমূলক নয়।

## শেষ কথা

‘Wrong Turn’ শুধুমাত্র একটি হরর সিনেমা নয়, বরং এর গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পুরনো নরখাদক কিংবদন্তির এক অন্ধকার ছায়া। স্কটল্যান্ডের **Sawney Bean পরিবার**কে ঘিরে প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, ষোড়শ শতাব্দীতে একটি পরিবার নাকি সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গুহায় বসবাস করত এবং দীর্ঘ সময় ধরে পথচারীদের হত্যা করে তাদের মাংস খেত। প্রচলিত গল্পে এমনকি এক হাজারেরও বেশি মানুষের হত্যার দাবিও রয়েছে। 

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—এই ভয়ঙ্কর কাহিনির সত্যতা নিশ্চিত নয়। Sawney Bean পরিবারের অস্তিত্বের পক্ষে শক্তিশালী নথি পাওয়া যায়নি। এমনকি তাঁদের কথিত অপরাধেরও নির্ভরযোগ্য সমসাময়িক প্রমাণ নেই। বরং কিছু গবেষণামূলক ধারণা অনুযায়ী, এই গল্প হয়তো পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রচার বা স্কটল্যান্ডবিরোধী অপপ্রচারের অংশ হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছিল।

এর পাশাপাশি Christie Cleek নামে আরেক কথিত স্কটিশ খুনির গল্পও এই কিংবদন্তির সম্ভাব্য উৎস হিসেবে আলোচিত হয়েছে। কিন্তু তাঁর অস্তিত্ব নিয়েও নিশ্চিত প্রমাণ নেই। ফলে Sawney Bean, Christie Cleek নাকি অন্য কোনও বাস্তব ঘটনার ছায়া—ঠিক কোন উৎস থেকে এই ভয়ঙ্কর কিংবদন্তির জন্ম, তা আজও রহস্য। 

তবু সিনেমার জগতে এই ধরনের গল্পের আবেদন কমেনি। ‘Wrong Turn’-এর মতো ছবিতে জঙ্গলের মধ্যে পথ হারানো, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং নরখাদক মানুষের হাতে পড়ার ভয় দর্শকদের মনে গভীর আতঙ্ক তৈরি করেছে। সেই কারণেই কয়েকশো বছরের পুরনো একটি বিতর্কিত স্কটিশ কিংবদন্তি এবং আধুনিক হরর সিনেমার মধ্যে আজও মানুষ যোগসূত্র খুঁজে পান।

অতএব, **‘Wrong Turn সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি’—এমন দাবি নিশ্চিতভাবে করা ঠিক নয়**। বরং বলা যায়, সিনেমার নরখাদক-ভিত্তিক আতঙ্কের সঙ্গে Sawney Bean-এর বহু পুরনো কিংবদন্তির আশ্চর্যজনক মিল রয়েছে। আর সেই কিংবদন্তি সত্যি না মিথ্যে—এই প্রশ্নের উত্তরই হয়তো গল্পটিকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলেছে। 

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

বর্ধমানের শিক্ষকের অভিনব উদ্যোগে জাতীয় পুরস্কার, বদলাল স্কুল

বর্ধমানের এক শিক্ষকের অভিনব উদ্যোগ এবং নিরলস পরিশ্রম এবার জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি পেল। স্কুলকে শুধুমাত্র পঠনপাঠনের জায়গা হিসেবে না দেখে কীভাবে সেটিকে ছাত্রছাত্রীদের শেখার একটি জীবন্ত পরিসরে পরিণত করা যায়, তারই উদাহরণ তৈরি করেছেন বর্ধমানের শিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত।...

অন্নপূর্ণার টাকা নিয়ে বড় আশ্বাস রচনার, মহিলাদের পাশে সাংসদ

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে যখন উপভোক্তাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন এবং অপেক্ষা তৈরি হয়েছে, তখন মহিলাদের পাশে থাকার বার্তা দিলেন সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আশ্বাস, যাঁদের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে এবং যাঁদের নাম তালিকাভুক্ত রয়েছে, তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা অবশ্যই পাবেন।...

রোনাল্ডোর দেশ পর্তুগাল ক্রিকেটে বিশ্বকাপের পথে

ফুটবল বিশ্বে পর্তুগাল মানেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। কিন্তু এবার সেই দেশের নাম উঠে এল সম্পূর্ণ অন্য একটি খেলাকে কেন্দ্র করে। ক্রিকেটের ময়দানে বড় সাফল্য পেল পর্তুগাল। স্পেনকে হারিয়ে পুরুষদের **T20 World Cup qualifier**-এ জায়গা করে নিয়েছে রোনাল্ডোর দেশ। ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.