টলিউডে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা গিল্ড-সংক্রান্ত নানা জটিলতার অবসান ঘটিয়ে এবার নির্বাচনের পথে এগোতে চাইছে নতুন প্রশাসন। তবে সরাসরি ভোট নয়। তার আগে ভোটার তালিকা থেকে তথাকথিত ‘বেনোজল’ ছেঁকে বৈধ ও প্রকৃত সদস্যদের চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, প্রথমে হবে সদস্য তালিকার বিশেষ সংশোধন, তারপর সেই তালিকার ভিত্তিতেই অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। ১৭ আগস্টের সরকারি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের পিছনে মূল লক্ষ্য হল টলিউডের বিভিন্ন গিল্ডে প্রকৃত সিনেমাকর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং যাঁদের সঙ্গে চলচ্চিত্র পেশার সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই, তাঁদের সদস্যপদ নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা। দীর্ঘদিন ধরে টলিউডের একাধিক মহলে এই নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কিছু অযোগ্য বা অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তিকে বিভিন্ন গিল্ডের সদস্য করা হয়েছিল। এবার সেই তালিকা পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
## সরাসরি ভোট নয়, আগে ভোটার তালিকা সংশোধন
টলিউডে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও আপাতত ভোটের দিনক্ষণকে সামনে রেখে এগোচ্ছে না প্রশাসন। বরং প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে এটিকে ‘এসআইআর’-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে—অর্থাৎ, সদস্য তালিকাকে আরও নিবিড়ভাবে যাচাই করে বৈধ ও অবৈধ সদস্যদের পৃথক করার চেষ্টা করা হবে।
এর ফলে যাঁরা সত্যিই চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত এবং সংশ্লিষ্ট গিল্ডের সদস্য হওয়ার যোগ্য, তাঁদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার পথ তৈরি হবে। একই সঙ্গে যাঁদের সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হবে।
এই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন করা হবে না—এমন সিদ্ধান্তই বৈঠকে নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
## টলিউডে রয়েছে ২৬টি গিল্ড
টলিউডের কাজের কাঠামো সম্পর্কে ধারণা না থাকলে এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গুরুত্ব বোঝা কঠিন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলা চলচ্চিত্র তৈরির বিভিন্ন কাজ মূলত **২৬টি গিল্ডের** মাধ্যমে পরিচালিত হয়। প্রত্যেকটি গিল্ডের নিজস্ব পেশাগত ক্ষেত্র রয়েছে।
কোথাও সাউন্ড আর্টিস্টদের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে, কোথাও মেকআপ আর্টিস্টদের, আবার কোথাও প্রোডাকশন ম্যানেজারদের সংগঠন রয়েছে। অর্থাৎ, সিনেমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পেশার মানুষ আলাদা আলাদা গিল্ডের মাধ্যমে নিজেদের সংগঠিত করেন।
এই ২৬টি গিল্ডের সদস্য তালিকাতেই যদি অনুপযুক্ত বা বিতর্কিত সদস্য থেকে থাকে, তাহলে নির্বাচনের আগে সেই তালিকা সংশোধন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
## ‘বেনোজল’ শব্দ নিয়ে কেন এত আলোচনা?
‘বেনোজল’ শব্দটি এই পুরো প্রক্রিয়ার অন্যতম আলোচিত বিষয়। সাধারণ অর্থে বন্যার জলে ভেসে আসা আবর্জনা বা নানা ধরনের অপ্রয়োজনীয় বর্জ্যকে বোঝাতে এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়। প্রতিবেদনে এই শব্দটিকে রূপক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে।
অর্থাৎ, টলিউডের দীর্ঘদিনের সদস্য তালিকায় যাঁরা প্রকৃত সদস্য নন বা যাঁদের সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তাঁদের এই ‘বেনোজল’-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
এই ধরনের সদস্যদের বাদ দিয়ে প্রকৃত কর্মীদের নিয়ে একটি পরিষ্কার ভোটার তালিকা তৈরি করাই এখন মূল লক্ষ্য।
## রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ
টলিউডের একাধিক সদস্যের অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে বিভিন্ন গিল্ডে এমন অনেক ব্যক্তিকে সদস্যপদ দেওয়া হয়েছিল, যাঁদের সঙ্গে সিনেমা পেশার সরাসরি সম্পর্ক নেই। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাব বজায় রাখা—এমন অভিযোগও উঠেছে।
তবে এগুলি মূলত অভিযোগ। সদস্যপদ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোথায় অনিয়ম হয়েছে এবং কারা প্রকৃতপক্ষে যোগ্য নন, তা যাচাইয়ের জন্যই এখন তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে।
এই যাচাই শেষ হলে বোঝা যাবে, বাস্তবে কতজন সদস্যের নাম নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
## সরকারি বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
১৭ আগস্ট, সোমবার একটি সরকারি বৈঠকে টলিউডের নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা ও বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী, রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, অভিনেতা জিৎ এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।
বৈঠকের মূল সিদ্ধান্ত হল, আগে সদস্য তালিকা যাচাই ও সংশোধন করতে হবে। তারপরই নির্বাচনের আয়োজন করা হবে।
অর্থাৎ, নির্বাচনকে স্বচ্ছ করার জন্য নির্বাচন-পূর্ব প্রস্তুতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
## মিঠুন, রুদ্রনীল, জিৎ ও দেবের ভূমিকা
টলিউডের নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মিঠুন চক্রবর্তী, রুদ্রনীল ঘোষ, জিৎ এবং দেবের উদ্যোগের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্পাদকীয়টির বক্তব্য অনুযায়ী, টলিউডে দীর্ঘদিনের একটি বিশেষ গোষ্ঠীর প্রভাব কমিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে।
বিশেষ করে গিল্ডগুলির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য শুধু রাজনৈতিক বা তারকা ব্যক্তিত্বদের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সদস্যদের আস্থা, নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছ ভোটার তালিকাও equally গুরুত্বপূর্ণ।
## ভোটার তালিকা সংশোধনই সবচেয়ে কঠিন কাজ
নির্বাচনের ঘোষণা করা তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও, তার আগে দীর্ঘদিনের সদস্য তালিকা যাচাই করা সহজ কাজ নয়। প্রতিবেদনে সেই বিষয়টিই বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
কারণ বহু বছর ধরে গড়ে ওঠা তালিকায় কে প্রকৃত সদস্য, কে নিয়মিত কাজ করেন এবং কার সদস্যপদ কোনওভাবে প্রশ্নের মুখে পড়েছে—এসব যাচাই করতে সময় লাগবে।
একজন সদস্যের পেশাগত পরিচয় যাচাই করা, সংশ্লিষ্ট গিল্ডের সঙ্গে তাঁর কাজের সম্পর্ক পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজনীয় নথি খতিয়ে দেখা—সব মিলিয়ে এটি একটি বড় প্রশাসনিক কাজ হতে পারে।
## প্রকৃত কর্মীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই লক্ষ্য
যদি কোনও সংগঠনের নির্বাচনে প্রকৃত কর্মীদের বদলে অপ্রাসঙ্গিক বা অযোগ্য সদস্যদের ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকে, তাহলে সেই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।
তাই নতুন উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য হল, যাঁরা সত্যিই টলিউডে কাজ করেন, তাঁদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।
একই সঙ্গে গিল্ডের নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে সদস্যদের প্রকৃত মতামত যাতে প্রতিফলিত হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
## শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিয়ে দাবি
ভোটার তালিকা সংশোধনের পাশাপাশি নির্বাচনের নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। গিল্ডের সদস্যরা ইতিমধ্যেই দাবি জানিয়েছেন, নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং প্রয়োজনে সরকারি আধিকারিক ও পুলিশের নজরদারি থাকে।
এর কারণও স্পষ্ট। টলিউডের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ রয়েছে। ফলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের উত্তেজনা বা সংঘাত যাতে না হয়, তার জন্য প্রশাসনিক নজরদারি প্রয়োজন হতে পারে।
## নির্বাচনের আগে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ
ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার পরেও কাজ শেষ হবে না। প্রকৃত নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রার্থী মনোনয়ন, ভোটগ্রহণের নিয়ম, ভোটকেন্দ্র, নিরাপত্তা এবং ভোট গণনার পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে।
বিশেষ করে ২৬টি গিল্ডের কাঠামো থাকায় পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটি একক কোনও নির্বাচনের মতো সরল নাও হতে পারে।
প্রতিটি গিল্ডের নিজস্ব সদস্য ও পেশাগত কাঠামো থাকায় তাদের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
## রুদ্রনীলের বার্তা
প্রতিবেদনে রুদ্রনীল ঘোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত টলিউডে বর্তমানে যে নিয়ম চলছে, কর্মীদের সেই নিয়ম মেনেই কাজ করতে হবে।
অর্থাৎ, নির্বাচনের প্রস্তুতি চললেও তার আগ পর্যন্ত বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থায় হঠাৎ পরিবর্তন আনার বদলে নিয়ম মেনে কাজ করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
এতে অন্তর্বর্তী সময়ের কাজকর্মে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়ানোর চেষ্টা রয়েছে বলে মনে করা যেতে পারে।
## টলিউডের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন?
গিল্ডগুলির ভূমিকা টলিউডের দৈনন্দিন কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। একটি সিনেমার শুটিং থেকে শুরু করে sound, makeup, production management—বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা এই সংগঠনগুলির মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ ও পেশাগত বিষয়গুলি পরিচালনা করেন।
ফলে গিল্ডের নেতৃত্বে কারা থাকবেন, তা কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচন যদি স্বচ্ছ ও প্রতিনিধিত্বমূলক হয়, তাহলে গিল্ডগুলির উপর সদস্যদের আস্থাও বাড়তে পারে।
## দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটানোর চেষ্টা
টলিউডের গিল্ড ব্যবস্থা নিয়ে বহুদিন ধরেই নানা বিতর্ক রয়েছে। সদস্যপদ, রাজনৈতিক প্রভাব, নেতৃত্ব এবং সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ—সব মিলিয়ে বিষয়টি জটিল।
এবার সেই জটিলতার একটি বড় অংশ সমাধানের চেষ্টা হচ্ছে ভোটার তালিকা থেকেই।
প্রথমে সদস্য তালিকা পরিষ্কার করা, তারপর নির্বাচন—এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে অন্তত ভোটারদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন কমানোর সুযোগ থাকবে।
## নির্বাচন কবে?
এই মুহূর্তে প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট কোনও নির্বাচনের তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। বরং নির্বাচন আয়োজনের আগে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
অতএব, এখনই টলিউডের গিল্ড নির্বাচনের নির্দিষ্ট দিন ঘোষণা হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
প্রথমে তালিকা যাচাই ও সংশোধনের কাজ শেষ করতে হবে। তারপর নির্বাচনের পরবর্তী ধাপগুলি সামনে আসবে।
## স্বচ্ছতার প্রশ্ন
যে কোনও নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রথম শর্ত হল স্বচ্ছ ভোটার তালিকা। টলিউডের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য।
কোনও সদস্যকে অকারণে বাদ দেওয়া যেমন সমস্যা তৈরি করতে পারে, তেমনই অযোগ্য ব্যক্তিকে ভোটার তালিকায় রেখে দেওয়াও নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
তাই তালিকা সংশোধনের সময় নির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ নিয়ম মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
## প্রশাসনের নজরদারি কেন প্রয়োজন?
গিল্ডের সদস্যদের পক্ষ থেকে সরকারি আধিকারিক এবং পুলিশের নজরদারির দাবি জানানো হয়েছে।
এটি শুধু নিরাপত্তার বিষয় নয়। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের চাপ, ভয় দেখানো বা বিশৃঙ্খলা যাতে না হয়, সেই কারণেও প্রশাসনিক উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষ করে দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ থাকলে নির্বাচন পরিচালনায় নিরপেক্ষতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
## গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফেরানোর দাবি
প্রতিবেদনের সম্পাদকীয় অবস্থান অনুযায়ী, টলিউডে নির্বাচনের উদ্যোগকে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে সেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সাফল্য নির্ভর করবে ভোটার তালিকা কতটা নিরপেক্ষভাবে তৈরি হচ্ছে এবং নির্বাচন কতটা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হচ্ছে তার উপর।
শুধু নির্বাচন ঘোষণা করলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না। প্রকৃত সদস্যদের অংশগ্রহণ, সমান সুযোগ এবং স্বচ্ছ ভোট গণনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
## সামনে কী হতে পারে?
এখন টলিউডের নজর থাকবে সদস্য তালিকা সংশোধনের দিকে। কোন গিল্ডে কতজন সদস্য রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কারা প্রকৃত কর্মী এবং কারও সদস্যপদ নিয়ে আপত্তি রয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হবে।
এরপর সংশোধিত তালিকা চূড়ান্ত হলে নির্বাচনের প্রস্তুতি আরও স্পষ্ট হবে।
সমস্ত প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে এগোলে টলিউডের ২৬টি গিল্ডেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের পথ খুলে যেতে পারে।
## শেষ কথা
টলিউডে গিল্ড নির্বাচন নিয়ে অবশেষে বড়সড় প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তবে সরাসরি ভোটে না গিয়ে আগে সদস্য তালিকা যাচাই ও সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৭ আগস্টের সরকারি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং লক্ষ্য হল তথাকথিত ‘বেনোজল’ সরিয়ে প্রকৃত সদস্যদের নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ভোটার তালিকা তৈরি করা।
টলিউডের চলচ্চিত্র নির্মাণ কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে **২৬টি গিল্ড**। বিভিন্ন পেশার কর্মীরা এই গিল্ডগুলির সদস্য। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে কিছু এমন ব্যক্তিকেও সদস্য করা হয়েছিল, যাঁদের সিনেমা পেশার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই। সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই এবার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে।
মিঠুন চক্রবর্তী, রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, জিৎ এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে হওয়া বৈঠকে নির্বাচনের আগে এই তালিকা সংশোধনের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গিল্ড সদস্যরা নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণভাবে হয়, তার জন্য সরকারি আধিকারিক ও পুলিশের নজরদারির দাবিও জানিয়েছেন।
অর্থাৎ, টলিউডে এখনই ভোট নয়—**আগে ভোটার তালিকা পরিষ্কার, তারপর নির্বাচন**। এই প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয় এবং শেষ পর্যন্ত ২৬টি গিল্ডে কবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


